পেশাগত শিক্ষা (৩য় খন্ড)
অধ্যায়-০২: ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা
ক্লাস-০৪: ইসলামের পরিচয়, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, মূলভিত্তি, তাওহীদ, শিশুদের আদর্শ জীবন গঠনে ইসলামের ভূমিকা
ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:
· ইসলামের পরিচয় বর্ণনা করুন।
· ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?
· ইসলাম ধর্মের বৈশিষ্ট্য লিখুন।
· ইসলাম ধর্মের বুনিয়াদ বা মূলভিত্তি কী?
· তাওহীদ অর্থ কি? শিশুদের মধ্যে তাওহীদী জীবনবোধ গঠনে শিক্ষক হিসেবে আপনার করণীয় দিকগুলো তুলে ধরুন।
· শিশুদের তাওহীদী জীবন গঠনে শিক্ষকের করণীয় দিকসমূহ উল্লেখ করুন।
· শিশুদের আখলাক বা চরিত্র গঠনে ইসলামী শিক্ষার ভুমিকা আলোচনা করুন।
· শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে পিতা -মাতা, অভিভাবক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের ভুমিকা কী?
ইসলামের পরিচয় বর্ণনা করুন।
ইসলামের পরিচয়
ইসলাম আরবী শব্দ। এর অর্থ আত্মসমর্পণ। আত্ম মানে নিজ, সমর্পণ মানে স্বত্ব ত্যাগ করে দিয়ে দেওয়া। আত্মসমর্পণ অর্থ নিজেকে অন্য কারো অধীন করে দেওয়া। ইসলাম শব্দ থেকেই ‘আসলামা’ শব্দ এসেছে। এর অর্থ সে ইসলাম কবুল করেছে বা আত্মসমর্পণ করেছে। এভাবেই ‘আসলামতা’ মানে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম বা আত্মসমর্পণ করলাম।
ইসলাম আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ আআত্মসমর্পণ করা, অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা। শব্দটি ‘সিলমুন’ মূলধাতু গৃহিত। সিলনুন অর্থ শান্তি। আল্লাহ তা’আলা নিকট পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করলে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে শান্তি প্রতিষ্টিত হয়। এজন্য ইসলাম কে শান্তির ধর্ম বলা হয়। পরিভাষায়, মহান আল্লাহর প্রতি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে সকল কাজকর্মে তার আনুগত্য করাকে ইসলাম বলে। অর্থাৎ, মনে প্রাণে আল্লাহ তা’আলা ও তার রাসূলের নিকট আত্মসমর্পণ করা, বিনা দ্বিধায় তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাদের নির্দেশিত বিধান অনুসারে জীবন পরিচালনা করাই ইসলাম। আর যিনি ইসলামের বিধান অনুযায়ী জীবন যাপন করেন তাকে বলা হয় মুসলিম বা মুসলমান।
ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?
ইসলামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
· আল্লাহ তা’আলা ও তার প্রেরিত নবী গনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।
· মহান আল্লাহ ও রাসুলগণের প্রতি মানুষের পূর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন।
· সমাজে ও বিশ্বে শান্তি-শৃঙখলা বজায় রাখা।
· কল্যাণ মুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
· পরকালীন শান্তি ও মুক্তি অর্জন করা ইত্যাদি।
ইসলামের বৈশিষ্ট্য লিখুন।
ইসলামের বৈশিষ্ট্য
ইসলামের বহু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তন্মধ্যে কতিপয় বৈশিষ্ট্য নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
১. ইসলাম আল্লাহ তা আলার একমাত্র মনোনীত বিধান।
২. ইসলাম একটি পূর্নাঙ জীবন বিধান।
৩. ইসলাম পরকালীন মুক্তির ধর্ম।
৪. ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম।
৫. ইসলাম সর্বজনীন ধর্ম।
৬. ইসলাম সর্বশেষ আসমানী ধর্ম।
৭. ইসলাম শ্বাশত জীবন ব্যবস্থা।
৮. ইসলাম নৈতিক ও মানবতাবাদী ধর্ম ইত্যাদি।
ইসলামের বুনিয়াদ বা মূলভিত্তি কী?
