নিরাপদ সড়ক ও সড়ক দূর্ঘটনা শব্দদ্বয় বিপরীতমূখী হলেও বহুল আলোচিত বিষয়। জনবহুল বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ সড়ক ও সড়ক দূর্ঘটনা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পঠন-পাঠনের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঠ্যপুস্তকে এ সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সংযোজন করা হয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেই নিরাপদ সড়ক ও সড়ক দূর্ঘটনা সম্পর্কে।
নিরাপদ সড়ক :
বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম জনবহুল দেশ৷ বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি৷ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর-এর আওতায় ৩৮১২.৭৮ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক ও ৪২৪৬.৯৭ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে৷ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহজে ও স্বল্প ব্যয়ে যাত্রী চলাচল ও পণ্য পরিবহণে সড়ক পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে৷ বর্তমানে যাত্রী পরিবহনের প্রায় ৭০% এবং পণ্য পরিবহনের ৮০% সড়ক পথে পরিবহণ করা হয়ে থাকে৷ সে কারণে সড়ক পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য, কারণ দুর্ঘটনা ঘটেনা, ঘটানো হয়৷ অর্থাৎ দুর্ঘটনা কোন অলৌকিক কারণে সংঘটিত হয়না, বরং লৌকিক কারণে হয়ে থাকে-সেটা হতে পারে চালকের ত্রুটি, যানবাহনের, পথচারীর বা রাস্তার ত্রুটি ইত্যাদি৷ যদি এ সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা যায় তাহলে সড়ক দুর্ঘটনার হার কমানো সম্ভব৷ দুর্ঘটনা কমলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে হ্রাস পাবে৷ এ জন্য প্রয়োজন সড়ক নির্মাণকারী সংস্থা, প্রশাসন, পুলিশ, পরিবহণ মালিক, পরিবহণ শ্রমিক, জনসাধারণ, সড়ক ব্যবহারকারী সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা৷
সড়ক দুর্ঘটনা কারণসমূহ :
সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিকারের উপায়সমূহ :
সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে বিআরটিএ’র বর্তমান কার্যক্রম:
বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও বিআরটিএ:
১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ অনুসারে বিআরটিএ গঠিত হয়৷ ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সৃষ্টির পর থেকে সড়ক পরিবহন সেক্টরের সার্বিক তত্ত্বাবধান, ব্যবস্থাপনা ও সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কাজ করে আসছে৷ বর্তমান সরকারের আমলে সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃংখলা আনয়নের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধিসহ সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে৷
নিরাপদ সড়কের জন্য ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ গত ০১ নম্বের ২০১৯ থেকে কার্যকর করা হয়েছে৷ এ আইনে উল্লেখ্যযোগ্য যা রয়েছে-
১. এই আইন অনুযায়ী ড্রাইভিং লাইসেন্সপেতে হলে অষ্টম শ্রেণি পাশ করতে হবে৷ আগে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোন প্রয়োজন ছিল না৷
২. চালকের সহকারীকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে৷
৩. গাড়ি চালানোর জন্য বয়স অন্তত ১৮ বছর হতে হবে৷ অবশ্য একই বিধান আগেও ছিল৷
৪. ভূয়া লাইসেন্স ব্যবহার করে গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ দুই বছর এবং সর্বনিম্ন ছয় মাসের কারদন্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা এবং সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন৷
৫. সিট বেল্ট না বাঁধলে, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে ০৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে৷
৬. মোটরযানের ফিটনেট সনদ ছাড়া বা মেয়াদ উত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন৷
৭. ট্রাফিক সংকেত না মানলে ও হেলমেট না পড়লে জরিমানা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার বিধান রাখা হয়েছে৷
৮. অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে, উল্টোপথে গাড়ি চালালে জরিমানা ১০ হাজার টাকার বিধান রাখা হয়েছে৷
৯. যত্রতত্র পার্কিং করলে ১০ হাজার টাকা এবং অবৈধ পার্কিং করলে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে৷
১০. আইনে লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে ৬ মাসের কারাদন্ড বা ২৫ হাজার টাকার জরিমানা করা হবে৷
সড়কে নিরাপদে চলাচলের জন্য পাঠ্যপুস্তকে যে সকল বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
| শ্রেণি | বিষয় | গল্পের শিরোনাম | আলোচনার বিষয়বস্তু/ পরামর্শ |
| ৩য় শ্রেণি | বাংলা | নিরাপদে চলাচল | ট্রাফিক সিগনাল, ফুটওভারব্রিজ, জেব্রাক্রসিং, লেভেলক্রসিং, ফ্লাইওভার, উড়ালসেতু, |
| ৪র্থ শ্রেণি | ইংরেজি | Trafic Rules | Intersection, Heavy Traffic, Traffic Lights, Hospital, School, No Horn, Zebra Crossing, No Overtaking |
| ৫ম শ্রেণি | বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় | রাস্তায় নিরাপত্তা রক্ষা | তিনটি সাধারণ নিয়ম: আমরা রাস্তার মাঝখান দিয়ে না হেঁটে ফুটপাত দিয়ে হাঁটব, রাস্তা পারাপারে ওভারব্রিজ ব্যবহার করব, রাস্তার দুপাশ ভালো করে দেখে জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হব৷ |
সড়ক নিরাপত্তা ও শৃখলা বিধানে গণসচেতনতা বিষয়ক বাংলাদেশ স্কাউটস, জাতীয় সদর দপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত ‘নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে আমাদের দায়িত্ব’ শীর্ষক লিফটে যে প্রচারণা রয়েছে, তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০ আগস্ট ২০১৮ তারিখে জারিকৃত পত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিপালন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ লিফলেটে যা রয়েছে: গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সাইন, পথচারী হিসেবে আমার দায়িত্ব, যাত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব, গাড়িচালক হিসেবে আমার দায়িত্ব, মোটর সাইকেলের চালক হিসেবে আমার দায়িত্ব, যানবাহন মালিক হিসেবে আমার দায়িত্ব, অভিভাবক ও শিক্ষক হিসেবে আমার দায়িত্ব প্রভৃতি৷
তথ্যসূত্র:
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.