অধ্যায়-৪: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিখন সামগ্রী ও শিক্ষোপকরণ
১) শিখন-শেখানো সামগ্রী ও শিক্ষোপকরণ কাকে বলে?
শিখন- শেখানো সামগ্রীঃ
শিখন শেখানো কার্যক্রমকে সহজ ও ফলপ্রসূ করার জন্য শিক্ষকের যেসব সামগ্রীর প্রয়োজন তাকে শিখন শেখানো সামগ্রী বলা হয়। উদাহরণ- শিক্ষক সহায়িকা, শিক্ষক সংস্করন, পাঠ্যপুস্তক, চক, ডাস্টার, ব্লাকবোর্ড ইত্যাদি।
শিক্ষোপকরণঃ
শিখন শেখানো কার্যক্রমে শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজবোধ্য, আকর্ষণীয় ও স্থানীয় করার জন্য এবং শিক্ষাদানকে সহজ করার জন্য শিক্ষক যেসকল উপকরণের সহায়তা নেন তাকে শিক্ষা উপকরণ বলে।
২) “বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’’ বিষয়ে ব্যবহৃত শিক্ষোপকরণের ধরণ ও প্রকৃতি বর্ণনা করুন।
“বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’’ বিষয়ে ব্যবহৃত শিক্ষোপকরণের ধরণ ও প্রকৃতিঃ পাঠকে আনন্দদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী করার এবং পাঠের বিষয়বস্তুকে সহজে বোধগম্য করার জন্য বিভিন্ন ধরণের উপকরণ ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’’ বিষয়ে যত বাস্তবসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা যাবে ততোই শিখন সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষযয়ে ব্যবহৃত শিক্ষাপোকরণগুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১) দৃষ্টিনির্ভর উপকরণ
২) শ্রুতিনির্ভর উপকরণ
৩) শ্রবণ-দর্শন নির্ভর উপকরণ
১) দৃষ্টি বা দর্শননির্ভর উপকরণঃ
যেসব উপকরণ শিক্ষার্থীর দর্শন ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় করে শিখনের বিষয়বস্তুকে অনুধাবনে সাহায্য করে তাকে নির্ভর উপকরণ বলে। যেমন-
- বাস্তব উপকরণঃ গাছ, পাতা,ফুল,ফল,মাটি, জাতীয় পতাকা, পোশাক, খেলাধুলার সরঞ্জাম, ট্রেসিং পেপার, পেন্সিল, রাবার, রং-তুলি, তালপাতার পাখা, মাটির হাড়ি, পাপেট ইত্যাদি।
- মডেলঃ ঘর-বাড়ি, শাপলা ফু্ জাতীয় পতাকা, স্মৃতিসৌধ, রাষ্ট্রীয় প্রতীকসমূহ, শহীদ মিনার, সেতু, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গ্লোব, প্রশাসনিক ভবন্, মানচিত্র, ফুল, ফল ইত্যাদি।
- চার্টঃ প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উৎসব/অনুষ্ঠান, বনজ সম্পদ, জাতীয়/রাষ্ট্রীয় সম্পদ, শ্রমজীবী মানুষের তালিকা, সার্কভুক্ত দেশের জনসংখ্যা, বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি ইত্যাদি।
- ছবিঃ পাঠ সংশ্লিষ্ট ছবি যেমন – প্রাকৃতিক দৃশ্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গাছপালা, পশুপাখি, খাদ্য, ফুলের বাগান, হলদে পাখির মানচিত্র, জাতীয় প্রতীকসমূহ, বিভিন্ন পেশার মানুষ, হাট-বাজার, পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন চিত্র, বিভিন্ন দেশের শিশু, বিভিন্ন বরণ্য ব্যক্তি, গাছ কাটার ছবি, আদিবাসীদের জীবনধারা, শহীদ মিনার, নৌকা বাইচ, ছোট পরিবার , বড় পরিবার ইত্যাদির ছবি।
- মানচিত্র ও নকশাঃ পৃথিবীর, মহাসাগর, মহাদেশ, উপমহাদেশ, বাংলাদেশ, জেলা, উপজেলা, বিদ্যালয় ইত্যাদি।
- পোস্টারঃ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, জনসংখ্যা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ইত্যাদির পোস্টার।
২) শ্রুতি বা শ্রবণনির্ভর উপকরণঃ
যেসব উপকরণ শিক্ষার্থীর শ্রবণ ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় করে শিখনের বিষয়বস্তুকে অনুধাবনে সাহায্য করে তাকে শ্রুতিনির্ভর উপকরণ বলে। যেমন- রেডিও, সিডি প্লেয়ার, কম্পিউটার বা সেল-ফোনে সংরক্ষিত শব্দ, কথা, বক্তৃতা, সংগীত ইত্যাদি।
৩) শ্রবণ-দর্শন নির্ভর উপকরণঃ
যেসব উপকরণ একই সাথে শিক্ষার্থীর শ্রবণ ও দর্শন ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় শিখনের বিষয়বস্তুকে অনুধাবনের সাহায্য করে তাকে শ্রবণ-দর্শন নির্ভর উপকরণ বলে। যেমন- টিভি, সিডিরম, ডিভিডি, কম্পিউটার ইত্যাদির মাধ্যমে কোনো বাস্তব ঘটনা, কোন নাটক চলচ্চিত্র , বিমূর্ত বিষয়ের ভিডিও প্রদর্শন।
২) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করুন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের গুরুত্ব: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় যেহেতু বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় তাই উপকরণ ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে অনেক। শিক্ষা প্রদানকালে যদি বিমুর্ত বিষয়কে কোন মূর্ত বিষয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায় তবে তা সহজে বুঝতে পারে। বিষয়ভিত্তিক উপযুক্ত শিক্ষা উপকরণের দ্বারা সামাজিক বিজ্ঞানে বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা করলে শিক্ষা হবে বাস্তবসম্মত ও স্বতঃস্ফুর্ত। অপরদিকে সীমিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী বাস্তবসম্মত অনেকগুলো বিষয়ও শিখতে পারে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়টির মত বিজ্ঞানভিত্তিক ও তথ্যপূর্ণ বিষয় শুধু পাঠ্যপুস্তক বা শিক্ষকের বক্তৃতায় আয়ত্ব করা সহজ নয় । শিক্ষকের শিখন-শেখানো কার্যাবলী পরিচালনার সময় বক্তৃতায় সাথে সাথে নানা ধরনের প্রাসঙ্গিক উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় শিক্ষাকে প্রাণবন্ত, বাস্তবমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী করা যায়। অনেক সময় যা বর্ণনা করতে বহু কথার দরকার হয় তা একটি মাত্র ছবি দিয়েই সহজেই বোঝানো যায়। এক্ষেত্রে একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে “ One picture is worth than thousands of word.’’
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ও উভয়ের কাছেই বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা উপকরণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করা হলো-
- প্রেষণা সৃষ্টিঃ আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি বহুলাংশে মনোবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কেন্দ্রিক। এর মূলে রয়েছে শ্রেণীতে প্রেষণা সৃষ্টি এবং তা ধরে রাখা। শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনায় উপকরণ ব্যবহার করলে যেমন সহজেই প্রেষণা সৃষ্টি করা যায়, তেমনি শিক্ষার্থী পক্ষে তা ধরে রাখা যায়। এর ফলে শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- আগ্রহ সৃষ্টিঃ শিক্ষার্থীর আগ্রহ না থাকলে কোন কিছুই তাকে শেখানো যাবে না। উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সৃষ্টি করা যায়।সুতরাং শেখানোর কাজটিও অনেক সহজ হয়।
- মনোযোগ সৃষ্টিঃ শিক্ষার্থীদের শ্রেণীতে মনোযোগী করতে না পারলে শিক্ষাদান কার্যক্রম সার্থক ও সফল হবে না এবং বেশিদিন মনেও রাখতে পারবে না। বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সৃষ্টি করা যায়।
- সহজবোধ্যঃ উপকরণ ব্যবহার করে অনেক কঠিন বিষয় অতি সহজে বোঝা যায় অর্থাৎ বিষয়বস্তুর দুর্বোধ্যতা হ্রাস পায়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই জ্ঞান চর্চায় আনন্দ বোধ করেন।
- স্থায়ী জ্ঞানঃ উপকরণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। অনেক সময় সারা জীবন মনে থাকে। উপকরণে মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান সুস্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন বলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধিঃ শ্রেণিকক্ষে উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে যখন শিক্ষক পাঠ উপস্থাপন করেন তখন শিক্ষার্থীরা উপকরণকে ভালো করে লক্ষ করে। এতে শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ,অনুসন্ধান ও উপলব্ধির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থীরা উপকরণ ব্যবহার কৌশলও শিখতে পারে।
- প্রাণবন্তকরণঃ সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়বস্তুকে প্রাণবন্তকরণে উপযুক্ত উপকরণের ভূমিকা ব্যাপক। কঠিন এবং কল্পনাপ্রসূত বিষয়ও উপকরণ ব্যবহারে সহজ হয়ে উঠে। ফলে জ্ঞান অর্জন সহজ হয়।
- সময়ের সঠিক ব্যবহারঃবর্ণনামূলক বা বক্তৃতার মাধ্যমে পাঠদানের চেয়ে উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠদানে সময় অনেক কম লাগে।
- ব্যবহারিক জ্ঞানঃ তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান ফলপ্রসূ। উপকরণ ব্যবহারে শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জিত হয় এবং শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনে তার ফলপ্রসূ ব্যবহার করতে পারে।
