Categories: ডিফল্ট

কেস স্টাডি নমুনা-০১ | পেশাগত শিক্ষা

Case Study Sample-01 | Professional Studies

কেস স্টাডি নমুনা-০১ | পেশাগত শিক্ষা

শিরোনাম:

“প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বকুল, রোল-২২ এর শিক্ষকের নির্দেশনা এবং সহপাঠীদের সাথে মিশতে না পারার কারণ অনুসন্ধান।”

নির্দেশনায়:
জনাব ————————————-
ইন্সট্রাক্টর (—————)
পিটিআই, ——————–।
উপস্থাপনায়:
মোঃ/মোছাঃ ———————————
পরিচিতি মান: ——————-
শিক্ষাবর্ষ: ————————
শিফ্‌ট: —————————
পিটিআই, —————————-।

জমাদানের শেষ তারিখ: ——————— খ্রি.।

সূচীপত্র

ক্রমিক নংবিষয়বস্তুপৃষ্ঠা নম্বর
শিক্ষার্থীর পরিচিতি
ভুমিকা
কেস স্টাডি
কেস স্টাডির বৈশিষ্ট্য
কেস স্টাডির উদ্দেশ্য
কেস স্টাডির প্রকারভেদ
কেস স্টাডির সময়কাল
কেস গ্রহনের যৌক্তিকতা
উক্ত বিষয়টি কেস স্টাডি হিসেবে গ্রহণে আমার উদ্দেশ্য
১০তথ্য সংগ্রহের উত্স
১১তথ্য সংগ্রহের উপায় সাক্ষাত্কার -০১ সাক্ষাত্কার -০২ সাক্ষাত্কার -০৩ সাক্ষাত্কার- ০৪ শিক্ষার্থী পর্যবেক্ষন চেকলিস্ট বিগত পরীক্ষার ফলাফল৫-১০
১২তথ্য উপস্থাপন শিক্ষার্থীর অভিভাবক “মা” কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যসমূহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক “আমেনা বেগম” কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য সমূহ সহপাঠী হুমায়রা ইসলামের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অফিস সহকারী/নৈশ প্রহরী “মিজান ঢালি” এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য আমার শ্রেণি কার্যক্রমে (বিষয় গণিত) বকুলের অবস্থান১১-১৩
১৩তথ্য বিশ্লেষণ শিক্ষার্থীর সমস্যার বিবরণ এবং কারণ শিক্ষার্থীর সমস্যা চিহ্নিতকরণ সৃষ্ট সমস্যার কারনের প্রভাব১৪-১৭
১৪সমস্যা সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপ অভিভাবকের করণীয় সমূহ বিদ্যালয় শিক্ষকের করণীয় SMC (স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি) এর করণীয় সমূহ১৮-১৯
১৫শিক্ষার্থী পর্যবেক্ষণ চেকলিস্ট২০
১৬নিজস্ব মতামত২১
১৭উপসংহার২২
১৮পরিশিষ্ট২৩

শিক্ষার্থীর পরিচিতি:

১. শিক্ষার্থীর নামঃ বকুল৷

২. পিতার নামঃ মোঃ হুমায়ুন ঢালি৷

৩. মাতার নামঃ নাছিমা বেগম৷

৪. বয়সঃ ৭ বছর৷

৫. ধর্মঃ ইসলাম৷

৬. নাগরিকত্বঃ বাংলাদেশী৷

৭. বর্তমান ঠিকানাঃ খাটুরিয়া, ডোমার, নীলফামারী৷

৮. স্থায়ী ঠিকানঃ ঐ৷

৯. ভাই বোনের সংখ্যাঃ নাই৷

১০. পরিবারের সদস্য সংখ্যাঃ ০৫ জন৷

১১. পরিবারের মাসিক আয়ঃ ১০ (দশ হাজার টাকা)

ভুমিকাঃ

পূর্ব খাটুরিয়া সরকাারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বকুল, রোল ২২৷ সে এই বিদ্যালয়ে ২০১৯ সালে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষা গ্রহন করে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়৷ দুরন্ত, হাসিখুশি ও প্রান চাঞ্চল্যময় বালিকা বকুল৷ পড়াশোনায় যেমন ভালো তেমনি, শ্রেণি কার্যক্রমেও ছিলো সবার থেকে এগিয়ে৷ সকলের সাথে কুশল বিনিময় ও নিজের সারাদিনের গল্পের ঝুড়ি নিয়ে শিক্ষকের সাথে গল্পকরা, পছন্দ আর অপছন্দগুলো স্পষ্টভাবে বলতে পারা একজন মুক্ত স্বাধীন পাখিরমতো ছিলো সে৷ শ্রেণি পারর্ফরমেন্স ভালো করে শিক্ষকের কাছে বায়না করে গল্প শুনতে চাওয়া বা সবাইকে নিয়ে শিক্ষকের সাথে পছন্দের খেলাটি খেলতে চাওয়া মেয়েটিই আজ সকলের কাছে অপরিচিত৷ একরাস ক্লান্তি, রাগ, ক্ষোভ, অভিমান যেনো তাকে বন্দি করে রেখেছে৷ চুপচাপ বসে থাকা, পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়া, সহপাঠীদের থেকে দূরে দূরে থাকা, আতংকিত, হীনমন্যতায় ভুগা আজ আমাদের মনে চিন্তার সৃষ্টি করেছে৷ কি ঘটেছে বকুলের জীবনে, কেনইবা এভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সে-এরকম নানাবিধ প্রশ্নের সমাধান খুঁজতে ও বকুলের জীবনের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় উক্ত সমস্যাটিকে কেস স্টাডি হিসেবে গ্রহন করছি৷

কেস স্টাডি কী?

