অধ্যায়-৫: পৃথিবী : মহাদেশ ও মহাসাগর
আলোচ্য বিষয়:
১. পৃথিবীর বর্ণনা দিন।
আমরা অনেক সময় বিশাল এই পৃথিবীকে অনুমান করতেও পারি না। এই পৃথিবীকেই অনেক সময় ছোট মনে হবে যখন আমরা আমদের এই পৃথিবীকে সৌরপরিবারের একটি সদস্য হিসাবে দেখি। পৃথিবী একা নয় এ সৌরপরিবারকে আমরা সৌরজগত নামে চিনি বা জানি সেখানে রয়েছে অনেক গ্রহ-উপগ্রহ। এই সৌরপরিবারের কেন্দ্রে রয়েছে সূর্য ও পৃথিবীসহ আটটি গ্রহ ও অজস্র জ্যােতিস্কমণ্ডলী, উপগ্রহ, উল্কা, ধূমকেতু প্রভৃতি।
এই সৌরপরিবারটি আবার ছায়াপথ (Milky way) নামে একটি গ্যালাক্সির অন্তর্ভূক্ত, যেখানে অনুমানিক ৪০০ বিলিয়ন জ্যোতিস্ক রয়েছে (NASA), এরকম ১০০-২০০ বিলিয়ন গ্যালাক্সির সমাবেশে তৈরি হয়েছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড (Universe), এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান খুবই ক্ষুদ্র।
পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় ৭১ % হলাে জলাভূমি বাকী২৯% হলো স্থলভূমি। তাই বলা হয় পৃথিবীর তিন ভাগ পানি, একভাগ স্থল। এই বিশাল জলরাশির ৯৭.৫% লবণাক্ত সমুদ্রের পানি। মাত্র ২.৫% পানি সুপেয় বা পানের উপযােগী। এই সুপেয় পানির মাঝে আবার ৬৮.৭% ই বরফ আকারে জমে আছে দুই মেরু আর উচুঁ সব পাহাড়ের চূড়ায়।
দুই মেরু উত্তর মেরু আর দক্ষিণ মেরু পৃথিবীর উত্তর আর দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। কোন মানচিত্র বা গ্লোবের উত্তর দিক হলো বিষুব বা নিরক্ষরেখা থেকে উপরের দিকে। পৃথিবীর ঠিক মাঝ বরাবর চলে গেছে বিষুব বা নিরক্ষরেখা।
এই বিষুবরেখা পৃথিবীকে দুটি গোলার্ধে ভাগ করেছে। পৃথিবীর স্থলভাগকে সাতটি এবং জলভাগকে পাঁচটি মহাসাগরে ভাগ করা হয়েছে ।
২. এশিয়া মহাদেশের অবস্থান ও জলবায়ুর বর্ণনা করুন।
অবস্থান ও আয়তন :
আমরা এশিয়া মহাদেশে বাস করি। আয়তন ও জনসংখ্যা উভয় দিক নিয়ে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ। পৃথিবীর মােট উপরিভাগের ৮.৭ ভাগ অংশ জুড়ে অবহিত। মােট ভূভাগের প্রায় ৩০ অংশ ভূ-ভাগ জুড়ে এই মহাদেশটির বিস্তৃতি। এটা পৃথিবীৱ প্ৰধানত পূর্ব ও উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এশিয়া আয়তন প্রায় ৪.৯৭,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
শুধু আয়তন ও জনসংখ্যার দিক থেকেই যে এশিয়া বিরাট তা নয়, এখানেই গড়ে উঠেছিল পৃথিবীর অধিকাংশ প্রাচীন সভ্যতা । সুদূর অতীতে চীন, মেসোপটেমিয়া, পারস্য, হিব্রু এবং সিন্ধু সভ্যতা যখন এখানেই গড়ে ওঠে তখন ইউরােপ ও আমেরিকায় সভ্যতার আলাে পৌছেনি।
পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চার্যের মধ্যে দুটি-চীনের মহাপ্রাচীর ও ব্যাবিলনের শুন্য উদ্যান এ মহাদেশেই অবস্থিত। এশিয়া মহাদেশে মােট ৪৭ টি দেশ আছে। এছাড়াও তুরস্ক ও রাশিয়ান ফেডারেশনের বৃহদাংশ এই মহাদেশের অন্তর্ভূক্ত
এশিয়ার জলবায়ু:
এশিয়া একটি বিশাল মহাদেশ তাই এর বিভিন্ন অংশের জলবায়ু বিভিন্ন ধরনের। যেমন: ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ায় সারা বছর তাপমাত্রা বেশি থাকে এবং বৃষ্টিপাত হয়। বাংলাদেশ ও আশপাশের দেশগুলোতে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মকালে অনেক বৃষ্টিপাত হয় একং শীতকালে বৃষ্টি খুব কম হয় ।
