বাংলা (এসকে)

বাংলা (এসকে); অধ্যায়-৫ কবিতা

পাঠ-৫.০: কবিতার স্বরূপ, শ্রেণিবিভাগ, তাৎপর্য

১) কবিতা কী? কবিতার শ্রেণিবিভাগ ব্যাখ্যা করুন।

কবিতা

কবি চিত্তে যে ভাবাতুর আবেগ তৈরি হয়, কবিতা সেই আবেগের রসায়নে সৃষ্ট আনন্দ বেদনার ফসল। তাই বলা হয়ে থাকে, কবি বেদনাবিদ্ধ হৃদয়ই কবিতার জন্মভূমি। আত্মগত ভাব- বিহ্বলতা কবিতা নয়, বরং বহিজর্গতের রুপ-রস-গন্ধ স্পর্শ, বস্তুজগত ও মনোজগতের সম্মিলনে যখন কবিমন আন্দোলিত হয়, তখন সেই আবেগকে কবি তাঁর অনুভূতি সিগ্ধ কল্পনায় অনন্য অবয়ব দান করে কবিতা সৃষ্টি করেন। অর্থাৎ ভাবনাকে যথার্থ শব্দমালা দিয়ে কবি ছন্দরূপে ধারণ করেন। তাই বলা যায়, অপরিহার্য শব্দের অবশ্যম্ভাবী বাণী বিন্যাসই কবিতা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন,

‘অন্তর হতে আচরি বচন,

আনন্দলোক কবি বিরচন,

গীত রস ধারা করি সিঞ্চন,

সংসার ধূলিজালে।

কবিতার শ্রেণিবিভাগ

কবিতা অনেক রকম হয়ে থাকে।তবে রস ও রূপ তত্ত্বের বিচারে কবুতার ২ প্রকার। যথাঃ

১) মন্ময় বা গীত কবিতা

২) তন্ময় বা বস্তুনিষ্ট কবিতা।

১) মন্ময় বা গীত কবিতাঃ ব্যক্তি হৃদয়ের একান্ত, আবেগ, অনুভূতি, ভাব, কল্পনা, অভিজ্ঞতা কবি যখন সাহিত্যে রূপদান করেন তখন তাকে মন্ময় কবিতা বলা হয়। এ ধরনের কবিতা ভক্তিমূলক, স্বদেশপ্রেম, প্রেম ও প্রকৃতিমূলক হয়ে থাকে।

২) তন্ময় বা বস্তুনিষ্ঠ কবিতাঃ সাহিত্যে যখন বস্তুনিষ্ঠতা প্রাধান্য পায় তখন তাকে তন্ময় কবিতা বলে। গাথাকাহিনী, মহাকাব্য, রূপক, গীতিকাব্য, গীতিনাট্য ইত্যাদি তন্ময় কবিতা।

২) “অনেকে কবিতা লেখেন, তবে সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি” জীবনানন্দ দাশের কাব্য সম্পর্কে এ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করুন।

সাহিত্যিক মূল্য পেলেও প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতা লেখা ও কবিগুণ সম্পর্কে বলেছেন, “অনেকে কবিতা লেখেন, তবে সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”। কবির এ ধরনের বাক্যের অন্তনির্হত তাৎপর্য হলো কবিতা লেখা সহজ কাজ নয়। এজন্য সৃজনী প্রতিভার সঙ্গে প্রয়োজন একনিষ্ট চর্চা। তবে একথা অস্বীকার করা যায় না যে,কেবল প্রতিভা কেবল চর্চা কেনো ব্যক্তি বিশেষকে কবি খ্যাতি এনে দিতে পারে না।

কবিতা লেখার জন্য কবিকে ভালো করে পারিপার্শ্বিক প্রসঙ্গকে উপলব্ধি করতে হবে। সেখান থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, রঙ, ছবি, উপাদান সংগ্রহ করে নিজের শিল্পমনের মাধুরী সংযোগে কবিতার অবয়ব তৈরি করতে হবে। কবিতা রচনার আগে কবিকে বুঝতে হবে কোন বিষয়টি তিনি সমাজ, দেশ ও জাতির কাছে তুলে ধরতে যাচ্ছেন। পরে সেই বিষয়টি গভীর অন্তদৃর্ষ্টি দিয়ে অবলোকন করে কবিতার গঠন সৌষ্ঠব তৈরি করবে হবে। এর সঙ্গে কবির দর্শনও আলোচনা করা অতীব জরুরি। তাঁকে অনুধাবন করতে হবে।

