ব্রণ
–সাবেদ আল সাদ
চিরকালই ভ্যাবলাই থেকে গেলাম। কেউই আমাকে আসল নামে আর ডাকে না। কেউ ক্যাবলা, কেউ ক্যালাস। আসল নাম শ্রাবণ কই যে হারিয়ে গেলো! সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্র হলেও এখন পর্যন্ত দাড়িগোঁফটাও ঠিক মতো গজালো না। ক্যাবলা তো বলবেই।
কনকের সাথে আমার খুব ভাব। আমার দুই তিন বছরের ছোট। আগে রোজ স্কুলে যেতাম। ওকে না দেখলেই মনটা কেমন ছটফট করত। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমি বড় আপার সাথে শহরেই থাকি।
কিন্তু কেন জানি মনটা পরে থাকত কনকের কাছেই।
লকডাউনে স্কুল কলেজ সব বন্ধ। একারণে সবাই গ্রামে এসেছি। কনক কি জানে না?
কনকের জন্য মনটা কেমন যেন করছে। যাইতো একবার ওদের বাড়িতে! কাছেই ওদের বাড়ি। কাকীমা খুব ভালো মানুষ।
উঠানে গাছতলায়ই পেয়ে গেলাম কনককে। ভেতরের ব্যাঙটা লাফিয়ে উঠল। কাছে গিয়েই ওর পিঠে দুরুম করে একটা কিল দিয়েই বললাম, আমি এসেছি।
সেতো দেখতেই পাচ্ছি, আপনি এসেছেন। দমে গেলাম ফুস করে।
তোমার কি মন খারাপ?
নাহ! সাতদিন হয় এসেছেন, তাই আনন্দে লাফাচ্ছি। এতোক্ষণে বুঝলাম অভিমানের কারণ।
ছুটকি কোথাকার!
নিজে তো ক্যাবলা!
এতোক্ষণ লক্ষ করিনি কনকের সারা গালে অনেক ব্রণ। ওর কাধে হাত রেখে বিস্মিত হয়ে বললাম, কিরে গালে এতো ব্রণ কেন?
কনক পাকা বুড়ির মতো ন্যাকামো করে বলল, তোমার বড় আপাকে জিজ্ঞাসা কোরো মেয়েদের কোন সময়ে গালে ব্রণ ওঠে। ক্যাবলা… আমি ওর মুখের দিকে ফ্যালফ্যালিয়ে তাকিয়ে থাকলাম।