শোনা ও বলা দক্ষতা সমন্বিতভাবে বৃদ্ধির কৌশলসমূহ নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. গল্প বলা:
শিশুদের গল্প শোনাতে হবে। এক সময় তারা নিজেরাও গল্প বলবে। এভাবে দলে শিশুরা গল্প বলবে এবং একই গল্প বিভিন্নভাবে কখনও অভিনয় করে, কখনও নাটকীয় ভঙ্গিতে, কখনও বা কথ্য ভাষায় প্রথম পুরুষ (যেমন আমি ছিলাম দিল্লীর বাদশা, আমার মন্ত্রী ছিল অতি চালাক…) হিসেবে গল্প বলার অনুশীলন করাতে হবে। গল্প বলা ও শোনার দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গল্পটি পুনরায় বলার সময় ইচ্ছে করে নাম ভুল করে, কোনো ভুল তথ্য দিয়ে তা শিশুদের দিয়ে সঠিক নাম অথবা সঠিক তথ্য শিক্ষকের বলাতে হবে।
২. কথা বলা:
শোনা ও বলা দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিশুদের কথা বলতে দেওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে দেখা যায় শিক্ষকগণ শিশুদের কথা বলতে দেন না। সাধারণত শ্রেণিকক্ষে শিশুদের চুপ করে থাকার নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। সবাই কথা বললে যে শ্রেণিকক্ষে শোরগোল হয় তা শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে শিক্ষকগণ মনে করেন। অথচ শিশুর ভাষার প্রকৃত বিকাশ হয় একে অপরের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলার মধ্য দিয়ে।—– পৃষ্ঠায় উল্লিখিত উদাহরণ থেকে আমরা দেখেছি শিশুরা কথা বলার মধ্য দিয়ে কীভাবে তাদের চিন্তা ও ধারণাকে বিকশিত করে থাকে।
৩. শিশুর কথার মূল্য প্রদান:
শিশুকে দিয়ে কথা বলানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। প্রথমে তাকে উপলব্ধি করতে হবে শিশুরা একে অপরের সাথে কথা বললে তার ফলাফল কী হয়? দ্বিতীয়ত, শিশুদের ধারণা, মতামত, পরামর্শ, তথ্যপ্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে যথোচিত মূল্য দিতে হয়।
শিশুরা কথা বলার মাধ্যমে প্রমাণ করে যে, তারা সক্রিয়ভাবে শেখার কাজে অংশগ্রহণ করে এবং নিজেদের জ্ঞান নিজেরা বিনির্মাণ করে। এ ক্ষেত্রে শিশুদের সাবলীলভাবে কথা বলতে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের কৌতুহল নিবৃত্ত করা অথবা যেকোনো প্রশ্নের উত্তর পাওয়া ইত্যাদি বিষয়কে শিক্ষক সক্রিয়ভাবে সহায়তা দিতে পারেন।
বস্তুত, শিশুর ভাষাদক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এবং তাদের জ্ঞান লাভের প্রক্রিয়ায় শিক্ষকের ভূমিকা অর্থবহ হতে পারে যদি তারা শিশুদের সাথে একত্রে জ্ঞান লাভ তথা শিখন প্রক্রিয়ায় একত্রে কাজ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা প্রাপ্ত তথ্যের নিহিত অর্থ উপলব্ধি করতে পারে এবং সাথে সাথে তাদের অভিজ্ঞতাকে স¤প্রসারিত করতে পারে।
৪. শিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা:
শিক্ষক শিশুর শোনা ও বলার দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কিছু নির্ধারিত কাজের একজন নিবিড় সহায়ক। শিক্ষক প্রতিনিয়ত শিশুদের সাথে কথা বলবেন তাদের কথা বলানোর মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা, আবেগ, মতামত ইত্যাদি প্রকাশের সুযোগ দেবেন।
এছাড়া শিশুদের শোনা ও বলার দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে-
১.শিশুরা আত্মবিশ্বাসের সাথে কথা বলতে পারবে যদি তাদের কথা বলার ধরন অর্থাৎ কোথায় বলবে ও কখন থামবে ইত্যাদি বিষয়কে পরিপূর্ণভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
২.তারা যদি ভুল করে তাহলেও যেন তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে অর্থাৎ মনে করে ভুল তো হতেই পারে। তবে শুদ্ধ কোনটা তা তাদের জেনে নিতে হবে।
৩.ভালোভাবে কথা বলতে পারা যে পড়া ও লেখার মতোই গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়টি শিশুকে বুঝতে দিতে হবে। প্রয়োজনে তাকে ভালোভাবে কথা বলতে পারাকে যতদূর সম্ভব উৎসাহিত করতে হবে।
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.