এশিয়ায় তিনটি উল্লেযােগ্য মরুভুমি রয়েছে, এর মাঝে চীনের গোবি মরুভূমি, মধ্যপ্রাচ্যে আরব মরুভূমি এবং ভারেতর রাজস্থান মরুভূমি। মরুভূমিতে আবহাওয়া খুব গরম এবং বৃষ্টিপাত খুব একটা হয় না। এশিয়ার উত্তরে সাইবেরিয়া অবস্থিত। সাইবেরিয়া ও এর আশপাশে খুব ঠাণ্ডা। তীব্র শীতের কারণে সেখানে কোথাও কোথাও তুষারপাত হয়। মধ্য এশিয়ার পর্বত শিখরও সারা বছর বরফে ঢাকা থাকে।
৩. আফ্রিকা মহাদেশের বর্ণনা দিন।
অবস্থান ইউরোপের দক্ষিণে এবং এশিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমে আফ্রিকা মহাদেশ অবস্থিত। এটি ৩৭° উত্তর অক্ষরেখা থেকে প্রায় ৩৫ দক্ষিণ অক্ষরেখা এবং ১৭ পশ্চিম দ্রাঘ্রিমারেখা থেকে ৫১ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বেলোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর এবং দক্ষিণে ভারত ও আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।
আয়তন ও জনসংখ্যা :
আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয় দিক থেকে আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ। এটি পৃথিবীর ১৬ ভাগ অঞ্চল জুড়ে অবস্থিত, যা স্থল ভাগের ২০ ভাগ। আয়তন প্রায় ৩,০২,২১,৫৩২ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ১০৩ কোটি, যা পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় ১৫%। এ মহাদেশের জনগণ কৃষ্ণাঙ্গ প্রকৃতির। নিগ্রোদের আদিবাস এ মহাদেশে।
ভূপ্রকৃতি :
এটি পৃথিবীর উষ্তম মহাদেশ। এর প্রায় ৬০% এলাকা প্রধানত মরুভূমি শুষ্ক । আফ্রিকার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় সাভানা নামের তৃণভূমি এবং অতিবৃষ্টিপাতের কল্যাণে ঘনবনভূমির সৃষ্টি হয়েছে। সিংহ, হায়েনা, চিতাবাঘ, জিরাফ, গরিলা, উট, বেবুন জেব্রাসহ অজস্র তৃণভােজী এবং মাংসাশী প্রাণী বাস করে। আফ্রিকায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ও বিভিন্ন ধরনের বন্য প্রাণী বাস শরে আফ্রিকার অধিকাংশ বন্য প্রাণী হিংস্র প্রকৃতির।
খনিজ সম্পদ ও সভ্যতা:
বিপুল তেল, গ্যাস, স্বর্ণ, হীরক, কযালা, ইউরেনিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ আফ্রিকাতে উত্তোলিত হয়। আফ্রিকাতেই আদি মানব সভ্যতার উদ্ভব ঘটেছিল বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন। মিশরীয় সভ্যতার জন্মও আফ্রিকাতেই। এছাড়া আবিসিনিয়া, কার্থেজ এর মতো প্রাচীন সভ্যতার জন্ম ও আফ্রিকাতে।
আফ্রিকার দেশগুলােতে বিভিন্ন ধর্মের লোক বাস করে। তবে বেশির ভাগ লােক ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এরপর আছে খ্রিস্টান ধর্ম।
৪. ইউরোপ মহাদেশের জলবায়ু কেমন? বর্ণনা করুন।
অথবা, ইউরোপের জলবায়ু এবং অধিবাসীর বর্ণনা দিন।
ইউরোপের জলবায়ু:
ইউরোপের জলবায়ুকে চারটি প্রধান জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করা যায়। যেমন-
১) তন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল।
২) নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল।
৩) মহাদেশীয় জলবায়ু অঞ্চল।
৪) ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল।
১. তন্দ্রা জলবায়ু অঞ্চল:
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশসমূহের উত্তরাংশ এবং রাশিয়ার উত্তরভাগ তন্দ্রা জলশায় অঞ্চল বা হিমমন্ডলের অন্তগর্ত। এ অঞ্চলে প্রায় সারা বছর বরফাচ্ছন্ন। শীতকাল দীর্ঘস্থায়ী ও গ্রীষ্মকাল স্বল্পস্থায়ী। এ অঞ্চলে সারা বছর তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে। এখানে প্রায়ই তুষার বৃষ্টি ও ঝড় হয়।