কেস স্টাডি অন্যান্য গবেষণার মতোই নিবিড় ও ধারাবাহিক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া৷ কেস স্টাডি বলতে সাধারণ ভাবে কোন বিষয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ বা অনুসন্ধান করা বোঝায়৷ এই পর্যবেক্ষণ কোন ব্যক্তি,দল, েগাষ্ঠী বা কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কোন বিশেষ তথ্য লাভের জন্য করা হয়ে থাকে৷ শিক্ষকতা জীবনে একজন শিক্ষক শ্রেণি কক্ষে শিখন-শিখানো কাজে বৈচিত্রময় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়৷ কেস স্টাডির মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে শিক্ষার্থীর সমস্যা যেমন দূর করা, পাশাপাশি শিক্ষক নিজ পেশার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে এবং অনুচিন্তন প্রক্রিয়া সম্প্রসারিত হয়৷ একজন শিক্ষক হিসেবে পূর্ব খাটুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে পাঠদানকালে বকুল নামে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকের নির্দেশনা এবং সহপাঠীদের সাথে মিশতে না পাড়ার কারণ অনুসন্ধান করব৷

কেস স্টাডির বৈশিষ্ট্য:

১৷ কেস স্টাডি অবশ্যই একজন শিক্ষার্থী বা ব্যক্তিকে নিয়ে হবে৷

২৷ ব্যক্তিগত, সামাজিক, শারীরিক, জীবনীমূলক, পরিবেশগত বৃদ্ধিগত তথ্য থাকবে৷

৩৷ নির্ভূল তথ্য থাকবে৷

৪৷ নিদিষ্ট কোন সমস্যা নির্ভর হবে৷

৫৷ সকল দিক, দুর্বল/উন্নয়নের দিকগুলো থাকবে৷

৬৷ সমস্যা ও সমস্যার উত্স চিহ্নিত করা থাকবে৷

৭৷ একজন ব্যক্তি বা শিক্ষার্থীর যাবতীয় দিকগুলো থাকবে৷

৮৷ আদর্শমানের সাথে তুলনাকৃত তথ্যসমূহ থাকবে৷

৯৷ কোন একক ঘটনা গভীরভাবে বিশ্লেষন করা৷

১০৷ সম্ভাব্য সবরকম উত্স থেকে তথ্য সংগ্রহ করা৷

কেস স্টাডির উদ্দেশ্য:

১৷ কেস স্টাডির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীর উন্নত অভিযোজন৷

২৷ শিক্ষর্থীর সামগ্রিক বিকাশকে সার্থক করে তোলা৷

৩৷ শিক্ষার্থীর সমস্যা জেনে ব্যক্তিগতভাবে পরামর্শ প্রদান বা সমস্যা সমাধান করা৷

৪৷ প্রত্যেকের সমস্যা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা এবং আলাদাভাবে সমাধান করা৷

৫৷ কেস স্টাডি করে শিক্ষার্থীর ঝরে পরা কমানো৷

৬৷ সমস্যাগ্রস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য কেস স্টাডি করা৷

কেস স্টাডির প্রকারভেদ:

কেস স্টাডি প্রধানত চার প্রকার৷ যথা:

১. বর্ণনামূলক কেস স্টাডি (ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, ঘটনা, ইভেন্টের বর্ণনামূলক কেস স্টাডি)

২. অনুসন্ধনী কেস স্টাডি (জরিপ)৷

৩. সংশ্লেষক কেস স্টাডি (সমষ্টিগত তথ্যের তুলনা)

৪. সমালোচক কেস স্টাডি (কারন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এবং এর ফলাফলের কারণে ফলাফলের পরীক্ষা করে৷

কেস স্টাডির সময়কাল:

কেস গ্রহনের তারিখঃ ০১/০৮/২০২০ ইং৷

কেস সমাপ্তির তারিখঃ ২৫/০৯/২০২০ ইং৷

কেস গ্রহণের যৌক্তিকতা:

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বকুল, রোল ২২৷ সে ছিলো প্রানচাঞ্চল্য একজন শিক্ষার্থী৷ প্রথম শ্রেণিতে উঠার পর থেকে তার আচরনে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করি৷ প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় তার স্থান হয় পঁচিশ৷ বকুলের ফলাফলের এই ক্রমাগত হ্রাসের কোন কারন খুজে না পেয়ে তার মায়ের কাছে থেকেও তেমন কোন সন্তোষজনক উত্তর পাইনি৷ বকুলের শ্রেণি পারফমেন্স দিন দিন খারাপ হতে থাকে এবং ওর আচরনে  ও ভয়ভীতি লক্ষ্য করি৷ বাড়ীর কাজ না আনার কারন জিজ্ঞেস করতে সে জানায় তার গৃহ শিক্ষক (ফুফু) পড়ার কারনে শ্রেণি পাঠ সে আয়ত্ব করতে পারেনি৷ তাকে বিদ্যালয়ের পড়া আগে শেখার কথা বলে জানতে পারি তাকে গৃহশিক্ষকের পড়ার জন্য অনেক মারধর করা হয় এবং গৃহশিক্ষকের এই আচরনে বকুলের মাও একমত পোষন করেন৷ কিন্তু এই পরিবেশের জন্য বকুলের শারীরিক ও মানসিক যে ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, তা তার পরিবার বুঝতে না পারলেও, আমি উপলদ্ধি করতে পারছি৷ বকুলের জন্য একটি নিরাপদ ও ভয়ভীতিহীন পড়াশোনার পরিবেশ গঠনের জন্য আমি এ বিষয়টিকে কেস স্টাডি হিসেবে গ্রহণ করি৷

উক্ত বিষয়টি কেস স্টাডি হিসেবে গ্রহণে আমার উদ্দেশ্য:

  • শিক্ষার্থীর জন্য সৃষ্ট সমস্যার কারন জানা এবং চেষ্টা করা৷
  • শিক্ষকের নির্দেশনা না মানার কারন অনুসন্ধান৷
  • সহপাঠীদের সাথে না মিশার কারন অনুসন্ধান৷

তথ্য সংগ্রহের উৎস:

১. বিদ্যালয়ের শিক্ষক৷

২. সহপাঠী৷

৩. পরিবার৷

৪. প্রতিবেশি৷

৫. শিক্ষার্থীর আত্মীয়স্বজন

৬. উপরের/নিচের শ্রেণির শিক্ষার্থী৷

৭. অফিস সহকারি৷

৮. হাজিরা খাতা৷

৯. বিগত পরীক্ষার ফলাফল৷

১০. বেইজলাইন মূল্যায়ন৷

১১. গৃহ শিক্ষক (যদি থাকে)৷

তথ্য সংগ্রহের উপায়:

১৷ সাক্ষাৎকার:

  • অভিভাবেকর সাক্ষাৎকার৷
  • শ্রেণি শিক্ষকের সাক্ষাৎকার৷
  • সহপাঠীর সাক্ষাৎকার৷
  • অফিস সহকারি৷

২৷ শিক্ষার্থী পর্যাবেক্ষণ চেকলিস্ট৷

৩৷ বিগত পরীক্ষার ফলাফল৷

৪৷ হাজিরা খাতা৷

সাক্ষাৎকার- ০১

অভিভাবক- মা

নামঃ নাছিমা বেগম৷

পেশাঃ গৃহিণী।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন৷ কিন্তু কোন সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন নি৷

১) বকুলের পড়াশোনায় পিছিয়ে পরার কারণ কী ?

