Music and its types
সংগীতের সংজ্ঞা, শ্রেণিবিভাগ, তাল, লয় ও ছন্দ পরিচয় নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
সংগীত মানুষের আবেগ প্রকাশের শুদ্ধতম মাধ্যম৷ এর মাধ্যমে মানুষ অত্যন্ত নির্মল ও পরিমার্জিত রূপে নিজেকে প্রকাশ করতে পারে৷ মানুষের মনের হীন প্রবৃত্তিগুলো সংগীত চর্চার মাধ্যমে দূর করে মানুষের প্রাণ শক্তিকে জাগরিত করে৷ সংগীত মানবজীবনের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখে সান্তনার প্রলেপ৷ সংগীত সমাজের সকল স্তরে পরিব্যপ্ত৷ জীবনের উত্সবে সংগীত নিত্য সঙ্গী৷ মানব জীবনের সামগ্রিক বিকাশের ক্ষেত্রে সংগীতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ সংগীত মানব জীবনকে পরিশীলিত করে৷ এক অকৃত্রিম চেতনা জাগ্রত করে৷ মানব জীবনে সংগীতের প্রভাব তাই মহামিলনের এক মহামন্ত্র৷
সংজ্ঞা:
গীত, বাদ্য এবং নৃত্য এই তিন কলার সমন্বয় সাধনকেই সঙ্গীত বলে৷ এই তিনটি কলার মধ্যে গীত বা কন্ঠ সঙ্গীতকেই আমরা সংগীত হিসেবে বুঝে থাকি৷ এক কথায় স্বর, বর্ণ ও লয়ের হৃদয়গ্রাহী সৃষ্টিকেই সংগীত বলে৷
গীত:
মানুষের মনের ভাব যখন কথার মাধ্যমে সুর, তাল, লয় মিলিয়ে গীতির মাধ্যমে প্রকাশ করে তখনই ইহা আমাদের কাছে “গীতি” আকারে ধরা দেয়৷ সংক্ষেপে কন্ঠ-সংগীতই গীত বা গান৷
বাদ্য:
গীত উপস্থাপনের সময় বিভিন্ন প্রকারের বাদ্যযন্ত্রের প্রয়োজন হয়৷ সংগীতে যেসকল বাদ্য ও যন্ত্রসংগীত সংগীতকে সাহায্য করে গানকে শ্রুতিমধুর করে তোলে, এক কথায় তাই বাদ্য-সংগীত৷ এগুলো বিভিন্ন রকমের হতে পারে- তবলা, নাল, বাঁশি, বেহালা, সেতার, হামোনিয়াম, মৃদঙ্গ, মন্দিরা ইত্যাদি৷ তবে বাদ্যযন্ত্র এককভাবেও বাদিত হতে পারে৷
নৃত্য:
মানুষের অঙ্গের বিভিন্ন অংশ যেমন হাত, পা, চোখ, মুখ ইত্যাদি সঞ্চালনের মাধ্যমে তাল লয়ের সহযোগে মনের ভাবকে ব্যক্ত করে তাহাই নৃত্য৷
সংগীতের শ্রেণিবিভাগ:
সংগীত অনেক প্রকারের হতে পারে৷ যেমন- খেয়াল, ঠুমরী, গজল, কীর্ত্তন, লোক সংগীত ইত্যাদি৷ লোক সংগীতে আবার প্রকারভেদ আছে৷ যেমন- ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি ইত্যাদি৷ বিভিন্ন প্রকার সংগীতের মধ্যে কোনটি উচ্চাঙ্গ আবার কোনটি হালকা অঙ্গের সংগীত৷
তাল:
তালের শব্দগত অর্থ তালি৷ অর্থাত্ করতলের (দুইহাতে আঘাত জনিত) শব্দের দ্বারা গীত, বাদ্য বা নৃত্যক্রিয়া সম্পন্নের কাল বা সময়ের পরিমাপকেই তাল বলে৷ তালের উপর সংগীত প্রতিষ্ঠিত৷ তাল হচ্ছে সংগীতের প্রাণ৷ তাল ছাড়া সংগীত প্রাণহীন৷ আমাদের দেশে যে তালগুলি প্রচলিত সেগুলি হচ্ছে- কাহার্বা, দাদ্রা, ত্রিতাল, একতাল, ঝাঁপতাল, চৌতাল, ঝুমুর ইত্যাদি৷ মাত্রা এবং ছন্দ বিশ্লেষন করে এগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে৷ ১) সমপদী ২) বিষমপদী
লয়:
গীত, বাদ্য ও নৃত্য একত্রে অথবা পৃথকরূপে নিষ্পন্ন হতে যে একটি বিশেষ গতির প্রয়োজন হয়, তাকে সংগীতের ভাষায় লয় বলে৷
ছন্দ:
বানী, সুর ও তালের পরিমিত বন্ধন যা শ্রবণ-মননের প্রীতিপদ পদাবলী তৈরি করে তাকে ছন্দ বলে৷
- জাতীয় সংগীত আমার সোনার বাংলা
- রণ সংগীত চল্ চল্ চল্
- গান প্রিয় ফুল শাপলা ফুল
- গান প্রজাপতি প্রজাপতি
- বিশ্ব সংগীত আমরা করব জয়
- গান আমরা সবাই রাজা
- মুক্তিযুদ্ধের গান রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি
- শ্রমের মর্যাদার গান নিজের হাতে কাজ কর
- গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি
- হামদ্ এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল
- প্রার্থনা সংগীত আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে
- লোকসংগীত আল্লাহ মেঘ দে পানি দে
- সরগম অনুশীলন
- সংগীত শিক্ষাদান পদ্ধতি ও কৌশল এবং গানসমূহের তাল
- শিশুর বিকাশে সংগীতের গুরুত্ব
- সংগীতের সংজ্ঞা, শ্রেণিবিভাগ, তাল, লয় ও ছন্দ পরিচয়
- প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুসরণীয় নিয়মাবলী
- প্রশিক্ষণে ব্যবহার্য উপকরণসমূহ
- প্রশিক্ষণ পরিচালনায় একজন প্রশিক্ষকের করণীয়
- সংগীত বিষয়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ।
দয়া করে সকলের উপকারার্থে শেয়ার করুন এবং ভবিষ্যতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে রেখে দিন।