২. উত্তর-পশ্চিম ইউরোপের নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু অঞ্চল:
আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত দেশসমূহ এরূপ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। উষ্ণ মহাসাগরীয় ও উত্তর আটলান্টিক স্রোতের প্রভাবে এবং সমুদ্র সান্নিধ্যের জন্য উত্তর-পশ্চিম ইউরােপের জলবায়ু সমভাবাপন্ন। শীতকালে অধিক বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। তবে উত্তর ও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বছরের অন্যান্য সময়ে বৃষ্টিপাত হয়।
৩. পূর্ব ইউরােপের মহাদেশীয় জলবায়ু অঞ্চল:
ইউরােপের পূর্বাংশে সমুদ্র থেকে অনেক দূরে অবস্থিত হওয়ায় এ অঞ্চলের জলবায়ু মহাদেশীয় অর্থাৎ চরমভাবাপন্ন। পূর্ব-পশ্চিমে কোনাে পর্বতে না থাকায় উত্তরের শীতল বায়ু দক্ষিণে প্রবাহিত হয়। শীতকালে শীতের তীব্রতা অধিক এবং গ্রীষ্মকালে বেশি গরম অনুভূত হয়।
৪. ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
ভূমধ্যসাগরের উপকূলে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু দেখা যায়। গ্রীষ্মকালে সূ্র্যালােক প্রখর হলেও সমুদ্র সান্নিধ্যের জন্য উষ্ণতা কম। শীতকালে জলবায়ু নাতিশীতোষ্ঞ থাকে। ফলে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং গ্রীষ্মকাল শুষ্ক থাকে।
অধিবাসী :
ইউরােপের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭৫.২৪ কোটি। আয়তনের দিক থেকে ষষ্ঠ ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে এ মহাদেশের স্থান তৃতীয় । উত্তৱেৱ হিমমন্ডলে জনবসতি কম। রাশিয়ার মধ্যভাগে জনবসতি কিছু ঘন। ইউরােপের দক্ষিণ ও পশ্চিমে বিশেষত ফ্রান্স, বেলজিয়াম এ জার্মানিতে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার হওয়ায় জনবসতি সবচেয়ে ঘন। ইউরােপের অধিবাসীদের অধিকাংশ খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তবে কিছু অন্যান্য ধর্মাবলম্বী লোক রয়েছে। তন্দ্রা অঞ্চলে ফিন ও ল্যাপ, রাশিয়ায় বসাক ও হাঙ্গেরিতে ম্যাসিয়ার জাতি বাস করে। অন্যান্য অংশে শ্বেতকায় ককেশীয় জাতি বাস করে।
৫. মহাসাগরের গুরুত্ব বর্ণনা দিন।
অথবা, মানুষের জীবনে মহাসাগরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন।
অথবা, জীববৈচিত্র্যের ওপর মহাসাগরগুলাের প্রভাব বর্ণনা করুন।
মহাসাগরের গুরুত্ব:
পৃথিবীর মহাসাগরগুলোর গুরুত্ব নিচে বর্ণনা করা হলাে:
১. মহাসাগরগুলো সামুদ্রিক মৎস্যের বিশাল ভাণ্ডার। মানুষের খাদ্যের একটা বিরাট অংশ এই মহাসাগরগুলাে সরবরাহ করে। মহাসাগরসংলগ্ন অনেক দেশ আছে যেগুলাে মস্য শিল্পে উন্নত এবং মৎসা বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে।
২. মহাসাগরগুলােতে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার উষ্ণ ও শীতল স্রোতধারা। এই স্রোতগুলাের অনুূকূলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলাে সহজেই এক স্থান থেকে অন্যস্থানে চলে যেতে পারে। আবার স্রোতের প্রতিকূলে সময় অনেক বেশি লাগে। এই সময় এর ওপর দ্রব্যের মূল্যের তারতম্য হতে পারে। কোন ধরনের দ্রব্য পাঠানাে হবে তাও নির্ধারিত হয় সময় বিবেচনা করে।
৩. উষ্ণ এ শীতল স্রোতের মিলন স্থানে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। এসব স্থানে প্রচুর মাছের খাবার পাওয়া যায়। সেজন্য এসব স্থানে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মস্য চারণক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। যেমন- নিউফাউন্ডল্যান্ড, ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ, জাপান, नরওয়ের উপকূলে মৎস্য চারণক্ষেত্র গড়ে উঠেছে।
