বাংলা (এসকে); অধ্যায়-৩ শিশুতোষ সাহিত্যের স্বরূপ - Proshikkhon

বাংলা (এসকে); অধ্যায়-৩ শিশুতোষ সাহিত্যের স্বরূপ

পাঠ-৩.০: শিশুতোষ সাহিত্যের স্বরূপ, শ্রেণিবিভাগ ও তাৎপর্য

০১. শিশুতোষ সাহিত্য কি? শিশুতোষ সাহিত্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করুন।

অথবা, ভাষা দক্ষতা বিকাশে শিশুতোষ সাহিত্যের ভূমিকা আলোচনা করুন।

শিশুতোষ সাহিত্য

শিশুতোষ কথাটির দুটি অংশ, ‘শিশু’ এবং ‘তোষ’। ‘শিশু’ কথাটির সঙ্গে আমরা সবাই পরিচিত, আর ‘তোষ’ এর অর্থ হলো আনন্দ বা খুশি। সাহিত্য হলো মানুষের চিন্তাধারা ও কল্পনার সুবিন্যস্ত ও সুপরিকল্পিত লিখিত রূপ। প্রকৃতপক্ষে গল্প, ছড়া, কবিতার মাধ্যমে লেখকের চিন্তাধারা ও কল্পনার যে লিখিত রূপ দেখা যায়, তাই হলো সাহিত্য।

শিশুতোষ সাহিত্য হলো অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় লিখিত ছড়া, কবিতা ও গল্প যা শিশুর বয়স উপযোগী, চাহিদা অনুযায়ী লেখা হয়েছে এবং যা পড়ে শিশুরা আনন্দ পায় এবং খুশি হয়।।সহজ করে বললে শিশুদের উপযোগী সাহিত্যই হলো শিশু সাহিত্য।

ভাষা দক্ষতা বিকাশে শিশুতোষ সাহিত্যের ভূমিকা বা শিশুতোষ সাহিত্যের তাৎপর্য

শিশুরা অত্যন্ত অনুভূতিপ্রবণ, আবেগপ্রবণ ও অনুকরণপ্রিয়। চারপাশের পরিবেশ থেকে ছোটবেলা থেকে যা তারা দেখবে তাই তারা করতে চাইবে। শিশুদের জন্যে যেসব শিশুতোষ গল্প রয়েছে  তা শিশুর মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলে। শিশুতোষ সাহিত্যের মাধ্যমে শিশুরা ভাষাদক্ষতা, পঠন দক্ষতা, বলা দক্ষতা ও শোনার দক্ষতা অর্জন করে থাকে। এই ভাষা দক্ষতাগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে  প্রয়োজনের সময় যথাযথভাবে তা ব্যবহার করতে পারা। ছবির বই শিশুর শোনা ও বলা ভাষা দক্ষতা দুটি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। কেননা ছবি দেখে শিশু সাধারণত  তার কল্পনা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের ভাষায় ঘটনার বর্ণনা দিতে পারে। যেমনঃ

“দৈত্যের খিদে পেয়েছে” গল্পে দৈত্যের অনেক ক্ষিদে পেয়েছে, দৈত্য ব্যাগ খেয়ে ফেললো, দৈত্য চিকেন খেয়ে ফেললো….. এটুকু শোনার পর শিশু নিজে কল্পনা করে এবং নিজের ভাষায় বলতে পারে…. এবার দৈত্য টেবিল খেয়ে ফেললো, দৈত্য বোর্ড খেয়ে ফেললো, দৈত্য আমার ব্যাগ খেয়ে ফেললো। অর্থাৎ ছবিতে প্রকাশিত ভাষার সাথে শিশু তার কল্পনাকে একাকার করে ফেলে। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে গল্প শোনার ফলে সকল শিশুরই শোনা ও বলা ভাষা দক্ষতা দুটি সমভাবে বিকাশ লাভ করে। শিশুর এই অর্জন পড়া ও লেখা পরবর্তীতে ভাষা দক্ষতার বিকাশকে প্রভাবিত করে। তাই প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম শ্রেণীতে ছবির বই, ছড়ার বই, বা ছবিতে গল্প বলার অনুশীলন ভাষা দক্ষতা অজনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

এজন্য শিশুর শোনা, বলা, পড়া ও লেখার দক্ষতা অর্জনে শিশু সাহিত্যের তাৎপর্য এক মাইলফলক।

২. শিশুতোষ সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করুন।

শিশুতোষ সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য

১. শিশুতোষ সাহিত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে কল্পনার ছোয়া থাকে। শিশুরা তাদের কল্পনাশক্তি থেকেই চিন্তা করতে শিখে। তার ভাষাকে সুসংবদ্ধ করে যা তার মনোজগতে সৌন্দর্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে।

২. শিশু সাহিত্যে আকর্ষণীয় রঙ্গিন ছবি ও গল্প থাকে।রঙ্গিন ছবিই শিশুর মধ্যে গল্পের বিষয়বস্তু তুলে ধরে।তারা নতুন করে ভাবতে শিখে।

৩. শিশু সাহিত্যে বাক্যের পুনরাবৃত্তি থাকে এবং দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার বেশি থাকে। কেননা এতে শিশুমনে বাক্যের ও শব্দের গাঁথুনি শক্ত হয়। নতুন নতুন শব্দ শেখার মাধ্যমে তাদের মধ্যে শব্দ ভান্ডার বৃদ্ধি পায়।।

৪. শিশুতোষ সাহিত্য সাধারণত রূপকথা। অ্যাডভেঞ্চার – গল্প, জীবনী, হাসির গল্প, নৈতিক গল্প প্রভৃতি হয়ে থাকে। ছোট থেকেই শিশুরা সাহসী, রসপ্রিয় ও নীতিবান হিতে শেখে।

৫. এ সাহিত্যগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুদের লৌকিক ও পৌরানিক কাহিনীর সঙ্গে পরিচিত করা।

৬. এ সাহিত্য সাধারণত ছড়া বা পদ্য আকারে রচিত হয়ে থাকে যা শিশুদের খুবই প্রিয়।

৭. এ ধরনের সাহিত্যে অর্থের গভীরতার চেয়ে শিশুসুলভ সরলতাই বেশি প্রাধান্য পায়, যা তাদের মনের খোরাক জোগায়।

৮. শিশুমনে এ সাহিত্য সুরের ঝংকার তুলে।

৯. এ ধরনের সাহিত্যে হাস্যরসের প্রয়োগ ঘটানো হয়।

শিশুতোষ সাহিত্যের শ্রেণিবিভাগ

শিশুতোষ সাহিত্যের অনেক ধারা আছে। যেমনঃ

ছবির বই, ছড়া, গল্প, ছবিতে গল্প, ছবিপ্রধান গল্প ইত্যাদি।

আবার গল্পের ও নানা আঙ্গিক রয়েছে। যেমনঃ

রূপকথা, অ্যাডভেঞ্চার, গল্প জীবনী, হাসির গল্প, ব্যাঙ্গাত্বক গল্প, সামাজিক পরিবেশের গল্প, কমিক, নৈতিক গল্প, প্রকৃতি নিয়ে গল্প ইত্যাদি।

error: Content is protected !!