অনুগল্প-০৭: রক্ষে করো মা - Proshikkhon

অনুগল্প-০৭: রক্ষে করো মা

রক্ষে করো মা

-সাবেদ আল সাদ

এতো তেহাই মেরে কথা বলো কেন সুবল। যা বলার সোজাসুজি বলতে পারো না?

না দাদা আপনি তো চিরকুমার। কালীর সাধক, রোজ কালীর সাধনা, চন্ডীপাঠ, জপতপ, মানে জুতা সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ সব একাই করেন।

সেটাই তো করছি-তাহলে?

মন বসে কালীতে? মানে সংসার ধর্ম ছাড়াই!

দূর! যাওতো সুবল।

কার্তিকদা গলায় রুদ্রাক্ষের মালায় হাত বুলিয়ে কালীর উদ্দেশ্যে কপালে হাত ঠুকল!

রক্ষা করো মা কালী!

অনেক আগেই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক থেমে গেছে। চৈত্রের খাঁ খাঁ গরম। গাঁজার কলকেয় আগুন সাজিয়ে দম দিতে যাবে তখনই বড় বৌদির প্রবেশ।

বৌদির গাঁজার কলকা কেড়ে নিয়ে টিনের বেড়ার দিকে ছুড়ে দিল। কার্তিকদা দেখল বড় বৌদির চোখেমুখে কী একটা চুলবুলানি খেলে যাচ্ছে।

ঠাকুরপো, বাড়িতে কেউ নেই। চলো একটু ফাঁকা মাঠে গোল দেই। কার্তিকদার গাঁজার নেশা, মা কালীর জপ মুহূর্তে বড় বৌদির উপর গিয়ে পড়ে।

জাগতিক সব সুখ এসে এই আঁধার ঘরে কু ডাক দিচ্ছে বটে, কিন্তু এখানে বিসমিল্লাহ খাঁর সানাই এর ধানেশ্রী রাগ নেই, সন্ধ্যায় বেলী ফুলের মৌ মৌ ঝাঁঝ নেই, তাতে কী! ভাঙ্গা শিশিতে আলতা রাঙা প্রেম তো আছে। ভালোবাসা থাক বা না থাক!

খেলা জমছে ভালোই। নিকষ অন্ধকারে দরোজা দেবারও ফুরসুত নেই বড় বৌদির। রেফারির শেষ বাঁশি বাজবে বাজবে, হঠাৎই লালকার্ড। অন্ধকার ঘর টর্চের আলোয় উদ্ভাসিত। মা কালী বলে চমকে সরে গেলে দুজনেই।

কার্তিকদা দেখল, সামনে দাঁড়িয়ে জমদূত সুবোল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!