অধ্যায়-৬: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিখন মূল্যায়ন (এসেসমেন্ট)
১। প্রাথমিক শিক্ষান্তরে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়,’ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের প্রয়ােজন আছে কী? যদি থাকে তবে এক্ষেত্রে কী কোনাে নির্দেশনা অনুসরণ করবেন তা আলােচনা করুন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে মূল্যায়নের গুরুত্ব বর্ণনা করুন। মুল্যায়নের সাধারণ নির্দেশনাসমূহ আলোচনা করুন।
শিখন মূল্যায়নের প্রয়ােজনীয়তা :
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের ১ম এ ২য় শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনাে পাঠ্যপুস্তক প্রনয়ন করা হয় নি। শিক্ষকের পাঠ পরিচালনায় সহায়তার জন্য আছে শিক্ষক সহায়িকা। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক রয়েছে। এই তিন শ্রেণির শিখন মূল্যায়ন হবে দুই ভাবে।
১) ধারাবাহিক মূল্যায়ন,
২) সামষ্টিক মূল্যায়ন।
এই মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্থবায়নের জন্য রয়েছে নম্বর বন্টন, মূল্যায়ন কাঠামাে, কৌশল ও টুলস।
প্রাথমিক স্তরের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমে (২০১১) শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের জন্য শ্রেণি বিষয়ভিত্তিক অর্জন উপযােগী যােগাত্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষাক্রম প্রণয়নের সময় শিক্ষার্থী শুধু বিষয়গত জ্ঞান নয়, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং মূল্যবােধ যেন অর্জন করতে পারে, সে দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষের অনুশীলন মূলত বিজ্ঞান চর্চাকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়: দক্ষতা বা দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কিত শিখন চর্চার সুযােগ নেই বললেই চলে। ফলে এই দুইটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীৱ শিখন বাধাগ্র্ত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে অনুশীলনের মাধ্যমে প্রায়ােগিক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মধ্যে যাতে সমাজিক দক্ষতা মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি বিকশিত হয় তা বিবেচনায় রেখে ধারাবাহিক মুল্যায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষক শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া চলাকালীন সংশ্লিষ্ট পাঠের শিখনফল অর্জন নিশ্চিত করবেন। সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী কী শিখেছে তা যাচাই করবেন। অর্থাৎ দুই ধরনের মুল্যায়নের মাধ্যমে পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য শিখনের গুণগত ও পরিমাণগত উভয় দিকই বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
সামাজিকীকরণের সাথে, সম্পৃক্ত বিভিন্ন ঘটনা শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করে। তার অনুসন্ধিৎসু মন অভিজ্ঞতালদ্ধ বিষয়তগুলাে সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীর মনে যে কৌতূহল এবং আগ্রহের সৃষ্টি হয়, তার মাধ্যমে সে জাতীয় এবং স্যমাজিক পরিমন্ডলের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। ফলে উন্নত জীবনযাপন ও সমাজের আগ্রগতি সাধনে শিক্ষার্থীর চিন্তন প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে, আগ্রহের ক্ষেত্র বিস্তৃত হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়ে শিখন ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে সামাজিক দক্ষতা, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশের পথ উন্মুক্ত করবে। শিক্ষকগণ যাতে শিক্ষার্থীর জন্য কার্যকর মূল্যায়নভিত্তিক পাঠ পরিচালনা করতে পারেন, সে জন্য এই মূল্যায়ন নির্দেশক বা গাইডলাইন প্রণয়ন হয়েছে। এছাড়া এই গাইডলাইন সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্যায়ন প্রয়ােগেও সহায়তা করবে।
উপরিউক্ত আলােচনা শেষে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, প্রাথমিক শিক্ষাস্তৱেব তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের প্রয়ােজন অবশ্যই আছে। আর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তক না থাকলেও বিষয়সংশ্লিষ্ট ধারণাসমূহ মূল্যায়ণ প্রয়ােজন। যদিও এ দুইটি শ্রেণিতে লিখিত মূল্যায়নের তেমন প্রয়োজন নেই, কিন্তূ মূল্যায়ন হবে মৌখিক ও কাজের মাধ্যমে।
