Modern Theories and Approaches for Teaching and Learning
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিখন-শেখানোর জন্য বিভিন্ন আধুনিক তত্ত্ব ও এ্যাপ্রোচের ব্যবহার
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় শিখন-শেখানোর জন্য বিভিন্ন আধুনিক তত্ত্ব ও এ্যাপ্রোচের প্রচলন রয়েছে। বর্তমান শিখনক্রমের ধারাবাহিকতা হচ্ছে- জানা থেকে অজানা, নিকট থেকে দূরে, সহজ থেকে কঠিন । আধুনিককালে প্রত্যেকটি তত্ত্ব ও এ্যাপ্রোচেও জোর দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের ‘নিজে করে শেখার’ (Learning by doing) উপর। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় শিখন-শেখানোর জন্য যে সকল তত্ত্ব ও এ্যাপ্রোচ আছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল:
১.জ্ঞান বিকাশমূলক তত্ত্ব (Theory of Cognitive Development),
২.সামাজিক সাংস্কৃতিক তত্ত্ব (Socio-cultural Theory),
৩.সংগঠনমূলক তত্ত্ব (Constructivist Theory),
৪.সামাজিক শিখন তত্ত্ব (Social Learning Theory),
৫.পরিবেশবাদী তত্ত্ব (Environmentalist Theory),
৬.বহুমুখী বুদ্ধিমত্তা তত্ত্ব (Multiple Intelligence Theory),
৭.এরিকসনের মনোসামাজিক উন্নয়ন তত্ত্ব (Erikson’s Theory of Psycho-Social Development)
৮.ড্যাপ এ্যাপ্রোচ (Developmentally Appropriate Practices (DAP) Approach) প্রভৃতি।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের বিষয়বস্তু শেখানোর ক্ষেত্রে সংগঠনমূলক তত্ত্বের প্রয়োগ কৌশল
গঠনমূলক তত্ত্ব (Constructivist Theory) শিখন প্রক্রিয়ায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল। গঠনমূলক তত্ত্বের বহুমাত্রিক ব্যাখ্যা রয়েছে- যেমন: পিঁয়াজেশিয়ান গঠনমূলক হতে র্যাডিক্যাল গঠনমূলক (Radical Constructivism), অথবা সামাজিক গঠনমূলক (Social Constructivism) হতে ‘সামাজিক সাংস্কৃতিক এ্যাপ্রোচ’।
গঠনমূলক তাত্ত্বিকদের মতে ‘জ্ঞান সবসময়ই জ্ঞান যা একজন ব্যক্তি গঠন করে। যে কারণে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যথাযথ জ্ঞান উৎপাদন করা সম্ভব। গঠনমূলক তাত্তি¡করা মনে করেন যদি শিক্ষার্থীর চিন্তা বা ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করা হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক বেশি ক্ষমতায়ন/অর্জন করতে পারবে। যার ফলে শ্রেণিকক্ষ বা শ্রেণিকক্ষের বাইরে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পাবে এবং যে কোন বিষয়ে একটি অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হবে।
জন ডিউই (John Dewey, ১৯৩৮) সামাজিক গঠনমূলক তাত্ত্বিকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি মনে করেন, সামাজিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীর ক্ষমতায়নের ফলাফল হল শিক্ষা। সমাজের একজন সদস্য হিসেবে শিক্ষার্থী তার নিজেকে বিশ্লেষণ করতে পারবে। স্কুল সামাজিক সম্প্রদায়ের একটি অনুসঙ্গ যা শিক্ষার্থীকে সামাজিক জ্ঞান গঠন ও সম্প্রদায়ের একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তৈরী করতে সাহায্য করে। সামাজিক বিজ্ঞানে গঠনমূলক তত্ত্বের প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নলিখিত কৌশল সমুহ প্রয়োগের মাধ্যমে গঠনমূলক তত্ত্বের প্রয়োগ করা সম্ভব।
- শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান ও তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ প্রদান করা।
- শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে ও শিক্ষকের সাথে কথোপকথন/মতবিনিময়ের সুযোগ প্রদান করা।
- শিক্ষার্থীদের চিন্তাশীল ও উন্মুক্ত প্রশ্ন করুন এবং তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন করতে উৎসাহ প্রদান করা।
- শিক্ষার্থীদের যেকোন প্রাথমিক ধারণার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা।
- শিক্ষার্থীদের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা।