- মূর্তকরণঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে বিমুর্ত বিষয় রয়েছে। যেমন-সমাজ, সামাজিক সমস্য, অক্ষরেকখা, সৌরজগত, বিষুবরেখা, বায়ুচাপ, বলয় ইত্যাদি।এ সমস্ত বিষয়ের মডেল, চার্ট ও চিত্র ব্যবহার করে বিষয়বস্তুকে বিমূর্ত থেকে মুক্ত করা যায় ।মনে রাখতে হবে বৈজ্ঞানিক বিষয়ে জ্ঞানার্জনে শিক্ষার উপকরণ বিশেষভাবে সহায়ক।
- বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিঃ শ্রেণিকক্ষে উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।
৩) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ক শিক্ষা উপকরণ তৈরি ও সংগ্রহের বিবেচ্য দিকগুলো আলোচনা করুন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ক শিক্ষা উপকরণ তৈরি ও সংগ্রহঃ
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ উপস্থাপনের সময় শিক্ষককে নানা ধরনের শিক্ষা উপকরণ তৈরি ও ব্যবহার করতে হয়। এ সকল উপকরণ কখনও স্বল্পমূল্যের, কখনও বিনামূল্যের, কখনও দুর্লভ আবার কখনও বা অপ্রতুল হতে পারে। যে কোন প্রকার শিক্ষা উপকরণ তৈরীর ক্ষেত্রে শিক্ষককে যে দিকগুলো বিবেচনা করা দরকার সেগুলো হলো-
- শিক্ষার্থীর বয়স, সামর্থ্য, আগ্রহ, রুচি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা।
- পরিকল্পিত উপকরণের উপাদানগুলোর সহজলভ্যতা ।
- যে সকল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপকরণটি ব্যবহার করা হবে তাদের সৃজনী প্রতিভা।
- উপকরণটি শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহণের সহায়ক বা প্রাসঙ্গিকতা।
- কৌশল বা পন্থা অনুযায়ী উপকরণটির সর্বাধিক ব্যবহারযোগ্যতা।
- কম খরচে, কম সময়ে ও সহজে তৈরির সম্ভাব্যতা।
- স্থানীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা ।
- উপকরণটি বিভিন্ন শ্রেণীতে ব্যবহারযোগ্যতা।
- উপকরণটির দীর্ঘস্থায়িত্ব।
- উপকরণটির সংরক্ষণযোগ্যতা।
- উপকরণটির বহন সুবিধা।
- উপকরণটি প্রতি শিক্ষার্থীদের কৌতুহল।
- উপকরণটির বৈচিত্র।
- বাস্তব বিষয়ের সাথে উপকরণটি সংশ্লিষ্টতা।
- উপকরণটির সৌন্দর্য বর্ধনে করণীয়।
৪) শিক্ষার উদ্দেশ্য অর্জনে শিক্ষা উপকরণের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন- ব্যাখ্যা করুন।
পাঠ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষণ প্রক্রিয়াকে প্রাণবন্ত করা, শিক্ষনীয় বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীদের কাছে সহজ ও মূর্ত করে তোলা।শিক্ষা উপকরণ তৈরি এবং ব্যবহার করলেই যে উদ্দেশ্য সফল হবে একথা বলা যায় না। পরিপূর্ণ উদ্দেশ্য অর্জন করতে হলে উপকরণের যথার্থ ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার। শিক্ষককে মনে রাখতে হবে যে, শ্রেণি পাঠকে আকর্ষণীয় ও বোধগম্য করার জন্য শিক্ষা উপকরণ, শিক্ষা উপকরণের জন্য পাঠ উপস্থাপন প্রক্রিয়া নয়। সুতরাং প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষা উপকরণ বেশি ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জনের সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। যে শিক্ষা উপকরণ শিক্ষক শ্রেণীতে ব্যবহার করবেন সেটা সম্পর্কে পূর্বধারণা ও ব্যবহারের কৌশল জানা থাকলে উপকরণ এর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিক শিক্ষা উপকরণ বাছাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত। উপকরণটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিক্ষককে উপকরণটি ব্যবহারের উদ্দেশ্যের প্রতি সচেতন থাকতে হবে, সাথে সাথে উপকরণটি ব্যবহারের সময় শিক্ষার্থীদের কত বেশি সম্পৃক্ত করা যায় সেদিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। উপকরণ ব্যবহারের উদ্দেশ্যের প্রতি সচেতন না থাকলে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব নয়। তাই শিক্ষককে উপকরণ ব্যবহারের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে।
৫) “বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’’ বিষয়ের শিক্ষা উপকরণ সংরক্ষণের জন্য যেসকল নীতিমালা অনুসরণ করা হয়ে থাকে সে সম্পর্কে বর্ণনা করুন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় পাঠ উপস্থাপনে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে ব্যবহৃত উপকরণ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকলে উপকরণ যতই স্বল্পমূল্য, মূল্যবান বা অপ্রতুল হোক না কেন অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের বিভিন্ন শিক্ষা উপকরন সংরক্ষণের জন্য নিম্নলিখিত নীতিমালা অনুসরণ করা যেতে পারে-
