বিজ্ঞান (পিকে)

প্রাথমিক বিজ্ঞান (পিকে); অধ্যায়-৪ অনুসন্ধানভিত্তিক শিখন

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৪: প্রাথমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষণ কৌশলসমূহ

সেশন-৪.৩: অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞান শিখন, অনুসন্ধানমূলক কাজের ধরণ ও বৈশিষ্ট্য এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানো- প্রয়োজনীয়তা, পরিচালনা

১. অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞান শিখন কী?  অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞান শিখনের গুরুত্ব আলোচনা করুন।

অনুসন্ধানকিত্তিক বিজ্ঞান শিখন:

অনুসন্ধান এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কােন একটি বিষয়, সমস্যা   ইস্যু সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন বা ঐ সমস্যার সমাধান খোঁজেন। তবে অনুসন্ধান কেবল বিজ্ঞানীরাই করেন না প্রতিটি মানুষের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অনুস্ধানের দরকার হয়, তাই প্রত্যেকরই অনুসন্ধান করার দক্ষতা অর্জন আবশ্যক।

বর্তমানে বিজ্ঞান শিখন শেখানোতে অনুসন্ধানকে ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশের প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠাপুস্তক অনুসন্ধানভিত্তিক করে তৈরি করা হয়েছে। অনুসন্ধানভিত্তিক শিখন এমন একটি শিখন প্রক্রিয়া যেখানে শিক্ষার্থীরা অনুসন্ধানের মাধ্যমে কোন কিছু সম্পর্কে নতুন ধারণা নির্মান করে। অনুসন্ধানভিত্তিক শিখন অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োগ করা গেলেও বিজ্ঞান শিক্ষণ-শিখনে এর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা বেশি।   অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞান শিখনে  শিক্ষার্থী প্রথমে  একটি বিষয় সম্পর্কে নিজে প্রশ্ন উত্থাপন করে এবং অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঐ প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন।  অনুসন্ধানভিত্তিক শিখনে নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। এগুলো হলো: 

ক) শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের কোন প্রশ্ন সমস্যার সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত হয়।

খ) শিক্ষার্থীরা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রশ্নের বিজ্ঞান ভিত্তিক ব্যাখ্যা গঠন ও মুল্যায়ন করে

গ) শিক্ষার্থী তাদের ব্যাখ্যাকে বিজ্ঞান সম্মত ব্যখ্যার সাথে তুলনা করে মূল্যায়ন করে। 

ঘ) শিক্ষার্থীরা তাদের গঠিত ব্যাখ্যাকে যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশ করে।

অনুসন্ধানভিত্তিক শিখনের গুরুত্ব:

বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান শিক্ষার মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিকভাবে সাক্ষর করে তোলা। একজন মানুষকে বৈজ্ঞানিকভাবে সাক্ষর হতে হলে তাকে তার চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু হতে হয় এবং তাকে কিছু সামর্থ্য অর্জন করতে হয়। এগুলো হলো:

ক) বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে/ইস্যুতে আলোচনায় অংশ নেয়ার সামর্থ্য।

খ) অনুসন্ধানের মাধ্যমে সমস্য সমাধানের সামর্থ্য এবং

গ) তার নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য।

উপরে উল্লেখিত সামর্থ্যগুলো অর্জনের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিজ্ঞান কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন  করতে হয় এবং তাকে অনুসন্ধানের দক্ষতা অর্জন করতে হয়। এছাড়া তাকে কিছু মূল্যবোধ যেমন অনুসদ্ধিৎসা যাচাই  প্রবণতা, খোলামনস্কতা ও পর্যবেক্ষণলব্ধ উপাত্তের উপর নির্ভরতা  অর্জন করতে হয়। বিজ্ঞান কিভাবে  কাজ সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য সর্বোত্তম উপায় অনুসন্ধান ভিত্তিক শিখন। একইভাবে অনুসন্ধানতিত্তিক শিখন অনুসন্ধান দক্ষতা ও বৈজ্ঞানিক মূল্যবোধ অর্জনের জন্য সর্বোত্তম উপায়। এছাড়া অনুসন্ধানভিত্তিক শিখনে শিক্ষাথী সক্রিয় ও নিবিড়ভাবে শেখে ফলে এর মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান অধিকর স্থায়ী হয়ে থাকে। ফলে আশা করা যায় যে, অনুসন্ধানভিত্তিক শিখনের মাধামে বিজ্ঞান শিক্ষণ শিখন পরিচালনা করলে শিক্ষার্থী যেমন বৈ্জ্ঞানিকভাবে সাক্ষর হয়ে উঠকে, তেমনি তাকে ভবিষাতে বিজ্ঞান গবেষণা বা বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট কাজে অংশ গ্রহণের জন্যও প্রস্তুত  করে তুলবে। এ লক্ষ্যে আমাদের দেশের প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক অনুসন্ধানমুলক এপ্রোচ তৈরি করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অনুসন্ধান সম্পন্ন করে বিজ্ঞানের জ্ঞান, বৈজ্ঞানিক মূল্যবোধ ও অনুসন্ধান দক্ষতা অর্জন করে।

