Acceptable pronunciation
প্রমিত উচ্চারণরীতি সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:
প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে এনসিটিবি কর্তৃক প্রণীত শিক্ষাক্রমে প্রমিত বাংলা উচ্চারণ একটি আবশ্যকীয় দক্ষতা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাংলা পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে সর্বজন মান্য একটি প্রমিত উচ্চারণ রীতি প্রতিষ্ঠার উদ্যেগে প্রাথমিক স্তর থেকেই এনসিটিবি কর্তৃক গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু অঞ্চল ভেদে কথ্য বুলির উচ্চরণের বিভিন্নতা সকল ভাষার মধ্যে বিদ্যমান। তাছাড়া, শিশু যখন প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি হয় তখন সে নিজেই তার মা, পরিবার,স্বজন, পরিবেশ ইত্যাদির মাধ্যম থেকে তার আঞ্চলিক কথ্য ভাষার একটি চলনসই কাঠমো নিয়ে আসে। এক্ষেত্রে শিশুর জন্য প্রমিত কথ্য ভাষা পঠনের ক্ষেত্রগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে পরিচালিত করতে না পারলে উদ্দীষ্ট লক্ষ ।অর্জন করা দুরূহ। এই গুরু দায়িত্ব পালন করার জন্য যেমন প্রশিক্ষিত শিক্ষক দরকার আবার তার পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক যথাযথ উপকরণও সরবরাহ করা দরকার।
মানুষের বাগ্যন্ত্রের দ্বারা উচ্চারিত ধ্বনি বা ধ্বনিগুচ্ছ শ্রুতিময় করে অন্যের নিকট উপস্থাপিত হয়। উপস্থাপিত ধ্বনি, ধ্বনিগুচ্ছ বা শব্দমালা যখন রীতিসিদ্ধ, সর্বজন মান্য গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত হয় তখন তাকে আমরা প্রমিত ভাষা বলে অভিহিত করে থাকি। প্রমিত উচ্চরণ অনুশীলন ভিন্ন অর্জন করা কষ্টকর। এক্ষেত্রে শোনা এবং শোনার বিষযটি সঠিকভাবে বলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । প্রমিত উচ্চারণের রীতি অনুযায়ী শ্রুতির মাধ্যম দ্বারা গ্রহণযোগ্য উপস্থাপনা শুনে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে প্রমিত উচ্চারণের দক্ষতা সহজেই অর্জন করা যায়। আলোচ্য তথ্যপত্রে প্রমিত উচ্চারণের সার্বিক বিষয়গুলো উপস্থাপনের সীমিত সুযোগ থাকায় শুধুমাত্র মূলধ্বনি উচ্চরণের রীতি সমূহ বলা হল। একজন শিক্ষক যদি এগুলো অনুসরণ করে নিজে নিজে অনুশীলন করে তবে প্রমিত বাংলা উচ্চারণ রীতি আয়ত্ব করা সহজ হবে বলে আশা করা যায়। সমাজে পরস্পরের সাথে যোগাযোগ ও সুসংস্কৃতি রুচিবান নাগরিক হিসাবে আমাদের প্রমিত বাংলা উচ্চারণ আয়ত্ব করার জন্য সচেষ্ট হওয়া উচিত।
ভাষার ধ্বনির প্রতীক হল বর্ণ। বাংলা ভাষার বর্ণ দুই প্রকার স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণ। এনসিটিবি কর্তৃক প্রকাশিত ১ম শ্রেণির বাংলা বই এ স্বরবর্ণ ১১টি এবং ব্যঞ্জনবর্ণ ৪০টি। এ বর্ণগুলোর সাহায্যে বাংলা ভাষায় তার জ্ঞান বিজ্ঞানের তথ্য, যোগাযোগ, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গ্রহণ, প্রকাশ, বিকাশ ও চর্চা করা হয়।
