ডিফল্ট

রমজান | পবিত্র কোরআন নাযিল ও উপাসনা করার মাস

Ramadan | The month of revelation and worship of the Holy Qur’an

রমজান | পবিত্র কোরআন নাযিল ও উপাসনা করার মাস

রমজান বা রমযান (আরবিঃ رمضان‎‎ রামাদান) হল ইসলামী বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ রোজা পালন করে থাকে। রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমজান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯ অথবা ত্রিশ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

রমজান শব্দটি ﺭﻣﺾ শব্দ হতে নির্গত। এর অর্থ পুড়িয়ে ফেলা। রোযা রাখলে গুনাহ মাফ হয়। রমযান গুনাহকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে শেষ করে দেয়। তাই এর নাম রমযান। পরিভাষায় সুবহে সাদিক হতে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনসম্ভোগ হতে বিরত থাকার নাম রোযা। এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। রোজা বা সাওম হল সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং (স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে) যৌনসংগম থেকে বিরত থাকা।

এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কুরআনে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকে যেটি মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি।

ব্যুৎপত্তি

“রমজান” শব্দটি আরবী ধাতু রামিয়া বা আর-রামম থেকে উদ্ভূত যার অর্থ “তাপমাত্রা,” বা “শুষ্কতা”। অ-আরবীয় মুসলিম দেশ যেমন ইরান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং তুরস্ক এটিকে “রামাজান” বা “রমজান” হিসাবে উল্লেখ করা হয়। কারণ আরবী বর্ণ “ض” তাদের বর্ণের জন্য “জ” উচ্চারণ তৈরি করে।

ইতিহাস

হযরত আদম (আঃ) যখন নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার পর তাওবাহ করেছিলেন তখন ৩০ দিন পর্যন্ত তার তাওবাহ কবুল হয়নি। ৩০ দিন পর তার তাওবাহ কবুল হয়। তারপর তার সন্তানদের উপরে ৩০টি রোযা ফরয করে দেয়া হয়।

হযরত নূহ (আঃ)-এর যুগেও রোজা ছিল। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: হযরত নূহ (আঃ) ১ লা শাওয়াল ও ১০ জিলহজ ছাড়া সারা বছর রোযা রাখতেন। — ইবনে মাজাহ ১৭১৪ (সনদ দুর্বল)

হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর সময় ৩০টি রোজা ছিল বলে কেউ কেউ লিখেছেন।

হযরত দাউদ (আঃ) এর সময়েও রোযার প্রচলন ছিল। হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় রোযা হযরত দাউদ (আঃ)-এর রোযা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন বিনা রোযায় থাকতেন।

আরববাসীরাও ইসলামের পূর্বে রোযা সম্পর্কে কমবেশী ওয়াকিফহাল ছিল। মক্কার কুরাইশগণ অন্ধকার যুগে আশুরার (অর্থাৎ ১০ মুহররম) দিনে এ জন্য রোযা রাখতো যে, এই দিনে খানা কাবার ওপর নতুন গেলাফ চড়ানো হতো। মদীনায় বসবাসকারী ইহুদীরাও পৃথকভাবে আশুরা উৎসব পালন করতো। অর্থাৎ ইহুদীরা নিজেদের গণনানুসারে সপ্তম মাসের ১০ম দিনে রোযা রাখতো।

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা বলেন,

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىْٓ اُنْزِلَ فِيْهِ الْقُرْاٰنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَ بَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِۚ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَـصُمْهُ ؕ وَمَنْ کَانَ مَرِيْضًا اَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ اَيَّامٍ اُخَرَؕ يُرِيْدُ اللّٰهُ بِکُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيْدُ بِکُمُ الْعُسْرَ وَلِتُکْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُکَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰى مَا هَدٰٮكُمْ وَلَعَلَّکُمْ تَشْكُرُوْنَ

