কেইস স্টাডি (Case Study) - Proshikkhon

কেইস স্টাডি (Case Study)

Case Study : Steps, Rubric and How to do

কেস স্টাডি কী?

কেইস স্টাডি (Case Study) যে কোন গবেষণা করার মতই একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া। সহজভাবে বলতে গেলে কেইস স্টাডি (Case Study) দ্বারা নিবিড় ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ বা অনুসন্ধান করা বুঝায়। এই অনুসন্ধান বা পর্যবেক্ষণ কোন ব্যাক্তি, কোন দল বা গোষ্ঠি কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোন বিশেষ তথ্য লাভের জন্য বা সমস্যা নিয়ে করা হয়ে থাকে। প্রকৃত পক্ষে কোন কাজে নিয়োজিত থাকার সময় কাজের সুবিধার জন্য অথবা তা উন্নয়নের জন্য এমন কিছু তথ্যের প্রয়োজন হয় যা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বা অনুসন্ধান করে পাওয়া যেতে পারে।

একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের কাছে যেমন তেমনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কেস স্টাডির মাধ্যমে তাঁর শিক্ষাদান বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা অথবা সুবিধা সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন। একজন শিক্ষক শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা কালে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতা বা সমস্যার সম্মুখিন হতে পারেন। যেমন একটি নিম্ন পরিবারের একটি শিশু তার অনেক দৈন্যতা তথা প্রতিকুলতা সত্ত্বেও অত্যন্ত ভালো ফলাফল করতে পারছে। পাশাপাশি একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান জীবন যাপন ও পড়াশুনার ক্ষেত্রে সকল সুবিধা পাওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষায় নিম্নমানের ফলাফল করছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এরকম ঘটনা কেন ঘটছে? আমরা মনে করি নানা কারণে উচ্চ বিত্ত বা মধ্য বিত্ত পরিবারের সন্তানেরা পড়াশুনায় ভালো ফলাফল করে থাকে। যখন তা হয় না, কেন হচ্ছে না সে কারণটি খুঁজে বের করা উক্ত কারনের আলোকে ব্যবস্থা নিলে গেলে উক্ত শিশুটিও পড়াশুনায় ভালো করতে পারবে। আবার দেখা যায়, কিছু শিক্ষার্থী গণিত বা বিজ্ঞানে উচ্চমানের দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু বাংলা বা ইংরেজিতে ভালো করতে পারছে না। একজন শিক্ষক এরুপ আরো অনেক অভিজ্ঞতার সম্মুখিন হতে পারেন।

সেই শিক্ষকের উচিত এরুপ কোন বিষয়ের কারন খুজে বের করা। এখানেই কেইস স্টাডির প্রাসঙ্গিকতা কারণ কেইস স্টাডি (Case Study) করে এরকম সমস্যা বা সফলতার কারণ জেনে সে অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

ডিপিএড কর্মসূচিতে কেইস স্টাডি প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে প্রধানত ১) অনুচিন্তন প্রক্রিয়াকে সমৃদ্ধ করা, ২) কারণ ও ফলাফল সম্পর্ক নিবিড়ভাবে উপলব্ধি করা, এবং ৩) শিশুরা কীভাবে শিখে বা শিখতে পারে সে সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি লাভ করা।

ধারণা করা যায় প্রকৃত গবেষকের দৃষ্টিতে সম্পাদিত একটি কেইস স্টাডি (Case Study) পিটিআইতে শ্রেণির সহপাঠিদের সম্মুখে উপস্থাপন করলে তা সকলের পেশাগত উপলব্ধিকে সমৃদ্ধ করবে। কীভাবে কেইস স্টাডি পরিচালনা করতে হবে। যে কোন গবেষণা কর্মের মধ্যে এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে যথাযথ তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত স্বরুপ প্রকাশ পায় বা ধারণা লাভ করা যায়।

কেইস স্টাডি (Case Study) এর ধাপ

গবেষণা কর্ম পরিচালনার মতই কেস স্টাডিও ৪টি ধাপে করা হয়। যথা:

১. কেস স্টাডি পরিচালনা জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

২. প্রশ্নপত্র, চেকলিস্ট ইত্যাদি টুলস ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা।

৩. সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা।

৪. প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে সুপারিশ/মন্তব্য প্রণয়ন করা।

ডিপিএড কর্মসূচির অধিন পেশাগত শিক্ষা বিষয়ে একটি কেস স্টাডি সম্পাদন করে তা চতূর্থ টার্মের শেষে পিটিআইতে অবস্থান কালে উপস্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। সে জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী ২য় টার্মের শুরুতে সংশ্লিষ্ট ইনস্ট্রাক্টরের পরামর্শক্রমে কেস স্টাডি পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

প্রথমেই একটি বিষয় নির্বাচন করতে হবে। কেইস স্টাডি নির্বাচনে ইনস্ট্রাক্টর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন। অথবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সাথে বিষয়টি কেস আকারে লিখবেন যেমন ৩য় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে বেশ কিছু শিক্ষার্থী গণিত বা ইংরেজি বিষয়ে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি লাভ করতে পারছেনা। অথবা ৪র্থ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী শ্রেণি কার্যক্রম অংশগ্রহনে আগ্রহী হয় না কিন্তু খেলাধুলা করতে সে খুব উৎসাহী। উক্ত দুটি কেস সমস্যা হিসেবে প্রতিয়মান হয় আবার একটি কেস হতে পারে ২য় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী পড়াশুনা ভালো ছিলো না কিন্তু ৩য় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে ভালো অগ্রগতি প্রদর্শন করছে। এর কারণ খুঁজে বের করলে এরুপ আরো অনেকের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকভাবে লব্ধ অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