  • বকুল মোটেও পড়াশোনা করতে চায়না৷
  • যা সে পড়ে তা সে ভুলে যায় (ইচ্ছে করে মনে রাখে না)৷
  • সারাদিন চুপচাপ থাকে৷
  • মনোযোগের অভাবে পরীক্ষার খাতায় ভুল করে৷
  • গৃহশিক্ষকের কথা শোনে না৷
  • কয়েক মাস যাবত ঘন ঘন অসুস্থ্য হয়ে পরে৷

২) পড়াশোনায় ভালো ফলাফলের জন্য বাড়িতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন ?

  • গৃহ শিক্ষক (ফুফু) কে দিয়ে দু’লো পড়ান৷
  • দুষ্টামি কমানোর জন্য বেশি বেশি লিখতে দেন৷
  • খেলাধুলা কমিয়ে দিয়েছেন কারন, দুর্বলতার কারনে পড়ার সময় ঘুমিয়ে পড়ে৷
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে বকুলের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন৷

সাক্ষাৎকার- ০২

বিদ্যালয়ের শিক্ষকঃ

শিক্ষকের নামঃ আমেনা বেগম৷

বিষয়ঃ বাংলা

১) বকুল কি আপনার বিষয়ে নিয়মিত বাড়ির কাজ আনে ?

  • প্রথম শ্রেণিতে উঠার পর প্রথম কিছুদিন এনেছিলো৷ এখন নিয়মিতই বাড়ির কাজ ছাড়াই থাকে৷

২) বাড়ির কাজ না আনার কারন কি ?

  • বকুল বলেছে, তার গৃহশিক্ষকের পড়া অনেক বেশি থাকে৷ বই পড়া শেষ করে বিদ্যালয়ের পড়া প্রস্তুত করার সময় সে পায়না৷ আর যেহেতু বিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য কোন শাস্তি দেয়া হয় না৷ সে কারনেও পড়া পরেও আসেনা৷ গৃহ শিক্ষকের শাস্তির ভয়ে বাড়ির পড়াই সে পড়ে৷

৩) আপনার বিষয়ে বকুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল কি এবং এ ধরনের ফলাফলের কারন কি ?

  • ফলাফলঃ বাংলা- ৫৮

কারণ:

  • বাংলা লিখাতে ভুলের পরিমান বেশি৷
  • প্রশ্নের উত্তর ভুল লিখেছে৷
  • বাংলাতে কাটাকাটির পরিমান বেড়ে গেছে৷

৪) বকুলের আচরনে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন ?

বকুলের পরিবর্তন সমূহঃ

  • পড়াশোনার ব্যাপারে আতংকিত থাকে৷
  • শিক্ষকের নির্দেশনা মানে না৷
  • মা-কে অনেক ভয় পায়৷
  • শ্রেণিপাঠে উত্সাহ বা চাঞ্চল্য কম৷
  • পড়া বুঝতে সময় বেশি লাগে, না বুঝলেও প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেনা৷
  • সহপাঠীদের সাথেও মিশেনা৷

সাক্ষাৎকার- ০৩

সহপাঠীঃ

নামঃ হুমায়রা ইসলাম৷

রোল নংঃ ০১৷

হুমায়রা, কেমন আছো?

আদাব, স্যার৷ আমি ভাল আছি, আপনি কেমন আছেন?

আমি ও ভালো আছি৷ তোমার বিদ্যালয়ে আসতে কেমন লাগে?

হুমায়রাঃ আমার অনেক ভালো লাগে স্যার, সবার সাথে দেখা হয়, খেলতে পারি, পড়াশোনা করি৷

বকুলও তোমাদের সাথে খেলাধুলা করে?

হুমায়রাঃ না স্যার, বকুল আমাদের সাথে এখন আর খেলে না, চুপচাপ বসে থাকে, কথাও বলে না৷

বকুল তোমার বান্ধবী না?

হুমায়রাঃ শিশু শ্রেনীতে বকুল আমার বান্ধবী ছিলো, এখন আর সে আমার সাথে কথা বলেনা৷ ঘরের মধ্যে থাকে সারাদিন, ওর মাও বলছে ওকে খেলতে ডাক না দিতে৷

ধন্যবাদ হুমায়রা, তোমার মাথার ক্লিপটাতো অনেক সুন্দর৷

হুমায়রাঃ আপনাকেও ধন্যবাদ, স্যার৷

সাক্ষাৎকার – ০৪

অফিস সহকারি (নৈশ প্রহরি)

নামঃ মোঃ মিজান৷

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এস.এস.সি৷

আদাব, মিজান ভাই৷ কেমন আছেন ?

মিজানঃ আদাব স্যার৷ আমি ভালো আছি৷

প্রথম শ্রেণির বকুল আক্তার আপনার কি হয় ?

মিজানঃ আমার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে৷

আপনি কি বকুলের আচরণে কোন ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন ?

মিজানঃ জ্বি, স্যার৷ বকুল দিন দিন বেভোলা বা বিষন্ন হয়ে যাচ্ছে৷ কোন কিছুই মনে থাকেনা তার৷ বুদ্ধি করে কোন কাজ করতে পারেনা৷ আর এখনতো শারীরিক ভাবেও অসুস্থ থাকে৷ কয়দিন পর পর ডাক্তারের কাছে নেয়া লাগে৷

বকুল কি আগে থেকেই এ রকম ছিলো ?

মিজানঃ না, স্যার৷ কয়েক মাস যাবত ওর আচরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে৷

বকুলের এরূপ আচরণগত পরিবর্তনের কারণ কি ?