কবি দেশপ্রেমমূলক  কোনো কবিতা রচনা করার সময় নিজে যদি স্বদেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ না হয় এবং দেশের ইতিহাস,সংষ্কৃতি,ঐতিহ্য সম্বন্ধে পূর্ণ ধারনা জানা না থাকে তাহলে সেই কবি সম্পূর্ণরূপে দেশাত্মবোধমূলক রচনা করতে পারবেন না। আবার কোনো কবি যদি প্রকৃতি বিষয়ক কোনো কবিতা লিখতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই চারপাশের প্রকৃতির স্বরূপ উপলব্ধির ক্ষমতা থাকতে হবে। প্রকৃতির রূপ,রস,গন্ধ তাকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা চোখের দেখার উর্ধ্বে গিয়ে অনুভূতি দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে। তা না হলে কবিতা হবে খেলার পুতুল। যুগ যুগ ধরে এসকল কবিতার শিল্পমূল্য থাকবে না। কালক্রমে সে কবিতা স্থান পাবে ডাস্টবিনে।

জীবনানন্দ দাশ বলেন,কবিতা রচনার সময় কবিতার শব্দচয়ন, ধ্বনিগত মিল, অনুপ্রাস, বাক্যের গঠন, উপমা, চিত্রকল্প, তুলনামূলক শব্দের যথার্থ সমন্বয় থাকতে হবে। চিত্রকল্পগুলো যেন হালকা না হয়ে যায় আবার শব্দ ব্যবহারে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। কবি দুঃখ করে বলেছে, আজকাল যেসব কবি কবিতা রচনা করেন তার মধ্যে কোন দর্শন খুঁজে পাওয়া যায় না তারা মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পনার মানুষের কবিতা রচনা করে থাকেন। যারা সাহিত্যিক মূল্য তো দূরের কথা ভাববস্তু, ভাষা ব্যবহার ও চিত্রকল্পের মধ্যে নেই কোন সামঞ্জস্য। এ কারণে কবি বলেছেন, অনেকে কবিতা লেখেন, তবে সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।

৩) মাইকেল মধুসূদন দত্তকে কেন আধুনিক বাংলা কবিতা স্রষ্টা বলা হয়?

মধ্যযুগের কাব্যে দেবদেবীর মাহাত্ম্যসূচক কাহিনীর বৈশিষ্ট্য অতিক্রম করে বাংলা কাব্যধারায় মানবতাবোধ সৃষ্টিপূর্বক আধুনিকতার লক্ষণ ফুটানোতেই মাইকেল মধুসূদন দত্তের অতুলনীয় কীর্তি প্রকাশিত। তিনি তার সাহিত্য সৃষ্টিতে বিষয় নির্বাচনে ও প্রকাশভঙ্গিতে, ভাবে ও ভাষায় অভ্যন্তরীণ ও বাহিক বৈশিষ্ট্যে এমন একটি আশ্চর্য শিল্পকুশলতা ফুটিয়ে তুলেছেন, যাকে বাংলা সাহিত্যের অঙ্গনে সম্পূর্ণ অভিনব বলে চিহ্নিত করা যায়।

বস্তুত এ সমস্ত দিক থেকে তাঁর অপরিসীম কৃতিত্ব বাংলা সাহিত্যের গতি পরিবর্তন সহায়তা করেছিল। প্রাচীন ও মধ্যযুগের দেবদেবী নির্ভর কবিতার পরিবর্তে তিনি কাব্যধারায় মানবতাবোধ ফিরিয়ে আনায় তাকে বাংলা আধুনিক কবিতার জনক বলা হয়।মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-৭৩) বাংলা কাব্য সাহিত্যে আধুনিক যুগের প্রবর্তক।

৪) কবিতার চারটি বৈশিষ্ট্য লিখুন?

কবিতার চারটি বৈশিষ্ট্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১) অপরিহার্য শব্দের অবশ্যম্ভাবী সুবিন্যস্ততা,

২) রসাত্মকতা,

৩) চিত্ররূপময়তা

৪) গতিময়তা।

৬) বাংলা কবিতায় পঞ্চপান্ডব কাদের বলা হয়?

