Characteristics of Action Research
কর্মসহায়ক গবেষণার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেগুলো গবেষণা কার্যক্রমকে অধিক সুসংহত করবে ও সুস্পষ্টভাবে বুঝতে সহায়তা করে থাকে।
কর্মসহায়ক গবেষণার বৈশিষ্ট্য নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. গতানুগতিক গবেষণা ধারার মত শুধু ‘কী ঘটছে’ খোঁজ করাই কর্মসহায়ক/কার্যোপযোগী গবেষণার কাজ নয়। কমপক্ষে তিনটি প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধান করা এই গবেষণার লক্ষ্য। যেমন ‘কী ঘটেছে’, ‘কেন ঘটছে’ এবং ‘কীভাবে সমাধান’ করা যায় -এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার লক্ষ্যে এই গবেষণা পরিচালিত হয়।
২. কর্মসহায়ক গবেষণা পরিস্থিতি নির্ভর ও প্রেক্ষাপট কেন্দ্রিক (situational)। সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে সমস্যা চিহ্নিত করা এবং উক্ত প্রেক্ষাপটেই সমস্যার সমাধান করার সাথে এটি জড়িত। অন্যভাবে বললে, স্থানীয় পরিবেশে উদ্ভূত সমস্যা অনুসন্ধান করা ও তার সমাধান করা এর কাজ। হপকিনস (১৯৮৫) বলেছেন যে, তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ভূত সমস্যা-পরিস্থিতির বাস্তব দিকে অবদান রাখা কার্যোপযোগী গবেষণার লক্ষ্য।
৩. এই গবেষণা অংশগ্রহণকেন্দ্রিক (participatory)। গবেষণা বাস্তবায়ন বা প্রয়োগে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সকলেই অংশগ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে শিক্ষক নিজে এককভাবে অথবা গবেষকের সহায়তায় গবেষণা করে থাকেন। বহিরাগত গবেষকের ভূমিকা সহায়কের (facilitator) অর্থাৎ শিক্ষক সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে আর গবেষক দিক নির্দেশনা দিবে।
৪. কর্মসহায়ক গবেষণা সহযোগিতামূলক (collaborative)। এখানে গবেষক ও পেশাদার একত্রে একই প্রজেক্টে কাজ করেন। অর্থাৎ গবেষণা পরিবেশের একটর (যেমন শিক্ষক) ও বহিরাগত বিশেষজ্ঞ গবেষক -এ দুয়ের মধ্যে সহযোগিতামূলক কার্য প্রক্রিয়া গড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞের ভূমিকা এখানে সহযোগী হয়ে গবেষণা করা; তার মত বা পরিকল্পনা আরোপ করা নয়।
৫. স্ব-মূল্যায়ন (self-evaluation) এই গবেষণার একটি অন্তর্নিহিত প্রক্রিয়া। বিরাজমান পরিস্থিতিতে পরিবর্তন ও পরিমার্জন অব্যাহতভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কোন না কোনভাবে বিদ্যমান পরিস্থিতির উন্নয়ন সাধনই এর লক্ষ্য।
৬. পদ্ধতিগতভাবে এই গবেষণা বহু পদ্ধতিভিত্তিক (eclectic)। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে একাধিক পদ্ধতির সমন্বয় সাধন করা হয় যাতে যথার্থ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তা সমস্যার সঠিক সমাধান করা যায়।
৭. এই গবেষণা সংলাপকেন্দ্রিক (dialogic); আরোপিত কিংবা নির্দেশিত (didactic) নয়। এই বিচারে এটি ‘গণতান্ত্রিক’। অর্থাৎ, গবেষক গবেষণার বিষয়ে একত্রে সংলাপ ও মত বিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যাকে বুঝতে সচেষ্ট হয় এবং সমাধানে উদ্যোগী হয়।
৮. এ ধরনের গবেষণা বৃত্তীয় (cyclical), একমুখী (linear) নয়। গবেষণা একাধিক চক্রে (cycle) পরিচালিত হতে পারে এবং প্রতিটি চক্রে গবেষণার ফোকাস ভিন্ন হতে পারে। সেদিক থেকে এই গবেষণা সর্পিল প্রকৃতির (spiral)।
৯. এর নকশা নমনীয় (flexible), অনত (rigid) নয়; যে কোন প্রতিক্রিয়ায় সাড়া প্রদান করাই এই গবেষণার কাজ। অর্থাৎ, প্রয়োজন হলে গবেষণা চলমান অবস্থায় পরিবর্তন সম্ভব।
১০. একেবারে ছোট আকারের সমস্যা অনুসন্ধান থেকে বড় আকারের সমস্যা সমাধানের জন্য এই গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব।
সহজ কথায় কর্মসহায়ক গবেষণায় গবেষক কোন বহিরাগত পর্যবেক্ষক নন, বরং তিনি ঐ কাজের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে কর্ম পদ্ধতির উন্নতি করার চেষ্টা করেন। তিনি কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কারণে কর্মপদ্ধতির গভীরে প্রবেশ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করার চেষ্টা করেন যা বাইরে থেকে পর্যবেক্ষণ করলে ইন্দ্রিয়গত উপলব্ধি, ব্যক্তি দর্শন, চেতনা প্রভৃতি দ্বারা প্রকৃত সত্য নানাভাবে প্রভাবিত হতে পারে। যেহেতু কর্মসহায়ক গবেষণায় গবেষক নিজে কার্য পদ্ধতির একটি অংশ এবং প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ গবেষণায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেন তাই গবেষণা কাজে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয় ও তাদের মধ্যে আত্মসমালোচনামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
