অধ্যায়-১: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পরিচিতি
১) ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টি অধ্যয়নের লক্ষ্য ও পরিসর বর্ণনা করুন।
অথবা, ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এর পঠন পাঠনের লক্ষ্য, বৈশিষ্ট্য আলোচনা করুন।
অথবা, ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টির পরিসর চিহ্নিত করুন।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টি অধ্যয়নের লক্ষ্য
শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতার উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে এটি পাঠ করা হয়। একটি সামাজিক দলের সদস্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পরিবেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাসের ও মিথস্ক্রিয়ার দক্ষতা অর্জন করানাে এবং জীবনভর দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা পালনে সমর্থ করে তােলার প্রাথমিক সূচনা হয় ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পঠন-পাঠনের মাধ্যমে। আজকের পরিবর্তনশীল ও আন্তঃনির্ভরশীল বিশ্বের সাথে শিক্ষার্থীদের খাপ খাওয়ানাে এবং বিশ্ব পরিসরে তাদের কার্যকরভাবে অংশগ্রহণমূলক জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবােধের উন্মেষ ও বিকাশ সাধন করাও ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পঠন-পাঠনের মূল লক্ষ্য।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টির বৈশিষ্ট্য
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ -এর বিষয়বস্তু বিভিন্ন সামাজিক ও মানবীয় বিষয়াবলি থেকে গ্রহণ করা হয়। এটি বিভিন্ন বিষয়কে বিচ্ছিন্নভাবে না পড়ে বরং আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়সমূহ সমন্বিত করে পঠন-পাঠনের নীতি মেনে চলে। এভাবে পঠন-পাঠনের তাৎপর্য হলাে, শিক্ষার্থীরা এটাকে ভালােভাবে বুঝতে পারে এবং একটির সাথে অপরটির আন্তঃসম্পর্ক উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এভাবে একটি বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক ও সমৃদ্ধ ধারণা তৈরিতে সহায়তা করে। যেমন- ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’-এর অন্তর্ভুক্ত ইতিহাস ও ভূগােলের বিষয়বস্তু অধ্যয়ন করে তারা বিভিন্ন স্থানের অবস্থান ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে। তারা আরও অনুধাবন করতে পারবে যে, কীভাবে একটি নির্দিষ্ট স্থানের ভৌগােলিক প্রভাব মানব কর্মকাণ্ডের সহায়ক বা প্রতিকূল হতে পারে।
একইভাবে এর অর্থনীতির বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের ঐ স্থানের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারণা প্রদানে সহায়ক হয়ে থাকে। জীবন নির্বাহে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টির পরিসর
শিশুর নিজের জগৎ ও তার নিকট পরিবেশ থেকে শুরু করে বৈশ্বিক পরিমণ্ডল পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এর পরিসর। মানুষ, মানুষের পরিবেশ, সমাজ এবং সমাজে বিদ্যমান নানারকম প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন, নিয়ম-নীতি ইত্যাদি বহুমাত্রিক আন্তঃসম্পর্ক এর পঠন-পাঠনের বিষয়বস্তু। তবে যেহেতু বিষয়টি প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের শিশুরা পড়ে কাজেই এর বিষয়বস্তুর পরিসর সামাজিক বিজ্ঞানের চেয়ে তুলনামূলক সীমিত, সংক্ষিপ্ত ও সহজ-সরল করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুর নিজস্ব গণ্ডি এর বিষয়বস্তুগত পরিসর হিসেবে গুরুত্ব পায়। আর প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে সাধারণত সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগােল, অর্থনীতি, পৌরনীতি ও জনসংখ্যা শিক্ষা ইত্যাদি বিষয় থেকে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়” এর বিষয়বস্তু চয়ন করা হয়।
মােটকথা, শিশুর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তােলার উপযােগী বিষয়বস্তুই বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’-এ স্থান পেয়েছে। এতে করে সমন্বিত বিষয় অধ্যয়নের উদ্দেশ্য হাসিল হয়েছে।
২) ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টি শিক্ষার্থীরা কেন পাঠ করবে তার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করুন।
অথবা, প্রাথমিক স্তরে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ একটি সমন্বিত বিষয় পাঠের তাৎপর্য আলােচনা করুন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠের অন্যতম তাৎপর্য হলাে এটি শিশুদের পরিবেশ ও সামাজিক বিষয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনে সাহায্য করে, যা পরিবেশ ও সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি সমাজে আমাদের কেমন আচরণ করা উচিত।
সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, দল, ব্যক্তি কীভাবে কাজ করে, কিভাবে তা টিকে আছে এবং তাদের অতীত কর্মধারা আলােচনার মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মধারার দিকনির্দেশনা দেয়। এ বিষয়টি মানুষ কীভাবে সমাজ গঠন করেছে; সমাজ কীভাবে পরিচালিত হবে সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর প্রদান করে। এভাবে বিষয়টি আমাদের জীবন উন্নয়নের উপলব্ধি প্রদান করে এবং আমাদের পরস্পরের সাথে মিথস্ক্রিয়া ও সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
