লেখক -সাফিয়া নায়লা শুভ্রা
” যারা কপালে টিপ পরেন, তারা নিশ্চয়ই সৌন্দর্যবোধ এবং বাঙালী সংস্কৃতিকে ভালোবেসেই তা পরেন। কিন্তু নান্দনিকতা এবং সাংস্কৃতিক চেতনার সাথে সাথে শিল্পবোধ থাকাও ভীষণ জরুরি। বলছি এ কারণে যে, বাস্তবে এবং ফেসবুকে প্রায় সবাইকেই দেখি- তাদের চেহারার আদলের সাথে সম আকার-আকৃতির টিপ পরেন! অথচ নির্বাচন করতে হয় ঠিক তার বিপরীতটিকে। অর্থাৎ গোল মুখের অধিকারীরা পরবেন লম্বা বা লম্বাটে পান পাতা আকৃতির টিপ। আর লম্বাটে মুখের অধিকারীরা পরবেন গোল টিপ।
বৃত্তের প্রতি প্রাচীনকাল থেকেই মানুষের একটি সাধারণ আকর্ষণ আছে। কারণ এটি সহজ, সেন্টারড অর্থাৎ কেন্দ্রিকতা বা মধ্যমণি হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে, চাঁদের প্রতি আকর্ষণ এবং সর্বোপরি পূর্ণতা প্রকাশ করে।
মানুষ চিরকাল নিজেকে সকলের সামনে মেলে ধরতে, প্রকাশ করতে চেয়েছে আর চেয়েছে এপ্রিশিয়েশন। আর মুখায়ব তার সর্বোচ্চ প্রকাশ অঙ্গ।তাই আমরা জেনে হোক বা না জেনেই হোক, নিজেদের আকর্ষণীয় এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু করতে মুখের প্রসারিত এবং উন্মুক্ত অংশে বৃত্তের আকারের টিপ নির্বাচন করি!
কিন্তু সেটি যথার্থ হলো কিনা, এটি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হই। আর এটিই একজন শিল্পী আর সাধারণ মানুষের মাঝে পার্থক্য গড়ে দেয়! বিষয়টি সুক্ষ্ম এবং হয়তো সাধারণ। কিন্তু ভিষণ জরুরি।
গোল মুখে গোল টিপ মুখের প্রস্থতাকে আরো বৃদ্ধি করে এবং দৈর্ঘ্যকে দৃষ্টিগ্রাহ্য ভাবে কমিয়ে দেয়। ফলে মুখের গোল্ডেন রেশিও (Ratio) যা মুখায়বের সৌন্দর্যের জ্যামিতিক ও গাণিতিক সূত্র- তার ঠিক বিপরীতে কাজ করে। সেই কারণে গোল মুখে গোল টিপ বা লম্বা মুখে লম্বা টিপ ভাল লাগে না!
আমরা কোন কিছুর প্রতি আমাদের ভাল বা মন্দ লাগা বুঝি কিন্তু কেন লাগে বা লাগে না, এটা জানি না বা বুঝি না!
প্রকৃতপক্ষে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোন কিছুই বিজ্ঞানের নিয়ম-নীতি এবং ব্যাখ্যাতীত বিষয় নয়। হ্যাঁ, এখনও হয়তো আমরা অনেক কিছুরই ব্যাখ্যা জানি না। ফলে বহু বিষয়কে এখনও আমাদের কাছে প্যারা নরমাল বা রহস্যময় বা অতিপ্রাকৃত মনে হয়! তবে এক সময় সমস্ত জট খুলে যাবে, তখন বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোও কোন তন্বী তরুণীর কপালে আঁকা অসম্ভব সুন্দর টিপের মতই সৌন্দর্যের এক অবারিত জগৎ উন্মুক্ত করে দেবে, যে সৌন্দর্য কপালে টিপ পরিহিত লাস্যময়ী কোন সুন্দরী তরুণীর সৌন্দর্যের মতই কেবলই উপভোগ এবং আনন্দের! “