রবীন্দ্র বলয়ের প্রভাবমুক্ত হয়ে যে ৫ জন কবি নতুন কাব্য ধারার সৃষ্টি করেন তারাই হলেন পঞ্চপান্ডব। এই ৫ জন বাংলা কবিতাকে ভিন্ন জগতে নিয়ে গিয়েছেন। তাইতো তারা বাংলা কবিতার ক্ষেত্রে অমর হয়ে উঠেছিলেন।

বাংলা কবিতায় পঞ্চপান্ডব:

১) জীবনানন্দ দাশ

২) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত

৩) অমিয় চক্রবর্তী

৪) বুদ্ধদেব বসু

৫) বিষ্ণু দে।

পাঠ ৫.১: বঙ্গভাষা (মাইকেল মধুসূদন দত্ত)

১) সনেট হিসেবে ‘বঙ্গভাষা’ কবিতার শিল্পরূপ নিরূপণ করুন।

অথবা, মাইকেল মধুসূদন দত্তকে আধুনিক বাংলা কবিতার স্রষ্টা বলা হয় কেন? সনেট হিসেবে ‘ বঙ্গভাষা’ কবিতার শিল্পরূপ ব্যাখ্যা করুন।

মাইকেল মধুসূদন দত্তকে আধুনিক বাংলা কবিতার স্রষ্টা বলার কারণ:

মাইকেল মধুসূদন দত্তের পূর্বে যারাই কাব্য রচনা করেছেন তার বিষয়বস্তু ছিল বিভিন্ন দেব-দেবীর ও রাজাদের পূজা অর্চনা ও গুনকীর্তন। একমাত্র মধুসূদনের কাব্যেই নবযুগ প্রতিষ্ঠিত হয়। জীবনচেতনায় নবীনতা, ত্রিলোকপ্রসারী কল্পনা, মানবিকতা, ভাষার আমূল সংস্কার ও নতুন শক্তির আবিষ্কার মধ্যযুগীয় সামান্যতা থেকে বাংলা সাহিত্যকে মুক্ত করে তিনি আধুনিক বিশ্ব সাহিত্যের সিংহদ্বারে পৌঁছে দেন। এ কারণে তাঁকে আধুনিক বাংলা কবিতার স্রষ্টা বলা হয়।

সনেট হিসেবে বঙ্গভাষার সার্থকতা বা শিল্পরূপ:

সনেটের ১৪ পংক্তি থাকে। এই পংক্তিসমূহ দুটি পর্বে বিভাজিত। প্রথম ৮ চরণকে বলা হয় অষ্টক আর শেষ ৬ চরণকে বলা হয় ষটক। অষ্টকে থাকে ভাবের প্রবর্তনা আর ষটকে থাকে ভাবের পরিণতি। প্রকরণের দিক থেকে ‘বঙ্গভাষা’ একটি সার্থক সনেট। এ কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছে কবির অনুশোচনাদগ্ধ আত্মার করুণ আর্তনাদ।

এখানে প্রবাসী কবির মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। কবি প্রথম জীবনে তার মাতৃভূমি ও মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে বিদেশি ভাষায় সাহিত্য চর্চায় মনোনিবেশ করেন। কিন্তু সেখানে তিনি কৃতিত্ব দেখাতে পারেন নি। হঠাৎ করে তার আত্মচেতনা জেগেছে। তাঁর কাব্যলক্ষী তাঁর মনোজগতে বার বার জানান দেয় যে, তিনি আলো ভেবে আলেয়ার পেছনে ছুটছেন। পরদেশে পর ভাষায় কাব্যচর্চা কখনো কোন সার্থকতা বা মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। বরং এটি এক ধরনের ভিক্ষাবৃত্তি।ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে তিনি আজ আত্মগ্লানিতে ভুগছেন।