- শ্রেণিকক্ষে উপকরণ ব্যবহারের পর নির্ধারিত কক্ষে নির্ধারিত স্থানে উপকরণটির প্রকৃতি অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে হবে।
- দুর্লভ এবং মূল্যবান শিক্ষা উপকরণের এক্ষেত্রে শিক্ষা উপকরণ সংরক্ষণের কক্ষটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলে ভালো হয়।
- উপকরণ সংরক্ষণে কক্ষটি পরিচ্ছন্ন হতে হবে।
- শিক্ষা উপকরণ সংরক্ষণের কক্ষে সকলের অবাধ চলাচল বন্ধ করে নির্ধারিত ব্যক্তিবর্গের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
- তুলনামূলক আধুনিক ও মূল্যবান উপকরণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে।
- উপকরণ সংরক্ষণের কক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসবাবপত্র থাকতে হবে।
- যে সকল উপকরণ তুলনামূলক ভঙ্গুর ও পচনশীল সেগুলো আলাদাভাবে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করতে হবে।
- কাঠ বা বাঁশের তৈরি উপকরণ যাতে পোকায় নষ্ট করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
- তালিকাভিত্তিক (ক্যাটালগ) উপকরণ সংরক্ষণের চেষ্টা করতে হবে।
- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের উপকরণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে আবহাওয়া, প্রকৃতি ও ঋতু বৈচিত্রের উপর গুরুত্ব দিতে হবে।
- বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের উপরে নাম, সংগ্রহের স্থান, তারিখ ও সংরক্ষকের নামসহ একটি তালিকা তৈরি করে সংরক্ষণ কক্ষে রাখতে হবে ।
৬) শিক্ষা উপকরণ সংরক্ষণে ‘’বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’’ গবাষণাগারের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করুন।
শিক্ষা উপকরণ সংরক্ষণে ‘’বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’’ গবাষণাগারের ভূমিকাঃ
পদার্থ,রসায়ন, জীববিজ্ঞানের গবেষণাগারের ন্যায় বর্তমান সময়ে ভাষা গবেষণাগার এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গবেষণাগারের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। যদিও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে শিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গবেষণাগারের তেমন প্রচলন নেই তবে অনেক উন্নত দেশে এর প্রচলন রয়েছে।
একজন রসায়নের শিক্ষক যেমন শ্রেণি পাঠের ব্যবহারিক বিভিন্ন দিক গবেষণাগারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে শেখাতে পারেন তেমনি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের শিক্ষকের পক্ষেও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের বিভিন্ন উপকরণ প্রদর্শনের বা ব্যবহারের সময় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গবেষণাগারে নিয়ে যেতে পারেন। শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ আর গবেষণাগারের পরিবেশ এক হবার নয়, যার ফলে গবেষণাগারের শিক্ষা উপকরণের ব্যবহার বেশি ফলপ্রসূ হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের অনেক শিক্ষা উপকরণ রয়েছে যেগুলো সহজে বহন করা যায় না কিংবা অল্প আঘাতে ভেঙ্গে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গবেষণাগারে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গিয়ে উপকরণ প্রদর্শন করলে বেশি ভালো হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গবেষণাগারে তুলনামূলক নিরাপদে উপকরণ সংরক্ষণ করা যায়। এজন্য গবেষণাগারে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের ব্যবস্থা থাকতে হবে। উপকরণ সজ্জিত ও সংরক্ষণের জন্য গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় অসংখ্য আলমারি, ড্রয়ার,তাক, বুলেটিন বোর্ড ইত্যাদি থাকতে হবে। সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের গবেষণাগারে নিয়ে গিয়ে যেন শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে। সামগ্রিক ভাবে বলা যায় বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় গবেষণাগার গড়ে তোলা প্রয়োজন। এ গবেষনাগারে বিভিন্ন শ্রবণ ও শ্রবণ-দর্শন উপকরণ রেখে আধুনিক কলাকৌশল অবলম্বন করে ফলপ্রসূ শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এটি শিক্ষা ব্যবস্থার একটি নতুন সংস্করণ এবং এর দ্বারা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সকলে উপকৃত হবে।