মানুষের মত মানুষ হওয়ার ইতিহাস ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এর মূল কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের মানবিক, নৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক বিকশ এ বিষয়ের প্রধান পাঠ্য বিষয়।
শিক্ষা যেহেতু মানুষের কাক্ষিত আচরণ আয়ত্ত করতে শেখায়, সে কারণে মানুষের পক্ষে অর্জনযােগ্য প্রায় অধিকাংশ আচরণ, অভ্যাস, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ এ বিষয়ের মাধ্যমে শেখানাে হয়। এ বিষয়ের সন্তান-সন্ততি লালন-পালন ও বিকাশ, সংস্কৃতিগত বিকাশ ঘটায়। শিশুদের জীবনযাত্রা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে, গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ আত্মস্থকরণে এবং তাদের ভূমিকা নির্ধারণে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’-এর জ্ঞান সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের গৌরবােজ্জ্বল অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে জানতে পারি এবং ভবিষ্যতের করণীয় উপলব্ধি করতে পারি। অর্থাৎ এর মাধ্যমে আমরা আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রতকরণ, আদর্শ ও মূল্যবােধ সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার মনােভাব সৃষ্টি করে। নাগরিকের প্রাত্যহিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে বােঝার জন্য; রাষ্ট্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষ্টিকে ভালাে করে জানার জন্য, কীভাবে এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা আত্মপ্রকাশ করেছি, বাংলাদেশের প্রকৃত পরিচয় কী, নাগরিক হিসেবে আমাদের কী অধিকার ও দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে ইত্যাদি সম্পর্কে আমরা ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠের মাধ্যমে জানতে পারি।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে সহায়তা করে। আমাদের পূর্বপুরুষরা তাদের জীবিতাবস্থায় যে আদর্শ ও চিন্তা রেখে গেছেন তা গভীরভাবে উপলব্ধি করার মাধ্যমে ও তাদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শিশুর জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অনুপ্রাণিত করে। এ বিষয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের বৈষম্য দূর করে অসাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, সৌন্দর্য ও মানুষে-মানুষে সহমর্মিতা গড়ে তােলা যায় এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করা হয়। এছাড়া সকল জাতীয় নৈরাজ্যের বিপদ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সতর্ক ও সচেতন করে তোলা যায়।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে সার্বিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়বে। শিশুদের এ সম্পর্কে সচেতন করতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পঠন-পাঠনের গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য রয়েছে।
৩. ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ প্রাথমিক স্তরে একটি সমন্বিত বিষয়- ব্যাখ্যা করুন।
সাধারণত সমন্বিত বিষয় বলতে ঐ বিষয়কেই বােঝানাে হয় যার মধ্যে ঐ বিষয় সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের প্রাথমিক স্তরে “বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়” নামে যে বিষয়টি পঠনের জন্য শিক্ষাক্রমভুক্ত করা হয়েছে তা মূলত সামাজিক বিজ্ঞান। এর মধ্যে পরিবেশ বিদ্যা, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, জনমিতি, ভূগোল এবং সাধারণ বিজ্ঞানের বিষয়সূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাজেই “বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়টি প্রাথমিক স্তরের একটি সমন্বিত বিষয়।
সাধারণভাবে বলা যায়, শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতার উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে এটি পাঠ করা হয়। একটি সামাজিক দলের সদস্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পরিবেশ, সমাজ ও রাষ্ট্রে বসবাস ও মিথস্ক্রিয়ার দক্ষতা অর্জন করানাে এবং জীবনভর দায়িত্বশীল নাগরিকের ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তােলার প্রাথমিক সূচনা হয় বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পঠন-পাঠনের মাধ্যমে। আজকের পরিবর্তনশীল ও আন্তনির্ভরশীল বিশ্বের সাথে শিক্ষার্থীদের খাপ খাওয়ানো এবং বিশ্ব পরিসরে তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবােধের উন্মেষ ও বিকাশ সাধন করাও এ পাঠের লক্ষ্য।
শিশুর নিজের জগৎ ও তার নিকট পরিবেশ থেকে শুরু করে বৈশ্বিক পরিমণ্ডল পর্যন্ত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’-এর পরিসর। মানুষ, মানুষের পরিবেশ, সমাজ এবং সমাজে বিদ্যমান নানারকম প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন, নিয়ম-নীতি ইত্যাদির বহুমাত্রিক আন্তঃসম্পর্ক এর পঠন-পাঠনের বিষয়বস্তু। তবে বিষয়টি প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে শিশুরা পড়ালেখা করে, কাজেই এর বিষয়বস্তুর পরিসর সামাজিক বিজ্ঞানের চেয়ে তুলনামূলক সীমিত, সংক্ষিপ্ত ও সহজ-সরল হয়। বাংলাদেশে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুর নিজস্ব গণ্ডি এর বিষয়বস্তুগত পরিসর হিসেবে গুরুত্ব পায়। আর প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে সাধারণত সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস, ভূগােল, অর্থনীতি, পৌরনীতি ও জনসংখ্যা শিক্ষা ইত্যাদি বিষয় থেকে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এর বিষয়বস্তু চয়ন করা হয়।
