পেশাগত শিক্ষা (৪র্থ খন্ড)
অধ্যায়: আইসিটি; সেকশন-১.৬>শিখন শেখানো কার্যক্রম ও পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সমন্বয়
ক্লাস-০৮: ডিজিটাল কন্টেন্ট কী, ডিজিটাল কন্টেন্ট এর গুরুত্ব, বিবেচ্য বিষয় ও ব্যবহার, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ইস্যু, সাইবার বুলিং, সাইবার ক্রাইম
ক্লাসের আলোচিত বিষয়:
ডিজিটাল কন্টেন্ট কী?
কনটেন্ট বলতে সাধারণভাবে কোন উপকরণ বা উপাদানকে বুঝায়। ডিজিটাল কনটেন্ট হলো সেই উপকরণ বা উপাদান যা ডিজিটাল ডিভাইসে সংরক্ষণ এবং এর মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল কনটেন্ট এর গুরুত্ব অনেক। নানা ধরণের ডিজিটাল কনেটেন্ট রয়েছে। সেগুলো হলো অডিও, ভিডিও, লিখিত, পাওয়ারপয়েন্ট, ছবি ইত্যাদি।
ডিজিটাল কন্টেন্ট দু’ধরণের হয়। যেমন-
১. ইন্টারঅ্যাকটিভ: যেমন- ভিডিও, এ্যানিমেটেড ছবি ইত্যাদি এবং
২. ননইন্টারঅ্যাকটিভ: যেমন- টেক্সট, পাওয়ারপয়েন্ট, ছবি।
ডিজিটাল কন্টেন্ট এর গুরুত্ব ও ব্যবহারের বিবেচ্য বিষয় এবং এর সুবিধা উল্লেখ করুন।
ডিজিটাল কন্টেন্ট এর গুরুত্ব:
ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের বিবেচ্য বিষয়:
ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের সুবিধা:
পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তকরণের যৌক্তিকতা কী?
যেকোন পেশায় পেশাদারিত্ব অর্জনের কোন বিকল্প নেই। কারণ একজন পেশাজীবির দায়-দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিকদের সেবা দান করাই মূল লক্ষ্য। শিক্ষকতা মহৎ পেশা কেননা এই পেশার মাধ্যমে একটি জাতির ভিত্তি গড়ে উঠে। এজন্য শিক্ষকদের হতে হবে সবচেয়ে আধুনিক। বর্তমান সময়টি তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর। সুতরাং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তকরণের যৌক্তিকতা রয়েছে। কী কী কারণে পেশাগত উন্নয়নে আইসিটির অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা রয়েছে তা নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
এছাড়াও আরও নানা ধরণের বিষয়াবলী রয়েছে যা স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তবে উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, পেশাগত উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তকরণের যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, নৈতিক ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুসমুহ আলোচনা করুন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি তথা আইসিটি ব্যবহারের ইতিবাচক অনেক দিক থাকলেও এর নেতিবাচক দিকও কিন্তু কম নয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা তৈরি হয় যেগুলোকে ইস্যু বলা হয়। যেমন- ব্যক্তিগত ইস্যু, পারিবারিক ইস্যু, সামাজিক ইস্যু, অর্থনৈতিক ইস্যু, নৈতিক ইস্যু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ইস্যু ইত্যাদি। নিম্নে ইস্যুগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:
ব্যক্তিগত ইস্যু
১. স্বাস্থ্যগত ক্ষতি হতে পারে। যেমন- কম্পিউটার মনিটর বা স্ক্রীনের সামনে অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করলে চোখের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় ঘাড়ে ও পেশিতে ব্যথা হতে পারে। স্ক্রীনের সামনে এমন ভাবে বসার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে অন্তত ৯০ ডিগ্রী বরাবর চোখের অবস্থান থাকে মনিটর বা স্ক্রীনের থেকে। একাধারে বেশিক্ষণ কাজ না করে অন্তত দুই ঘন্টা পর পনের (১৫) মিনিট বিরতি নেয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
২. রেডিয়েশন এর ফলে মানবদেহের ক্ষতি হতে পারে। যেমন-: আইসিটি ডিভাইসগুলো থেকে এক ধরণের Electromagnetic Radiation (EMR) এর উৎপত্তি হয় যা মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উল্লেখিত সমস্যার কথা মাথায় রেখে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। সেজন্য মনিটর বা স্ক্রীন থেকে যাতে অতিরিক্ত আলো বের হয়ে চোখে না লাগে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘরে বা যেখানে বসে কাজ করা হয় সেখানে যেন যথেষ্ট আলো থাকে। সম্ভব হলে মনিটরের উপরে প্রটেকটর ব্যবহার করা যেতে পারে।
