পাঠ-৯.০: বাংলা ভাষার উপাদান ধ্বনি, শব্দ, ও বাক্য
১. ধ্বনি উচ্চারণের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গগুলোর নাম লিখুন।
ধ্বনি উচ্চারণের জন্য বাগযন্ত্রের যেসব প্রত্যঙ্গগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে সেগুলোর নাম নিচে দেওয়া হলো:
১. ঠোঁট (ওষ্ঠ ও অধর)
২. দাঁতের পাটি।
৩. দন্তমূল, অগ্রদন্তমূল।
৪. অগ্র তালু,অগ্র দন্তমূল।
৫. পশ্চাৎ তালু,নরম তালু,মূর্ধন্য।
৬. আলজিভ।
৭. জিহ্বাগ্র।
৮. সম্মুখ জিহ্বা।
৯. পশ্চাৎ জিহ্বা বা জিহ্বামূল।
১০. নাসা-গহ্বর।
১১. স্বর-পল্লভ, স্বরতন্ত্রী।
১২. ফুসফুস।
২. শব্দ কাকে বলে? গঠন অনুযায়ী শব্দের শ্রেণিবিভাগ করুন।
ধ্বনি যেমন ভাষার ক্ষুদ্রতম একক তেমনি শব্দ বাক্যের ক্ষুদ্রতম একক। অর্থবোধক ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টিকে আমরা শব্দ বলি। তুমি,আমি,ফুল,পাখি এসবগুলোই শব্দ। আবার যে ধ্বনি বা ধ্বনিসমষ্টির অর্থ নেই তাকে আমরা শব্দ বলতে পারিনা। নতুন নতুন শব্দ ভান্ডারই ভাষার সম্পদ।গঠন অনুসারে বাংলা শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
১. মৌলিক শব্দ
২. সাধিত শব্দ
মৌলিক শব্দঃ
যেসব শব্দকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় না সেগুলোকে মৌলিক শব্দ বলে। মৌলিক শব্দ ভাঙতে চাইলেও তার ভগ্ন বা বিশ্লিষ্ট অংশের কোন অর্থ হয়না। যেমনঃ ঘোড়া, ফুল, মা ইত্যাদি। এ শব্দগুলোকে ভাঙলে ভাঙা অংশের কোন অর্থ হয়না।
সাধিত শব্দঃ
যে সকল শব্দকে ভাঙা যায় এবং ভাঙা অংশেরও অর্থ থাকে তাকে সাধিত শব্দ বলে।মৌলিক শব্দ থেকেই সাধারণত সাধিত শব্দ গঠন করা হয়।।একাধিক শব্দের সমাস হয়ে কিংবা প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগ হয়ে সাধিত শব্দ গঠিত হয়। যেমনঃ বিদ্যালয় (বিদ্যা+আলয়),দম্পতি (জায়া ও পতি)।সাধিত শব্দ সাধারণত চারটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন-
১. সন্ধির সাহায্যে
২. সমাসের সাহায্যে
৩. উপসর্গ যোগে
৪. প্রত্যয় যোগে।
৩. বাক্য কাকে বলে? একটি সার্থক বাক্যের কয়টি লক্ষণ/বৈশিষ্ট্য/গুণ রয়েছে? উদাহরণসহ বর্ণনা করুন।।
পর পর একাধিক শব্দ বা পদ মিলে যদি কোন অর্থপূণ মনোভাব প্রকাশিত হয় তাহলে তাকে বাক্য বলে।তবে শব্দ বা পদগুলো যথেচ্ছা মিলিত হলেই বাক্য হয় না,তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকতে হয়।
একটি সার্থক বাংলা বাক্যের তিনটি গুণ। যথাঃ
১. আকাঙ্ক্ষা
২. আসত্তি
৩. যোগ্যতা।
১. আকাঙ্ক্ষাঃ
কোন একটি বাক্য শুরু করার পর শ্রোতার পুরো বাক্যটি শোনার ইচ্ছা জাগে।যদি বলা হয় আজ সারাদিন ধরে…….। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় আজ সারাদিন ধরে কি? রোদ? বৃষ্টি? নাকি তার অপেক্ষা করে আছি? অর্থাৎ বাক্যের যে গুণ বা বৈশিষ্ট্য আগ্রহকে পরিতৃপ্ত করে তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে।
২. আসত্তিঃ
আসত্তি মানে হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ততা বা নৈকট্য। একটি বাক্যে শব্দ বা পদ যথাযথভাবে না সাজালে মনোভাব সঠিকভাবে প্রকাশ পায় না। তাকে সম্পর্কক্রমে সাজাতে হয়।বাক্যের সুশৃঙ্খল ক্রমসজ্জাকে আসত্তি বলা হয়। যেমনঃকাল সারারাত ছিল স্বপনের রাত-গানের কলিটি যদি লিখি রাত স্বপনের সারা কাল ছিল রাত তাহলে গানের কলি হওয়াতো দূরের কথা,বাক্যই হয় না।
৩. যোগ্যতাঃ
বাক্যের শব্দসজ্জা ও সম্পূর্ণতা সবই ঠিক আছে,কিন্তু অর্থটি ঠিক না থাকলে বাক্য সার্থক হয়না।যেমনঃজল দিয়ে আগুন জ্বালাই।বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক হলেও যৌক্তিকতা প্রতিফলিত করছে না। অর্থাৎ বাক্যের অন্তর্গত ও ভাবগত মেলবন্ধনকে যোগ্যতা বলে।
৪.বাংলা ভাষার ধ্বনির বৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?
বাংলা ভাষার ধ্বনির বৈশিষ্ট্যসমূহ হলোঃ
ক. ধ্বনিগুলো অর্থপূর্ণ আওয়াজ।
খ. ধ্বনিগুলো শব্দের ক্ষুদ্রতম একক।
গ. ধ্বনি হলো ভাষার মূল উপাদান।
ঘ. ধ্বনি অবিভাজ্য। একে বিভাজন করা যায় না।
ঙ. বাংলা ভাষার ধ্বনিসমূহ বৈজ্ঞানিকভাবে সুবিন্যস্ত।
চ. ধ্বনিগুলো স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনি নামে পরিচিত।
৫.গঠন অনুসারে বাক্য কয় প্রকার ও কি কি?
গঠন অনুসারে বাক্য তিন প্রকার। যেমনঃ
১. সরল বাক্যঃ যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে,তাকে সরল বাক্য বলে। যথাঃ সাজ্জাদ বই পড়ে। এখানে সাজ্জাদ কর্তা এবং পড়ে সমাপিকা ক্রিয়া।
২. জটিল বাক্যঃ যে বাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় যুক্ত মূখ্য অংশ ব্যতীত, এক বা একাধিক অপ্রধান খন্ডবাক্য বা বাক্যাংশ থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।যেমনঃ যে পরিশ্রম করে সেই সুখ লাভ করে। এখানে যে পরিশ্রম করে নিভরশীল বাক্য এবং সেই সুখ লাভ করে প্রধান খন্ড বাক্য।
৩. যৌগিক বাক্যঃ দুই বা ততোধিক সরল ও জটিল বাক্য সংযোজক অব্যয় দ্বারা সংযুক্ত হয়ে একটি পূর্ণ বাক্যগঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমনঃ লোকটি ধনী, কিন্তু অসুখী।