২. অনুসন্ধানভিত্তিক শিখনের ধাপ কয়টি ও কী কী?

অনুসন্ধানভিত্তিক শিখনের ধাপসমুহ:

প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে প্রদত্ত অনুসন্ধান পুরোপুরি শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নয়। একটি প্রকৃত অনুসন্ধানে সাধারণভাবে চারটি ধাপ থাকে। ধাপগুলি নিচের চিত্রে চক্রাকারে দেখানো হলো:

৩. অনুসন্ধানমূলক কাজের ধরণ ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করুন।

অনুসন্ধানমূলক কাজের ধরণ ও বৈশিষ্ট্য:

অনুসন্ধানভিত্তিক শিক্ষণ-শিখনে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে কাজে নিয়োজিত হয়। এ ধরনের কাজ উদ্দেশ্য ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে তিন ধরনের হয়ে থাকে। এগুলো হলো:

১. উদঘাটন (Exploration),

২. শিক্ষক-নির্দেশিত অনুসন্ধান ও

৩. শিক্ষার্থী পরিকল্পিত অনুসন্ধান।

১. উদঘাটন (Exploration):

এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি অপেক্ষাকৃত কাঠামোবিহীন। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষণীয় বস্তুর সাথে খেলার সুযোগ পায় এবং এই খেলার মাধ্যমে তার কোন বিষয় সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে। এ ধরণের তথ্যানুসন্ধানে শিক্ষার্থীদেরকে শিখনের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা, তাদের কৌতুহল ও প্রশ্নকে উদ্দীপিত করা হয়। এভাবে শিক্ষার্থীরা বিষয়টির বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে সক্ষম হয়ে উঠে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, শিক্ষার্থীদেরকে যদি কিছু সংখ্যক বস্তু দিয়ে দেয়া যায় তবে তারা এগুলোকে একটি একটি করে পানিতে ডুবিয়ে বস্তুর ভাসা বা ডোবার বিষয়টি নিবিড়ভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। এর ফলে তারা কৌতুহলী হবে, প্রশ্ন করবে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

২. শিক্ষক নির্দেশিত অনুসন্ধান:

এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়াটি শিক্ষক নির্ভর হয়ে থাকে। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধাপে শিক্ষক প্রত্যক্ষ সহায়তা পায়। কীভাবে কোন বস্তু, উপাদান বা চলক পরিবর্তন করতে হবে, কীভাবে পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণ, বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য ব্যাখ্যাদান করতে হবে; এরকম প্রতিটি ধাপেই শিক্ষার্থীদের শিক্ষক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কয়েকটি নির্দিষ্ট বস্তু ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা করতে দেওয়া হলো। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের নির্দেশনা অনুসারে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে কোন ধরনের বস্তু পানিতে ভাসে তা নির্ধারণ করতে পারবে।

৩. শিক্ষার্থী পরিকল্পিত অনুসন্ধান:

এই অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকের সহায়তায় প্রদত্ত সময় ও পরিস্থিতির মধ্যে একটি অনুসন্ধানের পরিকল্পনা ও এটি সম্পন্ন করার সুযোগ পায়। এ ধরনের কাজে শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধান দক্ষতা অনুশীলনের সূযোগ থাকে এবং এটি শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও গবেষণার প্রকৃত অভিজ্ঞতা দেয়। এক্ষেত্রে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা প্রণয়ন, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের নিজেদেরই নিতে হয়। তাই শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এই কাজের স্বত্ত্বাধিকারী। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, একজন শিক্ষার্থী জানতে কৌতুহলোী হলো যে, দোঁআশ মাটি না বালি মাটিতে একটি গাছ ভাল জন্মায়? এ বিষয়টি অনুসন্ধান করতে হলে শিক্ষার্থীকে নিজেকেই একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই পরিকল্পনায় অংশ হিসাবে শিক্ষার্থী নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে সে কীভাবে এই দুই ধরনের মাটিতে গাছের বৃদ্ধির পর্যবেক্ষণ ও তথ্য লিপিবদ্ধ করবে।

