রিফ্লেকটিভ জার্নাল লিখার নিয়ম - Proshikkhon

রিফ্লেকটিভ জার্নাল লিখার নিয়ম

How to Write Reflective Journal?

যেভাবে রিফ্লেকটিভ জার্নাল লিখতে হবে

  • রিফ্লেকটিভ জার্নাল প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ে অবস্থানকালীন তাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার প্রতিফলন ঘটায় রিফ্লেকটিভ জার্নালের মাধ্যমে। রিফ্লেকটিভ জার্নালে শিক্ষার্থী যা চিন্তা-ভাবনা করে তাই তারিখে উল্লেখ করে লিখতে হবে।
  • শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান পর্যবেক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে নিজে পাঠদান প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন, ভিন্ন ভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়ে এসব বিষয়ের সমাধানের পথ আবিষ্কার করার জন্য বিভিন্ন তথ্য তথা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হবে। রিফ্লেকটিভ জার্নালে এসব চিন্তা ভাবনার প্রতিফলন থাকতে পারে।
  • শিক্ষার্থীরা রিফ্লেকটিভ জার্নালে প্রতিদিনের মন্তব্য লিপিবদ্ধ করে পিটিআই ইনস্ট্রাক্টরের কাছে সপ্তাহ শেষে জমা দেবেন। ইনস্ট্রাক্টর সেটিতে অনুস্বাক্ষর করবেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন।
  • রিফ্লেকটিভ জার্নাল শিক্ষকমান অর্জনের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহৃত হবে।

রিফ্লেকটিভ জার্নাল লেখার ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে-

১. নিজস্ব উপলব্ধির মাধ্যমে গভীরভাবে ভাবতে পারা এবং নিজেকে প্রশ্ন করতে পারা।

২. নিজের অভিজ্ঞতাকে বর্ণনা করতে পারা এবং তা সমস্যার সঙ্গে একীভূত/সমন্বিত করা।

৩. শিক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত বিশেষ প্রশ্নের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করতে পারে।

৪. আত্মসমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করা এবং শিখনকে দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়া।

রিফ্লেকটিভ জার্নালের মাধ্যমে আমরা যেসব বিষয়ে সুফল পেতে পারি-

  • সক্রিয় শিখন নিশ্চিত করা।
  • শিক্ষার্থীর উন্নয়ন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।
  • লেখার দক্ষতা উন্নয়ন।
  • শিক্ষার্থীর নিজস্ব মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করার সুযোগ।
  • সৃজনশীলতা ও আত্মসমালোচনা করতে পারা।

রিফ্লেক্টিভ জার্নাল (নমুনা)

তারিখসম্পাদিত কাজমন্তব্য
১২.০৫.২০১৯ রবিবার> ২য় শ্রেণি গণিত বিষয়ের জন্য পাক্ষিক ও দৈনিক পাঠ-পরিকল্পনা প্রণয়ন > গণিত বিষয়ে পাঠদানের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি > বাংলা বিষয়ের জন্য উপকরণ সংগ্রহ > সকাল ৯.৩০ থেকে ১২.১৫ টা পর্যন্ত শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা।> পাক্ষিক পরিকল্পনা তৈরির পূর্বে বেসলাইন টুল্‌স তৈরি করে সে অনুসারে মূল্যায়নপূর্বক বিভিন্ন স্তরের দল গঠন করে দৈনিক পাঠ-পরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্তকরণ। >সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শ্রেণি শিক্ষকের সহায়তায় পাক্ষিক ও দৈনিক পাঠ-পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হয়েছে। >উপকরণ তৈরি করতে সময় স্বল্পতা থাকায় গুণগতমান নিশ্চিত করা যায়নি। আশা করি ভবিষ্যতে আরও বেশি সময় ব্যয় করে মানসম্মত উপকরণ তৈরি করতে পারবো। > অভিজ্ঞতার অভাবে শ্রেণি ব্যবস্থাপনায় করতে হিমশিম খেতে হয়েছে। শ্রেণি শিক্ষকের পরামর্শ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। > পাঠদানের সময় ছড়া আবৃত্তি শুনে শিক্ষার্থীরা অনেক আনন্দ পেয়েছে। এভাবে প্রতিটি পাঠে শিক্ষার্থীদের জন্য শিখন পরিবেশ আনন্দদায়ক রাখতে সচেষ্ট থাকবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!