মিজানঃ বকুলের প্রতি অতিরিক্ত শাসন আর মারধরের কারনে সে বেভোলা হয়ে যাচ্ছে৷ বকুলের মা সারাদিন সিরিয়াল দেখে আর মেয়ের পড়াশোনা নিয়া সবার সাথে হিংসা করে, মেয়েটারে এমন বানাইতাছে, এ কারণেও বকুল অসুস্থ্য থাকে৷

ধন্যবাদ, মিজান৷

শিক্ষার্থীর পর্যবেক্ষণ চেকলিস্ট:

ক্রমিক নম্বরপ্রশ্নউত্তর
শিক্ষার্থীর ওজন কত?২০ কেজি
উচ্চতা কত?  ৩ ফুট
প্রানচাঞ্চল্যতা কেমন?  সবসময় বিষন্ন থাকে৷
শ্রেনী পারফরমেন্স কেমন?  সন্তোষজনক নয়৷
শেখার আগ্রহ কেমন?  নেই বললেই চলে৷
পাঠ সংশ্লিষ্ট বাড়ির কাজ করে কিনা?  একেবারে করে না৷  
সহপাঠীদের সাথে আচরন কেমন?  মিশতে চায় না৷
শিক্ষকের সাথে আচরন কেমন?  নির্দেশনা একদম মানতে চায় না৷
খেলাধুলায় অংশগ্রহন করে কিনা?  না৷
১০বিষয় ভিক্তিক পারফমেন্স কেমন?  সন্তোষজনক নয়৷

বিগত পরীক্ষার ফলাফল:

১) প্রাক-প্রাথমিক শ্রেনীর ফলাফল- ২০১৯ ইং৷

২) প্রথম শ্রেনীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল৷

৩) হাজিরা খাতার উপস্থিতি৷

১) প্রাক-প্রাথমকি শ্রেনী ফলাফল-২০১৯ ইং:

মাসজানুয়ারি-এপ্রিলমে-আগষ্টসেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর
মোট মূল্যয়ন সূচক ১৫ টি“গ” উন্নয়নের প্রয়োজন“খ” মোটামুটি“ক” ভালো

২) ১ম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল:

বিষয়ের নামবাংলাইংরেজিগণিতপ:প: ও  বিজ্ঞানধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাশা: শিক্ষাচারু ও কারুশতকরা
 ৫৮৪৬৪০১২১৫১০১০৪৮%

৩) হাজিরা খাতার উপস্থিতি:

(জানুয়ারি- জুলাই)-২০২০ ইংঃ – 

মাসজানুয়ারিফেব্রুয়ারিমার্চএপ্রিলমেজুনজুলাই
উপস্থিতির শতকরা হার৯০%৮৫%৮০%৭৮%৭৫%৭২%৭০%

তথ্য উপস্থাপন:

সংগৃহিত তথ্য উপস্থাপন:

১) শিক্ষার্থীর অভিভাবক “মা” কর্তৃক প্রদত্ত তথ্যসমূহ:

(ক) বকুল পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার কারণ:

  • বকুল মোটেও পড়াশোনা করতে চায়না৷
  • যা সে পারে তা সে ভুলে যায় (ইচ্ছে করে মনে রাখেনা)
  • সারাদিন চুপচাপ থাকে৷
  • মনোযোগের অভাবে পরীক্ষার খাতায় ভুল করে৷
  • গৃহশিক্ষকের কথা শোনে না৷
  • কয়েক মাস যাবত্ ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পরে৷

(খ) ভালো ফলাফলের জন্য বাড়িতে গৃহিত পদক্ষেপ সমূহঃ –

  • গৃহ শিক্ষক (ফুফু) কে দিয়ে দুইবেলা পড়ানো৷
  • দুষ্টামি কমানোর জন্য বেশি বেশি লিখতে দেওয়া৷
  • খেলাধুলার পরিমান কমিয়ে দিয়েছেন, কারণ-দুর্বলতার কারনে পড়ার সময় ঘুমিয়ে পরে৷
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে বকুলের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন৷

২) বিদ্যালয়ের  শিক্ষক “আমেনা বেগম” কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য সমূহ:

  • বকুল প্রথম শ্রেণিতে উঠার পর প্রথম কিছুদিন বাংলা বিষয়ে বাড়ির কাজ নিয়ে আসলেও এখন আর বাড়ীর কাজ নিয়ে আসেনা৷
  • এর কারন হিসেবে তিনি জানতে পারেন বকুলের গৃহশিক্ষিকার পড়া অনেক থাকে৷ বাড়ির পড়াশোনা বিদ্যালয়ের পরা প্রস্তুত সময় সে পায়না৷ আর যেহেতু বিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য কোন প্রকার শাাস্তি দেয়া হয়না৷ সে কারনেও সে পড়াও পড়ে আসে না৷ গৃহ শিক্ষকরে শাস্তির ভয়ে বাড়ির পড়াই সে পড়ে৷

বকুলের আচরণে যেসকল পরিবর্তর লক্ষ্য করেন:

  • পড়াশোনার ব্যাপারে আতঙ্কিত থাকে৷
  • মা-কে অনেক ভয় পায়৷
  • শ্রেণিপাঠে উত্সাহ বা চাঞ্চল্য কম৷
  • পড়া বুঝতে সময় বেশি লাগে, না বুঝলেও প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেনা৷
  • সহপাঠীদের সাথে মিশেনা৷

৩) সহপাঠী হুমায়রা ইসলামের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য:

  • বকুলতার সহপাঠী/বান্ধবীদের সাথে খেলাধুলা করে না৷
  • শ্রেণিতে বকুল চুপচাপ বসে থাকে৷
  • সহপাঠীদের সাথে স্বাভাবিক আচরন করে না৷
  • বাড়িতেও সে তেমন খেলাধুলা করেনা৷
  • মায়ের নির্দেশে সারাক্ষণ ঘরেই থাকে৷
  • বকুলের মা বকুলকে কারো সাথে তেমন মিশতে দেয়না৷

৪) অফিস সহকারী/নৈস প্রহরী “মিজান ঢালি” এর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য:

  • বকুল দিন দিন বেভোলা (বিষন্ন) হয়ে যাচ্ছে৷
  • কোন কিছু তার মনে থাকেনা৷
  • বুদ্ধিকরে কোন কাজ আর আগের মতো করতে পারছে না৷
  • বেশি ভাগ সময়ই অসুস্থ থাকে৷

বকুলের আচরণের পরিবর্তনের  কারণ:

  • বকুলের উপর অতিরিক্ত শাসন ও মারধর করা৷
  • নিয়মিত খেলাধুলা করতে না দেওয়া৷
  • বকুলের পড়াশোনা নিয়ে অন্য বাচ্চাদের সাথে প্রতিযোগিতা৷
  • সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞানের অভাব৷
  • উপযুক্ত গৃহশিক্ষকের অভাব৷

৫) আমার শ্রেণি কার্যক্রমে (বিষয় গণিত) বকুলের অবস্থান:

  • সদা হাস্যেজ্জল ও প্রানবন্ত আচরনের অনুপস্থিতি৷
  • নিজের বিশেষ কোন কথা বা ঘটনা আমার সাথে শেয়ার করে না৷
  • আমাকে মজার মজার কমপ্লিমেন্ট গুলো না দেয়া৷
  • বকুলের পছন্দের খেলাটি খেলতে পূর্বেরমত বায়না না করা৷
  • বেশিরভাগ সময়ই গণিত পড়া বুঝতে না পারা, প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে না৷
  • পূর্ব শ্রেণির ধারনাগুলো এলোমেলো করে ফেলা৷
  • গণিত কয়েকবার চেষ্টা করে না পারলে তার আচরনে বিরক্তি ভাব চলে আসে৷
  • অন্যের সহযোগিতা গ্রহন করেনা৷
  • অন্যের পাঠে সহযোগিতাও করেনা৷
  • পাঠে ভুল নির্ণয় করলে বকুল আতঙ্কিত হয়ে পরে৷
  • কোন বিষয়ে মতামত প্রদানে তার অনিহা৷
  • বাড়ীর কাজ পাঠ-সংশ্লিষ্ট নিয়ে না আসা৷
  • শ্রেণিতে পড়া সংশ্লিষ্ট নিয়ে না আসা৷
  • বকুল তার মাকে ভিষন ভয় পায়৷
  • হঠাত্ অন্যমনস্ক হয়ে যাওয়া৷
  • বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতির পরিমান বাড়ছে (অসুস্থ্যতাজনিত)৷
  • পরীক্ষার ফলাফলে বকুলের ক্রমহ্রাসমান অবস্থা৷

৬) বকুলের সার্বিক পরিবর্তনে আমার নিজস্ব মতামতঃ –

  • বকুলের স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি, উচ্চতা ও বয়সের সাথে ওজনের তারতম্য৷
  • প্রানবন্ত ও হাসিখুশি শিশু থেকে প্রানচঞ্চল্যহীন শিশুতে পরিনত হচ্ছে৷
  • শ্রেনী পাঠে তার পারফমেন্স দিন দিন খারাপ হচ্ছে৷
  • শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে৷
  • পাঠ সংশ্লিষ্ট বাড়ির কাজ তেমন করেনা৷
  • সহপাঠীদের সাথে পূর্বের মতো মিশতে পারছেনা৷
  • শিক্ষকদের সাথে মত বিনিময়ে আতঙ্কিত থাকে৷
  • খেলাধুলায় অংশগ্রহনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে৷
  • ছোটদের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে৷

৭) পড়াশোনায় তার দৃশ্যমান অবনতি সমূহঃ –

  • বাংলাঃ সাধারন বানানে ভুলের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে৷
  • ইংরেজিঃ বানানে ভুল ও প্রশ্ন না বুঝে উত্তর করা/লিখা৷
  • গণিতঃ পূর্ব ধারনার প্রয়োগ ঘটাতে পারছেনা৷
  • প্রাথমিক বিজ্ঞানঃ সৃজনশীল উত্তর প্রদানে হীণমন্যতা বাড়ছে৷
  • ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষাঃ বাস্তবে প্রয়োগ ঘটাতে পারছে না৷
  • শারীরিক শিক্ষাঃ অংশগ্রহন মূলক কাজে পিছিয়ে পরছে৷
  • চারু ও কারুঃ অনাগ্রহ বেশি৷

তথ্য-বিশ্লেষণ:

বকুলের প্রথম শ্রেণিতে রোল নং ছিলো-২২, যা ছিলো খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা৷ কিন্তু বকুলের মা এর কিছু ভুল ধারণা এবং চিন্তাধারার কারনে একটি স্বাভাবিক ঘটনা বকুলের জীবনে অস্বাভাবিক ভাবে ধরা দেয়৷ বাড়িতে বকুলের পড়াশোনায় কিছু অসচেতনমূলক পরিবর্তন আনা হয়৷ পরবর্তীতে যা শুধুমাত্র বকুলের পড়াশোনাকেই ক্ষতিগ্রস্থ করছে তা নয় সাথে সাথে ক্ষতি সাধন করছে তার শরীর ও মনের৷

পরিবর্তন সমূহসৃষ্ট প্রভাবসমূহ
নিদিষ্ট সিলেবাসের বাহিরে অতিরিক্ত পাঠদানশিশুর স্বাভাবিক ধারনক্ষমতা ব্যবহত হতে থাকে, ভুলের মাত্রা বাড়ে৷
বিদ্যালয় এবং বাড়িতে দুটি ভিন্ন পাঠদান পদ্ধতির প্রয়োগদুই ধরনের পাঠের কারনে শিশুর মনে প্রভাব পরে৷ ও পড়া ভুলে যেতো৷
শিশুর স্বাভাবিক আচরনকে ভুলে ব্যাখ্যা প্রদান করে শাসন করাশেখার আগ্রহ কমে গেছে, সৃজনশীলতা ও বাস্তব প্রয়োগ ব্যহত হয়েছে৷
পাঠকে কার্যকারী করতে ভয়ভীতি প্রদান করা৷ভয়ভীতির কারনে ফলাফল ক্রমহ্রাসমান হতে থাকে৷
অদক্ষ ব্যক্তি দ্বারা পাঠদান পরিচালনাপাঠের সুফল ব্যহত হয়েছে৷
অসচেতন অভিভাবকশিশুমনে একটি নৈতিবাচক প্রতিযোগিতার স্বীকার হয়েছে৷

আচরনের নৈতিক পরিবর্তন:

১) অতিরিক্ত পড়াশোনা:

  • শিশুদের বিষন্নতা তৈরি করা৷
  • অমনোযোগিতা, ভুলে যাওয়া৷
  • জানার আগ্রহ নষ্ট করে ফেলছে৷

