ব্যঞ্জন ধ্বনির উচ্চারণ
বাংলা ভাষায় ব্যঞ্জন বর্ণমালা উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিন্যস্ত৷স্বরধ্বনিকে আশ্রয় করে ব্যঞ্জন ধ্বনি উচ্চারিত হয়৷ নিম্নে ব্যঞ্জন ধ্বনির উচ্চারণরীতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো:
ক-বর্গ
ক বর্গের ধ্বনিসমূহ জিহ্বার মূল বা পিছনের দিক দিয়ে কন্ঠের তালুর কোমল অংশ স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়৷ এগুলিকে কন্ঠ বর্ণ বলে৷ ঙ অনুনাসিক বর্ণ,উচ্চারণের সময় নাক দিয়ে বায়ু বের হয়৷
চ-বর্গ
এই বর্গের জিহ্বার মাঝের অংশ দিয়ে তালুর সামনের বা কঠিন অংশ স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়৷ এই বর্গ তালব্য বর্ণ৷ জিভ এবং তালুর স্পর্শের পরে দু’রে মাঝখানে ঘর্ষণ ঘটে৷ এই বর্গের বর্ণকে ঘৃষ্ট বর্ণ বলে৷ ঞ অনুনাসিক বর্ণ৷ মিঞা শব্দে এর উচ্চারণ মেলে৷
ট-বর্গ
এই বের্গর বর্ণগুলো জিভের ডগাকে উল্টিয়ে মূর্ধণ আর তালুর কঠিন শীর্ষদেশের কাছে কঠিন অংশটি স্পর্শে করে উচচারিত হয়৷ এগুলিকে মূর্ধণ্য বর্ণ বলে৷
ঙ,ঢ়, বর্ণ দুটি জিভের নিচের অংশ দিয়ে দন্তমূল তাড়ন করে উচ্চারিত হয় বলে এ দুটিকে তাড়নাজাত ধ্বনি বলে৷ বাড়ি,কাপড়,শাড়ি,ঝড় ইত্যাদি ড় বর্ণ দ্বারা উচ্চারিত ৷ তেমনি ঢ়এর উচ্চারণ হয় রূঢ়,বিমূঢ়,আষাঢ়,রাঢ়ী ইত্যাদি শব্দে(ড়+হ=ঢ়)৷ ঢ় এর শিথিল উচ্চারণে ড় হয়ে ওঠে ৷ সঠিক উচ্চারণে ড় এর উচ্চারণকে ‘হ’ এর দিকে ঠেলে দিতে হ৷ মুড়,আষাঢ়,মূঢ়তা,দৃঢ় ইত্যাদি শব্দ বার বার উচ্চারণ করলে আওত্ত করা সহজ হবে৷ মূর্ধন্য ‘ণ’ এবং দন্ত্য ‘ন’ এর উচ্চারণ অভিন্ন৷
ত -বর্গ
এগুলি দন্ত্যবর্ণ৷ জিভের দিকে পাখার মত প্রসারিত করে তা দিয়ে দাঁতে নিচু অংশ স্পর্শ করে এই ধ্বনিগুলি উচ্চারিত হয়৷ত থ দ ধ এর আগে দন্ত্য‘ন’ থাকে (ন্ত,ন্থ,ন্দ,নধ) উচ্চারণে জিভ দাঁতের উপরর গিয়ে ঠেকে৷ ‘ধ’ এর উচ্চারণে সাবধানতা অবলম্বন করা দরকার৷ অনেক সময় ‘ধ’ দ এর গায়ে গিয়ে ঠেকে ৷ দ,ধ এর ধ৷বন্দ্ব নিরসনে ধন্দ না রেখে ধারাক্রমে অনুশীলন করা উচিত৷
প-বর্গ
প বর্গকে ওষ্ঠ্যবর্ণ বলে৷ ওষ্ঠে (উপরের ঠোঁট) আর অধর (নিচের ঠোঁট) স্পর্শ করে এই বর্ণগুলি উচ্চারিত হয়৷ ওষ্ঠে -অধরের স্পর্শ ঠিকমত না হলেই বায়ু নির্গত হয়ে উষ্মধ্বনি বেরিয়ে আসবে৷ ফলে ‘ফুল’ হবে উঠবে …..৷ ‘ম’ অনুনাসিক৷ উচ্চারণকালে নাক দিয়ে বায়ু বেরিয়ে আসে৷ নাক বনধ থাকলে মামা বাবায় রুপান্তরিত হয়ে যায়৷ ক থেকে প পর্যন্ত বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বলে এগুলি জিভ মুখের কোন না কোন অংশকে স্পর্শ করে উচ্চারিত হয়৷
য-র-ল-ব
এগুলি অন্ত:স্থ বর্ণ৷ স্পর্শ বর্ণ আর উষ্ম বর্ণের ( শ ষ স হ) মাঝখানে এদের অবস্থান৷ ‘য’এর উচ্চারণ জ এর মত৷ তবে সঠিক উচ্চারণে ‘য. ‘জ’ এর তুলনায় একটু নরম করে বলতে পারলে ভালো হয়৷ অন্ত:স্থ ব ইংরেজী … এর মত উচ্চারণ করা বিধেয়৷ আহ্বান, জিহ্বা, বিহ্বল ইত্যাদি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ৷