ইসলামের বুনিয়াদ বা মূলভিত্তি
কোনো দালান তৈরি করতে হলে প্রথমে এর ভিত বা বুনিয়াদ গড়তে হয়। ওই বুনিয়াদের উপর দেয়াল তোলা হয়। দেয়ালের উপর ছাদ তৈরি করা হয়। ভিত মযবুত না হলে দেয়াল ও ছাদ টেকে না। তাই দালানের জন্য মযবুত সবচেয়ে বেশি জরুরী।
শুধু ভিতটুকুই দালান নয়, দেয়াল ও ছাদ মিলেই দালান। ঠিক তেমনি ইসলাম ধর্মেও ভিত্তি রয়েছে।
ইসলাম যে সব ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত সেগুলো কে ইসলামের বুনিয়াদ বলা হয়। ইসলামের বুনিয়াদ ভা মূলভিত্তি হলো ৫ টি। যথা:
১. মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান তথা বিশ্বাস করা।
২. দৈনিক পাঁচবার সালাত আদায় করা।
৩. সামর্থ্যবান হলে যাকাত প্রদান করা।
৪. সামথ্য থাকলে জীবনে একবার হজ্ব আদায় করা।
৫. রমজান মাসে রোজা রাখা।
তাওহীদ অর্থ কি? শিশুদের মধ্যে তাওহীদী জীবনবোধ গঠনে শিক্ষক হিসেবে আপনার করণীয় দিকগুলো তুলে ধরুন।
তাওহীদ
তাওহীদ শব্দের আভিধানিক অর্থ- এক করা, একক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা, একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা। মহান আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তার কোন শরীক নেই। তিনি তার সত্তা ও গুনাবলীতে অদ্বিতীয়,প্রশংসা ও ইবাদতের একমাত্র মালিক। তার তুলনীয় কেউ নেই। তিনি কাউকে জন্ম দেন নি কিংবা জন্ম গ্রহণ করেন নি। তিনি সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। এটিই তাওহীদের মূল চেতনা।
তাওহীদ ৩ প্রকার। যথা:-
(১) তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ: নিজের কথা, কাজ ও বিশ্বাসের দ্বারা আল্লাহ্কে তাঁর যাবতীয় কর্ম ও কর্তৃত্বে এক ও অদ্বিতীয় তথা লা-শরীক (অংশীদারহীন) সাব্যস্ত করা।
(২) তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ: ইবাদাতে আল্লাহ্র একত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
(৩) তাওহীদুল আছমা ওয়াস্সিফাত: আল্লাহকে তাঁর নাম ও গুণাবলীতে এক ও অদ্বিতীয় সাব্যস্ত করা। অন্য কথায়, আল্লাহ্র সুমহান নাম ও গুণাবলীতে আল্লাহ্র একত্ব অক্ষুন্ন রাখা।
শিশুদের তাওহীদী জীবন গঠনেশিক্ষকের করণীয় দিকসমূহ উল্লেখ করুন।
শিক্ষক হিসেবে শিশুদের তাওহীদী জীবনবোধ গঠনে আমাদের বিভিন্নভাবে বিভিন্ন করণীয় রয়েছে। নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১. তাওহীদী জীবনবোধ গঠনে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
২. বিভিন্ন প্রকৃতিগত প্রমাণাদি প্রদর্শন করে শিশুদের নাঝে তাওহীদী চেতনা সম্প্রসারিত করা।
৩. তাওহীদী চেতনায় এক আল্লাহর উপাসনায় মশগুল থাকা এবং প্রবৃত্তির কুমন্ত্রণা প্রতিহত করা। ৪. সকল মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি, তাওহীদের এ চেতনাকে আরো বেশি সম্প্রসারিত করা।
৫. তাওহীদী জীবনবোধ বিশ্বমানবের মাঝে একই ঐক্য বোধ জাগ্রত করে, তাহা শিশুদের মাঝে জাগিয়ে তোলা।
৬. এই গাছ পালা জীবজন্তু সবই আল্লাহর সৃষ্টি এবং আমরা এগুলো কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারিনা, তাহা শিশুদের মাঝে জাগিয়ে তোলা।