কবিতার উল্লেখিত ভাববস্তুটি সনেটের নিখুঁত বুননের মধ্যে অনন্য শিল্পরূপ পেয়েছে বাংলায়, সম্পূর্ণ নতুন। কবিতাটি অষ্টক ও ষষ্ঠক দু’অংশে প্রকাশিত। একটি মূল ভাষাকে দুটি অংশে সঞ্চারিত করে একটি অখন্ড আবেগ সৃষ্টি করার কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। আলোচ্য কবিতার অষ্টকে মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি অবহেলা করার ফলে তাঁর যে অবক্ষয় হয়েছে তা তুলে ধরা হয়েছে এবং ষটক অংশে সেই ক্ষতি বা ভুলের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।কবি হৃদয়ের অনুশোচনা ও বেদনাবোধ এখানে অনুভূতির রসে সিক্ত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে।ছন্দ প্রকরণের বিশেষ নিয়মানুসারে চরণ শেষে মিল রাখা হয়েছে। এ মিল প্রথম ও তৃতীয় চরণে এবং দ্বিতীয় ও চতুর্থ চরণে করা হয়েছে। দুটি অংশ মিলে অখন্ড ভাব প্রকাশ পেয়েছে।

বঙ্গভাষা কবিতাটি অক্ষরবৃত্তে রচিত। প্রতিটি চরণে ১৪ মাত্রার দুটি পর্ব। প্রথম পর্ব ৮ মাত্রার ও দ্বিতীয় পর্ব ৬ মাত্রার। বঙ্গভাষা সনেটটি রীতি বা মিলের দিক থেকে অনিয়মিত ধরনের। কবিতার চরমগুলোর অন্ত্যমিল এখানে এ রকম ক গ, ক গ, খ ক, গ ঘ, ও ঙ ঙ সবদিক বিবেচনায় তাই বলা যায়, ‘বঙ্গভাষা’ শুধু বাংলা সাহিত্যেই নয় এটি বাংলা সাহিত্যের সেরা সনেটগুলোর অন্যতম।

২) ওরে বাছা, মাতৃ-কোষে রতনের রাজি-আসলে রতন বলতে কি বুঝানো হয়েছে?

কবি বাংলা ভাষাকে অবজ্ঞা করে প্রবাস জীবনে ইংরেজি ভাষায় কাব্য রচনা করেন কিন্তু তার কাব্য সুধীমহলে সমাদৃত না হওয়ায় কবির কাব্যলক্ষ্মী বা বিবেক তাকে নাড়া দেয়। সে বুঝতে পারে মাতৃভাষা বাংলার রয়েছে রত্নসমূহ বা বিচিত্র ঐশ্বর্যময় সাহিত্যের ভান্ডার।এখানে সাহিত্য রচনা করে মহাকবি হওয়া যায়। তখন সে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। এখানে কবি রতন বলতে বিচিত্র ঐশ্বর্যময় সাহিত্যকে বুঝিয়েছেন।

২) বঙ্গভাষা কবিতাটিতে কবি হৃদয়ের আর্তি ফুটে উঠেছে?

কবিতাটিতে কবি হৃদয়ের অনুশোচনাদগ্ধ আত্মার করুণ আর্তি ফুটে উঠেছে। এখানে কবির মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। এ কবিতায় একদিকে কবির বাংলা ভাষার প্রতি প্রথম জীবনে অবজ্ঞা ও বিদেশি ভাষার প্রতি প্রীতি লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে নিজের ভুল বুঝতে পেরে পুনরায় বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে।

পাঠ-৫.২: সামান্য ক্ষতি (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

১) ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতার মূলভাব নিজের ভাষায় লিখুন?

‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতায় দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার এর কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। রাজমহর্ষি সে মুহূর্তের সুখের জন্য অহংবোধে উদ্দীপ্ত হয়ে গরিব প্রজার গৃহে আগুন ধরিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করেনি। গরিব প্রজা দলে দলে এসে রাজার নিকট নালিশ করার পরেও রানীর কোনো অনুশোচনা জাগে নি। বরং রানী উদ্যতভাবে রাজা কে বলেছে যে, কি এমন ক্ষতি হয়েছে? এক মুহূর্তের প্রমোদে রাজমহিষীর কত ধান যায়। মানুষের সুখ-দুঃখের আশ্রয়কে তিনি খড়কুটোর সঙ্গে তুলনা করেছেন। কিন্তু দুর্বিনীত আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজা রানী কে চরম শাস্তি দিয়েছেন। ভিখারি নারীর চির বাস তিনি রানী দেহে পড়িয়ে দিয়ে এক বছর বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করতে বলেছেন। যতদিন রানী কুঠির গড়ে দিতে না পারেন ততদিন রাজপ্রাসাদে তার প্রবেশাধিকার দেন নি। রাজা এখানে নিরপেক্ষ ও ন্যায় বিচারের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। রানীর নিকট যা সামান্য ক্ষতি বলে মনে হয়েছে রাজার নিকট তা নিষ্ঠুরতা। তাই অতিশয় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি রানীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। রাজার কাছে রাণী এবং গরিব প্রজার মধ্যে কোন বিভেদ দেখানো হয়নি। রানীর জীবন  বিলাসে কাটে বলে তিনি গরিবের দুঃখ বোঝেন না। রাজা তাকে গরিবের মত দিন অতিবাহিত করতে বাধ্য করে গরিবের দুঃখ বোঝাতে চেয়েছেন। নিছক আত্মতৃপ্তি লাভের উদ্দেশ্যে অপরের ক্ষতি করার মনোবৃত্তি এখানে নিন্দিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এখানে মানবধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

২) ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতার শিক্ষণীয় বিষয়টি তুলে ধরুন?

সামান্য ক্ষতি কবিতার শিক্ষণীয় বিষয়:

ক. শক্তি থাকলেও গরীব অসহায় দুর্বলের উপর অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়ন করা যাবে না।

খ. অহংকার দাম্ভিকতার পরিনাম ভালো নয়।অহংকার পতনের মূল। রানীর চরিত্রে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে।

গ. গরিবদের দুঃখ দুর্দশা বুঝতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের দিকে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে।

ঘ. যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ, প্রজাদের রাজার সঠিক বিচার ও মানবতার দিক ফুটে উঠেছে।

ঙ. সত্যের জয় হবেই।

৩) ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতার মাধ্যমে সমাজের কোন দিকটির চিত্র ফুটে উঠেছে?

এ কবিতার মাধ্যমে ধনী ও গরিবের বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এক দিকে যেমন রাজ্যে অসহায় দরিদ্র প্রজারা সাধারণ পর্ণ কুটিরে কোনরকম জীবন যাপন করে, ঠিক তার বিপরীতে রাজন্যবর্গ থাকেন অভিজাত্য আর বিলাস-বৈভবে, সাধারণ প্রজারা সর্বদাই রাজপরিবার ও রাজন্যবর্গের ইচ্ছার ক্রীড়ানক। কবিতায় রানী তার শীত নিবারণের জন্য গরিব প্রজাদের কুটিরে আগুন লাগালেন। রানী একবারও অসহায় মানুষের কথা ভাবলেন না। নিজের অপ্রকৃতস্থ খেয়ালের বলি হলো একেবারে দীনহীন গরিব কিছু গ্রামবাসী।রানীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত রাণী নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার মানসে সাধারণ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। তাই এ কবিতায় সমাজের ধনী-গরিবের বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।

৪) ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতাটিতে কিসের পরাজয় ঘটেছে?

কবিতাটিতে অহংকারী দাম্ভিক রানীর অহংকার ও দাম্ভিকতার পরাজয় ঘটেছে এবং মানবধর্ম ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রানীর ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের জন্য রাজা তাকে ভিখারির চিরবাস পরিয়ে দিয়ে এক বছর বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করার রায় দেন। যতদিন রানী গরিব প্রচার ভস্মীভূত কুটির গড়ে দিতে না পারেন ততদিন রাজপ্রাসাদে তাকে প্রবেশাধিকার দেন নি। তাই এই কবিতায় দাম্ভিকতার চরম পরাজয় ঘটেছে।

পাঠ ৫.৩: কান্ডারী হুশিয়ার (কাজী নজরুল ইসলাম)

১) কান্ডারী কে? ‘কান্ডারী হুশিয়ার’ কবিতায় কবি কান্ডারীকে সাবধান হতে বলেছেন কেন?