মােটকথা, শিশুর পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তােলার উপযােগী বিষয়বস্ত্তুই ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’- এ স্থান পেয়েছে।
৪. ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কোন বিষয়ের অনুরূপ? বিষয়টির ধারণা কোন কোন প্রধান দিকের উপর গুরুত্ব আরোপ করে? শিশুদের এই বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে কোন কোন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন হবে বলে আপনি মনে করেন? বর্ণনা দিন।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে প্রচলিত সােস্যাল স্টাডিজ এর অনুরূপ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়টির ধারণা যেসব প্রধান দিকের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেঃ বিষয়টির ধারণা প্রধান তিনটি দিকের ওপর গুরুত্ব আরােপ করে। প্রধান তিনটি দিক নিম্নরূপঃ
১) ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা থেকে বিষয়বস্তু ধারণ করে একটি সমন্বিত বিষয়ে রূপলাভ করেছে।
২) এ বিষয়টির মাধ্যমে শিশুরা বাংলাদেশের উন্মেষ, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, ভৌগােলিক, জনসংখ্যা ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করে। একই সাথে শিশুরা বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সাথেও পরিচিত হয়।
৩) ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ শিশুদের সামাজিক দক্ষতা বিকাশের মাধ্যমে সমাজে বসবাসের সামর্থ্য অর্জনে সহায়তা করে।
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বিষয়টি পাঠের মাধ্যমে শিশুদের যেসব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জিত হতে পারে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো:
১) সামাজিক ও মানবীয় গুণাবলিঃ
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ করে শিক্ষার্থীরা সমাজের বিভিন্ন রীতি, নীতি, সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে। সমাজে বসবাস করতে করতে সে মানবিক হয় এবং সকলের প্রতি সহানুভূতিশীল ও উপকারী মনােভাব গড়ে তােলে।
২) বিভিন্ন স্থান ও ঐতিহাসিক ঘটনা সম্পর্কে জ্ঞাতঃ
‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এর অন্তর্ভুক্ত ইতিহাস ও ভূগােলের বিষয়বস্তু অধ্যয়ন করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানের অবস্থান ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারে। তারা উপলব্ধি করতে পারে যে, কীভাবে একটি নির্দিষ্ট স্থানের ভৌগােলিক প্রভাব মানব কর্মকাণ্ডের সহায়ক বা প্রতিকূল হতে পারে। একইভাবে অর্থনীতির বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের ঐ স্থানের মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারণা প্রদানে সহায়ক হয়।
৩) অন্তর্দৃষ্টির বিকাশ সাধনঃ
এ বিষয়টির মাধ্যমে সন্তান-সন্ততি লালন পালন ও বিকাশ, পারিবারিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক ক্ৰমবিকাশ, সাংস্কৃতিক পার্থক্য ইত্যাদির ব্যাপারে মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অন্তদৃষ্টির বিকাশ ঘটায়। তাছাড়া শিশুদের জীবনযাত্রা বাছাই, গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ আত্মস্থকরণে জ্ঞান প্রদান করে।
৪) ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জ্ঞানঃ
এ বিষয়টি অধ্যয়নে আমরা আমাদের গৌরবােজ্জ্বল অতীত ও বর্তমান সম্পর্কে জানতে পারি এবং ভবিষ্যতের করণীয় উপলব্ধি করতে পারি। অতীতের কোনাে পরিস্থিতির সাফল্য ও ব্যর্থতার অভিজ্ঞতার আলােকে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি।
৫) দেশপ্রেম জাগ্রতকরণঃ
এ বিষয়টি পাঠে আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। আদর্শ ও মূল্যবােধ সৃষ্টি এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার মনােভাব সৃষ্টি হয়। নাগরিক হিসেবে আমাদের কি অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে তা জানতে পারি।
৬) অসাম্প্রদায়িক মনােভাব তৈরিঃ
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সকল ধরনের বৈষম্য দূর করে অসাম্প্রদায়িকতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও মানুষে মানুষে সহমর্মিতা গড়ে তােলে এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলে। গণতান্ত্রিক চেতনাবােধের বিকাশ ও পরমতসহিষ্ণুতার উন্নয়ন এবং জীবনমুখী বস্তুনিষ্ঠ ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া ভয়াবহ মাদকের নেশা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সতর্ক ও সচেতন করে।
৭) বিশ্ব সমাজ গঠনঃ
এ বিষয়টি পাঠে শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মােকাবেলা করার বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এবং ভূমিকা পালনের মনােভাব তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা একটি বিশ্ব সমাজ গঠনে সহায়তা করে।
সর্বোপরি শিশুদের ভবিষ্যৎ সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, আন্তর্জাতিক ও পেশাগত জীবনের জন্য প্রয়ােজনীয় জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…
বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…
Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)
Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…
Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…
Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…
This website uses cookies.