বাংলা (এসকে); অধ্যায়-৪ ছড়া - Proshikkhon

বাংলা (এসকে); অধ্যায়-৪ ছড়া

পাঠ-৪.০: ছড়া, ছড়ার প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য এবং গুরুত্ব

১. ছড়া বলতে কী বুঝায়? ছড়ার প্রকারভেদ লিখুন। বলে?

ছড়া হলো সাহিত্যের এক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ শাখা। শিশু সাহিত্যে ছড়ার ভূমিকা অনন্য। ছড়ার আদি উৎস লৌকিক। সাহিত্যের একটি বিশেষ জনপ্রিয় শাখা হলো ছড়া। এর প্রচার বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই হয়ে থাকে। বাংলার এমন কোনো ঘর নেই যেখানে দু’ দশটি ছড়ার প্রচলন নেই। ছড়া শব্দটির উৎপত্তি ছট  ধাতু থেকে। ধারণা করা হয় ছড়ার ভাব বা চিত্ররাশি ছড়ানো-ছিটানো থাকে।তা থেকেই উৎপত্তি বলে অনুমান করা হয়।

ছড়ার সংজ্ঞা:

ছড়ার সুনির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই। অন্নদাশঙ্কর বলেছেন- “ছড়া যদি কৃত্রিম হয় তবে তা ছড়াই নয়, তা হালকা চালের পদ্য। তাতে বাহাদুরি থাকতে পারে, কারিগরি থাকতে পারে, কিন্তু তা আবহমানকাল প্রচলিত খাঁটি দেশজ ছড়ার সঙ্গে মিশ খায় না। মিশ খাওয়ানোটাই আমার লক্ষ্য। যদি লক্ষ্যভেদ করতে পারি তবেই আমার ছড়া মিশ খাবে, নয়তো নয়।”

অর্থাৎ বোঝা যায় তিনি ছড়ার উপকরণ, গঠন, বর্ণ ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত করেছেন।

ছড়াকার আবদুল হাসিব বলেছেন- “ছন্দ আর অন্তমিলের প্রতি যত্নশীল হয়ে হালকা চালে সহজ শন্দের সময় সাধন করে বিষয়কে প্রকাশ করবার জন্যে যে পদ বা পদসমষ্টির সৃষ্টি করা হয় তাকে ছড়া বলে।”

২. ছড়ার বৈশিষ্ট্য লিখুন।

ছড়ার বৈশিষ্ট্যঃ

১। ছড়া শিশুতােষ রচনা,

২। ছড়া সাধারণত স্বরবৃত্ত ছন্দে রচিত,

৩। ছড়া হলো মুখে মুখে উচ্চারিত ছন্দোময় ও ঝংকারময়,

৪। ছড়ার মধ্য দিয়ে লােকায়ত মানুষের সহজ সরল মনের প্রতিফলন ঘটে।

৫। ছড়ার মধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে বাস্তব সমাজ ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটে

৬। ছড়াতে অন্তমিল থাকা বাঞ্ছনীয়।

৩. ছড়ার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা লিখুন।  

ছড়ার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা:

১। ছড়া শিশুকে আনন্দ দেয়,

২। শিশুর মনােযােগ বাড়ায়,

৩। ছড়া শিশুকে সৃজনশীল হতে সহায়তা করে,

৪। শিশুর মধ্যে ছন্দোবােধ সৃষ্টি করে,

৫। ছড়া শিশুর কল্পনা বিস্তারে সহায়তা করে,

৬। ছড়া শিশুকে নতুন নতুন শব্দ শিখনে সহায়তা করে,

৭। ছড়া খুব সহজেই শিশু তার স্মৃতিতে ধারণ করতে পারে,

৮। ছড়া শােনা, বলা ও পড়ার প্রতি শিশুর আগ্রহ সৃষ্টি হয়,

৯। ছড়ার দ্যোতনা শিশুকে সৃজনশীল হতে উৎসাহিত করে।

৪.  ভাষা শিখনে শিশুতোষ সাহিত্যে ছড়ার ভুমিকা লিখুন।

ভাষা শিখনে শিশুতােষ সাহিত্যের ছড়ার ভূমিকাঃ

১। ছড়া আবৃত্তি ধ্বনি ও শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ-অনুশীলনে সহায়তা করে।

২। শোনা ও বলা দক্ষতার প্রতি শিশুকে আগ্রহী ও মনোযোগী করে।

৩। ছড়া আবৃত্তির মাধ্যমে শিশু ছন্দের সঙ্গে পরিচিত হয়।

৪। ছড়া বলে/পড়ে শিশুর বলার ও পড়ার জড়তা দূর হয়।

৫। ছন্দ প্রয়ােগ করে অন্যান্য ছড়া পড়তে/আবৃত্তি করতে পারে।

৬। নতুন নতুন শব্দ শিখতে পারে এবং বলা ও লেখায় ব্যবহারে সমর্থ হয়।

৭। সুন্দর ও অর্থবহ বাক্য বলতে পারে।

৮। নতুন নতুন ছড়া পাঠের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে।

এই অধ্যায়ের আরও পাঠ পড়তে চাইলে………….নীচের সংশ্লিষ্ট পাঠটির উপর প্রেস করুন

পাঠ-৪.১: ষোলো আনাই মিছে (সুকুমার রায়)

পাঠ-৪.২: দুরের পাল্লা (সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত)

error: Content is protected !!