৪. শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর ধারণা, প্রয়োজনীয়তা ও ক্ষেত্রসমূহের বর্ণনা দিন।

বিজ্ঞান শিক্ষা কেবলমাত্র শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালে আবদ্ধ নয়। প্রকৃতপক্ষে বিজ্ঞান হলো প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত জ্ঞান। অর্থাৎ আমরা বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করলে আমাদের আশে পাশের প্রকৃতি ও প্রকৃতিতে ঘটা ঘটনাকে বুঝতে পারি এবং ব্যাখ্যা করতে পারি।

বিজ্ঞান প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত জ্ঞান। সুতরাং প্রকৃতিই হলো বিজ্ঞানের চর্চার উৎকৃষ্ট স্থান। প্রকৃতিবাদী দার্শনিক রুশো বলেছিলেন যে শিশুদের প্রকৃতির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হোক। শিশুরা প্রকৃতি থেকে যা শিখবে তা হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দময়। কেননা এখানে শিশুরা মন খুলে নিজের মত পর্যবেক্ষণ করে, স্পর্শ করে আপনা আপনি শিখবে। আর এই শিখনটা তাদের মনে গভীরভাবে দাগ কাটবে যা সহজে ভোলার নয়।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাঙালি বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান শিক্ষাবিদ সত্যেন্দ্রনাথ বসু প্রমূখ প্রকৃতি নিয়ে বলেছেন। তারা বলেছেন যে, শিক্ষার্থীদের শিখন শেখানো কার্যক্রমকে আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ করতে হলে শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করলেই হবে না। এদেরকে মাঠে, ঘাটে, ক্ষেত খামারে ও কলকারখানায় নিয়ে ছেড়ে দিতে হবে নিজে নিজে শেখার জন্য।

আধুনিক শিক্ষাবিদরা শ্রেণিকক্ষের বাহিরে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছেন। শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানো বলতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বাইরে যে কোন স্থানকেই বোঝানো হয়ে থাকে। যেমন-

  • গ্রামীণ পরিবেশ, কৃষি ক্ষেত, বীজতলা, সবজির বাগান, ঘর-বাড়ি
  • পুকুর, খাল, বিল, হাওড়, নদী
  • পাহাড়, পর্বত, জঙ্গল, বন
  • শিল্প কারখানা যেমন- চিনিকল/পাটকল/বস্ত্র কারখানা
  • বিভিন্ন ধরণের খামার যেমন- গবাদি পশুর খামার, মুরগির খামার, মাছের খামার
  • রাসায়নিক শিল্প কারখানা, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠান
  • বিজ্ঞান জাদুঘর, নভো থিয়েটার, বোটানিকাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, নার্সারি
  • মৎস মেলা, কৃষি মেলা, বৃক্ষ মেলা ইত্যাদি শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শেখার উপযোগী স্থান।

৫. শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা:

শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞান শিখন-শেখানো কার্যক্রমকে শিখনের সামাজিক গঠনবাদ সমর্থন করে। একজন শিশু তার পরিবেশে (প্রকৃতি ও সমাজে) অভিজ্ঞতা অর্জন করে যা থেকে সে নিজের মতো করে অর্থ গঠন করে। একজন শিক্ষার্থী যখন শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তব পরিবেশে বিজ্ঞান শেখে তখন সে তার নিজস্ব পরিচিত পরিবেশে তার বিদ্যমান জ্ঞানের সাথে নতুন জ্ঞানের সংযোগ ঘটায় যার কারণে শিক্ষার্থী শিখনকে নিজের মনে করে।

সম্প্রতি পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে (Sultana and Siddique, 2014) বাংলাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মনে করেন যে, শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানো শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও পরিবেশের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে; শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের নানা বিষয় সম্পর্কে আলোচনায় অংশ নিতে সামর্থ্য অর্জন করে।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানো যেভাবে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান সাক্ষরতা বিকাশে ভূমিকা রাখে তা একটি চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো।

শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখনের সুযোগ:

