বিশ্বসাহিত্য ইবুক

প্রাথমিক বিজ্ঞান (এসকে); অধ্যায়-৬ মহাবিশ্ব

অধ্যায়-০৬: আমাদের মহাবিশ্ব, আবহাওয়া এবং জলবায়ু

সেশন-৬.১: মহাবিশ্বের বিস্তৃতি

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

১) আকাশ , জ্যোতিষ্ক, ছায়াপথ কাকে বলে।

২) নক্ষত্র-এর বর্ণনা দিন। ‘সূর্য একটি নক্ষত্র’ কথাটি মূল্যায়ন করুন।

৩) মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে লিখুন।

১) আকাশ , জ্যোতিষ্ক, ছায়াপথ কাকে বলে।

আকাশঃ

আকাশ হলো আমাদের বাসগৃহ- পৃথিবীকে চারদিক থেকে ঢেকে রাখা বায়ুর আবরণ। দিনের বেলায় সূর্যের আলো এই বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করার সময় বায়ুর আবরণটি নীল রঙ ধারণ করে যাকে আমরা পৃথিবী নামক গ্রহের আকাশ বলি।

জ্যোতিষ্কঃ

সূর্য , চাঁদ এবং অন্যান্য যেসব আলোকিত বিন্দু রাতের আকাশের গায়ে দেখা যায় তাদের সাধারণভাবে জ্যোতিষ্ক বলে। খালিচোখে প্রায় ৬০০০ জ্যোতিষ্ক দেখা যায়। দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে আরো হাজার হাজার  জ্যোতিষ্ক দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবী মহাকাশে এমনই একটি জ্যোতিষ্ক।

ছায়াপথ/ গ্যালাক্সিঃ 

আমরা পৃথিবী নামক একটি গ্রহে বাস করছি। আমাদের পৃথিবী, আরও ৭ টি গ্রহ ও তাদের শতাধিক উপগ্রহ, সূর্য নামক নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এই ৮ টি গ্রহ ,উপগ্রহসমূহ ও সূর্যকে নিয়েই সৌরজগৎ। কতগুলো গ্রহ-উপগ্রহ ও সূর্যকে নিয়ে যেমন একটি নক্ষত্রব্যবস্থা বা সৌরজগৎ গঠিত হয়, তেমনি এরকম অসংখ্য নক্ষত্রব্যবস্থা নিয়ে গঠিত হয় একটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি। সূর্য যেমন পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহের আবাসস্থল ঠিক তেমনি গ্যালাক্সিগুলো হল নক্ষত্রদের আবাসস্থল। একটি গ্যালাক্সিতে কোটি কোটি নক্ষত্র, গ্রহ, গ্যাস, ধূলিকণা ইত্যাদি মহাকর্ষ বলের সাহায্যে একে অন্যের কাছাকাছি থাকে। ছায়াপথগুলো বিভিন্ন আকার ও আকৃতির হয়ে থাকে।

২) নক্ষত্র-এর বর্ণনা দিন। ‘সূর্য একটি নক্ষত্র’ কথাটি মূল্যায়ন করুন।

নক্ষত্রঃ

যে সব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। মহাবিশ্বে একেকটি ছায়াপথের মধ্যে কোটি কোটি নক্ষত্র রয়েছে। নক্ষত্র আসলে গ্যাসের পিণ্ড। একটি নক্ষত্রে হাইড্রোজেন্সহ অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্র হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে। এ গ্যাসসমূহ নিউক্লিয়ার ফিউশন বা সংশ্লেষ বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর তাপ ও আলোকশক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন তাপ ও আলোকশক্তি মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিকটবর্তী গ্রহ বা উপগ্রহে গিয়ে পৌঁছায়। যেমন- সূর্যের দুইটি হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস সংযুক্ত হয়ে একটি হিলিয়াম নিউক্লিয়াস গঠিত হয় এবং প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। যেমন- সূর্য, ধ্রুবতারা ইত্যাদি।

সূর্য একটি নক্ষত্রঃ

সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু ইত্যাদি জ্যোতিষ্ক। সূর্য এবং একে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান সকল জ্যোতিষ্ক ও ফাঁকা জায়গা নিয়ে সৌরজগত গঠিত। সূর্যকে সৌরজগতের কেন্দ্র বলা হয়। সূর্য মূলত একটি গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসের পিণ্ডে হাইড্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের সাহায্যে একত্র হয়ে থাকে। হাইড্রোজেন গ্যাস পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত  হয়ে হিলিয়াম পরমাণুতে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। এ শক্তি তাপ ও আলোকশক্তি হিসেবে সৌরজগতে ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই সূর্যের কাছ থেকে আমরা তাপ ও আলো পেয়ে থাকি। সূর্য ও নক্ষত্রের গঠন ধর্ম একই। সুতরাং সূর্য একটি নক্ষত্র।

৩) মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিস্তৃতি সম্পর্কে লিখুন।

পৃথিবীতে বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি বিষয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব ও কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। যেমন প্রাচীন চীনের রূপ কথায় বলা হয় যে, একটি কসমিক ডিম থেকে প্রথমে একটি দৈত জন্ম নেয়। সেই দৈত্যের অঙ্গ-প্রতঙ্গ থেকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি। আবার কোনো কোনো ধর্মগ্রন্থে বলা হয়েছে যে, সৃষ্টিকর্তা ছয় দিনে এ মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছেন। তবে বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্যপ্রমাণ ব্যবহার করে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের উৎপত্তি সম্পর্কে বলেছেন।

 মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশস্নগক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে তার মধ্যে বহুল প্রচলিত তত্ত্ব হলো ‘বিগব্যাংতত্ত্ব’। বিজ্ঞানীদের ধারণা প্রায় ১০ থেকে ১৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে ছোট অথচ ভীষণ ভারী ও গরম একটি বস্তুপিণ্ড বিস্ফোরিত হয়ে সকল দিকে বিস্তৃত হতে শুরু করে। এ বিস্ফোরণকে মহাবিস্ফোরণ বা বিগব্যাংতত্ত্ব বলা হয়। মহাবিস্ফোরণের পর অতি ক্ষুদ্র পদার্থ কণা প্রথমে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়। তারপর ছোট ছোট কণাগুলো কিছুটা ঠাণ্ডা ও একত্রিত হয়ে জ্যোতিষ্কে পরিণত হয়। এভাবে সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র সৃষ্টি হয় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছে।

মহাবিশ্বের সকল শক্তি, পদার্থ, মহাকাশ সব কিছু এ বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হয় সূর্য যখন সৃষ্টি হয় তখন তার কিছু থেকে যাওয়া অংশ মহাকাশে ধুলিকণার মতো ভেসে বেড়িয়েছে। তারপর প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর পূর্বে এ ধূলিকণা একত্রিত হয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে।

proshikkhon

Share
Published by
proshikkhon

Recent Posts

বিটিপিটি শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: ‍শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…

2 years ago

পড়তে শেখা ও পড়ে শেখা

বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…

3 years ago

Acronyms list: Used in teaching and learning

Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)

3 years ago

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…

3 years ago

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়

Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…

3 years ago

শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা

Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…

3 years ago

This website uses cookies.