তন্দ্রাহারা বিহগী
-এনতাজুর রহমান
বাদল রাতে একলা জাগে কে চেয়ে ঐ উঠোন মাঝে?
আকাশের অশ্রুগড়া কান্নাধ্বনি
কুঞ্জ ছেপে তার পরাণে গান হয়ে যে বাজে!
আঁধার পাহারায় সে একা চেয়ে উঠোন মাঝে।
ভেজা বনে গাছের ডালে পল্লবচাল তলে বসে অন্ধকারে
কোন পাখিটা ডানার নিচে চঞ্চু গুঁজে গভীর ঘুমের ঘোরে,
পাশে ঘেঁষে বিহগী তার একলা জেগে
গান বেঁধে সুর সাধে বসে মনে মনে—-মনের মাঝে
নীরব সে গান শুধু একা তার পরাণেই বাজে।
সে সুর টানে বিহগীরে বচনহারা অন্ধকারে
ফেলে আসা দূরের কোন বনশাখে ভরা নদীর পারে
হঠাৎ অবশ প্রাণে কুঁকিয়ে উঠা শব্দগানে
চমকে উঠে বিহগ জাগে,
ঝাঁপটে ডানা আপনি সরে অন্ধকারে বিহগীরে কাছে আনে।
সরোবরের নবরূপে বনডোবা, উঠোনটা যে!
এতটা জল ছিল কি ঐ দূর আকাশের নয়ন মাঝে?
আঁধার চিরে উঠোনে চোখ নাই কারো আর চেয়ে
বিহগীটাও গান বাঁধেনা আর অন্ধকারে নেয়ে
সরে ঠেসে ঘেঁষে বসে কান্নাশেষের ভোরের প্রতীক্ষায়,
বনডোবা, উঠোনে জল আর বাড়েনা
ডুকরে কাঁদা ঐ আকাশের একারই কান্নায়!
১৭ জুন, ২০২১, নীলফামারী।