সংগীত শিক্ষাদান পদ্ধতি ও কৌশল এবং গানসমূহের তাল - Proshikkhon

সংগীত শিক্ষাদান পদ্ধতি ও কৌশল এবং গানসমূহের তাল

Music Teaching Methods and Techniques

সংগীত শিক্ষাদান পদ্ধতি ও কৌশল

সংগীত একটি সুকুমার শিল্পচর্চার বিষয়৷ কিন্তু এটি সম্পূর্ণভাবে বৈজ্ঞানিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত৷ সংগীতকে নির্দিষ্ট নিয়মের ভিতর দিয়ে চলতে হয় ৷ এই নিয়মগুলো সংগীতশাস্ত্রে বিধিবদ্ধ৷ এ কারণে উত্তমরূপে সংগীত শিক্ষা দিতে হলে সংগীত শিক্ষাদানের সঠিক পদ্ধতি ও কৌশল জানা দরকার৷ সংগীত শিক্ষা সংস্কৃতির আবশ্যকীয় উপাদান৷ নানা উপাদান এবং অলংকারে সংগীত সমৃদ্ধ৷ এর মধ্যে স্বর, শ্রুতি, তাল, লয়, ভাব, রস থেকে শুরু করে আরও অনেক বিষয় রয়েছে৷ সংগীতের এ সকল বিষয় মাধুর্যের সাথে সবার কাছে তুলে ধরার জন্য একদিকে সংগীত সাধকরা অক্লান্ত পরিশ্যম করছেন, সেইসাথে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রচনা করছেন সংগীতের ইতিহাস এবং সংগীতের ব্যাকরণ৷ সঠিকভাবে এই শিক্ষার প্রয়োগ মানবজীবনকে পরিশীলিত করে৷

গানসমূহের তাল        

  • সংগীতের মোট ১২টি স্বরের মধ্যে ৭টি শুদ্ধ স্বর ও ৫টি বিকৃত স্বর৷ সা ও পা ছাড়া বাকি ৫টি স্বর বিকৃত৷ ৭টি শুদ্ধ স্বরের সংক্ষিপ্ত নাম সা, রে, গা, মা, পা, ধা, নি৷ সা থেকে নি পর্যন্ত এই ৭টি শুদ্ধ স্বরকে এক কথায় সপ্তক বলে৷ সপ্তক ৩ প্রকার৷ যেমন- উদারা, মুদারা ও তারা৷

৫টি বিকৃত স্বর হলো- রে=ঋ, গা=জ্ঞা, মা=ক্ষা, ধা=দা, নি= ণা৷ ৫টি বিকৃত স্বরের মধ্যে ৪টি স্বরকে (ঋ, জ্ঞা, দা, ণা) কোমল স্বর বলা হয় এবং বাকি ১টি স্বর “মা” কে (ঋা) কড়ি বা তীব্র মধ্যম বলা হয়৷

  • আরোহণ ও অবরোহণঃ

স্বরের ক্রমান্বয়ে উর্দ্ধ গতির নাম ‘আরোহণ’৷ মেন- সা রে গা মা পা ধা নি র্সা৷ নিম্নগতির নাম ‘অবরোহন’৷ যেমন- র্সা নি ধা পা মা গা রে সা

