Curriculum in learning behavior
শিক্ষার্থীর শিখন আচরণে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক ও সহায়কশিখন-শেখানো সামগ্রী
শিখন আচরণ কী ?
শিখন আচরণ-যা ব্যক্তি কোন না কোন ভাবে শেখে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে তার প্রয়োজন মেটায়। যে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় একজন মানব শিশু তার অর্জিত জ্ঞানের প্রকাশ বা প্রয়োগ করে সেটাই শিখন আচরণ। মানব শিশু জন্মের পর থেকে প্রতিনিয়ত নানানভাবে নানান কৌশলে শিখছে এবং মৃর্ত্যু পর্যন্ত কখনো চেতন কিংবা অবচেতনভাবে শিখেই চলেছে।
পারিবারিক পরিমন্ডল থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের সুনিয়ন্ত্রিত শিক্ষা ব্যবস্থার সকল ক্ষেত্রে মানুষের এই শেখার পেছনে আছে কোন না কোন প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা। পারিবারিক পরিবেশে একজন শিশু শিখছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সে নিজেকে ও তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে নিজে সচেতনভাবে ভূমিকা রাখছে। অপরদিকে একজন শিশুকে বর্ণমালা শেখানো হয় যাতে সে মাতৃভাষায় লিখতে, পড়তে ও হিসাব কসতে পারে। শিশুকে যে উদ্দেশ্য নিয়ে শেখানো হলো সে তার আচরণের মাধ্যমে তা প্রকাশ করছে। এটাই শিখন আচরণ।
শেখার মাধ্যমে ব্যক্তির অভিজ্ঞতা দৃঢ় হয় এবং এই অভিজ্ঞতার ব্যবহারই ব্যক্তিকে তার প্রতিদিনকার প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী করে তোলে। তার আচরণের বহিঃপ্রকাশই তার শিখন। এখন প্রশ্ন হলো, শিখনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর কোন কোন বিশেষ আচরণ বিকশিত হয়?
উদাহরণস্বরূপ, একজন শিশু কুইজ প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে যা তার অর্জিত জ্ঞানেরই বহিঃপ্রকাশ, সে সাঁতার প্রতিযোগিতায় সফল হয়েছে যা তার অর্জিত সাঁতার দক্ষতার প্রয়োগ এবং সে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে যা তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির আচরণিক বহিঃপ্রকাশ। সুতরাং, ব্যক্তির অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা বা দৃষ্টিভঙ্গি যা তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয় তাই শিখন আচরণ।
সুতরাং,ব্যক্তি যা কিছু শিখছে তার মূল উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজন মেটানোর জন্য তার আচরনের উন্নয়ন। আর ব্যক্তির শিখনের ক্ষেত্রকে স্যার বেজ্ঞামিন ব-ুম’স তিনটি ক্ষেত্রে বিভক্ত করেছেন। যথা: জ্ঞানমূলক ক্ষেত্র (Cognitive Domain), আবেগীয় ক্ষেত্র (Affective Domain) এবং মনোপেশিজ ক্ষেত্র (Psychomotor Domain)। প্রতিটি ক্ষেত্রকে আবার কতকগুলো উপ-ক্ষেত্রে বিভক্ত করেছেন যেন ব্যক্তির আচরণের পরিপূর্ণতা প্রকাশ করা যায়।
অর্থাৎ শেখার মাধ্যমে ব্যক্তির উপরোক্ত ৩টি ক্ষেত্রের উন্নয়ন সাধিত হয় যা তার আচরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
শিক্ষাক্রম শিক্ষককে কীভাবে শিক্ষণে ও শিক্ষার্থীদের শিখন আচরণ উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে?
- শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীর বয়স ও পারিপার্শ্বিকতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিখন চাহিদা ও কৌশল নির্ধারণ করে দেয় যা শিক্ষার্থীর শিখন আচরণের উন্নয়ন ঘটায়।
- আচরণের উন্নয়নের জন্য বিষয়বস্তু, বিভিন্ন পদ্ধতি-কৌশল ও উপকরণ ব্যবহার করে, আচরণের কাঙ্খিত পরিবর্তন হয়েছে কিনা যা যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে।
একটি কেস স্টাডির মাধ্যমে আমরা বিষয়টি সম্পর্কে পরিস্কারভাবে ধারণা পেতে পারি!
কেস স্টাডি
রহিম ও মনিকা জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মনিকা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এবং এখনো কোন প্রশিক্ষণ পাননি। তথাপি তিনি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পড়াচ্ছেন। রহিম সাহেব প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ শিক্ষক। কিছুদিন পূর্বে তিনি শিক্ষাক্রমের উপর অন–লাইন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনিকা ম্যাডামকে রহিম সাহেবের ক্লাস পর্যবেক্ষণ করতে বললেন। মনিকা রহিম স্যারের ক্লাস পর্যবেক্ষণে লক্ষ করলেন, তিনি ক্লাসের শুরুতে একটি পোস্টারে শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষে কী ধরনের দক্ষতা অর্জন করবে তা প্রদর্শন করে ক্লাস শুরু করলেন।
তিনি পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে একটি পাঠ সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রদর্শন করলেন। মনিকা লক্ষ করলেন শিক্ষার্থীরা বেশ মনোযোগ দিয়ে দেখছে এবং অনেক বেশি সক্রিয়ভাবে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। সবশেষে রহিম স্যার কৌশলে শিক্ষার্থীদের পারদর্শিতা যাচাই করলেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে ক্লাস শেষ করলেন। মনিকা ম্যাডাম আগ্রহ নিয়ে রহিম স্যারকে জিজ্ঞেস করলেন “স্যার আমি কীভাবে আপনার মতো শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি?”
প্রশ্নগুলোর উত্তর উপরোক্ত কেস স্টাডির মাধ্যমে খুঁজতে চেষ্টা করুন:
- রহিম সাহেব শিক্ষার্থীদের শিখন আচরণ উন্নয়নে কী কী করেছেন?
- রহিম সাহেব শিক্ষার্থীদের শিখন আচরণ উন্নয়নে কোন কোন উপকরণ ব্যবহার করেছেন?
- রহিম সাহেবের ব্যবহৃত উপকরণ শিক্ষার্থীদের শিখন আচরণে কী প্রভাব ফেলেছে?
- নতুন শিক্ষক মনিকা ম্যাডামের জন্য আপনাদের পরামর্শ কী?


