গ্রহণ লেগেছিল চাঁদে
-সাবেদ আল সাদ
তোমার নিথর দেহ পড়ে আছে মর্মর সিঁড়িতে
অস্তাচলগামী সূর্যের শরীর থেকে
রক্ত চুয়ে চুয়ে নেমে গেছে বহুনীচে
কাকে ছুলো সেই পাক রক্ত?
তখন সূর্যোদয় ছিলো না তো ওখানে!
পাহাড়ায় কে ছিলো
দীনু হরকরার উড়ন্ত পোস্টকার্ডে
তুমিই ছিলে কি?
বুদ্ধি অসার তখন, শরীর অবশ
আমি চেয়ে থাকি দূরলোকে
নীচের পৃথিবী ছেড়ে অসীম মহাকাশের দিকে
তোমার মুখের আদলে একটি মুখ
উড়ে যাচ্ছে দ্রুত।
প্রতারক বুলেটের চেয়েও ক্ষিপ্র সে গতি
পৃথিবীর শেষ ট্রেন চলে গেলো ভোরে
কেটে নিয়ে গেলো তার দীপ্তমান ছায়া
যা রয়ে গেলো, তা পদ্মা যমুনার জলের মতোই
অগাধ বিস্তৃত, ক্ষুরধার দীপ্যমান
সেখানে বাজালো কে সুতীক্ষ্ণ সাইরেণ
বাজিয়া উঠিলো সুর, বাজিলো ডম্বরু
সাবধান সব, হুশিয়ার সব শত্রু
আজ ছত্রাখান সব দানবের দল
গ্রীষ্মের অগ্নিতে, রোদ ঝড় বিস্ফোরণে
তুমি হাকো-আমি আছি দুলোক ভুলোকে।
আছোতো সবখানে জনক
তবু কেন লুকাতে পারি না অশ্রুজল
যা সর্বদা বাষ্প হয়ে মিশে থাকে বুকে
গভীর অরণ্যে, বা গ্রহণ লাগা চাঁদে।