রমজান মাস হচ্ছে সেই মাস যে মাসে কুরআন নাজিল হয়েছিল; মানবজাতির জন্য কোরান একটি হেদায়েত এবং হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং মানদণ্ড [সঠিক ও ভুলের]। তোমাদের মধ্যে যদি কেউ বেঁচে থাকে তবে এই মাসে রোজা রাখ এবং আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান; তিনি তোমাদের জন্য কষ্ট না চান; আর এটাই যে, তোমার সময়কাল পূর্ণ হবে এবং তোমার হেদায়েতের জন্য আল্লাহকে মহিমান্বিত করতে হবে এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার। [সূরা আল বাকারাহ, সূরা নাম্বারঃ ২, আয়াত নাম্বারঃ ১৮৫]

মুসলমানদের ধারণা যে সমস্ত ধর্মগ্রন্থ রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছিল। ইব্রাহিম, তাওরাত, সাম, যাবুর এবং কুরআনের লিখিত গ্রন্থগুলি প্রথম, ষষ্ঠ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশকে (কিছু উৎসে, আঠারোতম) হস্তান্তর করা হয়েছে রমজানের শেষ দশ দিনের যে পাঁচটি বিশেষ সংখ্যাযুক্ত রাত আছে তার মধ্যে একটি রাত শবে কদর সম্পর্কে মুহাম্মাদ তার প্রথম কোরানিক ওহী পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। যদিও মুসলমানদের প্রথমবার হিজরির দ্বিতীয় বছরে (৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) রোজা রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা বিশ্বাস করে যে রোজা পালনের বিষয়টি বাস্তবে একেশ্বরবাদের উদ্ভাবন নয়। বরং মুমিনদের তাকওয়া অর্জন (আল্লাহর ভয়) করা সর্বদা প্রয়োজনীয় ছিল।

يٰٓـاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُتِبَ عَلَيْکُمُ الصِّيَامُ کَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِکُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُوْنَۙ

হে মু’মিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেওয়া হইল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হইয়াছিল, যাহাতে তোমরা মুত্তাকী হইতে পার। [সূরা আল বাকারাহ, সূরা নাম্বারঃ ২, আয়াত নাম্বারঃ ১৮৩]

এই আয়াতে রোযা ফরয করার উদ্দেশ্যসম্পর্কে পরিষ্কার বলা হয়েছে। রোযার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন।

তাকওয়া শব্দটি ﻭﻗﻰ হতে। যার অর্থ বাঁচা। মহান আল্লাহ বলেন- ﴿ ﻓَﻮَﻗَﻯٰﻬُﻢُ ﭐﻟﻠَّﻪُ ﺷَﺮَّ ﺫَٰﻟِﻚَ ﭐﻟۡﻴَﻮۡﻡِ ١١ ﴾ [ ﺍﻻﻧﺴﺎﻥ : ١١ ] ‘আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা তাদেরকে ঐ দিনের ক্ষতি থেকে বাঁচিয়েছেন।’ রোযার ফযীলত রমযানের রোযার ফযীলত অনেক। ইসলামের যে সকল ইবাদতের সওয়াব ও পুরষ্কার সর্বাধিক তার মধ্যে রমযানের রোযা অন্যতম। অন্য কোনো ইবাদতের ফযীলত এতো বেশী বর্ণিত হয় নি। এখানে আমরা রমযানের রোযার ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা করব।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: « ﻣﻦ ﺻﺎﻡ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺇﻳﻤﺎﻧﺎً ﻭﺍﺣﺘﺴﺎﺑﺎً ﻏﻔﺮ ﻟﻪ ﻣﺎ ﺗﻘﺪﻡ ﻣﻦ ﺫﻧﺒﻪ » ‘যে ঈমান ও এহতেছাবের সাথে সওয়াবের নিয়তে রমযানের রোযা রাখবে আল্লাহ তার অতীতের সকল গুণাহ মাফ করে দেবেন।’

এখানে ঈমান বলতে সত্যিকার ও যথার্থ ঈমান এবং সওয়াবের নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি ছাড়া লোক দেখানো কিংবা অন্য কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে রোযা না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