৪. সমুদ্রসংলগ্ন মহাদেশ বা দেশের অংশে মহাসাগারগলাের প্রতাব বিশাল। কোনাে দেশ সমুদ্র/মহাসাগর সংলগ্ন হলে স্থল ও জলভাগের তাপমাত্রা তারতম্যজনিত কারণে সেইখানে সমুদ্র ও স্থল বায়ুর প্রভাব লক্ষ করা যায়। প্রচণ্ড শীতে বা প্রচন্ড গরমে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে সেই স্থানে শীতের তীব্রতা এবং গরমের তীব্রতা সহনীয় রাখতে মহাসাগরগুলো বিরাট ভূমিকা রাখে।
৫. মহাসাগর থেকে আসা বায়ুপ্রবাহ প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে এবং মহাদেশের উপকূলীয় অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটাতে সহায়তা করে। ফলে উপকূলীয় দেশগুলােতে প্রচুর কৃষিজ পণ্য উৎপাদিত হয়।
৬. কোনাে শীতল স্থানের পাশ দিয়ে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হলে সেই স্থান যতটা শীতল হওয়ার কথা তা হয় না, বরং কি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এই আবার অপেক্ষাকৃত উষ্ণ অঞ্চলের পাশে দিয়ে শীতল স্রোত প্রবাহিত হলে সেই স্থানের শীতের তীব্রতা বাড়ে
৭ মহাসাগরগুলাে জীব বৈচিত্রের বিশাল ভান্ডার, যা মানুষের গবেষণার বিষয় এবং পর্যটকদের শিশেষ আকর্ষণ এই মহাসাগতগুলাে।
৮. জাহাজে সমুদ্র ভ্রমণ এমনকি সমুদ্র তলদেশে ভ্রমণ এর ব্যবস্থা প্রায় অনেক দেশ পর্যটকদের কাছে থেকে প্রচুর অর্থ সংগ্রহ কলতে পারে।
৯. সাগর-উপসাগার সংলগ্নে বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। এখানে প্রচুর পর্যটক সমাগম হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়।
৬. এশিয়ার কৃষিজ সম্পদ ও খনিজ সম্পদের বর্ণনা দিন।
কৃষিজ ও খনিজ সম্পদে এশিয়া মহাদেশ অধ্যায় সমৃদ্ধশালী। এখনকার ভূমিগুলো পলিমাটি দ্বারা গঠিত হওয়ায় অল্প পরিশ্রমে প্রচুর কৃষিজ দ্রব্য উৎপাদিত হয়। এশিয়ায় উৎপাদিত ফসলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা (ক) খাদ্যশস্য ও (২) অর্থকরী ফসল ।
কৃষি সম্পদ:
এশিয়ায় উৎপাদিত খাদ্যশস্যের মধ্যে ধান, গম, তুটা, নারিকেল, মসলা ইতালি প্রধান। ধান ও গম উৎপাদনে এশিয়া পৃথিবীর প্রথম। এশিয়ার অধিকাংশ স্থানেই ধান ও গম উৎপাদিত হয়। প্রচুর ভুট্টা ও মসলা হয় ।মসলা উৎপাদনের জন্য এ মহাদেশ বিখ্যাত। সমুদ্র তীরের দেশগুলোতে অনেক নারিকেল জন্মে। প্রধান অর্থকরী ফসল গুলাে হলাে পাট, তুলা, রবার, চা, তামাক ইত্যাদি। এছাড়া প্রচুর পরিমানে কফি, আখ ও রেশম জন্মে। উৎপাদিত ফসলের মাধ্যমে এখানকার জনসাধারণ তাদের জীবনযাত্রা নির্বাহ করে।
খনিজ সম্পদ:
এশিয়া মহাদেশে প্রচুর খনিজ দ্রব্য রয়েছে। এগুলাে মধ্যে কয়লা খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অন্যতম। এছাড়া তামা, সোনা, কয়লা, রুপা, অভ্র, ম্যাংগানিজ প্রভৃতি খনিজ দ্রব্য প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
৭. ইউরোপ মহাদেশের বর্ণনা দিন।
