প্রয়োজন হলে পুনরায় ভিডিও কনটেন্টটি দেখুন: মড্যুল-২.২
https://drive.google.com/file/d/1uLa1cXfgDQaL0ZlZswyO8yFmuQTeKLJI/view?usp=drive_link
শিক্ষাক্রমের দশটি মূল যোগ্যতা অর্জনে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের শিখনের দশটি ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীর বিকাশের ক্ষেত্র, পূর্বে নির্ধারিত নীতি, মূল্যবোধ, মূল যোগ্যতা ও দক্ষতা, পরিস্থিতি বিশ্লেষণমূলক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল এবং জাতীয় পর্যালোচনাসমূহের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ শিখন-বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে শিখন-ক্ষেত্র নির্বাচন করা হয়েছে। এই নির্বাচনের সময় স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিনড়ব চাহিদা ও প্রেক্ষাপট যেমন বিবেচনা করা হয়েছে, একই সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে একাডেমিক অগ্রাধিকার এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মজগতের বর্তমান ও ভবিষ্যত পরিপ্রেক্ষিত।
যোগ্যতাগুলো অর্জনকল্পে শিক্ষাক্রমে যেসকল শিখন-ক্ষেত্র নির্বাচন করা হয়েছে, সেগুলো হলো:
১. ভাষা ও যোগাযোগ (Language & Communication)
২. গণিত ও যুক্তি (Mathematics & Reasoning)
৩. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (Science & Technology)
৪. ডিজিটাল প্রযুক্তি (Digital Technology)
৫. পরিবেশ ও জলবায়ু (Environment & Climate)
৬. সমাজ ও বিশ্বনাগরিকত্ব (Society & Global Citizenship)
৭. জীবন ও জীবিকা (Life & Livelihood)
৮. মূল্যবোধ ও নৈতিকতা (Values & Morality)
৯. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা (Physical & Mental Health and Protection)
১০. শিল্প ও সংস্কৃতি (Arts & Culture)
১. একাধিক ভাষায় কথোপকথন, বক্তৃতা, বর্ণনা শুনে এবং পঠন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যনে লিখিত বা অঙ্কিত বিষয়বস্তু পড়ে এবং বুঝে জ্ঞানার্জন অব্যাহত রাখতে সমর্থ হওয়া।
২. পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ভাষা ব্যবহার করে, পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার আলোকে মনোভাব ও অনুভূতি সহজ, সঠিক ও কার্যকরভাবে নানান মাধ্যমে প্রকাশ ও আদান-প্রদান করতে পারা ।
৩. গল্প, কবিতা, ছড়াসহ সৃজনশীল রচনা শুনেও পড়ে আনন্দ লাভ করতে পারা; এবং আবৃত্তি ও ভূমিকাভিনয়ের মাধ্যমে তা প্রকাশ করতে পারা ।
১. গাণিতিক সংখ্যা ও প্রক্রিয়ার (যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ) ধারণা লাভ করে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করা।
২. জ্যামিতিক আকৃতি ও বিভিন্ন ধরণের পরিমাপের ধারণা লাভ করে প্রাত্যহিক জীবনে তা ব্যবহার করতে পারা।
৩. পর্যবেক্ষণ ও পারস্পরিক যোগাযোগের (মিথস্ক্রিয়া) মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণ করে যৌক্তিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার দক্ষতা অর্জন করা।
-দৈনন্দিন জীবনে সৃজনশীলতার সাথে ইতিবাচক ও যৌক্তিকভাবে গাণিতিক দক্ষতা প্রয়োগ করে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক সমস্যা সমাধান করতে পারা।
১. চারপাশের পরিবেশ, প্রাকৃতিক ঘটনা ও ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে কৌতূহলী হয়ে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে যৌক্তিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যকারণ ব্যাখ্যা করতে পারা।
২. বাড়ি, বিদ্যালয় ও নিকট পরিবেশের প্রপঞ্চ, ঘটনা ও ঘটনা প্রবাহ চিহ্নিত করা এবং বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পদ্ধতিসমুহ জেনে ও অনুশীলন করে সৃজনশীল উপায়ে কল্যাণকর সমাধানে সচেষ্ট হওয়া ।
তথ্য, যোগাযোগ ও বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির অব্যাহত বিকাশ সম্পর্কে অবহিত থাকা, নিত্যনতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানাক্ষেত্রে এর নিরাপদ, ইতিবাচক, কার্যকর ও যথাযথ ব্যবহারে সক্ষম হওয়া ।
১. প্রকৃতি, পরিবেশ, জলবায়ু ইত্যাদির গুরুত্ব ও আন্তঃসম্পর্ক বুঝে মানবসমাজ ও বাস্তুসংস্থান টিকিয়ে রাখায় এগুলোর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারা এবং প্রকৃতি ও পরিবেশকে ভালোবাসতে পারা।
২. প্রকৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ু দূষণের কারণ ও প্রতিকার, দুর্যোগ, পরিবেশের প্রতিকূলতা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে জেনে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে পারা
৩. টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ, পরিমিত ও পুনঃ ব্যবহার করতে পারা
১. জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, সংস্কৃতি, লিঙ্গ, আর্থ-সামাজিক অবস্থান, সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য্যর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সম্প্রীতিবোধে উদ্দীপ্ত হওয়া এবং ব্যক্তিগত জীবনে তা চর্চা করা।
২. মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জেনে এম চেতলায় দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধে উদ্দীপ্ত হওয়া এবং নিজের দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে পারিবারিক , সামাজিক ও রাষ্ট্ৰীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সমিয় অংশগ্রহণ করা ।
৩. বাংলাদেশের ভৌগোলিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশ এবং এর আন্ত-সম্পর্ক বুঝতে পারা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল, আন্তর্জাতিকতাবোধ, বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও বিশ্ব সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
১. ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে উদ্ধৃত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতাসহ (সঠিক খাদ্যাভাস, স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, যোগাযোগ দক্ষতা অভিযোজন ক্ষমতা, নেতৃত্ব- অভিযোজন ক্ষমতা, সৃজনশীলতা, শুদ্ধাচার, আত্মব্যবস্থাপনা) নিজেকে প্রস্তুত করা।
২. সকল বৃত্তি ও পেশার গুরুত্ব সম্পর্কে জানা, সমাজ গঠনে সকলের অবদান উপলব্ধি করতে পারা ও কায়িক শ্রমের প্রতি আগ্রহী হওয়া।
৩. আর্থিক সাক্ষরতা (দৈনন্দিন হিসাব-নিকাশ, লেনদেন, সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহার, সঞ্চয়ী মনোভাব) অর্জন এবং প্রাত্যহিক জীবনে তা প্রয়োগ করতে পারা।
১. নিজ নিজ ধর্মীয় আদর্শ ও অনুশাসন অনুশীলদের মাধমে নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন কমে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ কমতে সক্ষম হওয়া।
২. নৈতিক গুণাবলি (সততা, স্বচ্ছতা, পরমতসহিষ্ণুতা, সদাচার, সহমর্মিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ) অর্জন এবং ভালো-মন্দ ও ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য করতে সক্ষম হয়ে ব্যাক্তি, পৰিবার, বিদ্যালয়ে ও সমাজে তা চর্চা করা।
৩. মানুষ-প্রকৃতি-জীবজগৎ ও পৃথিবীর প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রদর্শণ করা।
১. শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবর্তন সম্পর্কে জেনে স্বাস্থ্যবিধি (ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, শৰীরচৰ্চা লক্ষ ও সুরক্ষা ও খেলাধুলা), খাদ্য ও পুষ্টি, সাধারণ রোগ প্ৰতিকার, পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি মেনে স্বাস্থ্যসম্মত, সুরক্ষিত ও নিরাপদ জীবন যাপনে সক্ষম ও অভ্যস্থ হওয়া।
২. মানসিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবর্তন সম্পর্কে জেনে এর পরিচর্চায় (আত্মসচেতনতা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, আবেগ ব্যবস্থাপনা, সুস্থ বিনোদন চর্চা ইত্যাদি) মাধ্যমে সুস্থ, শিরাপদ, সুরক্ষিত ও আনন্দময় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন যাপনে সক্ষম ও অভ্যস্থ হওয়া।
১. ছবি আঁকা, ছড়া, কবিতা, গল্প, গান, অভিনয় ইত্যাদির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, জাতীয় ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি লালন করতে সক্ষম হওয়া।
২. চারু ও কারুকলা, সংগীত, নৃত্য, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নান্দনিকতাবোধ অর্জন করে সৃজনশীল মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশে সক্ষম হওয়া।
৩. বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্কৃতি (রূপকথা, গান, গল্প, লোকাচার, খেলা, চলচ্চিত্র উৎসব, খানাম ইত্যাদি) সম্পর্কে জানা এবং তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সহনশীল আচরণ প্রদর্শন করে লালন ও চর্চা করা ।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ (প্রাথমিক স্তর) এর রূপকল্প ও অভিলক্ষ্যসমূহের অর্জন নিশ্চিত করার জন্য দেশীয় প্রেক্ষাপট বেচনায় কিছু মূলনীতি সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। এই মূলনীতিসমূহ শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করে। মূলনীতির ভিত্তিতে শিক্ষাক্রমের মূল যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। উক্ত মূল যোগ্যতা অর্জনে যথাযথ পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য শিক্ষার্থীদের শিখনের দশটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। শিখন-ক্ষেত্র নির্বাচন করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর বিকাশের ক্ষেত্র, পূর্বে নির্ধারিত নীতি, মূল্যবোধ, মূল যোগ্যতা ও দক্ষতা, পরিস্থিতি বিশ্লেষণমূলক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল এবং জাতীয় পর্যালোচনাসমূহের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ শিখন-বিষয়গুলো বিবেচনায় আনা হয়েছে।
মোটকথা, শিক্ষাক্রমের মূলনীতি, মূল যোগ্যতা এবং শিখন ক্ষেত্র পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং তা পদ্ধতিগত উপায়ে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের দিক নির্দেশনা প্রদান করে। নিম্নোক্ত ফ্লো-চাটের মাধ্যমে জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১ (প্রাথমিক স্তর) এর রূপকল্প ও অভিলক্ষ্য, মূলনীতি, মূল যোগ্যতা ও শিখনক্ষেত্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক দেখানো হলো:
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.