২) অতিরিক্ত শাসন/মারধর:               

  • শিশুদের ভয়ভীতি তৈরি করে যার কারনে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যহত হয়ে পরে৷

৩) খেলাধুলা বন্ধ করে দেওয়া:         

  • শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাও করবে৷
  • এ দুইয়ের মাঝেই শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ বিদ্যমান যা ব্যহত হয়৷
  • শিশুর শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে৷

৪) শিশুর বৈশিষ্ট্য না বুঝে নিজের মতামত চাপিয়ে  দেয়া:

  • শিশু তার স্বাভাবিকতা হারিয়ে ফেলে চুপচাপ হয়ে পরে ও হীনমন্যতায় ভুগতে থাকে ৷
  • একাকি থাকতে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করে৷
  • অন্যদের সাথে মিশতে পারেনা৷

পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষন পূর্বক তথ্য:

১) প্রাক-প্রাথমকি শ্রেনী ফলাফল- ২০১৯ ইং:

মাসজানুয়ারি-এপ্রিলমে-আগষ্টসেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর
মোট মূল্যয়ন সূচক ১৫ টি“গ” উন্নয়নের প্রয়োজন“খ” মোটামুটি“ক” ভালো
  • প্রাক-প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিক্তিতে বকুলের প্রথম শ্রেণিতে রোল নম্বর হয় ২২৷

২) প্রথম শ্রেণির প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল- ২০২০:

পরীক্ষার নাম১ম সাময়িক
প্রাপ্ত মোট নম্বরের শতকরা হার৪৮%
  • প্রথম শ্রেণির প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বকুলের অবস্থান হয়- ২৫৷

৩) হাজিরা খাতা তথ্য বিশ্লেষণঃ –

হাজিরা খাতা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গড় উপস্থিতি শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক বিষন্নতার কারনে দিন দিন ক্রমহ্রাসমান৷

  • জুলাই মাসে বকুলের সর্বনিম্ন গড় হাজিরা ৭০%৷

শিক্ষার্থীর সমস্যার বিবরন এবং কারণ:

সমস্যার বিবরণকারণ
সকল বিষয়ে বাড়ীর কাজ করে না আসা৷গৃহশিক্ষক কর্তৃক অতিরিক্ত সিলেবাস বহির্ভূত পড়াশোনা৷
বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পড়া ভালো ভাবে শিখে না আসা৷গৃহশিক্ষকের শাস্তির ভয়ে বাড়ির পড়াশোনাকে বেশি প্রধান্য দেয়া৷
পড়াশোনায় দক্ষতা কমে যাওয়া ও ভুলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া৷শিশুকে দুই ধরনের পাঠদান প্রক্রিয়ার মধ্যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে৷
সব সময় ভয়ভীত হয়ে থাকা৷বাড়ির পরিবেশ শিশুমনে মনে ভয়ের কারন৷
পড়াশোনায় আগ্রহহীনতা৷স্বাভাবিকের অতিরিক্ত পড়াশোনা করানোর চেষ্টা আগ্রহ নষ্ট করে দিচ্ছে৷
সহপাঠী ও ছোটদের সাথে অসন্তুষ্ট আচরন করা৷অতিরিক্ত শাসন শিশুমন কে জেদি ও রুক্ষ করে তুলছে৷
খেলাধুলায় অনিহা৷অতিরিক্ত মানসিক চাপ৷
মতামত প্রকাশে হীনমন্যতা৷ভুল বলার কারনে শাস্তির ভয়৷
সৃজনশীলতা অবহেলিত হচ্ছে৷শিশুর ইচ্ছাকে বাড়তি প্রধান্য না দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে৷
শারীরিক অসুস্থতাশিশু বান্ধব পরিবেশের অভাব৷

শিক্ষার্থীর সমস্যা চিহ্নিতকরণ:

  • শিক্ষার্থীর মায়ের গোরামির কারনে, তিনি বকুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় সামান্য রোল পিছিয়ে পড়াকে মেনে নিতে পারেন নি৷
  • শিক্ষার্থী তার পড়াশোনার বিষয়ে তার মায়ের নেতিবাচক ভাবনার স্বীকার৷
  • শিক্ষর্থীকে বাড়িতে পড়াশোনার ব্যাপারে অত্যাধিক চাপ প্রয়োগ করা হয়৷
  • নির্দিষ্ট সিলেবাসের বাইরের অতিরিক্ত পড়া তাকে বাড়িতে পড়ানো হয়৷
  • শিক্ষার্থীকে খেলাধুলার তেমন সুযোগ প্রদান করানো হয়৷ যার মধ্যে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ও প্রভাব সম্পর্কে নূন্যতম ধারনা নেই বলে আমার মনে হয়৷
  • বাড়িতে অদক্ষ গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে পাঠদান করানো হয়, যার মধ্যে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ও প্রভাব সম্পর্কে নূন্যতম ধারনা নেই বলে আমার মনে হয়৷
  • বিদ্যালয়ের নিয়মিত শৃঙ্খলাকে প্রাধান্য না দিয়ে মনগড়া নিয়মনীতিতে পাঠদানের জন্য৷
  • গৃহশিক্ষক কর্তৃক অত্যাধিক মারধর করা৷

সৃষ্ট সমস্যার কারনের প্রভাব:

  • চুপচাপ থাকে, রাগি/জেদি ভাব, েবভোলা/বিষন্ন ভাব, হীনমন্যতা, ভীত, প্রাণচাঞ্চল্যহীন৷
  • শিক্ষকের নির্দেশনা না মানা৷
  • সহপাঠীদের সাথে না মিশা৷
  • পড়াশোনার মান ক্রমহ্রাসমান৷
  • মানসিকভাবে ও শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা৷
  • বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা৷

সমস্যা সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপ:

অভিভাবকের করণীয়:

সর্বপ্রথম অভিভাবককে একজন সচেতন নাগরিক হওয়ার চেস্টা করতে হয়৷ পরিবর্তিত পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে নিজের জানাকে সমৃদ্ধ করতে হবে এবং দায়িত্বশীল নাগরিকের মত আচরণ করতে হবে৷ নিজে সচেতন হবেন এবং অপরকে সচেতন করতে ভূমিকা রাখবেন৷