সাধারণ নির্দেশনা :
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জনা ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের কাঠামাে রয়েছে। আমি এ কাঠামাে বা নির্দেশনা অনুসরণ করেই বাংলাদেশ ও বিশ্বপৰিচয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়ন করবো। নিচে এ সংক্রান্ত সাধারণ নির্দেশনাবলি উল্লেখ করা হলো ।
১. ধারাবাহিক মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পাঠ চলাকালীন বা পাঠ সমাপনান্তে শিক্ষার্থীর বিষয়জ্ঞান, সামাজিক দক্ষতা এবং সামাজিক মূল্যবােধ, দৃষ্টিভঙ্গি মূল্যায়ন করবাে। এক্ষেত্রে মনে রাখবাে যে, এটি কোনাে আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন নয়।
২. নম্বর বণ্টন, ধারাবাহিক মূল্যায়ন কাঠামাে এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন কাঠামাে ব্যবহার করে মূল্যায়ন করবাে।
৩. ধারাবাহিক এবং সামষ্টিক মূল্যায়নের কিছু নমুনা উদাহরণ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক হিসেবে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখে নিজে আরওকিছু প্রশ্ন তৈরি করবে।
৪. চেকলিস্ট অনুসরণ করে আমি প্রতি মাসে একবার করে প্রতি শিক্ষাবর্ষে মােট তিনবার ধারাবাহিক মূল্যায়নের রেকর্ড সংরক্ষণ করবাে।
৫. বছরে তিনটি সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি সাময়িকে ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বরের গড় সামষ্টিক মূল্যায়নের নম্বরের সাথে যোগ করবো।
৬. সামষ্টিক মূল্যায়নের নম্বরের সাথে ধারাবাহিক মূল্যায়নের প্রাপ্ত নম্বর যােগ করে চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবাে।
৭. যে সমস্ত বিষয় (নির্দেশক) বিবেচনা করে শিক্ষক শিক্ষার্থীর বিষয়জ্ঞান, সামাজিক দক্ষতা এবং সামাজিক মূল্যেবোধ দৃষ্টিভঙ্গি যাচাই করবাে, তার নমুনা দেওয়া আছে। শিখন-শেখানাে কার্যাবলিতে শিক্ষার্থীর আগ্রহ, মনােযােগ, ধৈর্য এবং স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ শিক্ষক বিবেচনা করবো
৮. পাঠকে আনন্দময় করে তুলবো এবং শিক্ষার্থীকে এমনভাবে পাঠে সম্পৃক্ত করবাে, যাতে তার শিখন স্থায়ী হয়।
৯. উল্লেখ্য, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য ৩০% এবং সামষ্ঠিক মূল্যায়নের জন্য ৭০% এবং ৫ম শ্রেণির ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য ২০% ও সামষ্টিক মূল্যায়নের জন্য ৮০% নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
২। প্রথমিক শিক্ষাস্তরে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে আপনি যে মুল্যায়ন কাঠামাে অনুসরণ করবেন তা আলােচনা করুন।
অথবা, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিৱ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’-এর মূলায়ন কাঠামাে বর্ণনা করুন।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষান্তের ১ম ও ২য় শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনাে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয় নি। শিক্ষকের পাঠ পরিচালনায় সহায়তার জন্য আছে শিক্ষক সমায়িকা। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক রয়েছে। এই তিন শ্রেণির শিখন মূল্যায়ন হবে দুই ভাবে। যথা: ১, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, ২. সামষ্টিক মূল্যায়ন ।এই মূল্যায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য রয়েছে নম্বর বন্টন, মূল্যায়ন কাঠামাে, কৌশল ও টুলস।
নিচে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের (৩য়-৫ম শ্রেণি) ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মুল্যা়য়ন কাঠামাে বর্ণিত হলাে:
ধারাবাহিক মূল্যায়ন কাঠামো :
শ্রেণিকক্ষে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি ধারাবাহিক মূল্যায়ন কাঠামাে তৈরি করা হয়েছে। বিষয় শিক্ষক এই মূল্যায়ন কাঠামাে অনুসরণ করে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পরিচালনা করবেন। ধারাবাহিক মূল্যায়ন কাঠামোতে শিক্ষক অনুশীলনের সময় কী মূল্যায়ন করবেন, কী পদ্ধতি অনুসরণ করবেন, কী টুলস বা উপকরণ ব্যবহার করবেন, এই সম্পর্কে উদাহরণসহ দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই কাঠামােতে ৫টি কলাম আছে। কলামগুলো হলাে মুল্যায়নের ক্ষেত্র, মুল্যায়নের জন্য বিবেচ্য বিষয়, মূল্যায়ন পদ্ধতি, মূল্যায়ন টুলস এবং মন্তব্য/উদাহরণ।
