DPED Course Evaluation
১২টি বিষয়ের কোর্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সর্বমোট ১২০০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে। ১২০০ নম্বরের মধ্যে পিটিআই কর্তৃক গাঠনিক মূল্যায়ন ৬১০ নম্বর এবং নেপ কর্তৃক সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫৯০ নম্বর। ডিপিএড কোর্স মূল্যায়নে গাঠনিক এবং সামষ্টিক উভয় প্রকার মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোর্স চলাকালীন সকল পর্যায়ে গাঠনিক মূল্যায়ন ব্যবহার করা হবে।
পিটিআই কর্তৃক কোর্স মূল্যায়ন (গাঠনিক)
১২টি বিষয়ে পেশাগত বিষয়ে ১১০ নম্বর, বাংলা ৮০, ইংরেজি ৮০, গণিত ৮০, প্রাথমিক বিজ্ঞানে ১০০, বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় ১০০ এবং এক্সপ্রেসিভ আর্ট বিষয়ের ২০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে। সকল প্রমাণপত্র পোর্টফোলিওতে সংরক্ষণ করতে হবে। বিস্তারিত নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
- পেশাগত শিক্ষা বিষয়ে ১১০ নম্বরের মধ্যে ইনকোর্স ৫০, কেস স্টাডি উপস্থাপন ১৫ নম্বর, অ্যাসাইনমেন্ট ১৫ নম্বর, আইসিটি (অনুশীলন) ২০ নম্বর এবং লাইব্রেরি ব্যবহার ২০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে। যেসব পিটিআইতে এ বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন তাঁরাই আইসিটি বিষয়টি পাঠদান ও মূল্যায়ন করবেন। একইভাবে চতুর্থ খণ্ডের গ্রন্থাগার অংশের ৫টি অধিবেশনে শিক্ষাদান করবেন পিটিআই গ্রন্থাগারিক/সহকারী গ্রন্থাগারিক এবং তাঁরা সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরি ব্যবহারের ২০ নম্বর মান মূল্যায়ন করবেন।
- ৪টি বিষয়ের প্রতিটি (বাংলা বিষয়জ্ঞান, বাংলা শিক্ষণবিজ্ঞান, ইংরেজি বিষয়জ্ঞান, ইংরেজি শিক্ষণবিজ্ঞান) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অ্যাকশন রিসার্চ/কেস স্টাডি ১৫ নম্বর এবং অ্যাসাইনমেন্ট ১৫ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে।
- ৪টি বিষয়ের প্রতিটি (প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়জ্ঞান, প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান, গণিত বিষয়জ্ঞান এবং গণিত শিক্ষণবিজ্ঞান) মূল্যায়নের ক্ষেত্রে লেশনস্টাডি ১৫ নম্বর মূল্যায়ন করা হবে।
- অনুশীলনের ক্ষেত্রে পেশাগত শিক্ষায়-আইসিটি অনুশীলন ২০ নম্বরর এবং লাইব্রেরি ব্যবহার ২০ নম্বর; প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়জ্ঞান, প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান এ পরীক্ষা ২০ নম্বর, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের ক্ষেত্রে আচার-আচরণ-৫ নম্বর, অনুষ্ঠান পরিচালনা-৫ নম্বর এবং সামাজিক কাজ-১০ নম্বর) ২০ নম্বর এবং এক্সপ্রেসিভ আর্ট (শাশি-৮, আর্ট এন্ড ক্রাফট-৮ এবং সংগীত-৪) ২০ নম্বরের মূল্যায়ন করা হবে।
- প্রতিটি বিষয়ের পাস নম্বর ৪০%।

ফলাফল (Result)
- গ্রেডিং পদ্ভতিতে ফলাফল প্রদান করা হবে।
- গাঠনিক ও সামষ্টিক কোর্স মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শতকরা ৪০ নম্বর পেলে উত্তীর্ণ (Pass) এবং শতকরা ৪০ নম্বরের নিচে পেলে অনুত্তীর্ণ (Fail) হবে।
গাঠনিক মূল্যায়ন
ইনস্ট্রাক্টর শিক্ষার্থীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মূল্যায়নের মাধ্যমে সামগ্রিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা নিতে পারেন-
- শিক্ষার্থীকে তার নিজের শিখনলাভ বিষয়ে অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফিডব্যাক দিয়ে;
- ফিডব্যাক দেয়ার ক্ষেত্রে তার অর্জিত জ্ঞান বা দক্ষতার ঘাটতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়ে;
- সে ঘাটতি কীভাবে পূরণ করা যায় সে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে বুঝিয়ে বলে অর্থাৎ এ জন্য কী কাজ করতে হবে সে সম্পর্কে ধারণা দিয়ে।
কীভাবে গাঠনিক মূল্যায়ন করা যেতে পারে
- একজন শিক্ষার্থীকে একাকী অথবা দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে;
- প্রশ্ন করে অথবা প্রশ্ন করার সুযোগ দিয়ে;
- বিভিন্ন কাজ দিয়ে যথা-প্রজেক্ট করতে দিয়ে, কোনো বিষয়ে লিখতে বা বলতে দিয়ে;
- কোনো বিষয়ে অনুসন্ধান পর্যবেক্ষণ করতে দিয়ে।
উপকরণ
প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীর পাঠ সম্পর্কিত কাজ সম্পাদন সম্পর্কে ফিডব্যাক দেবেন। ফিডব্যাক অবশ্যই ইতিবাচক হতে হবে। যেমন “তোমার কাজ ভালভাবেই এগোচ্ছে, তবে এ জায়গাটা তুমি পরিবর্তন করতে চাও কী না? ভুল শুদ্ধ করার ক্ষেত্রে “আচ্ছা, আমি কিন্তু এভাবে বলব/লিখব। অথবা ডিকশনারী দেখে, তুমি যে শব্দটি লিখেছ, তা সঠিক কীনা যাচাই করে নিবে।
ইনস্ট্রাক্টরগণ এভাবে ধারাবাহিক এবং পরিকল্পিতভাবে শিক্ষার্থীর বিভিন্ন কাজ পর্যবেক্ষণ ও যাচাই করে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে শিখন অগ্রগতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। এ জন্য ইনস্ট্রাক্টরগণ যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তা হলো-
- নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিখন অগ্রগতি সম্পর্কে ডায়েরিতে অথবা শিক্ষার্থীর পোর্টফোলিওতে মন্তব্য লিখে রাখবেন।
- কী টুলস ব্যবহার করবেন সে সম্পর্কে একটি লিখিত পরিকল্পনা তৈরি করবেন।
- কী প্রশ্ন করবেন, কী বলতে দেবেন, কী লিখতে দেবেন অথবা কী কাজ করতে দেবেন সে সম্পর্কে পরিকল্পনা করবেন।
- ফিডব্যাক সব ক্ষেত্রে হবে লিখিত এবং শিক্ষার্থী কী ব্যবস্থা নিল তাও মনিটর করতে হবে।
- প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের উপযুক্ত প্রমাণ দিতে হবে।
- ডিপিএড কর্মসূচিতে অ্যাসাইনমেন্ট, উপস্থাপন অথবা অ্যাকশন রিসার্চে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের যথাযথ প্রমাণ রাখতে হবে।
ডিপিএড কোর্সের গাঠনিক মূল্যায়নের জন্য যে কয়েক টুলস ব্যবহার করা হয়। সেগুলো হলো:
১) অ্যাসাইনমেন্ট,
৩) অ্যাকশন রিসার্চ,
৪) লেসন স্টাডি।