Sustainable environment and education system is one of the determinants of human development
পৃথিবীর প্রতিটি দেশই উন্নয়ন চায়। উন্নয়নের মাধমে কোন কিছুর বর্তমান অবস্থার কাঙ্খিত পরিবর্তন আশা করা হয়। উন্নয়ন সবসময়ই চাহিদা ও প্রত্যাশা নির্ভর। অর্থগতভাবে উন্নয়ন বলতে আমরা সাধারণত মানবজীবনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিকে বুঝি। উন্নয়নকে সংস্কৃতি, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সুযোগ -সুবিধা প্রভৃতির মান দ্বারা পরিমাপ করা হয়। আর মানব উন্নয়ন হল মানুষের চাহিদা, সামর্থ্য এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী তার বর্তমান অবস্থার কাঙ্খিত ও ইতিবাচক পরিবর্তন। অর্থাৎ মানব উন্নয়ন বলতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জ্ঞান, দক্ষতা, বৃদ্ধি এবং টেকসই প্রত্যাশিত অবস্থায় উপনিত করার প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়। আর মানব উন্নয়নের অনত্যম নির্ধারক হল টেকসই পরিবেশ ও শিক্ষা ব্যবস্থা।
নিম্নে টেকসই পরিবেশ কিভাবে মানব উন্নয়নে ভূমিকা রাখে তা ব্যাখ্যা করা হল:
পরিবেশের অবক্ষয় রোধ করে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব সংরক্ষণের সাথে ‘টেকসই পরিবশ’ বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। টেকসই পরিবেশ যেসব ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত তা হল-
- আমাদের কাযকলাপের প্রভাব যাতে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর না পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
- পৃথিবীর সম্পদসমূহ পর্যাপ্ত ও অফুরন্ত নয়। আমাদের সীমিত সম্পদের নবায়নযোগ্য ব্যবহার করতে চেষ্ঠা করতে হবে।
- আমরা আমাদের চাহিদার প্রয়োজনে প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে যা গ্রহণ করছি তার আর্থিক ও সামাজিক মূল্যটাও আমাদের বুঝা উচিত।
- টেকসই পরিবেশের সকল প্রচেষ্টার দায় আমাদের সকলকে ভাগাভাগি করে নেয়া উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশগত সমস্যা সৃস্টির জন্য মানুষই সবচেয়ে বেশি দায়ী। যার জন্য টেকসই পরিবেশের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাচ্ছে না। কারণ মানুষ প্রতিনিয়তই অবায়নযোগ্য সম্পদের অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবহার করছে।
- নবায়নযোগ্য সম্পদের পুনঃউৎপাদনের সুযোগ দিচ্ছে না।
- পরিবেশকে বিষাক্ত করছে যা পরিবেশের ধারণ ক্ষমতার বাইরে।
মানব উন্নয়ন তথা টেকসই উন্নয়ন এর মূল ধারা ৩ টি। যথা:
১. টেকসই পরিবেশ;
২. অর্থনীতি ও
৩. সমাজ।
সুতরাং এই ৩ টি উপাদানের ভারসাম্য রাখা জরুরী। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য টেকসই পরিবেশ বিনির্মাণ করতে হবে। মানব উন্নয়নের জন্য দরকার টেকসই পরিবেশ। বলা যেতে পারে টেকসই পরিবেশ হল মানব উন্নয়ন মূল শর্তাবলীগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই আগে টেকসই পরিবেশ গড়তে হবে।
উন্নয়ন শব্দটির সমার্থক শব্দ উন্নতি, অগ্রগতি বা পরিবর্তন। কিছু দেশের মতে, উন্নয়ন বলতে বুঝাায় শিল্পায়ন, কারও মতে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী হওয়া। তবে লক্ষ্যের ভিন্নতা থাকলেও সকল জাতিই উন্নয়নের পক্ষে একমত। উন্নয়নের জন্য শিক্ষার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা মানব উন্নয়নের সাথে কতটা সম্পৃক্ত আর নির্ধারক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে তা বিবেচ্য ব্যাপার।
শিক্ষা মানুষের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ তৈরি করে যা ভবিষ্যতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। উন্নয়নের জন্য শিক্ষা বলতে বুঝায় শিখন ও শিক্ষণের ক্ষেত্রে ইস্যূগুলো অন্তর্ভূক্তকরণ যেমন-
- আবহাওয়ার পরিবর্তন, দূর্যোগ মোকাবেলা, দারিদ্র নিরসন, টেকসই কন্জামশন, বায়ো ডাইভারসিটি, ধনী ও দরিদ্রের মধ্যকার পার্থক্য হ্রাস, মানবাধিকার, বিশ্বায়ন, উন্নত জীবন সম্পর্কে সচেতনতা ইত্যাদি। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকে বিশেষত পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে এ জাতীয় ধারণা অন্তর্ভূক্তকরণের মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক ধারণা লাভ করবে।
- কারিকুলামের অন্তর্ভূক্তির পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণমূলক পাঠদানের সুযোগ বাড়াতে হবে।
- শিক্ষার্থীদের আচরণগত পরিবর্তনের জন্য প্রেষণা সৃষ্টি করতে হবে।
- শিক্ষা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই নিশ্চিত করতে হবে।
- উচ্চশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে টেকসই শিক্ষা দিতে হবে।
- পুঁথিগত জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগমূখী করতে হবে।
- বিশ্বায়নের ধারণা মাথায় রেখে এক দেশের মানুষের সাথে অন্য দেশের মানুষের শিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদির সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
- বিশ্বের সাথে তালমিলিয়ে জীবনঘনিষ্ট ও প্রয়োগমূখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