আরোহন- সা রে গা মা পা ধা নি র্সা৷

অবরোহন- র্সা নি ধা পা মা গা রে সা৷

  • সাধারণতঃ একটি গানের চারটি অংশ থাকে৷ যথা স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী এবং আভোগ৷
  • স্থায়ীঃ গানের প্রথম স্তবককেকে অস্থায়ী বা স্থায়ী বলা হয়৷ স্থিতি অর্থে অস্থায়ী অর্থের উদ্ভব হয়েছে৷ গান আলাপ, গত্ প্রভৃতির আরাম্ভ স্থায়ীতে৷ স্থায়ীর স্বর বিন্যাস মূলত মুদারা ও উদারা সপ্তকের মধ্যে হয়৷
  • অন্তরাঃ গানের দ্বিতীয় স্তবককে অন্তরা বলা হয়৷
  • সঞ্চায়ীঃ গানের তৃতীয় স্তবককে সঞ্চায়ী বলা হয়৷ অন্তরা ও আভোগের মধ্যে সঞ্চারণ করে বলে গানের এই অংশের নাম সঞ্চারী দেওয়া হয়েছে৷
  • আভোগঃ সঞ্চারীর পর অন্তরার মত সুরে যে স্তবক গাওয়া হয় সেটিই আভোগ৷ সাধারণত এটি গানের চতুর্থ স্তবক৷
  • জোড়া সাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদেশী ও দেশি বিভিন্ন স্বরলিপি পর্যালোচনা করে আর এক ধরণের স্বরলিপি আবিষ্কার করেন৷ এই স্বরলিপি পদ্ধতির নামকরণ করেন আকার মাত্রিক স্বরলিপি পদ্বতি নামে৷ বাংলা সংগীতে এই পদ্ধতিটি বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে৷

আকার মাত্রিক স্বরলিপি– এই পদ্ধতিতে শুদ্ধ স্বরগুলোকে স,র,গ,ম,প,ধ,ন এবং বিকৃত স্বরগুলোকে ঋ, জ্ঞ, দ, ণ এবং হ্ম লেখা হয়৷ একটি স্বর একমাত্রা বিশিষ্ট হলে স্বরের ডান পাশে আকার চিহ্ন দিতে হয়৷ যেমন সা৷ এক মাত্রায় একাধিক স্বর থাকলে স্বরগুলোকে একত্রে লিখে শেষের ম্বরে আকার যোগ করতে হয়৷ যেমন, সরগা৷ অর্ধ মাত্রার চিহ্ন ‘ঃ’৷ স্পর্শ স্বর বোঝাতে ছোট করে মূল স্বরের ওপরে লেখা হয়৷ কোন স্বরের পুনরাবৃত্তি বোঝাতে দ্বিতীয় বন্ধনী ব্যবহার করা হয়৷ কিন্তু পুনরাবৃত্তির সময় দ্বিতীয় বন্ধনীর ভেতর কোন অংশ বাদ দিতে হলে তা প্রথম বন্ধনীর ভেতর লেখা হয়৷ যেমন, {সা রা (গা মা) রা পা}৷ একটি স্বর একাধিক মাত্রা দীর্ঘ হলে এবং মাত্রা সংখ্যায় যদি গানের অক্ষর না থাকে তাহলে প্রথম অক্ষর লিখে স্বরটি যত মাত্রা দীর্ঘ হবে স্বরের ডানদিকে ততগুলো আকার চিহ্ন এবং গানের অক্ষরের ডানদিকে ততগুলো শূণ্য বসবে৷ তালের বিভাগ দাঁড়ি দিয়ে বোঝানো হয়৷ গানে প্রত্যেক লাইন আরম্ভ ও শেষে দু’টি কে দাঁড়ি দেওয়া হয়৷  

দাদরা তাল :  ৩  +  ৩  =  ৬ মাত্রা, মাত্রা বিভাগ ৩৷ ৩৷

+      
ধাধিনানাতিনা

কাহার্‌বা তাল :  ৮ মাত্রা, মাত্রা বিভাগ ৪৷ ৪৷

+        
ধাগেতেটে নাগেধিনা

 এক তাল : ১২ মাত্রা ৷ মাত্রা বিভাগ  ৩ ৷ ৩ ৷ ৩ ৷

+            
ধিনধিনধা ধাগেথুননা কৎতেধাগে তেরকেটেধিনধা 
 ১০১১১২

তেওড়া তাল : ৭ মাত্রা ৷ মাত্রা বিভাগ  ৩ ৷ ২ ৷ ২ ৷

+      
ধাধিনাধিনাধিনা
  
Comments (5)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!