‘র’ ও ‘ল’ কে প্রলম্বিত উচ্চার েবলা যায় বলে এ দুটিকে তরল স্বর বলে (র্র্র্র্র্-ল্ ল্ ল্ ল্ ল্\ ‘র’ কে কম্পনজাত ধ্বনি বলা হয় জিভের ডগা দাঁরে গোড়ায় একাধিকবার আসাতে এর দ্রুত উচ্চারণ৷ ‘র’ এর উচ্চারণ ইংরাজী ‘ R ’ এর চেয়ে নরম৷ তেমনিভাবে ইংরাজী ‘L ’ এর চেয়ে বাংলা ‘ল’ একটু নরম করে উচ্চারণ করতে হয়৷
কষস এই তিনটির ধ্বনি শিষের মত বলে এদের শিষ ধ্বনি বলে৷ উচ্চারণ অভিন্ন৷ কিন্তু ব্যতিক্রম ভিন্ন৷ যেমন স যখন ত থ এর সংগে যুক্ত হয় তখন ইংরাজী ‘ ’ ধ্বনির মত স্থান,স্তোত্র,সস্তা,বস্তা,মস্ত,বস্তা ইত্যাদি উচ্চারিত হয়৷ অনুরূপ ভাবে শ এর ব্যতিক্রম উচচারণের উদাহরণ শ্রেয়, বিশ্রী ,শ্রীমান, শ্লেষ,অশ্লীল ইত্যাদি৷
ং এর উচ্চারণ ঙ এর মত ৷ এই জন্য বানানে রঙ,রং,সং ,সঙ, বাঙলা-বাংলা হয়ে যা৷
ঃ বর্ণটি এক ধরনের ‘হ’ ধ্বনি৷ সাধারণ ‘হ’একটু উচ্চকিত কিন্তু এটি একটু চাপা৷ আঃ,উঃ,ওঃ ইত্যাদি বিষ্ময় সূচক অব্যয়ের এর উচ্চারণ ধরা পড়ে৷ শব্দের মধ্যে বসলেঃ দ্বিত করে দেয়; যেমন,অতঃপর,দুঃখ,নিঃশেষ ইত্যাদি৷
ঁ চন্দবিন্দু অনুনাসিক বর্ণ৷ উচ্চারণে এর ব্যতিক্রম থাকা অনুচিত ৷ চাঁদ,দাঁড়াও,শাঁখা,আঁক,কাঁদা,আঁচল ইত্যাদি৷ ঁ সম্বলিত শব্দের উচ্চারণ অনুশীলনের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করানো আবশ্যক৷
যুক্তবর্ণের উচ্চারণ
ক্ষ : ক+ষ=ক্ষ (উচ্চারণ খিয়ো)৷ শব্দে কখনো ‘খ’ কোথাও ক্খউচ্চারিত হয়৷ যেমন,ক্ষেত-খেত,রক্ষা-রোক্খা৷
জ্ঞ : জ্+ঞ৷ বাংলা উচ্চারণে গ্গঁ৷ বিজ্ঞান বাংলা উচ্চারণে বিগগাঁন, আজ্ঞা-আগগাঁ, জ্ঞান-গ্যাঁন
ক্ব : ক+ ব(অন্তঃস্থ) মুল উচ্চারণ কুত্তবা কোত্ত\ কিন্তু বাংলায় উচ্চারণ ক্ক, তাই নিক্কন=নিককন৷
ক্ম : ক+ম (বাংলাং ক্ক বা ক্কঁ, রুক্কিনী- বাংলা উচ্চারণ = রুক্কিনী৷
শ্ম : শ+ম৷ বাংলায় শ বা শঁ, তাই শ্মশান উচ্চারণে শশান, বা শঁশান -শশাঁন৷
ষ্ম : ষ+ম৷ বাংলায় উচ্চারণ শঁ, শশঁ৷ ভীষ্ম উচ্চারণ ভীশশোঁ৷
স্ম : স+ম৷ বাংলায় উচ্চারণ শ্শঁ৷ অকস্মাং-অকশ্শাঁত্৷
হ্ম : হ্+ম৷ বাংলায় বর্ণ বিপর্যয়ে উচ্চারণ ব্রাক্ষণ = ব্রাম্হন৷
ঞ্চ : মূল উচ্চারণ অনেকটা ঙঁ এর মত৷ সঞ্চয়= সনচয় অর্থাৎ উচ্চারণের ক্ষেত্রে ন্চ, তেমনি ঞ্ছ বাংলায় ন্ছ, বাঞ্ছা-বান্ছা৷আবার ঞ্ঝ=ন্ঝ,ঝঞ্ঝা=ঝনঝা৷
হ্ব : হহ্ব৷ভুল উচ্চারণ হ্ ও য়\ কিন্তু উচ্চারণের সময় আহব্বান=আওভান, িবহ্বল=বিউভল৷
য ফলা-বা ফলাযুক্ত বর্ণ
য ফলা যুক্ত বর্ণে সাধারণত ওই বর্ণের দ্বিত হয়৷ যেমন, বাক্য-বাককো, সভ্য-সবভো৷ হ্য য ফলার উচ্চারণ যেমন,উহ্য-উজঝো,বাহ্য-বাজঝে৷ য ফলা যুক্ত বর্ণের পরে অ বা আ অ্যা উচ্চারিত হয়৷ অন্যায়-অনন্যায়,অভ্যাস-ওবভ্যাস,ব্যয়-ব্যায়,ব্যবস্থা-ব্যাবস্থা৷ ব্যাথা-ব্যাথা কিন্তু ব্যক্তি-বেকতি৷
আদিতে না হলে ব ফলা যোগে ও দ্বিত হয় আদিতে , দ্বার-দার, দ্বিধা- দিধা, কিন্তু হরিদ্বার-হরিদ্দার, আদিতে শ্বেত-শেত, কিন্তু মহাশে৷বতা-মহাশশেতা,আস্বাদ-আসসাদ,স্বাগত-সাগতো৷ বজ্র-বজজো্র, প্রকৃত রুপ প্রদান করা হয়৷
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.
View Comments
অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার 🌺