অধ্যায়-১০: বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি
প্রশ্ন।১। সংক্ষিপ্ত পরিচয় সহ বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক, দিবস বিষয়াবলির তালিকা করুন।
পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশের মতো বাংলাদেশের আছে বিভিন্ন জাতীয় প্রতীক। এগুলাে জাতীয় ঐতিহ্য ও সংহতির প্রতীক । ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এসব অর্জন করেছি। জাতীয় প্রতীকগুলাে একদিকে বিশ্ব দরবারে নিজের দেশের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রকাশ করে ও দেশকে মর্যাদার সাথে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করে।
নিচে সংক্ষিপ্ত পরিচয় সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় প্রতীক, দিবস ও বিষয়ের তালিকা প্রদান করা হলাে:
১ সংবিধান : এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি।
২, জাতীয় মনোগ্রাম :লাল রংয়ের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙের বাংলাদেশের মানচিত্র। বৃত্তের উপরে লেখা ‘গনপ্রজাতণ্রী বাংলাদেশ এবং নিচে লেখা ‘সরকার। বৃত্তের দুই পাশে দুটি করে মােট চারটি তারকা আছে।
৩, রাষ্ট্রীয় প্রতীক :পানিতে ভাসমান শাপলার দু ‘পাশে দুটি ধানের শিষ। শাপলার উপরে তিনটি সংযুক্ত পাট পাতা আছে। পাতাগুলোর দু পাশে দুটি করে মােট চারটি তারকা আছে। জাতীয়
৪. জাতীয় পতাকা:পতাকার রং সবুজ। মাঝে গাঢ় লাল বৃত্ত। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০ ৬.
৫. জাতীয় সংগীত:বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আমার সোনার বাংলা কবিতার প্রথম ১০ লাইন।
৬. জাতীয় পাখি:দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি।
৭. জাতীয় ফল: কাঁঠাল দেশের জাতীয় ফল।
৮.জাতীয় ফুল: জাতীয় ফুল শাপলা
৯.জাতীয় বৃক্ষ:বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ আম গাছ।
১০. জাতীয় কবি: কাজী নজরুল ইসলাম
১১. জাতীয় মাছ :ইলিশ
১২. জাতীয় পশু:রয়েল বেঙ্গল টাইগার।
১৩. জাতীয় খেলা :হা-ডু-ডু
১৪. জাতীয় মসজিদ:বায়তুল মােকাররম।
১৫. জাতীয় স্মৃতিসৌধ:এটি ঢাকার নবীনগরে অবস্থিত। এর নাম ‘সম্মিলিত প্রয়াস’।
১৬. জাতীয় উদ্যান:সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
১৭. স্বাধীনতা দিবস:২৬ মার্চ।
১৮. বিজয় দিবস:১৬ ডিসেম্বর।
১৯. শােক দিবস:১৫ আগস্ট।
২০, শহিদ দিবস:২১ ফেব্রুয়ারি।
২১, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস:১৪ ডিসেম্বর।
প্রশ্ন । ২। বাংলাদেশের জাতীয় মাছ, পত, গাছ এবং খেলার বর্ণনা দিন।অথবা , আমাদের জাতীয় মাছ, পশু, জাতীয় মসজিদ এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধের বর্ণনা দিন।
পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশের মতাে বাংলাদেশেরও আছে বিভিন্ন জাতীয় প্রতীক। এগুলাে জাতীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এগুলাে অর্জন করেছি। জাতীয় প্রতীকগুলাে এক দিকে বিশ্ব দরবারে নিজ দেশের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব প্রকাশ করে ও দেশকে মর্যাদার সাথে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠিত করে। অন্যদিকে নাগরিকদের দেশপ্রেম, জাতীয় আদর্শ ও সংহতিতে উদ্বুদ্ধ করে। নিম্নে জাতীয় বিষয়গুলো আলোচনা করা হলো :জাতীয় মাছ : জাতীয় মাছ ইলিশ। সমুদ্রে বাস হলেও পূর্ণবয়স্ক ইলিশ ডিম পাড়ার মৌসুমে ঝাঁক বেধে মোহনা অতিক্রম করে নদীর উজানে এসে ডিম পাড়ে। মিষ্টি পানিতে জন্ম নেওয়া পোনা ইলিশকে বলা হয় জাটকা। এরা আবার নদীর ভাটি পথ ধরে সমুদ্রে পৌঁছে যায়। ইলিশ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মৎস্যজাত প্রােটিনের উৎস। এর অর্থনৈতিক মূল্য তাই বিশাল। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ও ইলিশ খুবই উল্লেখযোগ্য একটি মাছ। বর্ষাকালে এ মাছ সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় ।জাতীয় পশু: রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের জাতীয় পশু। বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত সুন্দরবন এর আবাসস্থল। হলুদের মাঝে কালাে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গল টাইগার আকারে অনেক বড় ও হিংস্র। সুন্দরবন পরিবেশগত হুমকির মুখে পড়ার কারণে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। সুন্দরবনের বাঘের রাজকীয় ভাবভঙ্গি ও জৌলুস দেখে মানুষ স্তম্বিত হয়ে যায়। জাতীয় বৃক্ষ: জাতীয় বৃক্ষ আম গাছ। দেশের সব অঞ্চলেই নানা জাতের আম গাছ জন্মে। তবে সবচেয়ে ভালাে ও উন্নত জাতের গাছ হয় রাজশাহীতে। বাংলাদেশের গ্রামাঞালের প্রায় সব বাড়িতেই আম গাছ আছে। এই অঞ্চল ফলটির আদি জন্মভূমি। আম খেতে খুব সুস্বাদু। জাতীয় খেলা : কাবাড়ি আমাদের জাতীয় খেলা। এর আরেক নাম হা ডু ডু। এটি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। ১০ জনের দুটি দলে এ খেলা হয়। এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা। এক সময় গ্রামগঞ্জে এ খেলার বহুল প্রচলন ছিল। বর্তমানে সাফ গেমসেও এ খেলা স্থান পেয়েছে। জাতীয় মসজিদ : ঢাকায় অবস্থিত বায়তুল মোকাররম মসজিদ আমাদের জাতীয় মসজিদ। ১৯৬০ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। সর্বপ্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৬৩ সালের ২৫ জানুয়ারি। মসজিদটি অটিতলা বিশিষ্ট। তবে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত হয় ছয় তলা। জাতীয় স্মৃতিসৌধ : সাভারের নবীনগরে অবস্থিত। ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদদের স্মরণে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই প্রতিবছর স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে এখানে ফুল প্রদানের মাধ্যমে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়। এর উচ্চতা ১৫০ ফুট। এতে সাতটি ফলন আছে, যা স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি পর্যায়কে নির্দেশ করে। যথা : ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৬২-এর ছাত্র আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয়দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। এটি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান। বিদেশ থেকে আগত রাষ্ট্রীয় অতিথিবৃন্দ ও এখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা দেখান।