নিজের সন্তানের জন্য করণীয়:

  • ফলাফলের সামান্য পরিবর্তনকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে হবে এবং পিছিয়ে পড়া সন্তানকে উত্সাহ প্রদানের মাধ্যমে ভালো করার চেস্টা করবেন৷
  • বিদ্যালয়ের পাঠদান প্রক্রিয়ার উপর আস্থা রাখতে হবে৷
  • বাড়িতে অতিরিক্ত পড়াশোনা চাপিয়ে দেয়া যাবে না৷
  • পড়াশোনার জন্য কোন প্রকার শাস্তি বা ভয় দেখানো যাবে না৷
  • নিজের সন্তানকে নিয়ে কোন ধরনের অনৈতিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া যাবে না৷
  • শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠাকে বাধাগ্রস্থ করা যাবে না৷
  • শিশুর ইচ্ছা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে৷
  • শিশুর নেতিবাচক জেদকে প্রাধন্য দেয়া যাবে না৷
  • নিজের শৈশব দিয়ে সন্তানের শৈশব পরিচালিত করা যাবে না৷
  • সন্তানের শারীরিক সুস্থ্যতার সাথে সাথে মানসিক সুস্থ্যতার প্রতিও যত্নবান হতে হবে৷

বিদ্যালয় শিক্ষকের করণীয়:

প্রত্যেক শিক্ষক তাদের দায়িত্ব যথাযথ ভাবেই পালন করে থাকেন৷ যেহেতু আমি বকুলের কেস স্টাডি করেছি সেহেতু বকুল সম্পর্কে তাদের অবহিত করি এবং তাদের কিছু করণীয়ঃ

  • শ্রেণি শিক্ষক বকুলের সাথে ব্যক্তিগত কথোপকথনের মাধ্যমে তার সমস্যা সম্পর্কে ধারনা লাভ করবেন এবং সম্ভাব্য সমস্যা সমাধান করবেন৷
  • শিক্ষকের প্রতি তার স্বাভাবিক আচরনে উত্সাহিত করবেন৷
  • বকুলকে পাঠ সংশ্লিষ্ট ও পাঠ বহির্ভুত প্রশ্ন করার মাধ্যমে স্বাভাবিক কথোপকথনে উত্সাহিত করবেন৷
  • বিষয়ভিত্তিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন ৷
  • দলীয়কাজে ও খেলাধুলায় অংশগ্রহন নিশ্চিত করবেন৷
  • পড়াশোনার ভুলগুলো নির্দিষ্ট করে ধরিয়ে দিবেন৷
  • সর্বোপরি যে কোন ধরনের সমস্যা নিয়ে শিক্ষকের সাথে আলোচনায় অভয় দিবেন৷

SMC (স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি) এর করণীয়:

SMC বকুলের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করি এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সাথে যেনো ভবিষ্যতে এ ধরনের কিছু না ঘটে সে বিষয়ে তাদের সহোযোগিতা চাই৷ বকুলও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের নির্দিষ্ট কিছু করণীয়ঃ

  • SMC এর অভিভাবক সদস্য কর্তৃক বকুলের অভিভাবকদের সচেতন করানো কারণ- একজন অভিভাবক অপর অভিভাবক কর্তৃক অধিক আশ্বস্ত হয়ে থাকে৷
  • বিদ্যালয়ের অন্যান্য অভিভাবকদের সচেতন করা ও শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর রাখা৷
  • মা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মতো আলোচনায় অংশগ্রহনের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করা৷
  • বিদ্যালয়ের পাঠদান কর্মসুচি ও সরকারের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সকলকে জানানো৷

আমার গৃহীত পদক্ষেপ:

  • বকুলের মায়ের সাথে যোগাযোগ রাখা এবং বাড়ির কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখা৷
  • বকুলের অভিভাবককে বকুলের পরিবর্তিত ইতিবাচক/নেতিবাচক অবস্থান সম্পর্কে জানানো৷
  • বিদ্যালয়ে বকুলের প্রতিদিনের তথ্যসমূহ আপডেট করা৷
  • গৃহ শিক্ষককে ভয় না পাওয়া এবং যে কোন ধরনের সমস্যা বকুলের মা অথবা আমাকে জানাতে বলি৷
  • সহপাঠীদের সাথে বকুলকে নতুন করে বন্ধুত্ব করিয়ে দেই৷
  • পড়াশোনার ব্যাপারে অতিরিক্ত খোঁজখবর নেই৷
  • ভুলগুলোকে ঠিক করে নেয়ার জন্য উত্সাহ বা প্রশংসা করি৷
  • অংশগ্রহনমূলক খেলাধূলায় উত্সাহিত করি৷
  • পড়াশোনায় সহপাঠীদের সহযোগিতা নিশ্চিত করি৷
  • পাঠে মনোযোগী হতে বিশেষ খেয়াল রাখি৷

ফলোআপ

শিক্ষার্থী পর্যবেক্ষণ চেকলিস্ট

পর্যবেক্ষনের সময়সীমাঃ ১০ দিন৷

ক্র: নংপর্যবেক্ষণ সূচকপর্যবেক্ষণকালীন অবস্থাপূর্বের অবস্থা
১.প্রানচাঞ্চল্যতাক্রমাগত উন্নতিক্রমহ্রাসমান
২.শ্রেণি পারফমেনন্সধীরগতির উন্নতি
৩.শেখার আগ্রহধীরগতির উন্নতি
৪.পাঠ সংশ্লিষ্ট বাড়ির কাজনিয়মিতঅনিয়মিত
৫.বিদ্যালয়ের  পড়াপড়ে আসে কিন্তু মনে থাকে না৷শিখতো না৷
৬.সহপাঠীদের সাথে আচরনস্বাভাবিক হচ্ছে৷চুপচাপ থাকা৷
৭.শিক্ষকের সাথে আচরনসম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারছে না৷আতঙ্কিত থাকা৷
৮.খেলাধুলায় অংশগ্রহণমাঝে মাঝে অংশ গ্রহণ করে৷আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে৷
৯.ছোটদের সাথে আচরনরাগ দেখায় সামান্যতেই৷রুক্ষ্য
১০.বিষয়ভিক্তিক পারফমেন্স  বাংলা – সাধারন ভুলের পরিমান ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে৷ইংরেজি – বানান ভুলের পরিমান কমছে ও শিক্ষক অতিরিক্ত সময় নিয়ে ধারনা দিচ্ছে৷গণিত- পূর্ব ধারনাগুলোর প্রয়োগ ঘটানোর চেষ্টা করে৷প:প: ও বিজ্ঞান – সৃজনশীল উত্তরে জড়তা/হীনমান্যতা রয়েছে৷ইসলাম ধর্ম – বাস্তব অভিঙ্গতা থেকে বলার চেষ্টা করে৷শারীরিক শিক্ষা- অংশগ্রহণমূলক কাজে পিছিয়ে আছে৷চারু ও কারু কলা – আগ্রহ কম৷