« ﻛُﻞُّ ﻋَﻤَﻞِ ﺍﺑْﻦِ ﺁﺩَﻡَ ﻳُﻀَﺎﻋَﻒُ ﺍﻟْﺤَﺴَﻨَﺔُ ﻋَﺸْﺮُ ﺃَﻣْﺜَﺎﻟِﻬَﺎ ﺇِﻟَﻰ ﺳَﺒْﻌِﻤِﺎﺋَﺔِ ﺿِﻌْﻒٍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﺼَّﻮْﻡَ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟِﻰ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﺃَﺟْﺰِﻯ ﺑِﻪِ ﻳَﺪَﻉُ ﺷَﻬْﻮَﺗَﻪُ ﻭَﻃَﻌَﺎﻣَﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﺟْﻠِﻰ ﻟِﻠﺼَّﺎﺋِﻢِ ﻓَﺮْﺣَﺘَﺎﻥِ ﻓَﺮْﺣَﺔٌ ﻋِﻨْﺪَ ﻓِﻄْﺮِﻩِ ﻭَﻓَﺮْﺣَﺔٌ ﻋِﻨْﺪَ ﻟِﻘَﺎﺀِ ﺭَﺑِّﻪِ. ﻭَﻟَﺨُﻠُﻮﻑُ ﻓِﻴﻪِ ﺃَﻃْﻴَﺐُ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻦْ ﺭِﻳﺢِ ﺍﻟْﻤِﺴْﻚِ »

‘‘আদম সন্তানের প্রতিটি নেক কাজের জন্য ১০ থেকে ৭শ গুণ পর্যন্ত সওয়াব নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন, রোযা এর ব্যতিক্রম। সে একমাত্র আমার জন্যই রোযা রেখেছে এবং আমিই নিজ হাতে এর পুরষ্কার দেবো। সে আমার জন্যই যৌন বাসনা ও খানা-পিনা ত্যাগ করেছে। রোযাদারের রয়েছে দুইটা আনন্দ। একটা হচ্ছে ইফতারের সময় এবং অন্যটি হচ্ছে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের সময়। আল্লাহর কাছে রোযাদারের মুখের গন্ধ মেশক- আম্বরের সুঘ্রাণের চাইতেও উত্তম।’’

এই হাদীসে অন্যান্য ইবাদতের সওয়াবের পরিমাণ উল্লেখ করে রোযাকে ভিন্নধর্মী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেছেন, তিনি নিজ হাতে রোযার সওয়াব দান করবেন এবং সেটা হবে প্রচলিত হিসেবে চাইতে অনেক বেশি। অর্থাৎ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা রোযাদারকে রোযার জন্য অনেক বেশি সওয়াব, পুরষ্কার ও বিনিময় দান করবেন। সাহল ইবন সা‘দ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: « ﺇﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺑﺎﺑﺎ ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﺍﻟﺮﻳﺎﻥ ﻳﺪﺧﻞ ﻣﻨﻪ ﺍﻟﺼﺎﺋﻤﻮﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻻ ﻳﺪﺧﻞ ﻣﻨﻪ ﺃﺣﺪ ﻏﻴﺮﻫﻢ ﻳﻘﺎﻝ ﺃﻳﻦ ﺍﻟﺼﺎﺋﻤﻮﻥ ﻓﻴﻘﻮﻣﻮﻥ ﻻ ﻳﺪﺧﻞ ﻣﻨﻪ ﺃﺣﺪﻏﻴﺮﻫﻢ ﻓﺈﺫﺍ ﺩﺧﻠﻮﺍ ﺃﻏﻠﻖ ﻓﻠﻦ ﻳﺪﺧﻞ ﻣﻨﻪ ﺃﺣﺪ »

‘জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা আছে। রোযাদার ছাড়া আর কেউ সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। রোযাদাররা প্রবেশ করলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ঐ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না।’ রোযার বিশেষ ফযীলত হচ্ছে জান্নাতের রাইয়ান দরজা। এটা রোযাদারের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা। রাইয়ান শব্দটি আরবী ﺭﻯ এসেছে। এর অর্থ হলো চূড়ান্ত তৃপ্তি সহকারে পান করা। রোযাদাররা জান্নাতে প্রবেশের পর সুস্বাদু পানীয় পান করবে, যার ফলে কোনো দিন তারা তৃষ্ণার্ত হবে না।