প্রশ্ন । ৩। রাষ্ট্রীয় প্রতীক, জাতীয় মনােগ্রাম ও জাতীয় পতাকার বর্ণনা দিন।
পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশের মতো বাংলাদেশের আছে বিভিন্ন জাতীয় প্রতীক। এগুলাে জাতীয় ঐতিহ্য ও সংহতির প্রতীক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা এসব অর্জন করেছি। জাতীয় প্রতীকগুলাে একদিকে বিশ্ব দরবারে নিজের দেশের স্বতন্র বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বকে প্রকাশ করে ও দেশকে মর্যাদার সাথে বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত করে। নিম্নে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতীক, জাতীয় মনােগ্রাম ও জাতীয় পতাকার বর্ণনা দাও হলাে। রাষ্ট্রীয় প্রতীক :পানিতে ভাসমান শাপলার দু ‘পাশে দুটি ধানের শীষ। শাপলার উপরে তিনটি সংযুক্ত পাট পাতা আছে। পাতাগুলাের দু’পাশে দুটি করে মােট চারটি তারকা আছে। চাৱটি তারকা রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতি- জাতীয়বাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রকাশ করে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এটি ব্যবহার করেন। রাষ্ট্রীয় প্রতীকের রূপকার শিল্পী কামরুল হাসান। জাতীয় মনোগ্রাম: লাল রঙ্গের বৃত্তের মাঝে হলুদ রঙ্গের বাংলাদেশের মানচিত্র। বৃত্তের উপরে লেখা ‘গণপ্রজাতণ্রী বাংলাদেশ’ এবং নিচে লেখা “সরকার”। বৃত্তের দুই পাশে দুটি করে মােট চারটি তারকা আছে। চারটি তরকা রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতি- জাতীয়বাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র , ধর্মনিরপেক্ষতা প্রকাশ করে। সরকারি কাজকর্মে এই মনোগ্রাম ব্যবহৃত হয়।জাতীয় পতাকা : বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রং সবুজ। মাঝে গাঢ় লাল বৃত্ত। লাল রঙ্গের বৃত্তটি রক্তক্ষয়ী সংঘামের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার নতুন সূর্যের প্রতীক। উজ্জ্বল ঘন সবুজ অংশটি বিস্তৃত গ্রামবাংলার প্রতীক। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০: ৬। বাংলাদেশের যেকোনাে জাতীয় দিবসে এটি উত্তোলন করা হয়। জাতীয় শোক দিবস, রাষ্ট্র কর্তৃক ঘােষিত কোনাে শােকের দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় । বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রুপকার শিল্পী কামরুল হাসান।
প্রশ্ন॥ ৪ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত লিখুন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তাঁর রচিত‘আমার সোনার বাংলা’ কবিতা থেকে প্রথম ১০ লাইন জাতীয় সংগীত হিসেবে নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত টি নিম্নরূপ:
আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।
চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি॥
ও মা, ফাগুনে তোর আমের বনে ঘ্রাণে পাগল করে,
মরি হায়, হায় রে—
ও মা, অঘ্রানে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কী দেখেছি মধুর হাসি॥
কী শোভা, কী ছায়া গো, কী স্নেহ, কী মায়া গো—
কী আঁচল বিছায়েছ বটের মূলে, নদীর কূলে কূলে।
মা, তোর মুখের বাণী আমার কানে লাগে সুধার মতো,
মরি হায়, হায় রে—
মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি॥
প্রশ্ন। ৫। বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও বুদ্ধিজীবী দিবস সম্পর্কে লিখুন।
বিজয় দিবস : ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়। তাই প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়।
শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস : ১৯৫২ সালের ভাষা শহিদদের স্মরণে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস পালন করা হয়। এদিন বাঙালি খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহিদদের শ্রদ্ধা জানায়। আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত ও আলতাফ মাহমুদের সুরারােপিত। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি গাইতে গাইতে সবাই প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করে ।ভাষা শহিদদের স্মরণে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মিত হয়। জাতীয় শহীদ মিনারের রূপকার শিল্পী হামিদুর রহমান।ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সেজন্য জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘােষণা করেছে। ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখ থেকে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো যথাযথ মর্যাদায় এ দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে পালন করে।
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস : ১৪ ডিসেম্বর আমাদের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। পরাজয় অবশ্যম্ভাবী জেনে বাঙালিকে মেধাশূন্য করার জন্য এদিন পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনীর সহায়তায় এদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। পরে এদের অনেকের লাশ রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে পাওয়া যায় ।
