রিফ্লেকটিভ জার্নাল কী? রিফ্লেকটিভ জার্নাল কীভাবে লিখবেন? - Proshikkhon

রিফ্লেকটিভ জার্নাল কী? রিফ্লেকটিভ জার্নাল কীভাবে লিখবেন?

Reflective Journal

রিফ্লেকটিভ জার্নাল কী?

ডিপিএড কোর্সে প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় ও নিজ বিদ্যালয় কার্যক্রম চলাকালিন করার সময় রিফ্লেক্টিভ জার্নাল লেখা বাধ্যতামূলক। রিফ্লেকটিভ জার্নাল হলো শিক্ষক কর্তৃক শ্রেণিপাঠদান শেষে তার শিখন শেখানো কার্যক্রম সম্পর্কে নিজস্ব অনুচিন্তন (Self-Reflection) একটি রেজিস্টারে নির্ধারিত ছক অনুসরণপূর্বক লিপিবদ্ধকরণ প্রক্রিয়া। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিক্ষক নিজেই নিজের পাঠের সবল ও দূর্বল দিক চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন। নিম্নে কীভাবে জার্নাল লিখবে হবে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো:

কীভাবে রিফ্লেকটিভ জার্নাল লিখতে হবে?

  • রিফ্লেকটিভ জার্নাল প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন ঘটায় রিফ্লেকটিভ জার্নালের মাধ্যমে। রিফ্লেকটিভ জার্নালে শিক্ষার্থী যা চিন্তা-ভাবনা করে তাই তারিখে উল্লেখ করে লিখতে হবে।
  • শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পর্যবেক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে নিজে পাঠদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন, ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে এসব বিষয়ের সমাধানের পথ আবিষ্কার করার জন্য বিভিন্ন তথ্য তথা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। রিফ্লেকটিভ জার্নালে এসব চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন থাকতে পারে।
  • শিক্ষার্থীরা রিফ্লেকটিভ জার্নালে প্রতিদিনের মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে পিটিআই ইনস্ট্রাক্টরের কাছে সপ্তাহ শেষে জমা দেবেন। ইনস্ট্রাক্টর সেটিতে অনুস্বাক্ষর করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
  • রিফ্লেকটিভ জার্নাল শিক্ষকমান অর্জনের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত হবে।

রিফ্লেকটিভ জার্নাল লেখার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে-

১. নিজস্ব উপলব্ধির মাধ্যমে গভীরভাবে ভাবতে পারা এবং নিজেকে প্রশ্ন করতে পারা।

২. নিজের অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারা এবং তা সমস্যার সঙ্গে একীভূত/সমন্বিত করা।

৩. শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ প্রশ্নের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।

৪. সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করা এবং শিখনকে দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়া।

রিফ্লেকটিভ জার্নালের মাধ্যমে আমরা যেসব বিষয়ে সুফল পেতে পারি-

  • সক্রিয় শিখন নিশ্চিত করা।
  • শিক্ষার্থীর উন্নয়ন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।
  • লেখার দক্ষতা উন্নয়ন।
  • শিক্ষার্থীর নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার সুযোগ।
  • সৃজনশীলতা ও আত্মসমালোচনা করতে পারা।

রিফ্লেকটিভ জার্নালের নমুনা ছক

তারিখ ও বারসম্পাদিত কার্যক্রমমন্তব্য
২১/০৩/২০১৮ বুধবার  প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য পাক্ষিক ও দৈনিক পাঠ-পরিকল্পনা প্রণয়নপাক্ষিক পাঠ পরিকল্পনা করার পূর্বে শিক্ষার্থীদের মৌখিক প্রশ্ন করে, পর্যবেক্ষণ করে এবং কোনো কাজ দিয়ে মূল্যায়ন করার মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের দলে ভাগ করে শিখন শেখানো কাজ পরিচালনা করতে হবে। এই বিষয়টি দৈনিক পাঠ-পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শ্রেণি শিক্ষকের সাথে আলোচনাক্রমে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষার পাক্ষিক ও দৈনিক পাঠপরিকল্পনা তৈরি করা সহজ হয়েছে।
 –গণিত বিষয়ে উপকরণ সংগ্রহ  উপকরণ তৈরি বেশ সময়সাপেক্ষ এবং কষ্টসাধ্য। ভবিষ্যতে এর জন্য আরো বেশি সময় ব্যয় করতে হবে।
 – ৯.৩০ থেকে ১১.০০ পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম  শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি হার বেশ কম। প্রধান শিক্ষককে এ বিষয়টি জানাতে হবে। এ বিষয়ে মাতা-পিতা ও অভিভাবকের একটি সভা ডাকলে বেশ ভালো হয়। শ্রেণি কার্যক্রমে খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকায় শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দ পায়।

উল্লিখিত নমুনা থেকে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখযোগ্য

  • প্রতিদিন বিদ্যালয়ে সম্পাদিত কাজ যেমন-বিভিন্ন বিষয়ের কোনো পাঠ/পাঠের অংশসহ শিখন শেখানো কাজের বিশেষ দিক সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করতে হবে। মন্তব্য হবে অনুচিন্তনমূলক অর্থাৎ ভবিষ্যতে উন্নয়নের জন্য কী করা যায়। সে বিষয়সহ শিক্ষণের বিভিন্ন কৌশল উল্লেখ করতে হবে।
  • কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়সমূহের ক্রম অনুসরণ করতে হবে।
  • শিক্ষকমান অর্জনের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!