ইবনে খুযাইমা উপরোক্ত হাদীসের আরো একটু বর্ধিত বর্ণনা দিয়েছেন। তাহলো: যারা প্রবেশ করবে, তারা পান করবে এবং যে পান করবে সে আর কোনোদিন তৃষ্ণার্ত হবে না। রোযাদারের জন্য জান্নাতের দরজা রাইয়ান নামকরণের তাৎপর্যও তাই। রাইয়ানের শাব্দিক অর্থের সাথে তাৎপর্যের মিল রয়েছে। রোযাদারের ক্ষুধার চাইতে পিপাসার কষ্টই বেশী। তাই ক্ষুধার তৃপ্তির পরিবর্তে পানীয় পান করার তৃপ্তি উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও জান্নাতে সকল খাবারই মওজুদ রয়েছে।

রমজানের শুরু

রমজানের প্রথম ও শেষ তারিখ চাঁদ দেখার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। নতুন চাঁদকে ইসলামে ‘হেলাল ‘ বলে। এই চাঁদ সাধারণত নতুন চাঁদ হিসাবে মুসলিমরা রমজানের শুরুতে অনুমান করতে পারে এবং চাঁদ দেখার রাত থেকে রমজানের দিন গণনা করা হয়। অনেকে সরাসরি চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রমজানের চাঁদ উদ্বোধন নিশ্চিত করতে পছন্দ করেন।

পবিত্র রজনী – শবে কদরকে বছরের সবচেয়ে পবিত্রতম রাত বলে মনে করা হয়। রমজানের শেষ দশ দিনে এটি একটি বিজোর সংখ্যাযুক্ত রাতে ঘটেছে বলে মনে করা হয়; দাউদী বোহরা বিশ্বাস করে যে, ‘শবে কদর’ রমজানের ত্রিশতম রাত

ঈদ – ঈদ আল-ফিতরের ছুটি (আরবি: عيد الفطر) হয় রমজানের শেষের দিকে এবং পরবর্তী চন্দ্র মাসের শাওয়ালের সূচনার সময়। একটি অর্ধচন্দ্র চাঁদ দেখার পরে বা ত্রিশ দিনের রোজা শেষ করার পরে ঘোষণা করা হয় যদি চাঁদ দেখার কোন সম্ভাবনা নেই।খাওয়া, পানীয় এবং বৈবাহিক ঘনিষ্ঠতার মতো প্রাকৃতিক স্বভাবে ফিরে আসার জন্য ঈদ উদযাপিত হয়।

ধর্মীয় অনুশীলনসমূহ

প্রচলিত রীতি হল ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাস করা। রোজার আগের ভোরের খাবারটিকে সাহরী বলা হয়, অন্যদিকে সূর্যাস্তের যে খাবারটি রোজা ভঙ্গ করে তাকে ইফতার বলা হয়। মুসলমানরা হাদিস দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের আত্ম-শৃঙ্খলার উন্নতির জন্য প্রয়াস এবং প্রার্থনা ও কাজের জন্য বেশি সময় ব্যয় করে।

“রমজান এলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা তালাবন্ধ হয়ে যায় এবং শয়তান থাকে শৃঙ্খলিত। “

সিয়াম কী?

রমজান আধ্যাত্মিক প্রতিবিম্ব, স্ব-উন্নতি এবং তীব্র ভক্তি ও উপাসনার সময়। মুসলমানরা ইসলামের শিক্ষার অনুসরণে আরও বেশি প্রচেষ্টা চালানোর আশাবাদী। সিয়াম (সাওম) ভোর শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের শেষে শেষ হয়। এই সময়ে খাওয়া এবং পান করা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি, মুসলমানরা যৌন সম্পর্ক এবং পাপী কথাবার্তা এবং আচরণ থেকে বিরত থাকে। রোজার কাজটি বলা হয় হৃদয়কে পার্থিব ক্রিয়াকলাপ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, এর উদ্দেশ্য হল ক্ষতিকারক অশুচি থেকে মুক্ত করে আত্মাকে শুদ্ধ করা । মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে রমজান তাদেরকে স্ব-শৃঙ্খলা, আত্ম-নিয়ন্ত্রণ, ত্যাগ ও হতভাগাদের প্রতি সহানুভূতি অনুশীলন করতে শেখায়, ফলে উদারতা এবং বাধ্যতামূলক দাতব্য কাজের (যাকাত) উৎসাহিত হয়।