মূল্যায়নের ক্ষেত্র ও বিবেচ্য বিষয়:
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম অনুসরণ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য তিনটি বৃহৎ ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে, যথা- বিষয়জ্ঞান, সামাজিক দক্ষতা এবং সামাজিক মূল্যবােধ ও দৃষ্টিভঙ্গি। এই তিনটি বড় ক্ষেত্রের প্রত্যেকটিতে কী বিষয়বস্তু পাঠ করবে, কী শিখবে, তাদের শিখনের ধরন কী হবে তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে বিবেচ্য বিষয় কলামে ।
মুল্যায়ন পদ্ধতি এরং উপকরণ বা টুলস:
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জন্য তিন ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। পদ্ধতি এগুলাে হলাে, মৌখিক, লিখিত ও পর্যবেক্ষণ।
শিক্ষার্থীদের বিষয়জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য মৌখিক ও লিখিত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। সামাজিক দক্ষতা এবং সামাজিক মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি। মৌখিক পদ্ধতির মূল্যায়নে শিক্ষার্থীরা মৌখিকভাবে উত্তর দিবে। শিক্ষক মৌখিকভাবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করবেন বা কাজের নির্দেশনা দেবেন। লিখিত পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা লিখিতভাবে উত্তর করবে। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর নির্ধারিত দক্ষতা ও অাচরণ (যা শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করবে) শিক্ষক পর্যবেক্ষণ করবেন। মৌখিক ও লিখিত মূল্যায়নের জন্য শিক্ষক টুলস হিসেবে মৌখিক মূল্যায়ন চেকলিস্ট ও লিখিত মূল্যায়ন চেকলিস্ট তৈরি করে ব্যবহার করবেন। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির জন্য শিক্ষক পর্যবেক্ষণ চেকলিস্ট ব্যবহার করবেন। মূল্যায়ন কাঠামাে থেকে এই সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। অবশেষে মূল্যায়নে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা ‘মূল্যায়ন ফলাফল সংরক্ষণ ছক-এ লিপিবদ্ধ করবেন।
সামষ্টিক মূল্যায়ন কাঠামাে :
প্রত্যেক প্রান্তিকে সামষ্টিক মূল্যায়ন একবার সংঘটিত হয়। শিক্ষকগণ সামষ্টিক মূল্যায়ন কাঠামাে অনুসরণ করে সামষ্টিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করবেন। ৩য়-৫ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের একটি সামষ্টিক মূল্যায়ন কাঠামাে রয়েছে। যথারীতি এই কাঠামােতে ৫টি কলাম রয়েছে। যথা, মূল্যায়নের ক্ষেত্র, বিবেচ্য বিষয়, মূল্যায়ন পদ্ধতি, টুলস এবং মন্তব্য/উদাহরণ। ৩য়-৫ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়নের জন্য মূল্যায়ন ক্ষেত্র হিসেবে শুধু বিষয়জ্ঞান বিবেচনা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিষয়জ্ঞান মূল্যায়ন সংঘটিত হবে চার প্রকার শিখনফল বা শিখনক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে। শিখন ক্ষেত্রগুলাে হলাে- স্মরণ করা/জানা, অনুধাবন করা/বুঝতে পারা, প্রয়ােগ করা এবং উচ্চতর শিখন দক্ষতা। মূল্যায়ন পদ্ধতি হবে লিখিত এবং টুলস হিসেবে লিখিত প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে । প্রশ্নপত্র রচনা করার সময় প্রশ্ন সুনির্দিষ্টকরণ ছক অনুযায়ী বিভিন্ন শিখন ক্ষেত্র বিবেচনা করতে হবে।
৩। ৫ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপবিচয় বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়নের প্রশ্ন সুনির্দিষ্টকরণ ছক একে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রশ্নের ধরনের সাথে এ ছকে উল্লেখিত প্রশ্নের ধরনের সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য তুলে ধরুন।
সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে ৩য়-৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে শুধু বিষজ্ঞান যাচাই করা হবে। লিখিত প্রশ্নপত্রে প্রধানত তিন ধরনের প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যখা, (ক) নৈর্ব্যত্তিক, (খ) সংক্ষিপ্ত উত্তর, এবং (গ) বর্ণনামূলক প্রশ্ন।
৫ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়নের প্রশ্ন সুনির্দিষ্টকরণ ছক।
