অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ
সেশন-১.৩: প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস
উদাহরণসহ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করুন।
প্রাণীজগতের শ্রেণিবিন্যাসঃ
পৃথিবীতে অসংখ্য বিচিত্র ছোট বড় প্রাণী বাস করে। এদের মধ্যে রয়েছে নানা রকম মিল ও অমিল। এই বৈচিত্র্যময় প্রাণীকূলে রয়েছে অণুবীক্ষণিক প্রাণী, অ্যামিবা থেকে শুরু করে বিশাল আকারের তিমি। প্রাণীর বিভিন্নতা নির্ভর করে পরিবেশের বৈচিত্র্যের উপর। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও বাসস্থানে প্রাণীবৈচিত্র্য ভিন্ন রকম হয়। বিশাল এই প্রাণীজগৎ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সহজে সু-শৃঙ্খলভাবে বিশাল প্রাণীজগৎকে জানার জন্য এর বিন্যস্তকরণ প্রয়োজন, আর বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। শ্রেণিবিন্যাস প্রাণীজগৎকে জানার পথ সহজ করে দিয়েছে। প্রাণীজগতের প্রত্যেকটি প্রাণীকে দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১) অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং
২) মেরুদণ্ডী প্রাণী
১) অমেরুদণ্ডী প্রাণী:
যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড নেই তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- তেলাপোকা, কেঁচো, চিংড়ি, ঝিনুক, কাঁকড়া, মাছি ইত্যাদি।
অমেরুদণ্ডী প্রাণীর নয়টি প্রধান উপপর্ব রয়েছে। যথা- ১) পরিফেরা, ২) নিডেরিয়া, ৩) প্লাটিহেলমিন্থেস, ৪) নেমাটোডা, ৫) মোলাস্কা, ৬) অ্যানিলিডা, ৭) অর্থোপোডা, ৮) একোটাপ্রোকটা, ৯) একাইনোডার্মাটা।
২) মেরুদণ্ডী প্রাণীঃ
যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড তাছে তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- গরু, ছাগল, ঘোড়া, হাতি, বানর, সিংহ, মাছ, মানুষ ইত্যাদি।
মেরুদণ্ডী প্রাণীর ৩টি উপপর্ব ও ৫টি শ্রেণি রয়েছে।
অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে? অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখুন।
অমেরুদণ্ডী প্রাণীঃ যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড নেই তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- তেলাপোকা, কেঁচো, চিংড়ি, ঝিনুক, কাঁকড়া, মাছি ইত্যাদি ।
অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ অমেরুদণ্ডী প্রাণীর কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সাধারণত এদের-
ক) মেরুদণ্ড নেই,
খ) কোনো অন্তঃকঙ্কাল থাকে না,
গ) চোখ সরল প্রকৃতির বা পুঞ্জাক্ষী,
ঘ) হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের নয়,
ঙ) সাধারণত লেজ থাকে না।
মেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে? মেরুদণ্ডী প্রাণীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।
মেরুদণ্ডী প্রাণীঃ যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড তাছে তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- গরু, ছাগল, ঘোড়া, হাতি, বানর, সিংহ, মাছ, মানুষ ইত্যাদি।
মেরুদণ্ডী প্রাণীর কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১) মেরুদণ্ড আছে,
২) অন্তঃকঙ্কাল থাকে,
৩) হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের,
৪) পাখনা বা অয়া দুই জোড়ার অধিক হয় না,
৫) ফুস্ফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্্য চালায়,
৬) চোখ সরল প্রকৃতির,
৭) হোমিনিড গ্রুপের সদস্যসহ আরো কয়েকটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ নেই। এছাড়া অন্যান্য প্রাণীর লেজ থাকে।
মেরুদণ্ডী প্রাণীকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে? প্রত্যেকটি শ্রেণির উদাহরণসহ শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।
মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিভাগ ও তাদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ
বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১) মৎস্যকুল ২) উভচর ৩) সরীসৃপ ৪)পক্ষীকুল ৫) স্তন্যপায়ী