কান্ডারী

সাধারণ অর্থে কান্ডারী বলতে যে মাঝি বা নাবিক বিভিন্ন সমুদ্র জাহাজ বা স্টিমারের কর্ণধার হিসেবে কাজ করে।সেই জলযান কে নিয়ন্ত্রণ করে পথ পাড়ি দেয় এবং গন্তব্যে পৌঁছায় তাকে কান্ডারী বলা হয়। কবি তার কবিতায় রূপক অর্থে কান্ডারী শব্দটি দক্ষ মাঝি অর্থে ব্যবহার করেছেন। এখানে কান্ডারী বলতে পরাধীন ভারতবর্ষের বাঙ্গালীদেরকে ইংরেজদের রোযানল থেকে মুক্তি দেবার দক্ষ, সৎ, যোগ্য, বিচক্ষণ, দূরদর্শী, বিবেকবান পথ প্রদর্শক বা মহান নেতাকে বুঝিয়েছেন। যে নেতার যোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি পাবে স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ‘কান্ডারী হুশিয়ার’ কবিতায় রূপক অর্থে জাতির কর্ণধার কে কল্পনা করেছেন।

২) কবিতাটিতে কবি কোন মুক্তির প্রত্যাশা করেছেন?

বাঙালি জাতি কথা ভারতবর্ষের মুসলমানরা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটিশ শাসনের রোযানলের শিকার ছিলেন। বাঙালিরা ব্রিটিশদের এই শাসন ও শোষণের অত্যাচার থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করেছেন।মূলত বাঙালির দীর্ঘদিনের পরাধীন জীবন থেকে মুক্তির প্রত্যাশা করেছেন। তারা চেয়েছেন স্বাধীনতা আর মুক্তির স্বাদ পেতে।

৩) ‘কান্ডারী হুশিয়ার’ কবিতাটির প্রতিপাদ্য বিষয় কি?

কান্ডারী হুশিয়ার কবিতার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ভারতবর্ষের মুসলমানদের নবজাগরণের জন্য এক মহান নেতার আগমন প্রার্থনা যে নেতা হবে দেদীপ্যমান সমগ্র মুসলিম জাতির আলোকবর্তিকা এবং ইসলামী আদর্শের পথ প্রদর্শক যার নেতৃত্বে ইসলাম তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এবং ভারতবর্ষের পরাধীন জনগণ মুক্তি পাবে ব্রিটিশদের থেকে তবে ঝঞ্জা বিক্ষুব্ধ নদীর তরঙ্গ আঘাত থেকে ভারতবর্ষের মুসলমানদের রক্ষার জন্য কান্ডারী রূপে জাতির কর্ণধার কে সামনে এগিয়ে আসতে বলেছেন।

পাঠ-৫.৪: প্রতিদান (জসীমউদ্দীন)

১) সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভালোবাসা কি ভূমিকা পালন করতে পারে ‘প্রতিদান’কবিতা অবলম্বনে বর্ণনা করুন?

সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিদান কবিতা অবলম্বনে ভালোবাসার ভূমিকাঃ

ভালোবাসা এমন এক সম্মোহনী শক্তি, যার পরশে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়।ভালোবাসার স্বর্গে সব কুৎসিত, অসুন্দর দূর হয়ে সমাজে সৃষ্টি হয় সৌন্দর্য ও শান্তি। মানুষ হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে যায় পৃথিবীতে যা কিছু মহান কল্যাণকর তার প্রতিষ্ঠার মূলে রয়েছে ভালবাসার শক্তি। সমাজে হিংসা-দ্বেষ, স্বার্থপরতা, হানাহানি, কূপমন্ডুকতা থাকে। ভালোবাসার অপরাজেয় শক্তি দ্বারা এগুলো সহজেই দূর করা যায়। মানুষ যদি পরস্পরকে ভালবাসতে শেখে তাহলে তার পক্ষে অন্য কারোর অমঙ্গল চিন্তা করা সম্ভব নয়।ভালোবাসার ঐশ্বরিক আলোতে তার হৃদয় আলোকময় হয়ে ওঠে বলে সে নেতিবাচক কোন কিছু চর্চা করতে পারে না। তাই সঙ্গত কারণেই বলা যায় যে, সমাজে যদি ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে তার দাপটে বা শক্তিতে সমাজের সকল অন্যায়, অসত্য, অমঙ্গল,অশুভ শক্তির উৎপাটন সম্ভব। কবি তাঁর কবিতায় শত্রুতা নয় বরং বন্ধুত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে ভালোবাসার পরশে শান্তি ও সমৃদ্ধময় সমাজ গঠন করতে চেয়েছেন।

২) প্রতিদান কবিতার মূলভাব বর্ণনা করুন।

অথবা, সহনশীলতা, মমতা ও ভালোবাসাই কবির ‘প্রতিদানের’ মূলমন্ত্র-ব্যাখ্যা করুন?

