অধ্যায়-০৩: শিশুতোষ সাহিত্য
পাঠ-৩.৫: পাতা কুমার
৩. চম্পকনগরের রানীর বিয়ের অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিন ।
অথবা, চম্পাবতীর বিয়ের অনুষ্ঠানের বর্ণনা দিন।
চম্পাবতী হলেন চম্পকনগরের একমাত্র রাজকন্যা। দাদাভাইয়ের স্কুলে পাতা কুমার ও চম্পাবতী একসঙ্গে লেখাপড়া করতো। লেখাপড়া করতে করতে দুজনার মাঝে গভীর প্রণয় এর জন্ম নেয়। কৃষ্ণনগরের রানীর ইচ্ছা তাদের মধ্যে বিবাহের বন্ধন অটুট থাকুক। কিন্তু দুই রাজার বিরোধের কারণে রাজকুমার ও রাজকন্যার বিবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। অবশেষে দাদাভাই কৌশল অবলম্বন করে বিয়ের স্বয়ংবর সভা আয়োজন করেন। নিম্নে বিবাহের স্বয়ংবর সভার বর্ণনা দেওয়া হল:
দীর্ঘদিন পর চম্পকনগরের রাজা রাজকন্যা চম্পাবতীর বিয়ের ঘোষণা দিলেন। দুধ সাগর নদীর তীরে বিবাহের স্বয়ংবর সভা উপলক্ষে শামিয়ানা টাঙানো হল। রাজার পোষা হাতির পিঠে চড়বে রাজকন্যা চম্পাবতী। হাতির হাতির শুঁড়ে থাকবে মালা। নানা রাজ্য থেকে আসা রাজকুমারেরা সামনে বসে থাকবেন। হাতি যাকে মালা পড়াবে তার সাথে চম্পাবতীর বিয়ে হবে। রাজার কথামতো স্বয়ংবর সভার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে রাজ্যের রাজকুমার এসেছেন। দুধকুমার, বেল কুমার, ঘি কুমার। তাদের পরনে বাহারি সাজ। কিন্তু পাতা কুমারের সাজ অন্যরকম। দাদাভাইয়ের বুদ্ধিমতে সে গলায় কলাপাতা পড়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই পাতা কুমারের এই সাজ দেখে হাসাহাসি করতে লাগল। চম্পকনগরের রাজার কথামতো হাতিকে সাজানো হয়েছে । হাতির শূড়ে ফুলের মালা পড়ানো হয়েছে। হাতির পিঠে রাজকন্যা চম্পাবতী। নিয়ম অনুযায়ী ঘন্টা বাজানো হয়। হাতি স্বয়ংবর সভায় ঢুকলো। সবাই চিন্তিত। মালা পরানোর জন্য হাতি পায়ে পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে সামনে। ডালিম কুমার, জ্যোতি কুমার, ঘি কুমার সবাইকে ফেলে হাতি পাতা কুমারের গলায় মালা পড়ালো। সাথে সাথে ঢাক-ঢোল বেজে উঠলো। হাতি পাতা কুমারের গলায় কলা পাতার মালা চিরে চিরে খেতে লাগল। অবশেষে অন্য রাজ্যের রাজকুমার বিষন্ন মুখে ফিরে গেলেন। ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে যায় পাতাকুমার আর চম্পাবতীর। কোন রকম সমস্যা ছাড়াই সুন্দর পরিবেশে দুই রাজ্যের রাজা রানীর উপস্থিতিতে কুমারের সঙ্গে রাজকন্যার বিয়ে সম্পন্ন হয়।