পারিবারিক ইস্যু
সামাজিক ইস্যু
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ইস্যুগুলোও সামাজিক ইস্যুর মধ্যে পড়ে। এর বাইরেও আর বেশ কিছু বিষয় আছে যেগুলোকে আমরা সামাজিক ইস্যু বলতে পারি। তবে সামাজিক ইস্যুর ক্ষেত্রে নেতিবাচক দিকের পাশাপাশি বেশকিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সেগুলো হলো:
অর্থনৈতিক ইস্যু
অর্থনৈতিক ইস্যু বিচারে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নেতিবাচক ইস্যুর তুলনায় ইতিবাচক ইস্যুই বেশি। বলতে গেলে পৃথিবীর অর্থনৈতিক চাকা আমূল বদলে দিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। অর্থনৈতিক ইস্যুগুলো নিম্নরূপ:
নৈতিক ইস্যু
ব্যবস্থাপনা ইস্যু
আধুনিক জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযু্ক্তির ব্যবহার প্রায় সর্বত্র। ফলে শিক্ষা, ব্যবসা বাণিজ্যসহ নানাবিধ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। বর্তমান সময়ে জীবন পরিচালনা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ে পরিনত হয়েছে। ব্যবস্থাপনা ইস্যুগুলো হলো:
সাইবার বুলিং কী? সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয় বিষয় লিখুন।
সাইবার বুলিং
সাইবার বুলিং এক ধরণের জটিল মনস্তাত্ত্বিক উপদ্রব। বুলিং বলতে আমরা বুঝি দুইজন ব্যক্তির মধ্যে তর্ক বা দোষারোপের মাধ্যমে খারাপ ভাষায় আক্রমণ করা। যেমন- একজনের ছবি বা ভিডিও বিকৃতি করে অনলাইনে তুলে ধরা একটি সাইবার বুলিংয়ের উদাহরণ। সুতরাং সাইবার বুলিং হচ্ছে অনলাইনে কোন ব্যক্তিকে (শিশু, নারী বা বয়স্ক ব্যক্তি) প্রলুব্ধ বা হেয় প্রতিপন্ন করা, ভয় দেখানো এবং মানসিক নির্যাতন করা।
সাইবার বুলিং প্রতিরোধে করণীয়:
সাইবার ক্রাইম কী? সাইবার অপরাধের কয়েকটি উদাহরণ দিন।
ইন্টারনেট ব্যবহার করে অপরাধ সংগঠন করাকে সাইবার ক্রাইম বলা হয়। যদি কোন ব্যক্তি যেকোন ইলেক্ট্রনিক বা ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সংক্ষরিত সিস্টেমে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করে, তথ্য চুরি, তথ্য বিকৃতি প্রতারণা, অর্থ চুরি, ব্যাংকিং ডাটাবেজে প্রবেশ অর্থ ট্রান্সফার ইত্যাদি অপরাধ করে ক্ষতি করে, ভাইরাস প্রবেশ করায়, কম্পিউটার তথ্য ভান্ডারের ক্ষতি সাধন করে, সোর্স কোড পরিবর্তন করে, সিস্টেমের হ্যাকিং করে, মিথ্যা, অশ্লীল তথ্য প্রকাশ করে, তবে তাকে সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলে।
সাইবার অপরাধের ধরণ:
সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম এর শাস্তি কী? এর প্রতিরোধে করণীয় উপায় লিখুন।
বাংলাদেশের ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধনী ২০১৩)-এর ৫৭ (২) ধারায়’ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। এর শাস্তি ৭ থেকে ১৪ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।
৫৭ ধারায় যা বলা হয়েছে, তা হলো:
৫৭ (এক) কোনো ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।
অপরাধ দমণে করণীয়:
কেউ যদি কাউকে না জানিয়ে ব্যক্তিগত মুহূর্তের কোনো আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও গ্রহণ, ধারণ করে এবং কোনো ইলেক্ট্রনিক বা ইন্টারনেট মাধ্যমে বা সামাজিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তাহলে উপরিল্লিখ ৫৭ ধারায় মামল করতে পারবেন।
এছাড়াও যদি প্রমাণ থাকে যে, উক্ত ছবি বা ভিডিওতে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তি ধর্ষণের শিকারও হয়েছেন, সেক্ষেত্রে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, ২০০০-এর ৯ (১) ধারায়’ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে তবে এজন্য মেডিকেল রিপোর্ট প্রয়োজন পড়বে।
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.
View Comments