উন্নয়নশীল দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে করণীয় পদক্ষেপ - Proshikkhon

উন্নয়নশীল দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে করণীয় পদক্ষেপ

Steps to be taken to turn developing countries into developed countries

উন্নয়নশীল ও দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়নে মানব সম্পদের অভাব একটি গুরুতর সমস্যা। এ সমস্ত রাষ্ট্রের যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকে, তা সম্পদের পরিবর্তে সমস্যা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। শিক্ষা, দক্ষতা, স্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রভৃতি সার্বিক জাতীয় উন্নয়ন অর্জনের অন্যতম শর্ত। কোন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য উন্নয়নের পূর্বশতগুলো বাস্তবায়ন জরুরী। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পশ্চাতে বিভিন্ন উপাদান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করে। এগুলো দূর করতে না পারলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে না। সুতরাং বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বীয় অবস্থা থেকে উন্নত দেশে পরিণত করতে শুরুতেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাধাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এর পাশাপাশি পরবর্তী বাধা অপসারনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একটি উন্নয়নশীল দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, টেকসই পরিবেশ ও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হয়। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর পিছিয়ে থাকার পিছনে কিছু সমস্যা থাকে। সেগুলো হল:

  • পূঁজির বা মূলধনের অভাব;
  • দক্ষ মানবসম্পদের অভাব;
  • প্রযুক্তি ও কারিগরী জ্ঞানের অভাব;
  • ঔপনিবেশিক শাসন পরবর্তী নির্ভশীলতা;
  • বহুমূখী অংশগ্রহণের অভাব।

একটি উন্নয়নশীল দেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাঙ্খিত পর্যায়ে নিয়ে যেতে করণীয় পদক্ষেপ নিম্নে বর্ণনা করা হল:

  • শিক্ষা বিস্তার কার্যক্রম গ্রহণ করার মাধ্যমে সকল পর্যায়ের মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা ;
  • দক্ষতাসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করা;
  • সমতা বিধান ও বৈষম্য হ্রাস ;
  • আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা;
  • কৃষির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করে বহুমুখী উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা;
  • মৌলিক ও ভারী শিল্প-কারখানা স্থাপন করা;
  • টেকসই মূলধন গঠন করা;
  • টেকসই পরিবেশ গঠন করা;
  • বেকারত্ব দূর করে কর্মমূখী জনসম্পদ গড়ে তোলা;
  • কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ করা ;
  • জনসংখ্যার বৃদ্ধি হ্রাস করা;
  • বয়স্ক শিক্ষার মাধ্যমে সকল জনগণকে ১০০% শিক্ষিত করে তোলা;
  • খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে খামার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা;
  • কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা;
  • আমদানী ব্যয় কমানো ও  রপ্তানী আয় বৃদ্ধি করা;
  • প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার করা;
  • দারিদ্র বিমোচনে বিশেষ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা;
  • বৈদেশিক নির্ভরশীলতা হ্রাস করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!