উদাহরণসহ প্রত্যেকটি শ্রেণির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১) মৎস্যকুলঃ
সকল মাছ এ শ্রেণিভুক্ত। এরা মিঠা ও লোনা পানিতে বাস করে। যেমন- রুই, ইলিশ, কাতল, বোয়াল, পুটি ইত্যাদি।
শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ
ক) ফুলকা আছে, ফুসফুস নেই।
খ) দেহে জোড় ও বিজোড় পাখনা আছে এবং তা দিয়ে সাঁতার কাটে।
গ) ফুলকার সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়।
ঘ) শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
ঙ) ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।
২) উভচরঃ
যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী জীবনচক্রের একটি সময় জল এবং স্থল উভয় স্থানে বাস করে তাদের উভচর প্রাণী বলে। যেমন- সোনা ব্যাঙ, গেছো ব্যাঙ, সালামন্ডার ইত্যাদি।
শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ
ক) ত্বক নগ্ন, আঁইশ, লোম, পালক কিছুই নেই।
খ) দুই জোড়া পা আছে। পায়ের আঙুলে নখ নেই।
গ) ছোট অবস্থায় ফুলকা থাকে। পরিণত ব্যাঙে ফুলকা লুপ্ত হয়ে ফুসফুস গঠিত হয়।
ঘ) ঘাড় নেই, মাথা দেহের সঙ্গে যুক্ত।
ঙ) ব্যাঙ জিহ্বা দিয়ে শিকার ধরে খাবার গিলে খায়।
চ) শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
৩) সরীসৃপঃ
যেসব প্রাণী বুকে ভর দিয়ে এবং এর পাশাপাশি আঁইশের সাহায্যে অথবা পা-এর সাহায্যেও চলে তাদেরকে সরীসৃপ বলে। যেমন- সাপ, কচ্ছপ, কুমির, টিকটিকি, গিরগিটি ইত্যাদি।
শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ
ক) এরা বুকে ভর দিয়ে চলে।
খ) এদের ত্বক আঁইশ না অন্য কোন শক্ত আবরণে ঢাকা থাকে।
গ) সাপসহ আরো কিছু সরীসৃপের পা নেই। বাকিরা পা বিশিষ্ট,এদের আঙুলে নখ থাকে।
ঘ) এরা ডিম পাড়ে। কোনো কোনো সাপ সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে।
ঙ) এরা ফুসফুস দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়।
চ) এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
৪) পক্ষীকুলঃ
যে সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর পালক আছে তাদেরকে আমরা পাখি বলি। যেমন- কাক, কোকিল, টিয়া, মুরগি, হাঁস ইত্যাদি।
শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ
ক) এদের প্রায় সবাই উড়তে পারে।
খ) দেহ পালক দিয়ে ঢাকা।
গ) মুখে শক্ত ঠোঁট আছে কিন্তু দাঁত নেই।
ঘ) দুইটি পা ও দুইটি ডানা আছে।
ঙ) ফুসফুস ও বায়ুথলি আছে।
চ) এদের বড় হাড়্গুলো ফাঁপা ও হালকা।
ছ) উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
৫) স্তন্যপায়ীঃ
যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী সন্তান প্রসব করে ও সন্তানরা মায়ের দুধ পান করে তাদেরকে স্তন্যপায়ী প্রাণী বলা হয়। যেমন- মানুষ, কুকুর, বিড়াল, ছাগল, গরু, ইঁদুর, বাদুড় ইত্যাদি।
শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ
ক) দেহে লোম থাকে।
খ) সন্তান প্রসব করে ও সন্তানেরা মায়ের দুধ পান করে।
গ) সাধারণত চতুষ্পদী তবে তিমি ও ডলফিনের মতো কারো কারো পা নেই। শুধু মানুষ দ্বিপদী।
ঘ) বহিঃকর্ণবিশিষ্ট।
ঙ) আঙুলে নখ থাকে।
চ) উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।
মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যগুলো লিখুন।
মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে পাথর্ক্য নিম্নরূপঃ
| মেরুদণ্ডী প্রাণী | অমেরুদণ্ডী প্রাণী |
| ১. এদের মেরুদণ্ড আছে। | ১. এদের মেরুদণ্ড নেই। |
| ২. অন্তঃকঙ্কাল আছে। | ২. অন্তঃকঙ্কাল নেই। |
| ৩. হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের। | ৩. হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের নয়। |
| ৪. মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। | ৪. সাধারণত লেজ থাকে না। |
| ৫. চোখ সরল প্রকৃতির। | ৫. চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যেটি পুঞ্জাক্ষি। |
| ৬. উদাহরণঃ কৈ মাছ, ব্যাঙ, কুমির, বিভিন্ন ধরনের পাখি, মানুষ ইত্যাদি। | ৬. উদাহরণঃ অ্যামিবা, কেঁচো, শামুক, মাছি ইত্যাদি। |
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.