সহনশীলতা, মমতা, ও ভালোবাসার মাধ্যমে শত্রুকেও জয় করে বন্ধু বানানো যায়। কবি উপলব্ধি করেন অসাধারণ প্রীতি ও ভালোবাসা দিয়ে সব মানুষের হৃদয় জয় করতে পারাই সত্যিকারের মনুষত্ব। কেউ যদি কবির ঘর ভেঙে দেয় তাকে ঘর ছাড়া করে তবে প্রতিদানে তিনি তার ঘর বাঁধার কাজে লিপ্ত হবেন। তাকে আপন করে পাওয়ার জন্য পথে পথে ঘুরবেন। শুধু তাই নয়,কেউ যদি কবির ক্ষতি করে,নিষ্ঠুর আচরণ করে কিংবা কঠিন আঘাতে জর্জরিত করে তাতে কবি ক্ষুব্ধ না হয়ে বরং বুকভরা মমতা দিয়ে তার মন জয় করার চেষ্টা করবেন। সহজ কথায় হিংসা-দ্বেষ ও নিষ্ঠুরতাকে তিনি জয় করবেন প্রেম, প্রীতি,মমতা ও ভালোবাসার জোরে। এ কবিতায় কবি আঘাত ও নিষ্ঠুরতার বিপরীতে স্নেহ, মায়া, মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে সকল কিছু জয় করার প্রতি ইঙ্গিত করছেন।

৩) প্রতিদান কবিতায় ব্যক্তি চরিত্রের ভালোবাসার যে জয়গান কবি এই কবিতায় করেছেন তা উল্লেখ করুন।

কবি মনে করেন প্রীতি আর ভালোবাসা দিয়ে সব মানুষের মন জয় করা যায়। হিংসা-বিদ্বেষ কখনো ব্যক্তি হৃদয়ের জন্য শুভকর বয়ে আনে না।বরং হিংসা-বিদ্বেষ কেবল সমাজে অকল্যাণ আর অশান্তি বয়ে আনে।এ কারণে কবি বলেন কেউ যদি তার ক্ষতি করে নিষ্ঠুর আচরণ করে কিংবা কঠিন আঘাতে জর্জরিত করে তবুও তিনি প্রতিশোধ পরায়ণ হবেন না। তিনি কষ্টের বদলে দিবেন ফুলের মালা। ব্যক্তি হৃদয়ের কাজ হবে সহনশীলতা, সহমর্মিতা, মমতা ও ভালোবাসার বন্ধনে সবাইকে আবদ্ধ করা। মূলত কবি প্রতিদান কবিতা ব্যক্তি চরিত্রের ভালোবাসার জয়গান গেয়েছেন।

৪) প্রতিদান কবিতাটির মাধ্যমে আপনি শিক্ষার্থীদের কী পরামর্শ দেবেন?

একজন শিক্ষক হিসেবে এই কবিতাটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যে যে পরামর্শ দেওয়া যায় তা হলো:

ক. কেউ তোমাকে আঘাত করলে প্রতিদানে পাল্টা আঘাত না করে ভালোবাসা দিতে হবে।

খ. ভালোবাসা প্রেম-প্রীতির বন্ধনে সবাইকে আপন করে নিতে হবে।

গ. কারো অনিষ্ট বা অমঙ্গল কামনা করা যাবে না।

ঘ. সমাজের হিংসা-বিদ্বেষ স্বার্থপরতা, মারামারি, দলাদলি, হানাহানি, কূপমণ্ডূকতা পরিহার করতে হবে। ব্যাক্তিতে ব্যক্তিত্বে কোন ধরনের বৈরিতা নয়, সকলেই তোমার স্বজন।

পাঠ-৫.৫: তোমাকে পাওয়ার জন্য- হে স্বাধীনতা (শামসুর রহমান)

১) ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’ কবিতার মূলভাব নিজের ভাষায় লিখুন।

