শান্তি অন্বেষণে বৈচিত্র্য
-এনতাজুর রহমান
হায় ঈশ্বর তুমি একি খেয়ালি মনে
বিচিত্র মানস বীজ বুনেছো মানব অন্তর জমিনে!
মানুষে মানুষে ভিন্ন ভিন্ন পরিচর্যায় ঢেলেছ বিচিত্র সার-জল
ফুটায়েছ সব বিচিত্র ফুল ফলায়েছ বিচিত্র মানসফল!
তোমারই মানুষ কেউ দেব আবরণে কেউবা প্রকট অসুর বেশে
মানস প্রসন্নতায় গোপনে-প্রকাশে অলাজে হেসে
করছে আঘাত তোমারই মানুষে—–
তুচ্ছ করে মরণ ক্ষণের কঠিন যন্ত্রণা
সে আঘাত বেদন-অনল চুম্বন ঘায়ে বাজিছে বিষের বীণা
নরক দহনে গোপন মন্তরে
তোমারই আর্ত মানব দেহে মানুষেরই অন্তরে।
বিচিত্র আর্ত মানব মানস!
নরক যাতনা কেউবা লুকায়ে বুকে কঠিন ক্ষত প্রসন্নে ঢেকে
বিচিত্র মানসে খুঁজে প্রশান্তি, অসুরে আড়ালে নির্দোষ রেখে;
ফিরে চরাচরে অসহায়ে বিচিত্র হাস্যমুখে —-
হায় বিধাতা! একি ভীতি একি লজ্জা একি শংসয়ে ওজাতটারে
বেঁধেছ তোমার দুর্বোধ্য জটিল কঠিন কিম্ভুত সংসারে!
আবার তোমারই মানব কেহ কেহ
অসীম দ্বেষ-হিংসার ভারে জড়ায়ে বক্ষে কুটিল মোহ
মাখিছে গায়ে মলিন রঙিন প্রলেপ নির্জাস
ফুটায়ে আঁকিছে ক্ষতের চিহ্ন, সচিৎকারে করিছে প্রকাশ
দেখায়ে নিরিহ কারেও, —-“ঐ মোরে করেছে আঘাত জোরে
লুটেছে আমার সকল করেছে সর্বনাশ
দিয়েছে আমায় সর্বশান্ত করে,
হে জগৎবাসী! তোমাদের বিচারে ওরে বাঁধ ধরে”।
হায় স্রষ্ঠা! তোমার সৃষ্টি মাঝে
কত বিচিত্র সুরে বিচিত্র ছবির বিচিত্র গান বাজে?
জগৎ সংসারে কারাওবা গোপন-প্রকট ভীতি, অসীম লজ্জাভারে
রক্তঝরা কঠিন আঘাতক্ষত লুকায়ে ঢেকে
বক্ষে পুষে নরক যাতনা—-আলোয় এসে শান্তি খুঁজিয়া মরে!
কারাওবা ফের নির্লজ্জ-বৈচিত্তে প্রকটিত লজ্জার নগ্ন বেশে
মায়ার অশ্রু ধারায় গড়ায়ে অন্তরে কুটিল হেসে
পাপের বাণ ছুড়ে প্রাণের প্রশান্তি খুঁজিছে পথে পথে,
হায় বিধাতা! তোমার সৃজন বৈচিত্র্য মাঝে
বিপুল পুলকে হাস কি দেখে সকল আড়াল হতে?
১৩ জুন, ২০২১, নীলফামারী।