পৃথিবীর মহাদেশগুলাের মধ্যে আয়তনের দিক দিয়ে ইউরােপ মহাদেশের স্থান ষষ্ঠ । একে পুরনাে মহাদেশও বলা হয়। এর উত্তরে আর্কটিক মহাসাগর, পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগর। পূর্বে কাম্পিয়ান সাগর, ইউরাল নদী ও ইউরাল পর্বত এবং পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর । এশিয়া মহাদেশের সাথে সংযুক্ত। আয়তন ১০১৮০০০০ মিলিয়ন বর্গকিলােমিটার। জনসংখ্যার (৭৩৯ মিলিয়ন) দিক দিয়ে এটি তৃতীয় ঘনবসতিপূর্ণ বৃহত্তম মহাদেশ। ইউরােপে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫০টি দেশ আছে। এর মধ্যে রাশিয়া সবচেয়ে বড়। ইউরােপের তটরেখা যথেষ্ট ভগ্ন এবং সুদীর্ঘ। আনেক জায়গায় মহাদেশের অভ্যন্তরে অনেক দূর পর্যন্ত সাগর, উপসাগর প্রবেশ করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের জলবায়ু বিভিন্ন ধরনের। এখানে বিভিন্ন ভাষা প্রচলিত রয়েছে। ইউরােপীয় ইউনিয়ন ২৩ টি ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেমন : ইংলিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, গ্রিক, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ, পর্তুগিজ ইত্যাদি। এখানকার দীর্ঘতম নদী ভলগা। ইউরােপে প্রচুর কয়লা এবং লৌহ পাওয়া যায়। আরাে আছে কপার, জিংক, তামা, সােনা, রুপা ইত্যাদি খনিজ পদার্থ। কৃষি পণ্যের মধ্যে গম, মেইজ এবং রেপ সিড উল্লেখযােগ্য। গ্রিস প্রাচীন পৃথিবীর বিজ্ঞান ও দর্শন চর্চার পীঠস্থান।
৮. পৃথিবীর মহাসাগর গুলোর বর্ণনা দিন।
পুথিবীর বিশাল জলভাগগুলােকে বলে মহাসাগর। পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর আছে। পৃথিবীর মহাসাগরগুলাের বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো:
প্রশান্ত মহাসাগর:
এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মহাসাগর। প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণ মহাসাগর থেকে আর্কটিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রশান্ত মহাসাগর অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও এশিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। এর পূর্ব পাশে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, পশ্চিমে এশিয়া, দক্ষিণ- পশ্চিমে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণে দক্ষিণ মহাসাগর অবস্থিত।
আটলান্টিক মহাসাগর:
এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর । দক্ষিণ মহাসাগর থেকে শুরু করে দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরােপের মধ্য দিয়ে আর্কটিক সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি দেখতে অনেকটা ইংরেজি ” ঝ” বর্ণের মতো।
ভারত মহাসাগর:
এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।। দক্ষিণ মহাসাগর থেকে উত্তরে ভারত পর্যন্ত এ মহাসাগরটি বিস্তত। এটি অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে মিশেছে।
আর্কটিক মহাসাগর:
মহাসাগরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষুদ্র। এটি উত্তর আমেরিকা এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও এশিয়ার মাঝে অবস্থিত। গ্রিনল্যান্ডের ও আইসল্যান্ডের কাছে আটলান্টিক এবং রেবরিং স্ট্রেইট এর কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের সাথে মিলেছে। এ মহাসাগরটি আংশিকভাবে বরফে ঢাকা, যা ঋতুভেদে কম-বেশি হয়। অনেকে একে মহাসাগর বলতে নারাজ। কারণ এর চারদিকে স্থলভূমির পরিমাণ বেশি এবং অন্যান্য মহাসাগরের সাথে এর পানি প্রবাহ কম।
দক্ষিণ মহাসাগর:
এটি এন্টার্কটিকা মহাদেশের চারদিক জুড়ে অবস্থিত। এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় ক্ষুদ্র মহাসাগর। আর্কটিকের মতাে এটিও আংশিকভাবে বরফে ঢাকা থাকে, যা ঋতু ভেদে বিভিন্ন রকম হয়।
