অধ্যায়-০৩: শিশুতোষ সাহিত্য
পাঠ-৩.১: ছড়া ও ছবিতে গল্প পড়া
১. শিশুতোষ গল্প কিভাবে শিশুর সৃজনশীলতা ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করে আলোচনা করুন।
সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়তা: কোমলমতি শিশুরা অনুকরণ প্রিয় ও আবেগপ্রবণ ছোটবেলা থেকে যা দেখবে যা শুনবে তাই তারা করতে চাইবে। শিশুদের জন্য যেসব শিশুতোষ গল্প রয়েছে তা শিশুর মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলে। শিশুতোষ গল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কল্পনা প্রবণতা ।রূপকথা, দুঃসাহসী গল্প, বিভিন্ন ব্যক্তির জীবনী, হাসি-তামাশার গল্প, নীতিমূলক গল্প প্রবৃত্তি শিশুতোষ গল্পের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো শিশুকে সৃজনশীল হতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে ।এবং শিশুরা কল্পনা শক্তি কাজে লাগাতে উৎসাহী হয় ।তারা বড় কিছু হতে চায় ।পরবর্তীতে এই চিন্তাশক্তিই শিশুকে চিন্তা প্রবন করতে শেখায়। যেটা তার মনোজগতে সৌন্দর্য সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধের স্ফুরণ ঘটায় ।এভাবে শিশুতোষ গল্পের মাধ্যমে শিশুরা দিনদিন সৃজনশীল হয়ে ওঠে এবং কল্পনার জগৎকে একদিন বাস্তবে রূপ দেয়ার চেষ্টা করে।
ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা:
ভাষা হলো ভাবের বাহন। মন থেকে যে ভাব উদয় হয় পরবর্তীতে তাই বাকপ্রতঙ্গের সাহায্যে প্রকাশিত হয় ।তাই ভাষা শেখার অর্থ হল কোন কিছু বলা, শোনা, পড়া ও লেখা ।তাই ভাষা দক্ষতা অনুশীলনের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী শিশুরা যথাযথ ব্যবহার করতে পারে। শিশুর ভাষা দক্ষতা উন্নয়নে যে পদক্ষেপ গুলো কার্যকর তা হলো:
১. প্রতিদিন নিত্যনতুন গল্প শোনাও বলার মধ্য দিয়ে শিশুরা শুনাও বলার দক্ষতা অর্জন করতে পারবে ।
২. শিশুরা নতুন নতুন শব্দ ও বাক্যের সাথে পরিচিত হয়।
৩. শিশুর মনোজগতে কল্পনার জগত সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সে নিজে নিজে জানা বা শুনা গল্পের আদলে নতুন করে গল্প বলার চেষ্টা করে।
৪. এতে শিশুর কল্পনাশক্তিও চিন্তন দক্ষতা বৃদ্ধি পায় ।
৫. শিশুরা ধীরে ধীরে সৃজনশীল হতে শেখে।তাদের ভেতরকার বদ্ধমূল ধারণার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
সুতরাং বলা যায় যে, শিশুতোষ গল্প পঠন অবশ্যই শিশুদের সৃজনশীলতা ও ভাষা দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এজন্য শিশুকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প শুনানোর মাধ্যমে সৃজনশীল ও ভাষা দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করতে হবে।
২. ছবির গল্প কিভাবে শিশুদের কল্পনাশক্তি বিকাশে সহায়তা করে তা লিখুন।
বিভিন্ন শিশুতোষ গল্পের মধ্যে ছবির গল্প শিশুসাহিত্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ছবির গল্পে কোন ধরনের কাহিনী থাকেনা, কিন্তু ছবির মধ্যে অনেক ঘটনা বা কাহিনী লুকিয়ে থাকে। একটি ছবি আসলে অনেক কথা বলে ।শিশুরা যেহেতু কল্পনাপ্রবণ এবং তাদের মেধা ও সূক্ষ্ম তাই কল্পনার জগতে বিচরণ করতে ভালবাসে। তাই ছবির কথা বুঝতে সাহায্য করে শিশুর কল্পনাশক্তি। তারা ছবি দেখে বাস্তব জগতের ঘটে যাওয়া বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে জানতে পারে। তাই বলা যায় ছবির গল্প শিশুদের কল্পনাশক্তি বিকাশে সহায়তা করে ।এবং তাদের মাঝে নতুন নতুন ভাবনা তৈরি হয় যা তাদের চিন্তা শক্তি প্রখর করে। মোটকথা ছবির গল্প শিশুর মনোজগতের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে তাদের কল্পনাশক্তি বিকাশে সহায়তা করে।