সাহরী :

প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই মুসলমানরা সেহরি নামে একটি প্রি-ফাস্ট ফুড পালন করেন। ফজরের আগে অল্প সময় বিরতি দেওয়ার পরে, মুসলমানরা দিনের প্রথম নামাজ ফজর শুরু করেন।

ইফতার :

সারাদিন রোজা রাখার পর মাগরিবের আজান পরলে আজান শুনে যেই খাবার গ্রহণ করা হয়, তাকে ইফতার বলে। ইফতারের মাধ্যমেই রোজার সমাপ্তি হয়।

তারাবীহর নামাজ :

তারাবীহ (আরবি: تَرَاوِيْحِ‎‎) শব্দটির একবচন ‘তারবীহাতুন’ (আরবি: تَروِيْحَة‎‎)। এর আভিধানিক অর্থ বসা, বিশ্রাম করা, আরাম করা। ইসলাম ধর্মে তারাবীহ বা কিয়ামুল লাইল হল রাতের সালাত যেটি মুসলিমগণ রমজান মাসব্যপী প্রতি রাতে এশার ফরজ নামাজের পর পড়ে থাকেন।

রমজানে মুসলমানদের করনীয় ও প্রস্তুতি

রোজায় পানাহার এবং শারীরিক চাহিদাকে সংযত করার মাধ্যমে এবং আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় জীবন পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের মাঝে এক আধ্যাত্মিক বোধ তৈরি হয়। ফলে মানুষ যাবতীয় অহঙ্কার, কুপ্রবৃত্তি ও নফসের দাসত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দায় পরিণত হয়। যার প্রেক্ষিতে রোজাদারের জন্য ইহজগতের শান্তি, পরলৌকিক কল্যাণ ও মুক্তির সনদ ঘোষিত হয়।

রোজা ফরজ হয় হিজরি দ্বিতীয় সালে। রোজার তাৎপর্য সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘যখন রমজান মাসের প্রথম রাত আসে তখন জান্নাতের সব দরজা উম্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং মাসব্যাপী তা খোলা থাকে, কোনো দরজাই বন্ধ করা হয় না।’

রমজানের প্রস্তুতিকে একশ্রেণির মুসলমান বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকেন, আবার অন্য একটি শ্রেণি রয়েছেন যারা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ উদাসীন। মুসলমান হিসেবে সবার জন্য প্রয়োজন রমজানের প্রস্তুতির বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে যথাযথভাবে রমজানের ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হওয়া। কারণ এ মাসের ইবাদত-বন্দেগির সওয়াব অন্য সব মাসের ইবাদত-বন্দেগি থেকে ৭০ গুণ বেশি।

কোরআনুল কারিম ও সহিহ হাদিসে এ মাসের অনেক ফজিলত ও গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। এই মাসের যথাযোগ্য মর্যাদা দান ও এর থেকে পূর্ণাঙ্গ ফায়দা অর্জনের জন্য চাই যথেষ্ট পূর্বপ্রস্তুতি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রজব মাসের শুরু থেকেই রমজানের জন্য নিজে প্রস্তুতি নিতেন এবং সাহাবাদেরও প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিতেন।

১) মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ :

রমজান মাসের প্রস্তুতিস্বরূপ শাবান মাস থেকেই নফল রোজা রাখা। হাদিসে বর্ণিত আছে, উম্মুল মুমেনীন হজরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘আমি রাসুল (সাঃ)-কে রমজান মাসের রোজা ছাড়া অন্য কোনো মাসের রোজা এত অধিক গুরুত্বসহকারে পালন করতে দেখিনি এবং শাবান মাস ছাড়া অন্য কোনো মাসে অধিক পরিমাণে রোজা পালন করতে দেখিনি।’ – (বুখারি, হাদীস নং – ১৮৬৮; মুসলিম, হাদীস নং – ১১৫৬)।