স্বাধীনতার জন্য বাঙালিকে কতবার যে রক্তগঙ্গায় ভাসতে হয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। বাঙালি জাতি স্বাধীনতা প্রিয়। স্বাধীনতার জন্য তারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন অনেক রক্ত দিয়েছেন। স্বাধীনতাকে পাওয়ার জন্য অনেক মা-বোন চিরতরে তাদের আপনজন হারিয়েছেন। পাকিস্তানি জল্লাদের নির্মম অত্যাচারে, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজে তছনছ হয়ে গেছে এই জনপদ। পাকিস্তানি হায়েনাদের নারকীয় তাণ্ডব থেকে প্রাণ বাঁচাতে ভিটেমাটি ছেড়েছে কোটি কোটি মানুষ। তারা এভাবে সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন।কবি আশা করছেন, এ বাংলায় সত্যিকারের স্বাধীনতা আসবেই। এজন্য বাঙালিকে শক্তি ও সাহস নিয়ে ধৈর্য ধারণ করার কথা বলেছেন। কবি বিশ্বাস করেন, আত্মত্যাগী বাঙালি একদিন স্বাধীনতার স্বাদ আস্বাদন করবে। তিনি তার কবিতায় বাঙালি জাতির স্বাধীনতার জন্য যে আত্মত্যাগ, তার মহিমাকীর্তন করেছেন।

২) তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা- অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিলো পিতামাতার লাশের উপর, ব্যাখ্যা করুন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি নারীরা মানবেতর, ভয়াবহ ও শোচনীয় অবস্থার সম্মুখীন হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানিরা হত্যাযজ্ঞের পাশাপাশি ধর্ষণ, লুটপাট,জ্বালাও পোড়াও করে। ফলে অনেক নারীকেও ভুক্তভোগী হতে হয়। পাশাপাশি অবুঝ শিশু তার পিতা-মাতাকে হারায় এবং পিতামাতার লাশের উপর হামাগুড়ি দিতে হয় দুঃখে ও শোকে। এসব অসংখ্য ভয়াবহ পরিস্থিতির দৃশ্য দেখা দিয়েছে অবুঝ শিশুর মাঝে। বাঙালির স্বাধীনতার সঙ্গে অবুঝ শিশুর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। অর্থাৎ কবি বলতে চেয়েছেন আত্মপ্রত্যয়ী বাঙালির স্বাধীনতা পিতা-মাতার লাশের উপর দিয়ে হলেও একদিন আসবেই। কারণ বাঙালি মরতে জানে মারতেও জানে।কোন পরাশক্তি তাদের স্বাধীনতার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না। বাঙালি জাতি বীরের জাতি। তারা স্বাধীনতা চায়, বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার জন্য যে চরম মূল্য দিতে হয়েছিল, সে বিষয়টির অবতারণা করতে কবি শামসুর রহমান মন্তব্যটি করেছেন।

৩) এই বাংলায় স্বাধীনতা ফিরে আসার সম্পর্কে কবির কি বিশ্বাস কবিতাটিতে প্রকাশ পেয়েছে?

মানুষ যখন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে তখন স্বাধীনতাই একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। স্বৈরাচারী পাক বাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার বাঙালি তার স্বাধীনতার জন্য জীবন দিতে শুরু করে। এ কারণে স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া বাঙালির সামনে বিকল্প কোন রাস্তা খোলা নেই।অধিকার আর মৌল চাহিদা আদায়ের লক্ষ্যেই বাংলার স্বাধীনতা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। বাংলায় স্বাধীনতা ফিরে আসার সম্পর্কে কবি তার কবিতায় দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

proshikkhon

View Comments

Share
Published by
proshikkhon

Recent Posts

বিটিপিটি শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: ‍শিল্পকলা বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত…

2 years ago

পড়তে শেখা ও পড়ে শেখা

বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ আলোচ্য বিষয়: পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?পড়ার অংশ কয়টি ও…

3 years ago

Acronyms list: Used in teaching and learning

Very important for teachers and educators. Acronyms list: Used in teaching and learning (more…)

3 years ago

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

Co-curricular activities in child development শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব সহশিক্ষাক্রমিক…

3 years ago

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়

Ways to develop teachers' professional skills পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায় প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷…

3 years ago

শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা

Individuality and intelligence of the child শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী…

3 years ago

This website uses cookies.