অধ্যায়-০৩: খাদ্য ও পুষ্টি, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যবিধি
সেশন-৩.১: খাদ্য ও পুষ্টি
- খাদ্য কী? খাদ্য কয় প্রকার ও কী কী?
- পুষ্টি কী ও পুষ্টি উপাদান কী? পুষ্টি উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
খাদ্য কী? খাদ্য কয় প্রকার ও কী কী?
খাদ্যঃ
প্রাণীর বেঁচে থাকতে হলে খাদ্যের প্রয়োজন। প্রাণীদেহের বৃদ্ধি, শক্তির জন্য খাদ্য অপরিহার্য। মানব দেহকে সুস্থ রাখার জন্যও খাদ্যের প্রয়োজন। তাই সর্বপ্রথম আমাদের খাদ্য সম্পর্কে জানতে হবে। আমরা যা খাই তার সবই কিন্তু খাদ্য নয়। শুধু সেই সব আহার্য বস্তুকেই খাদ্য বলা যাবে, যেগুলো জীবদেহে বৃদ্ধি, শক্তি উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষয়পূরণ করে, এক কথায় দেহের পুষ্টি সাধন করে।
খাদ্য অনেকগুলো রাসায়নিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এ রাসায়নিক উপাদানগুলোকে খাদ্য উপাদান বলা হয়। কেবলমাত্র একটি উপাদান দিয়ে গঠিত এমন খাদ্যবস্তুর সংখ্যা খুবই কম। উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১) আমিষ বা প্রোটিন- মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি।
২) শর্করা বা শ্বেতসার- ধান, গম, আলু ইত্যাদি।
৩) স্নেহ বা চর্বি- তেল, চর্বি, ঘি, মাখন ইত্যাদি।
এছাড়াও খাদ্যবস্তুকে আরও তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১) খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন- এ, বি, সি, ডি, ই, কে ইত্যাদি।
২) খনিজ লবণ- সবুজ শাকসবজি, সামুদ্রিক মাছ, বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক শৈবাল ইত্যাদি।
৩) পানি- বিভিন্ন উৎসের বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি।
পুষ্টি কী ও পুষ্টি উপাদান কী? পুষ্টি উপাদান অনুযায়ী খাদ্যবস্তুকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায় ও কী কী?
পুষ্টি:
পুষ্টি একটি প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াতে খাদ্যবস্তু খাওয়ার পরে পরিপাক হয় এবং জটিল খাদ্য উপাদানগুলো ভেঙ্গে সরল উপাদানে পরিণত হয়। দেহ এসব সরল উপাদান শোষণ করে নেয়। শোষণের পরে খাদ্য উপাদানগুলো দেহের সকল অঙ্গের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের পুনর্গঠন ও দেহের বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করে। তাছাড়া তাপ উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুষ্টি যোগায়। দেহে খাদ্যের এই সকল কাজই পুষ্টি প্রক্রিয়ার অন্তর্গত।
পুষ্টি উপাদান:
পুষ্টি উপাদান হচ্ছে প্রতিদিনের খাবারের গুণসম্পন্ন সেসব উপাদান যা দেহের শক্তি ও যথাযথ বৃদ্ধি নিশ্চিত করে, মেধা ও বুদ্ধি বাড়ায়, রোগ প্রতিরোধ করে, অসুখ-বিসুখ থেকে তাড়াতাড়ি সেরে উঠতে সাহঅ্যাা করে এবং মানুষকে কর্মক্ষম করে।
খাদ্যকে ৬টি পুষ্টি উপাদানের ভিত্তিতে ভাগ করা যায়। যথা-
১) আমিষ বা প্রোটিন– যা ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাদন ও দেহ গঠন করে।
২) শর্করা বা শ্বেতসার– এ ধরনের খাদ্য শক্তি উৎপাদন করে।
৩) স্নেহ বা চর্বি– যা তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।
৪) ভিটামিন বা খাদ্য প্রাণ– রোগ প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্ধি, বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার উদ্দীপনা যোগায়।
৫) খনিজ লবণ– বিভিন্ন জৈবিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়।
৬) পানি- এটি সরাসরি পুষ্টি উপাদান না হলেও দেহে পানির সমতা রক্ষা করে কোষের পুণাবলি নিয়ন্ত্রণ করে এবং কোষ অঙ্গাণুসমূহকে ধারণ ও তাপের সমতা রক্ষা করে।