নিজস্ব মতামত:

শৈশবকাল সম্পূর্ণ মানব জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়৷ এ সময়টাতে একজন মানবশিশু সবকিছুর স্বাদ প্রথমবারের মত গ্রহন করে৷ এই প্রথম স্বাদ গ্রহনের উপর নির্ভর করবে শিশুর পরবর্তী পদক্ষেপ৷ আর শিশুকে এই স্বাদ গ্রহনে সাহায্য করার দায়িত্বে রয়েছে সমাজের প্রতিষ্ঠা ক্ষেত্র৷ আমরা শিশুর কাছ থেকে কি পাবো তা সম্পুর্ণ নির্ভর করে আমরা তাকে কেমন পরিবেশ দিচ্ছি তার উপর৷ অতীতে আমরা যে ধরনের পরিবেশ পরিস্থিততে বড় হয়েছি, যে ধরনের সহযোগিতা পেয়েছি প্রয়োজনীয় নয় যে, আগামীর শিশুটিও ঠিক একইভাবে বেড়ে উঠবে৷ শিশুদের মতামত কে গুরুত্ব দিতে হবে শিশুর জেদ কে নয়৷ শিশুর সর্বোপ্রথম শিক্ষা গ্রহন শুরু হয় তার পরিবারের কাছ থেকে আর পরিবারের সর্বপ্রথম শিক্ষা হলো ‘মা’৷ পোলিয়ন বোনাপার্ট এর বিখ্যাত উক্তি— “তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত জাতি দেবো”৷ আমার এ কেস স্টাডির বিষয় বস্তুর যেনো এ উক্তিটিকে বাস্তব সত্য করেছে৷ এখানে শিক্ষিত বলতে আমি পড়াশোনা জানা অসচেতন মাকে বুঝাবোনা বরং পড়াশোনা না জেনেও যদি কেউ সচেতন নাগরিকের ভূমিকা পালন করে তাকে বুঝবো৷ সে ‘মা’ হ েkিক্ষিত জাতি গড়ার কারিগর৷ বকুল ছিলো প্রান চাঞ্চল্যময় একজন শিশু৷ জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে গতিময় ছিলো তার চলাফেরা ও বেড়ে ওঠা৷ কিন্তু হঠাত্ করেই কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও ধারনার স্বীকার হয়ে বকুলের  স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়া শুরু করে৷ একজন শিক্ষক হিসেবে তার সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করেছি মাত্র৷

উপসংহার:

পূর্ব খাটুরিয়া সরকাারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বকুল, রোল ২২ এর সমস্যা নিয়ে এ কেস স্টাডিটি সম্পন্ন করা হয়৷ কয়েকটি ধারাবাহিক পর্যায় যেমনঃ ভূমিকা, কেস স্টাডি কি?, বৈশিষ্ট্য, উদ্দেশ্য, প্রকারভেদ, সময়কাল, শিক্ষার্থীর পরিচয়, কেস গ্রহনের যৌক্তিকতা, সমস্যার কারণ সমূহ, তথ্য সংগ্রহের উত্স, উপায়, উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ, শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ পূর্বক তথ্য, সমস্যার বিবরণী ও কারণ, সমাধানে গৃহীত পদক্ষেপ, কেস নিয়ে নিজস্ব মতামত ও ফলোআপ এর মাধ্যমে সম্পূর্ন কেসটি সফলভাবে পরিচালনা করে উপস্থাপন করতে পেরে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে স্বস্তি অনুভব করছি৷

পরিশিষ্ট

সাক্ষাৎকার-০১

(অভিভাবক- মা)

১. বকুলের পড়াশোনায় পিছিয়ে পরার কারণ কী ?

২. পড়াশোনায় ভালো ফলাফলের জন্য বাড়িতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ?

সাক্ষাৎকার-০২

(বিদ্যালয়ের শিক্ষক- আমেনা বেগম)

১. বকুল কি আপনার বিষয়ে নিয়মিত বাড়ির কাজ আনে ?

২. বাড়ির কাজ না আনার কারন কি ?

৩. আপনার বিষয়ে বকুলের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ফলাফল কি ? এবং এ ধরনের ফলাফলের কারন কি ?

৪. বকুলের আচরণে কোন প্রকার পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন ?

সাক্ষাৎকার-০৩

(সহপাঠী- হুমায়রা ইসলাম)

১. বকুল কি তোমাদের সাথে খেলাধুলা করে ?

২. বকুল তোমার বান্ধবী না ?

৩. বাড়িতে বকুল তোমাদের সাথে খেলাধুলা করে ?

৪. তোমার বিদ্যালয়ে আসতে কেমন লাগে ?

সাক্ষাৎকার-০৪

(অফিস সহকারি/নৈশ প্রহরি- মিজান ঢালি)

১. আপনি কি বকুলের আচরণে কোন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন ?

২. বকুল কি আগে থেকেই এ রকম ছিল ?

৩. বকুলের এরূপ আচরণগত পরিবর্তনের কারণ কী ?

আরও পোস্ট দেখুন:

ACTION RESEARCH SAMPLE-01 | Subject- ENGLISH: Title- “Finding Solution for four students of class two of ———- GPS who can’t recognize non-cursive  small letter ‘b’ and ‘d’.” দেখুন।

proshikkhon

Recent Posts

বিটিপিটি শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: ‍শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…

2 years ago

পড়তে শেখা ও পড়ে শেখা

বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…

3 years ago

Acronyms list: Used in teaching and learning

Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)

3 years ago

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…

3 years ago

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়

Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…

3 years ago

শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা

Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…

3 years ago

This website uses cookies.