আমাদের বাসস্থান থেকে শুরু করে সর্বত্রই বিজ্ঞান শেখার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান সাক্ষরতা অর্জনে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানো অন্যতম ভূমিকা রয়েছে। বিদ্যালয়ের বাইরের পৃথিবী বিজ্ঞান শেখার জন্য বিশাল এক ল্যাবরেটরি। যেমন-

  • গ্রামাঞ্চলে কৃষি ক্ষেত, বীজতলা, সবজির বাগান, পুকুর, খাল, বিল, হাওড়, নদী, জঙ্গল, বন, ঘর-বাড়ি, শিল্প কারখানা (যেমন- চিনিকল) গবাদি পশুর খামার, মুরগির খামার এ সবই বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর ভালো স্থান হতে পারে।
  • শহরাঞ্চলে রয়েছে রাসায়নিক শিল্প কারখানা, বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান জাদুঘর, নভো থিয়েটার, বোটানিকাল গার্ডেন, চিড়িয়াখানা, নার্সারি ইত্যাদি যেখানে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
  • বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা রকম বিজ্ঞান মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়ে থাকে। এরকম প্রদর্শনী ও মেলা (যেমন- মৎস মেলা, কৃষি মেলা, বৃক্ষ মেলা ইত্যাদি) শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শেখার উপযোগী স্থান।

পরিশেষে বলা যায় যে, শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন শিক্ষার্থীদের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি করে যা কৌতূহলের দরজার খুলে দেয়। কিছু প্রশ্নের উত্তর আছে, কিছু প্রশ্নের উত্তর নাই, কিছু প্রশ্ন তাকে নতুন চিন্তায় উৎসাহিত করে, কিছু প্রশ্ন তার মধ্যে আগ্রহ জাগায়। শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের প্রশ্নকে উৎসাহিত করা উচিত। তাঁদের প্রশ্নের উত্তর, যুক্তি, তাঁদের বিশ্বাসগুলো শোনা প্রয়োজন। এতে তাঁদের চিন্তার দুয়ার খুলবে।

৬. শিক্ষামূলক ভ্রমণ কী? শিক্ষামূলক ভ্রমণ কয় প্রকার ও কী কী?

বিজ্ঞান শিক্ষার জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণ খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর দ্বারা শিক্ষার্থী প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং শিক্ষা তার কাছে চিত্তাকর্ষক, সঠিক ও অর্থপূর্ণ হয়ে উঠে। বিজ্ঞান বিষয় শেখার জন্য এরূপ সফর সাধারণত কোন শিল্প কারখানা বা প্রতিষ্ঠান বা বিশেষ কোন পরিবেশে হয়ে থাকে।

শিক্ষামূলক ভ্রমণ দু’ধরনের হতে পারে। যথা:

(১) নিকটবর্তী (Field Trip) ও

(২) দূরবর্তী (Excursion)।

৭. SMILES কী? SMILES রূপরেখার কয়টি ধাপ ও কী কী?

SMILES (School-Museum Integrated Learning Experiences for Students) হচ্ছে অষ্ট্রেলিয়ায় গবেষণালব্ধ একটি রূপরেখা। এই রূপরেখাটি পরীক্ষা করে শিক্ষকেরা এটিকে ব্যবহার করছেন। এই রূপরেখায় মিউজিয়াম বলতে ঘরের ভেতরে বা বাইরের যেকোন স্থান বোঝানো হয়েছে। হতে পারে এটি একটি জাদুঘর, হতে পারে কোন উদ্যান, হতে পারে কোন কৃষিক্ষেত, হতে পারে কোন কারখানা। এ ধরনের কোন স্থান ভ্রমণকে আমরা আমাদের দেশে সাধারণত শিক্ষাসফর বা শিক্ষামূলক ভ্রমণ বলে থাকি।

SMILES রূপরেখাটি তিনটি ধাপে সংগঠিত করা হয়। ধাপ তিনটি হলো:

১. ভ্রমণের পূর্বে বিদ্যালয়ে কাজ,

২. ভ্রমণকালীন সময়ে কাজ ও

৩. ভ্রমণের পরে বিদ্যালয়ে কাজ।

proshikkhon

Share
Published by
proshikkhon

Recent Posts

বিটিপিটি শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: ‍শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…

2 years ago

পড়তে শেখা ও পড়ে শেখা

বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…

3 years ago

Acronyms list: Used in teaching and learning

Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)

3 years ago

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…

3 years ago

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়

Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…

3 years ago

শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা

Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…

3 years ago

This website uses cookies.