শিশুতোষ গল্প: নিঝুম বনে গানের আসর - Proshikkhon

শিশুতোষ গল্প: নিঝুম বনে গানের আসর

Kid’s Story: Song festival in Nijhum forest

গল্প: নিঝুম বনে গানের আসর

বনের নাম নিঝুম বন। সেই বনে অনেক পশুপাখি ছিল। তবুও বনটি ছিল একদম নীরব, চুপচাপ। বনে বাঘমামার চোখে ঘুম নেই। কারণ বনের রাজা সিংহ মাছ শিকারে যাবেন। যাবার পথে নিঝুম বনে বসে বিশ্রাম নেবেন। এ সময়ে সিংহরাজকে আনন্দে রাখার দায়িত্ব পড়েছে বাঘমামার ওপর।

সিংহরাজ গান খুব ভালোবাসেন। এদিকে গান বাজনা বাঘমামার একদম আসে না। তাই বনের সব পশুপাখিকে ডেকেছেন বাঘমামা। বাঘমামার ডাকে আসলো হাতি, হরিণ, বানর, জিরাফ, গরু, ঘোড়া, হাঁস, মুরগি, ছাগল, কুমির, বিড়াল, কাঠবিড়ালী, ইঁদুর আরও অনেকে। বাঘমামা বলল, “কিছু একটা করতে হবে। সিংহরাজাকে খুশি করতেই হবে।”

বাঘমামার কথা বনের পশুপাখি সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনলো। সবাই খুব চিন্তায় পড়ে গেল। কেউ গালে হাত দিয়ে বসে রইল। কেউ গম্ভীর হয়ে বাঘমামার দিকে তাকিয়ে থাকলো। কারো মাথায় কোন বুদ্ধি এলো না।

শেয়াল একটু দেরি করে সভায় এলো, সবাই তাকে দেখে খুশি হলো। কারণ বনের সবাই শেয়াল মশাইকে পন্ডিত হিসাবে জানে। বাঘমামা শেয়াল মশাইকে দেখে বলল, “কিছু একটা করো শেয়াল ভায়া। সিংহরাজার জন্য একটা গান লিখে দাও।”

বাঘমামার কথা শুনে শেয়াল মশায় কি যেন একটু চিন্তা করলো। শেয়াল পণ্ডিত খুব গম্ভীর হয়ে বলল, “দিতে পারি। তবে এ তো সহজ কাজ নয়, ভেবে দেখি।” অনেক সময় ভেবে শেয়াল পণ্ডিত বলল, “লিখতে পারি, এ জন্য আমার লাগবে তিন পোয়া চাল আর তিনশো হাঁসের ডিম।” বনের সব পশুপাখি শেয়ালের শর্ত মেনে নিল।

এদিকে সময় চলে যায়। শেয়াল আর গান নিয়ে এলো না। ডাকা হলো কুমিরকে। ডাক পেয়ে জলের কুমির খুশিতে ডগমগ হয়ে হারমোনিয়াম নিয়ে হাজির হলো। শুরু করলো গান। কিন্তু কুমিরের গানে আসর জমলো না। কেউ তার গান পছন্দ করলো না। কী যে হবে, এ নিয়ে বাঘমামা পড়লো মহাভাবনায়। এমন সময় এগিয়ে এল ছোট্ট বিড়াল ছানা। ছোট্ট বিড়াল ছানা বাঘমামাকে বলল, “বাঘমামা বাঘমামা আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে।” বাঘ মামা বলল, “তুমি পুঁচকে বিড়াল ছানা! তোমার আবার বুদ্ধি কীসের?” হাতি বলল, “আহা শোনই না, বিড়াল কী বলে।”

বিড়াল ছানা সাহস নিয়ে এগিয়ে এসে মুরগিকে বলল,

“মুরগি আপু তুমি একটু ডাক দাও তো!”

মুরগি ডাকলো- কক্, কক্, কক্, কক্

বিড়াল ডাকল- মিউ মিউ মিউ

আবার মুরগি ডাকল- কক্, কক্, কক্, কক্

বিড়াল ডাকল – মিউ..

এবার গরু, কোকিল, আর শেয়াল যোগ দিল তাদের সঙ্গে।

মুরগি- কক্, কক্, কক্, কক্

গরু- হামবা……

মুরগি- কক্, কক্, কক্, কক্

বিড়াল- মিউ

মুরগি- কক্, কক্, কক্, কক্

শেয়াল- হুক্কা হুয়া

মুরগি- কক্, কক্, কক্, কক্

কোকিল- কুহূ,

বনের সবাই অবাক হয়ে দেখল বিড়াল ছানা সবাইকে নিয়ে সুন্দর গান বানিয়ে ফেলেছে। বিড়াল ছানার বুদ্ধিতে সবাই খুব খুশি হলো। তারা সকলেই বিড়াল ছানার সঙ্গে গান গাইতে চাইল। সে কী জমজমাট কোরাস গান!

বিড়াল ছানা শিখিয়ে দেবার পর সবাই নেচে নেচে গান গাইতে লাগলো।

হাঁস- প্যাঁক, প্যাঁক, প্যাঁক প্যাঁক

ব্যাঙ- ঘাঙর ঘ্যাঙ…….

হাঁস- প্যাঁক, প্যাঁক, প্যাঁক প্যাঁক

ছাগল- ম্যাঁ…

হাঁস- প্যাঁক, প্যাঁক, প্যাঁক প্যাঁক

ঘোড়া- চিহি…

হাঁস- প্যাঁক, প্যাঁক, প্যাঁক প্যাঁক

ভেড়া- ভ্যা…….

হঠাৎ ঈগল পাখি ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে সেখানে এসে হাজির হলো, বলল- “বাঘমামা, বাঘমামা, সিংহরাজার সর্দি লেগে জ্বর হয়েছে। সিংহরাজ আসবেন না।” ঈগল পাখির কথা শুনে বাঘমামাসহ সবার মন খারাপ হলো।

বাঘ মামা উদাস হয়ে গাছের নিচে বসে রইল। হঠাৎ সবাই মিলে হাত ধরাধরি করে বাঘমামাকে ঘিরে নেচে নেচে গান গাইতে শুরু করলো। সাথে সাথে বাঘমামার মন ভালো হয়ে গেল। বাঘমামা হালুম হালুম বলে তালে তালে নেচে নেচে গানে যোগ দিল।

সেই থেকে বাঘমামা গান খুব ভালোবাসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!