২) বেশি বেশি দোয়া করা :

মুসলিম বান্দা তার রবের কাছে বেশি বেশি দোয়া করবে যাতে তিনি তাকে রমজান মাস পাওয়ার তাওফিক দান করেন, ইসলামের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ রাখেন, সর্বদা যেন তার আনুগত্য করার এবং তার হুকুম মতো আমল করার তাওফিক দান করেন।

হাদিস শরীফে এসেছে, রজব মাস এলে নবী (সাঃ) আল্লাহর দরবারে দোয়া করে বলতেন, হে আল্লাহ, আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন আর রমজান মাস পর্যন্ত আমাদের জীবন দান করুন।’ – বায়হাকি, শুআবুল ইমান ৩৭৫।

৩) রমজানের আগমনে আনন্দিত হওয়া :

রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর প্রতি আল্লাহ তায়ালার নিয়ামতগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নিয়ামত। কারণ এ মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। রমজান মাস হলো কোরআনের মাস। এ মাসে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। তাই এ মাসের আগমনে মনে খুশি ও আনন্দ অনুভব করা।

৪) ওয়াজিব রোজার কাজা আদায় করা :

বিগত রমজানে অসুস্থতা বা সফরের কারণে কোনো রোজা কাজা হয়ে থাকলে, সেসব রোজা আদায় করে নিজেকে মুক্ত করে ফেলা।

এ প্রসঙ্গে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু সালামাহ (রা.) বলেন, আমি হযরত আয়েশাকে (রাঃ) বলতে শুনেছি, ‘আমার ওপর বিগত রমজানের রোজা বাকি থাকত, যার কাজা আমি শাবান মাসের পরে আদায় করতে পারতাম না।’- (বুখারি, হাদীস নং – ১৮৪৯; মুসলিম, হাদীস নং – ১১৪৬)।

আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, ‘হজরত আয়েশা (রা.)-এর হাদিস প্রমাণ করে যে, এক রমজানের অনাদায় রোজা পরের রমজান আসা পর্যন্ত বিলম্ব করা জায়েজ নেই। অর্থাৎ এক রমজানের কাজা রোজা পরবর্তী রমজান আসার পূর্বেই আদায় করতে হবে।’ -ফতহুল বারি : ৪/১৯১।

৫) বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা :

হজরত সালামাহ ইবনে কুহাইল (রা.) বলেন, শাবান মাসকে কারীদের মাস বলা হতো। হজরত আমর ইবনে কাইস (রা.) শাবান মাস শুরু হলে তার দোকান বন্ধ করে কোরআন তিলাওয়াতের জন্য অবসর গ্রহণ করতেন। তাই রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন পাঠের প্রস্তুতিস্বরূপ এখন থেকেই কুরআন তেলাওয়াত করার অভ্যাস করা।

এখন থেকে নিয়ত বা সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আল্লাহ যদি সুস্থ রাখেন এবারের রমজানের সব রোজা পরিপূর্ণভাবে রাখব। রমজানের রোজা পালনে কোনোরূপ অলসতা করব না। পূর্ণ আন্তরিকতা ও যাবতীয় শর্তাবলি মেনে চলেই সকল রোজা পালন করব।

রোজা ফরজ হয়েছে পরিবারের এমন প্রত্যেক সদস্যকে রোজা পালনে উৎসাহিত করতে হবে। ছোটদেরও দু-একটি রোজা রাখিয়ে অথবা সেহরি ইফতারিতে শামিল করিয়ে রোজার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের মাসে কয়েকটি নফল রোজা রেখে অভ্যাস তৈরি করা যেতে পারে।

এ ছাড়া রমজান আসার আগেই রোজা সম্পর্কিত মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা জরুরি। এ মাসে গরিব ও অসহায়দের মাঝে বেশি বেশি করে দান-সদকা করতে হবে। কেননা এমাসে দান-সাদকার সওয়াব অন্য মাসের চেয়ে বহুগুণে বেশি পাওয়া যায়।