শিশুদের আখলাক বা চরিত্র গঠনে ইসলামী শিক্ষার ভুমিকা আলোচনা করুন।
শিশুদের আখলাক বা চরিত্র গঠনে ইসলামী শিক্ষার ভুমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে আখলাক একদিকে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে, তার মধ্যে মানবীয় ও চারিত্রিক গুনাবলির উন্মেষ ঘটিয়ে ব্যক্তির মধ্যে পূর্ণতা আনয়ন করে। দ্বিতীয় প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায় ব্যক্তি কে অন্যায় , অশ্লীল কাজ, কথা ও আচরণ থেকে বিরত রাখে। আখলাক ভাল-মন্দ, প্রিয়- অপ্রিয়ের মধ্যে পাথক্য নির্নয় করা যায়। মানুষের কর্মপদ্ধতি ও জীবনের লক্ষ্য নির্ধারনে সাহায্য করে। ইসলামের দৃষ্টিতে আখলাক হচ্ছে মানবীয় আচরণের সুসংবদ্ধ আচরণের মূলনীতির সমষ্টি। যার অন্যতম উদ্দেশ্য মানুষের জীবন কে সুসংহত করা এবং মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক নির্ধারন করা। প্রকৃত অর্থে ইসলামি আখলাক হলো মুসলমানদের ধর্মীয় বিধি বিধানের অনুরুপ,আকিদা বিশ্বাসের কিছু হিতকর নীতি ও বোধ। মুসলমানদের সকল কাজকর্ম, কথাবার্তা এবং পরিচালনা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সবক্ষেত্রে ইসলামী আখলাকের প্রতিফলন ঘটে। এ কারণে জীবনের সকল পর্যায়ে ইসলামী আখলাক প্রতিফলনের আবশ্যকতা রয়েছে। কেননা ইসলামী আখলাক ইসলামী সমাজব্যবস্থা সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে পিতা -মাতা, অভিভাবক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের ভুমিকা কী?
শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে পিতা মাতা, অভিভাবক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের ভুমিকা নিম্নরুপ:
১. উপযুক্ত শিক্ষাক্রমঃ
আমদের পরীক্ষাসর্বস্ব শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র বা আখলাক সংগঠনের ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়নি। পাঠক্রমে আখলাক ও নৈতিক শিক্ষার বিশেষ স্থান থাকা প্রয়োজন এবং এসবের ব্যবহারিক ও প্রায়োগিক মূল্যায়ন থাকা উচিত।
২. পরিবেশ নিয়ন্ত্রণঃ
ব্যক্তির জীবন পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। এ জন্য গৃহে, বিদ্যালয়ে এবং সমাজের সর্বত্র আখলাকে হাসানা শিক্ষা ও অনুশীলনের অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
৩. সদাচরণঃ
সদাচরণ পরিবেশের একটি অঙ্গ। শিশুর আখলাক সংগঠনের জন্য পরিণত বয়স্ক ব্যক্তিরা প্রশংসিত, সংযত, নিয়ন্ত্রিত ও প্রশংশিত আচরণ করবেন। কারণ শিশুরা অনুকরণ প্রিয়।
৪. সমাজ চেতনাঃ
শিশুর আখলাক গঠনের প্রকৃষ্ট পন্থা হলো শিশু কে সমাজ জীবনে উদবুদ্ধ করা। সকলের প্রতি শিশুর অনুরাগ, আকর্ষন বৃদ্ধিই শিশুর সামাজিক বোধের কারণ।
৫. মহৎ ব্যক্তির জীবনী পাঠঃ
মহৎ ব্যক্তিদের জীবন কাহিনি চরিত্র গঠনে যথেষ্ট সহায়ক। এ জন্য বিখ্যাত নবী- রাসুল, আউলিয়া, দার্শনিক, সমাজ সংস্কারক, দেশপ্রেমিক,সমাজ সেবক এমনতর মহৎ ব্যক্তিদের জীবনী তাদের সামনে উপস্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন।
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.