কেইস নির্বাচন করার পরে কেইসস্টাডি করার উদ্দেশ্য (২টি বা ৩টি) নির্ধারণ করতে হয়। যেমন- শেষোক্ত কেইস বিষয়ে উদ্দেশ্য হতে পারে-

  • শিশুটি ২য় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে কেন পড়াশুনায় ভালো করতে পারেনি; তার কারণ খুঁজে বের করা;
  • ২য় শ্রেণিতে কোন কোন বিষয় সে খারাপ ফলাফল করেছে এবং কোন কোন বিষয়ে সে ভালো করেছে তার কারণ খুঁজে বের করা;
  • ৩য় শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে সে পড়াশুনায় ভালো করছে তার প্রমাণ সংগ্রহ করা এবং ভালো করার কারণ নির্ণয় করা;

উদ্দেশ্য নির্ধারণের পরে উদ্দেশ্য অনুসারে একাধিক সূচক চিহ্নিত করে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। লক্ষ দল বা ব্যক্তি অনুসন্ধান (যেমন উক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীর সহপাঠী, শিক্ষক, বাবা-মা) কীভাবে প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে অর্থাৎ সাক্ষাতকার, প্রশ্নের লিখিত উত্তর পর্যবেক্ষণ ইত্যাদি প্রক্রিয়া নির্ণয় করে একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

পরিকল্পনা অনুসারে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে অর্থাৎ লক্ষ দলের নিকট থেকে প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তা সংগ্রহ করতে হবে।

অতঃপর সংগৃহীত তথ্য উদ্দেশ্য/গবেষণা প্রশ্ন অনুসারে শ্রেণিকরণ করে পরপর অনুচ্ছেদে লিখতে হবে। এভাবে তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে যে ফলাফল পাওয়া যাবে তাও বিভিন্ন অনুচ্ছেদে মন্তব্য আকারে লিখতে হবে। ফলাফলের ভিত্তিতে সুপারিশ লিখতে হবে।

পুরো বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য পোস্টার পেপারে অথবা পাওয়ারপয়েন্টে সংক্ষিপ্তভাবে লিখতে হবে। উল্লেখ্য যে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কেইস স্টাডির বিষয় (Case) কেস স্টাডি করার জন্য পরিকল্পনা, টেবিল আকারে সংগৃহীত তথ্য, ফলাফল এবং সুপারিশগুলো একে একে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করতে হবে।

কেইস স্টাডি (Case Study) রুব্রিক (নমুনা)

নিম্নে রুব্রিকের একটি নমুনা প্রদান করা হলো। রুব্রিক শিক্ষার্থীদের অবহিত আবশ্যকীয় । নিম্নের রুব্রিকটি একটি উদাহরণ মাত্র। তবে ইনস্ট্রাক্টরগণ সুবিধার জন্য নিজেই রুব্রিক তৈরি করে নিতে পারবেন। সকল বিষয়ের নম্বর বিভাজন অনুযায়ী রুব্রিকের নম্বর বিভাজন করতে হবে।

মানদণ্ডনম্বর
উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুতি এবং পাওয়ার পয়েন্ট মাল্টিমিডিয়াতে অথবা পোস্টার পেপারে উপস্থাপনের দক্ষতা।৪  
কেইস স্টাডির বিষয়, উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার মান
তথ্য সংগ্রহে দক্ষতা এবং তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা
ফলাফল নির্ণয় ও সুপারিশ প্রণয়নে দক্ষতা
মোট৩০

কর্মসহায়ক গবেষণা (Action Research) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রেস করুন।

অ্যাসাইনমেন্ট (Assignment) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রেস করুন।

পাঠ সমীক্ষা (Lesson Study) সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রেস করুন।

গবেষণা সম্পর্কে অন্যান্য পোস্ট নিচে দেখুন:

  • গবেষণা (Research) বলতে কী বুঝায়?
  • গবেষণার ইতিহাস বা বিকাশ
  • গবেষণার উপাদান ও বৈশিষ্ট্য
  • ঐতিহাসিক গবেষণা কী? ঐতিহাসিক গবেষণার উৎস ও সমালোচনা।
  • বর্ণনামূলক গবেষণা (Descriptive Research)
  • পরীক্ষণমূলক গবেষণার সুত্রাবলি
  • জরিপ গবেষণার প্রকারভেদগুলো
  • মৌলিক গবেষণা ও সামাজিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য
  • পরিমাণগত ও গুণগত গবেষণার মধ্যে পার্থক্য কী?
  • গবেষণা প্রস্তাবনা কী?
  • গবেষণা প্রতিবেদন কী?
Comments (3)

[…] স্টাডি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রেস […]

[…] স্টাডি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রেস […]

[…] স্টাডি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এই লিংকে প্রেস […]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!