৬) নফল নামাজ পড়ার অভ্যাস করা :

ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নত নামাজের পাশাপাশি নিয়মিত নফল নামাজও পড়ার চেষ্টা করতে হবে। কেননা এ মাসে নফল নামাজের সওয়াব অন্য মাসে ফরজ নামাজের সমতুল্য। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যেন মসজিদে জামায়াতের সঙ্গে আদায় করা হয়, সে ব্যাপারে সক্রিয় থাকতে হবে।

জিকির আসকার এ মাসে তুলনামূলক বেশি করতে হবে। চলতে-ফিরতে, ওঠাবসায় সর্বদা আল্লাহর স্মরণে শরিয়ত নির্দেশিত পন্থায় যিকির আজকার করা হবে। প্রত্যেক নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতের পর দোয়া-দরুদ পড়ে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করা হবে। নিজের দুঃখ-কষ্ট ও আশা-আকাঙ্ক্ষা মহান আল্লাহর সমীপে তুলে ধরতে হবে।

৭) রমজানে যেসব অভ্যাস পরিহার করতে হবে :

শারীরিক, মানসিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ব্যবহারিক কাপড়-চোপড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখতে হবে। মানুষকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি দাওয়াত দিতে হবে এবং সৎকাজ করতে উৎসাহিত করতে হবে। যারা রোজার ব্যাপারে উদাসীন তাদের মাঝে রোজা রাখার গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরতে হবে।

রমজানের পবিত্রতা নষ্ট করে এমন কাজকর্ম থেকে মানুষকে বিরত রাখতে চেষ্টা করতে হবে। ইসলাম ও ইবাদতের প্রতি আকৃষ্ট করতে অপরকে ইসলামি বই উপহার দেওয়া যেতে পারে।

অশ্লীল, অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী কথা, কাজ ও চিন্তাভাবনা পরিহার করতে হবে। রমজানে বেশি বেশি করে আত্মসমালোচনা করা হবে। যেন ভুল-ত্রুটিগুলো দূর করার মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা যায়।

রমজান যেহেতু ইবাদতের মাস সেহেতু পূর্ণ মনোযোগের সঙ্গে ইবাদত করতে হবে এবং দুনিয়াবি ব্যস্ততা কমিয়ে আনতে হবে। ভারী ও কম গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো রমজানের আগে অথবা পরে সেরে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

রমজানের প্রত্যেক রোজা এবং আমল যেন শরীয়ত নির্দেশিত পন্থায় পালন করা হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রোজা যেহেতু শারীরিক ইবাদত, সেহেতু স্বাস্থ্যের ব্যাপারে যত্নশীল হতে হবে। অতি ভোজন ও সময়মত না খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। খাদ্যের অপচয় ও কৃপণতা রোধ করতে হবে। সুস্থতার জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করতে হবে।

৮) তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজ পূর্ণভাবে আদায় করার প্রস্তুতি নেয়া :

তারাবির নামাজ একটি বরকতময় ইবাদত। তাই প্রতিদিন যেন তা পূর্ণভাবে আদায় করা হয়, সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সাহরি খাওয়ার পূর্বমুহূর্তে নিয়মিত অথবা মাঝেমধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়ের চেষ্টা করতে হবে।

নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কেননা রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, মানুষকে নফসের দাসত্ব থেকে ফিরিয়ে আল্লাহর দাসত্বের অনুগামী করা।

এভাবে পরিকল্পনার আলোকে যদি আমরা মাহে রমজান মাস অতিবাহিত করতে পারি তাহলেই এই মাসের পরিপূর্ণ হক আদায় হবে এবং রোজার প্রকৃত ফজিলত অর্জিত হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক।

আরও পোস্ট পড়ুন:

proshikkhon

Recent Posts

বিটিপিটি শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: ‍শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…

2 years ago

পড়তে শেখা ও পড়ে শেখা

বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…

3 years ago

Acronyms list: Used in teaching and learning

Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)

3 years ago

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…

3 years ago

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়

Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…

3 years ago

শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা

Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…

3 years ago

This website uses cookies.