Categories: ডিফল্ট

ভাষাদক্ষতা অর্জন কৌশল: শোনা ও বলা দক্ষতা

Language Skills Strategies: Listening and Speaking Skills

বিদ্যালয় অথবা বিদ্যালয়ের বাইরে শিশুদের শোনা এবং বলার পারদর্শিতা অর্জন তাদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাধারণত দেখা যায় শিশুরা পড়া ও লেখার কাজে যতটা সময় ব্যয় করে তার চেয়ে অনেক সময় ব্যয় করে শোনা এবং বলার ক্ষেত্রে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিশুদের শিখন শেখানো কাজ এবং মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শোনা এবং বলা খুব জরুরি। কেননা এ পর্যায়ে শিশুরা পাঠ্যবিষয়ের চেয়ে শিক্ষকের নির্দেশনা, প্রশ্নোত্তর, ব্যাখ্যা ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে শিখে থাকে।

নিজের পৃথিবীকে উপলব্ধি এবং আবিষ্কারের সাথে শিশুর ভাষার বিকাশ ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। শুনে, অনুমান করে, প্রশ্ন করে এবং আরও নানা প্রকার ভাষাগত কাজ যা তার চারপাশের মানুষের কাছ থেকে পেয়ে থাকে তার মাধ্যমে সে অনেক কিছু শেখে। বস্তুত তার এ বয়সে সকল প্রকার শিখন নির্ভর করে তার প্রশ্ন করা, যুক্তি প্রদর্শন করা, বিভিন্ন ধারণার সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য প্রকল্প তৈরি করা ইত্যাদি সম্পর্কে সক্ষমতা লাভের উপর।

শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের সাথে তার ভাষাগত বিকাশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এ ক্ষেত্রে শোনা ও  বলা দক্ষতা বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক পর্যায়ে শিশু তার মাবাবা অথবা পরিবারের অন্য কারো ওপর তার দৈনন্দিন প্রয়োজন যথা- খাওয়া, ঘুমানো, খেলাধুলা করা ইত্যাদি বিষয়ে সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে। কিন্তু যখন তার বয়স ৩/৪ বছর হয় তখন তাকে স্বাধীনভাবে এসব দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেমন-পিপাসা অথবা ক্ষুধা লাগলে তাকে বলতে হয় ‘পানি খাব’ অথবা ‘ক্ষুধা লেগেছে ইত্যাদি। এভাবে ক্রমান্বয়ে যখন সে আরও বড় হয় তখন তাকে তার অনেক প্রয়োজন তথা অধিকার মেটানোর জন্য যুক্তি প্রদর্শন করতে হয়, চিন্তা করতে হয়, ইচ্ছা, আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা ইত্যাদির কথা বলতে হয়। এই মানসিক প্রক্রিয়া প্রকাশের জন্য শিশুকে অনেকাংশেই শোনা ও বলা দক্ষতার উপর নির্ভরশীল হতে হয়।

শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে এমন কিছু কাজ পরিকল্পনা করতে হবে যা তার শোনা ও বলার দক্ষতা বৃদ্ধি করে। যেমন- শিশুরা যেন যেকোনো কিছু শুনে তা স্বল্পতম সময়ে বুঝে সে অনুসারে তার মানসিক প্রতিক্রিয়া বলার মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। সেজন্য কোনো একটি ঘটনা বলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের মন্তব্য আহরণ করা যেতে পারে। শিশুদের শ্রুতলিপি লিখতে দিয়ে তাদের শোনা দক্ষতার উন্নয়ন ঘটানো যেতে পারে। একটি নাটিকা দেখে, গান শুনে অথবা কারো কোন বক্তব্য শুনে লিখিতভাবে অথবা মুখে বলতে দিয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশের সুযোগ দিলে তার শোনা ও বলার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এভাবে শোনা ও বলার দক্ষতা সমন্বিতভাবে চর্চা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

proshikkhon

Recent Posts

বিটিপিটি শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: ‍শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…

2 years ago

পড়তে শেখা ও পড়ে শেখা

বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…

3 years ago

Acronyms list: Used in teaching and learning

Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)

3 years ago

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…

3 years ago

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়

Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…

3 years ago

শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা

Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…

3 years ago

This website uses cookies.