নেতৃত্ব বলতে কী বুঝায়?
কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আচরণকে প্রভাবিত করার দক্ষতাকে বলা হয় নেতৃত্ব। নেতা হতেই নেতৃত্ব শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। পরিবার, সমাজ, প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ইত্যাদির মূখ্য ব্যক্তি, প্রধান ব্যক্তি, সর্দার, অগ্রনায়ক বা দলপতি কিংবা নেতা এর পরবর্তীতে আসে নেতৃত্ব। আভিধানিক অর্থে নেতৃত্ব দ্বারা ব্যক্তির অগ্রসর কিংবা অগ্রে অবস্থানের ব্যক্তিত্বকেই বোঝানো হয়। প্রকৃতপক্ষে নেতৃত্ব কোন ব্যক্তি নয়, বরং এটি একটি প্রক্রিয়ামাত্র।
কোন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কোন ব্যক্তিবর্গ, গোষ্ঠী অথবা দলকে প্রভাবিত করার দক্ষতাকে বলা হয় নেতৃত্ব। অন্যভাবে বলা যায় নেতৃত্ব বা Leadership এমন ধরণের গুণাবলি যা জনগণ, দল বা গ্রুপকে সংঘবদ্ধ করার ক্ষমতা।
অধ্যাপক জুলিয়ান এর মতে, “ নেতৃত্ব হলো দ্বিমুখী প্রভাবের সম্পর্ক।”
সি. আই বার্নাড এর মতে, “নেতৃত্ব হলো মানুষকে প্রভাবিত করার এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে তাদের দলীয় লক্ষ্য অর্জনে স্বেচ্ছায় উদ্যমী হয়।”
বেনিসের মতে, “ নেতৃত্ব হচ্ছে একটি বিশেষ প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একজন প্রতিনিধি তাঁর অধীন্থদের কাঙ্খিত আচরণে উদ্বুদ্ধ করেন।”
George R. Terry মতে, “নেতৃত্ব হলো মানুষকে প্রভাবিত করার এমন একটি প্রক্রিয়া যাতে তাদের দলীয় লক্ষ্য অর্জনে স্বেচ্ছায় উদ্যমী হয়।”
নেতৃত্বের ধরণ বা শ্রেণিবিভাগ
আধুনিক যুগে বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরণের নেতৃত্ব পরিলক্ষিত হয়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের তথ্যমতে বিভিন্ন রকমের নেতৃত্ব সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হলো:
গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব:
যখন একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন ব্যবস্থায় নেতৃবৃন্দ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয় কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধ:স্তন কর্মীবৃন্দের মত প্রকাশের সুযো থাকে তখন তাকে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব (Democratic Leadership) বলা হয়।
স্বৈরচান্ত্রিক প্রভুত্বমূলক নেতৃত্ব:
যখন একটি প্রতিষ্ঠান বা দলের সমস্ত নির্বাহী ক্ষমতা কোন একক স্বৈরাচার ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত থাকে তখন তাকে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব (Autocratic Leadership) বলা হয়।
আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব:
যখন একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অবস্থাতে দায়িত্ব অনুযায়ী কর্মবন্টন করে দেয়া থাকে, তখন তাকে আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব বলা (Formal Leadership) হয়।
অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্ব:
কোন বৃহৎ সংগঠনে অনানুষ্ঠানিক অবস্থায় যে ধরণের নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটে তখন তাকেই অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্ব (Informal Leadership) বলে।
ব্যক্তিগত নেতৃত্ব:
ব্যক্তিগত নেতৃত্ব অনেকটা প্রকৃতিগতভাবেই গড়ে ওঠে। মানব সভ্যতার সূচনালগ্নে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে স্বল্প পরিসরে যে নেতৃত্ব গড়ে ওঠেছিল তাদেরকেই ব্যক্তিগত নেতৃত্ব (Personal Leadership) বলা হয়।
আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্ব:
প্রজাতন্ত্রের মধ্য হতে যে নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটে তাদেরকেই আমলাতান্ত্রিক নেতৃত্ব (Bureaucratic Leadership) বলে।
ক্যারিসম্যাটিক নেতৃত্ব:
যে সমস্ত নেতার সহজাত মোহনীয় গুণাবলি ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জন্মগতভাবেই নিয়ে আসে তাদেরকেই ক্যারিসম্যাটিক নেতৃত্ব (Charismatic Leadership) বলে।
অবাধ নেতৃত্ব:
যে সংগঠনের নেতার অনুসারীই তার নেতৃত্বসূল আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্বত:স্ফূর্তভাবে কাজ করে থাকে (যেমন-ধর্মীয় নেতা), তাদেরকেই অবাধ নেতৃত্ব (Free Fair Leadership) বলা হয়।
নেতৃত্বের উপাদান
নেতৃত্বের দায়িত্ব বা কার্যাবলি :
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.