Teaching methods and techniques according to the content of the Religious & Moral Education, Physical Education, Music and Art & Craft
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, শারীরিক শিক্ষা, সংগীত, চারু ও কারুকলা বিষয়ের শিখন শেখানো কার্যক্রম
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল
একজন শিশুর ব্যাক্তিত্ববান, মূল্যবোধ সম্পন্ন, নৈতিক ও সৎ চরিত্রের অধিকারি হওয়ার জন্য ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার জ্ঞান থাকা প্রয়োজন৷ শিশুর নান্দনিকতা সৃজনশীল প্রতিভা বৃদ্ধি করার জন্য শারীরিক শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এবং সঙ্গীত বিষয়াবলী প্রাথমিক স্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে৷ এগুলোর শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল এবং উপস্থাপনের ধরণ ভিন্ন। একজন নব নিযুক্ত শিক্ষকের জন্য এই আবশ্যিক বিষয়গুলোর শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল জানা একান্ত প্রয়োজন।
“শিক্ষককে সম্মান করা,” হিন্দু ধর্মের “গুরুজনের উপদেশের প্রতি শ্রদ্ধা” খ্রিষ্ট ধর্মের “শিক্ষকদের নির্দেশ পালন”, বৌদ্ধ ধর্মের “গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ” সম্পর্কিত বিষয়বস্তু ইত্যাদি সম্পর্কে শিক্ষকদের সম্যক ধারণা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন৷
একটি শিশুর নৈতিক, আধ্যাত্নিক বিকাশ সাধনের জন্য সত্চরিত্রবান হওয়ার জন্য বিপদগামী হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য প্রাথমিক স্তরে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়টি আবশ্যিক ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের চারটি প্রধান ধর্মের পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তু তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক। তাই আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, গল্প বলা, প্রদর্শন পদ্ধতি প্রভৃতি ব্যবহার করে শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
শারীরিক শিক্ষার শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল
প্রাচীনকালে শারীরিক শিক্ষার শুধু ‘দৈহিক উন্নতি’ বা শক্তিশালী মাংসেশী তৈরি, দৃঢ় অঙ্গ প্রতঙ্গ গঠন ইত্যাদি ছিল শারীরিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য। কিন্তু বর্তমানে দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির প্রতি শারীরিক শিক্ষার লক্ষ্য কেন্দ্রিভূত হয়েছে।” বিষয়টি অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচনা করে তাদেরকে এ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করুন।
স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, বিভিন্ন খেলাধুলা ও ব্যায়ামের নিয়মাবলি, শৃখলাবোধ, একাত্মবোধ, নেতৃত্ব, পরিমিত ঘুম ও সুষম খাদ্য গ্রহণ, দুর্ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন সতর্কতা, প্রাথমিক চিকিত্সা প্রভৃতি বিষয় শারীরিক শিক্ষার বিষয়বস্তু হিসেবে প্রাথমিক স্তরে গ্রহণ করা হয়েছে।
কোমলমতি শিশুর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক প্রতিভার বিকাশ সাধনের জন্য প্রাথমিক স্তরে শারীরিক শিক্ষা বিষয়কে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে। দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি শারীরিক শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
শারীরিক শিক্ষার বেশির ভাগ কাজই ব্যবহারিক৷ শারীরিক শিক্ষার শিখন শেখানো পদ্ধতি বা কৌশল হিসেবে প্রদর্শন, দলে অনুকরণ/অনুসরণ, জোড়ায় জোড়ায় কাজ, একক কাজ প্রভৃতি অনুসরণ করলে শিখন তুলনামূলক স্থায়ী হয়।
চারু ও কারুকলার শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল
কোমলমতি শিশুর নান্দনিক ও সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ সাধনের জন্য প্রাথমিক স্তরে চারু ও কারুকলা বিষয়কে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে৷ ছবি আঁকার সময় পর্যবেক্ষণ করে ছবি আঁকা, বাস্তব মডেলের অনুরূপ অঙ্কন করা প্রভৃতি বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যে শিল্প মানসিক চাহিদা মেটায় তাই চার“কলা৷ চার“কলা যেমন মনকে সৌন্দর্যরসে সিক্ত করে, কারুকলাও তেমনি চারুকলার সংষ্পর্শে আরো আকর্ষণীয় হয়ে মানুষের প্রয়োজন মিটায়৷ চারু ও কারুকলা দৈহিক এবং ব্যবহারিক চাহিদা মেটায়। যেকোন বাস্তব জিনিস ত্রিমাত্রিকভাবে (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা) অবস্থান করে, কিন্তু অঙ্কনের সময় প্রথম ২টি মাত্রা ব্যবহার করে ছবি অঙ্কন করতে হয়। ছবি আঁকার ৭টি ব্যবহারিক দিক রয়েছে এ ৭টি কৌশল অবলম্বন করে ছবি আঁকলে ছবিটি হয়ে উঠবে জীবন্ত। সেগুলো হলো:,
১) পরিপ্রেক্ষিত,
২) আলোছায়া,
৩) অনুপাত,
৪) কেন্দ্রীয় আকর্ষণ,
৫) সমতা,
৬) ভারসাম্য,
৭) গঠন ও রচনা।
সংগীত এর শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল
শিশুমন কোমল ও সুর পিয়াসী৷ সঙ্গীতের সুর শিশুমনকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে৷ সঙ্গীতের অনুশীলনের মাধ্যমে শিশুর সুকুমার শিল্প মানসিকতা গড়ে তোলা, সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করা ও নির্মল আনন্দদানের সাথে সাথে দেশীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করার অপার সম্ভাবনাময় দিকটির গুরত্ব অনুধাবন করে সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার পটভূমিতে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম প্রণয়নকালে সংগীতকে একটি বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে৷
সঙ্গীতের নির্ধারিত শিখনফল অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত শিখন-শেখানো পদ্ধতি ও কৌশলগুলো নিম্নরূপ:
- শুদ্ধ উচ্চারণের মাধ্যমে গানের নির্ধারিত অংশগুলো আবৃতি করা;
- গানের নির্ধারিত অংশগুলো শিশুদের দিয়ে বোর্ডে খাতায় লেখানো;
- গানের নির্ধারিত অংশগুলো প্রথমে শিক্ষকের নিজে গাওয়া;
- শিক্ষার্থীরা সমবেতভাবে শিক্ষকের সাথে গাওয়া;
- অবশেষে তারা দলগতভাবে, পরে এককভাবে গাইবে;
- ক্ষেত্রবিশেষে রেকর্ডকৃত গানের ক্যাসেট ব্যবহার করা;
- জাতীয় সঙ্গীতের সময় যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জন্য সচেতন থাকা, ইত্যাদি।
- শিশুমন কোমল ও সুর পিয়াসী৷ সঙ্গীতের সুর শিশুমনকে বিশেষভাবে আকর্ষণ করে। সঙ্গীত শিশুর মধ্যে শিল্প মানসিকতা গড়ে তোলে এবং তার মধ্যে আনন্দবোধ জাগ্রত করে।
- সঙ্গীতের শিখন শেখানো পদ্ধতি ও কৌশল হিসেবে প্রথমে সম্মিলিত, পরে ছোট ছোট দলে এবং তারপর এককভাবে গানের অনুশীলন করাতে হবে।