(ছক, রিসোর্স বুক, পৃষ্ঠা-২৭২ ,সারণি-৬ )
উল্লেখ্য, এই প্রশ্ন নির্দিষ্টকরণ ছকটি ৫ম শ্রেণির ১ম ও ২য় প্রান্তিক এবং সমাপনীর প্রশ্ন প্রণয়নের জন্য ব্যবহার করা হবে।
প্রশ্নের ধরনে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য :
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সামগ্রিক মূল্যায়নের প্রশ্ন সুনির্দিষ্টকরণ ছকে যে ধরনের প্রশ্ন থাকে সেগুলাে হলাে- ১. শূন্যস্থান পূরণ,
২. মিলকরণ,
৩. বহুনির্বাচনি,
৪. সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন,
৫. বর্ণনামূলক প্রশ্ন। যদিও জ্ঞানমূলক, অনুধাবনমূলক, প্রয়ােগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতামূলক প্রশ্নের সংখ্যা ও নম্বরে কিছু পার্থক্য আছে। তবে উভয়ক্ষেত্রেই সর্বমােট নম্বর একই অর্থাৎ ৭০। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণি সামষ্টিক ‘মূল্যায়নে শূন্যস্থান পূরণ ও মিলকরণ গুরুত্বপূর্ণ নয় বিধায় এ দুটি প্রশ্নের ধরন মূল্যায়ন ছকে অন্তর্ভুক্ত নেই।
এ ছাড়াও এ শ্রেণিতে সর্বমােট ধরা হয়েছে ৮০। এখানে উল্লেখ্য যে, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ধারাবাহিক মূল্যায়নের ৩০ নম্বর এবং ৫ম ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী মূল্যায়নের ২০ নম্বর যুক্ত হয়ে সর্বমােট নম্বর হয় ১০০।
৪। সামাজিক মূল্যবােধ ও দৃষ্টিভঙ্গি সমাজ কাঠামাের একটি অনন্য উপাদান—ব্যাখ্যা করুন।
সামাজিক মূল্যবােধ সামাজিক সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামাজিক মূল্যবােধ সামাজিক রীতি-রেওয়াজ আচার-আচরণ কিভাবে সংঘটিত হবে তার একটি সাধারণ নির্দেশনা প্রদান করে। মানুষের মৌলিক অধিকার, দেশপ্রেম, মানব মর্যাদা, যৌক্তিকতা, আত্মত্যাগ, সমতা, গণতন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্নভাবে সমাজে বসবাসরত মানুষের আচার-আচরণকে প্রভাবিত করে ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অর্থাৎ, এসব উপাদানের বহিঃপ্রকাশ সামাজিক মূল্যবােধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সামাজিক মূল্যবােধকে মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করে মানুষ তার প্রাত্যহিক জীবন মূল্যায়ন করে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্তব্য-কর্ম নির্ধারণ করে, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কর্ম সম্পাদন করে। সামাজিক মূল্যবােধ সামষ্টিকভাবে কোনটি সঠিক এবং গুরুত্বপূর্ণ তার পরিমাপক হিসেবে কাজ করে। সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, লক্ষ্য, পদ্ধতি-প্রক্রিয়া, ধারণা, অনুভূতি, প্রত্যাশিত আচরণ যাচাই ও মূল্যায়নে সামাজিক মূল্যবােধ অনুসরণ করা হয়। তাই সামাজিক মূল্যবােধ সামাজিক আচার-রীতি ও নিয়ম-কানুনের স্থায়িত্বের সূচক এবং সামাজিক কাঠামাে গঠনের একটি অনন্য উপাদান হিসেবে স্বীকৃত।
৫। সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের সম্পর্ক নিরূপণ করুন।
সামাজিক মূল্যবোধে সামাজিক রীতি-রেওয়াজ বা আচার-আচরণ কিভাবে সংঘটিত হবে তার একটি সাধারণ নির্দেশনা প্রদান করে। মানুষের মৌলিক অধিকার, দেশপ্রেম, মানব মর্যাদা, যৌক্তিকতা, আত্মত্যাগ, সমতা, গণতন্ত্র ইত্যাদি বিভিন্নভাবে সমাজে বসবাসরত মানুষের আচার-আচরণকে প্রভাবিত করে ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে। অর্থাৎ, এসব উপাদানের বহিঃপ্রকাশ সামাজিক মূল্যবোধ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নির্ধারিত হয় কোনাে নির্দিষ্ট সত্তার প্রতি বিশ্বাস (ইতিবাচক বা নেতিবাচক), অনুভূতি এবং আচরণের মাধ্যমে।
সামাজিক মূল্যবোধ, আচার-আচরণ, ভূমিকা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে অবদান রাখে। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে সংযােজিত বিষয়বস্তু (যেমন, মিলেমিশে থাকা, অন্যেও মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, ভালাে-মন্দের পার্থক্য করা, ভালােকে গ্রহণ এবং মন্দকে পরিহার ইত্যাদি) এবং নির্ধারিত শিখনফলের অর্জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সামাজিক মূল্যবােধ ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করবে। এর ফলে শিক্ষার্থী উন্নততর ও প্রত্যাশিত সামাজিক আচরণে উদ্বুদ্ধ হবে।
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.