স্বাস্থ্য | Foaming in the Urine | Causes and Remedies
HEALTH | প্রসাবে ফেনা হওয়া | কারণ ও প্রতিকার
প্রসাব (Urine) হল মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের অত্যন্ত প্রয়োজনী একটি প্রক্রিয়া (Process)। প্রসাব দেখে শরীরের ভেতরের কোন সমস্যা বা রোগ বাসা বেঁধেছে কিনা ধারণা করা যায়। একটু সচেতনা থাকলে আপনি নিজেই রোগ সম্পর্কে অগ্রীম ধারণা পাবেন ফলে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারবেন। আমরা যখন প্রসাব করি তখন হয়তো অনেকেই খেয়াল করি না প্রসাবে ফেনা হচ্ছে কিনা। তাছাড়া অনেকেই ভাবেন হয়তো অনেক স্পিডে প্রসাব করার কারণে ফেনা হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? সুতরাং প্রতি মাসে অথবা মাঝে মধ্যেই খেয়াল রাখা উচিত প্রসাবে ফেনা যাচ্ছে কিনা। তাহলে আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক প্রসাবে ফেনা যাওয়ার কারণ ও করণীয় দিকসমূহ।
প্রসাবে ফেনা যাওয়ার কারণ:
- প্রাথমিকভাবে শরীরে পানি শূন্যতার কারণে ফেনা হতে পারে।
- দ্রুত বেগে ব্লাডার থেকে প্রসাব নির্গত হওয়ার ফলে।
- প্রসাবে আমিষ (Protein) বা অ্যালবুমিনের (Albumin) পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে।
- কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হ্রাস পেলে। অর্থাৎ রক্তে মিশে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে (Toxic material) সুস্থ কিডনী প্রসাবের মাধ্যমে বের করে দেয় কিন্তু কিডনীর ক্ষমতা কমে গেলে প্রসাবের মাধ্যমে আমিষ বের হয়ে যায়। আমিষ যখন বাতাসের সংস্পর্শে আসে তখন তা ফেনায় পরিণত হয়।
- এছাড়াও স্মার্মের ক্ষরণ ঠিকমতো না হলে।
প্রসাবের কারণে রোগের লক্ষণসময়হ:
- হাতের তালু, পা ও মুখ ঘাম হতে পারে।
- ক্লন্তি ও অবসাদভাব অনুভূত হতে পারে।
- ক্ষুধা কমে যেতে পারে।
- মাথা ঘোরা ও বমি ভাব আসতে পারে।
- ঘুম কমে যেতে পারে।
- এছাড়াও প্রসাবের রঙ গাঢ় হওয়ার মতো লক্ষণও প্রকাশ পেতে পারে।
প্রতিকার ও চিকিৎসা:
মানব শরীরের প্রধান অঙ্গসমূহের মধ্যে কিডনি অন্যতম তাই কিডনীর সুস্থতার জন্য ব্যক্তিগত সচেতনতা খুবই জরুরী। দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২ খ্রি. তারিখে ‘কিডনি রোগ প্রতিরোধযোগ্য, প্রয়োজন সচেতনতা’ শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধ ড. আব্দুল কাইয়ুম ও ড. আবু আলতাফ হোসেনসহ বিভিন্ন আলোচক যেসকল পরামর্শ দিয়েছেন তা উল্লেখ করা হল:
- ডাক্তার/চিকিৎসক -এর পরামর্শ ছাড়া কোনভাবেই অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না।
- প্রতিবছর অন্তত একবার করে হলেও কিডনি টেস্ট করা প্রয়োজন।
- ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য জটিল রোগ থাকলে নিয়ন্ত্রণ রাখার পাশাপাশি শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব জরুরি।
- বাজারের খোলা দোকানের খাবার না খাওয়া এবং বাড়ির খাবার ঢেকে রাখা।
- পরিমিত পানি ও সুষম খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা।
- গণমাধ্যম ও কমিউনিটি ক্লিনিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে উদ্বুদ্ধ করা।
- ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা।
