কারে দেখাবো মনের দুঃখ
-সাবেদ আল সাদ
খেয়াল করলাম মেয়েটি সুশ্রী কিন্তু কোথায় যেন কিসের ঘাটতি।
এক্সকিউজ মি স্যার, আমাকে আপনার গাড়িতে লিফট দিচ্ছেন বলে কি একটু ডিস্টার্বড।
না না! তেমন কিছু না।
একটুতো ডিস্টার্বড বটেই। নইলে আমাকে ড্রাইভারের পাশে বসাবেন কেন!
মেয়েটির এমন স্মার্ট আর অনায়াস কথায় বেশ লজ্জা পেলাম।
সবাইকে এক মুহূর্তের দেখায় চেনা যায় না তো, বলতে পারেন সে রকম একটা…
ঠিক আছে ঠিক আছে প্রবলেম নেই, আমি তো সব সময় লোকাল বাসেই যাতায়াত করি। হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে আমি। ঢাকা ভার্সিটিতেই পড়ি, শেষ বর্ষে। সংসার চালাই টিউশনি করে।
মেয়েটির কথা যতই শুনছি ততই লজ্জা পাচ্ছি। ওর কথায় ঝাঁঝ আছে। আসলে যা ভেবেছিলাম সে রকম সে নয়। বেশ অভিভূত হই।
বাবা নেই? ওকে কিছুটা ইজি করার চেষ্টা।
নির্বিকার জবাব- নেই।
গুলিতে গ্রাণ দিয়ে আমাদেরকেও পথে বসিয়ে গেছেন।
আমি সম্মোহিত, কোন মতে বললাম-
কিভাবে?
বাবা সৎভাবে দুমুঠো ভাত যোগাড়ের জন্য রোকেয়া হলের গেটে ঝালমুড়ি বেচতেন। ছাত্রদের মিছিল পাল্টা মিছিল, গোলাগুলি। মাখখানে ফাঁদে পড়ে বাবা আব্দুল জব্বার নিহত। আর পথে বসলাম আমরা।
কী মর্মান্তিক!
সাহসী মেয়ে বটে! চোখে জমাট অশ্রু নিয়ে কিভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছে।
ধরা গলায় বলল, বায়ান্নর রফিক জব্বাররা ভাষার জন্য জীবন দিয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অমর হলেন। আমার পিতা আব্দুল জব্বার ছাত্রদের কোন্দলে জীবন দিয়ে কী হলেন? বলেন আমাদের রিওয়ার্ড কার কাছে?
কী জবাব দিবো! অপমানিত আমি তাকে শুধু বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিলাম।